📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জাহান্নামের আলোচনা

📄 জাহান্নামের আলোচনা


জাহান্নামের আলোচনা
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُجَاءُ بِجَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ، مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে। তার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে। প্রত্যেক লাগামের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে, তারা তাকে টেনে নিয়ে আসবে। ৮২

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ كَانَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مِائَةُ أَلْفِ أَوْ يَزِيدُونَ، وَفِيهِمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَتَنَفَّسَ فَأَصَابَهُمْ نَفَسُهُ لَاحْتَرَقَ الْمَسْجِدُ وَمَنْ فِيهِ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যদি এই মসজিদে এক লক্ষ বা ততোধিক মানুষ থাকে আর তাদের মধ্যে কোনো জাহান্নামী থাকে, সে যদি একবার নিঃশ্বাস ফেলে আর তা তাদেরকে স্পর্শ করে তাহলে মসজিদ ও মসজিদের সকল লোক জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। ৮৩

عَنْ مُجَاهِدٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: كَلَّا إِنَّهَا لَظَى. نَزَّاعَةً لِلشَّوَى (المعارج : ١٥ - ١٦) قَالَ: تَأْكُلُ مَا دُونَ الْعَظْمِ، وَتَدَعُ الْفُؤَادَ، ثُمَّ يَعُودُ كَمَا كَانَ فَتَعُودُ لِأَكْلِهِ.

হযরত মুজাহিদ রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী- كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَىٰ অর্থ: কখনও না। নিশ্চয়ই এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে নিবে। ৮৪-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের আগুন হাড়ের উপরস্থ সবকিছু খেয়ে ফেলবে, কিন্তু অন্তরটা রেখে দেবে। আবার সব আগের মত হয়ে যাবে এবং সে আবার খেতে থাকবে।

عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : تَقُولُ جَهَنَّمُ يَا رَبِّ لَا تُطْفِئْ حَرِّي فَلَيْسَ لِي عَذَابُ إِلَّا حَرَّى، وَلَا تُطْفِئْ جَمْرِي فَلَيْسَ لِي قُوَّةٌ إِلَّا بِجَمْرِي.

হযরত উবাইদ ইবনে উমায়ের রাযি. বলেন, জাহান্নাম আল্লাহর নিকট আবেদন করে বলবে, হে আমার রব! আপনি আমার আগুন নির্বাপিত করবেন না, কারণ আমার আযাবের মূলই তো হলো আগুন। আর আমার অঙ্গার নিভিয়ে দিবেন না, কারণ অঙ্গারই তো আমার শক্তি।

টکا:
৮২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৭৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৮৩. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৬৪০৮; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির রাবীগণ নির্ভরযোগ্য [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৮৮]।
৮৪. সূরা মাআরিজ: আয়াত-১৫-১৬

জাহান্নামের আলোচনা
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُجَاءُ بِجَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ، مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে। তার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে। প্রত্যেক লাগামের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে, তারা তাকে টেনে নিয়ে আসবে। ৮২

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ كَانَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مِائَةُ أَلْفِ أَوْ يَزِيدُونَ، وَفِيهِمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَتَنَفَّسَ فَأَصَابَهُمْ نَفَسُهُ لَاحْتَرَقَ الْمَسْجِدُ وَمَنْ فِيهِ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যদি এই মসজিদে এক লক্ষ বা ততোধিক মানুষ থাকে আর তাদের মধ্যে কোনো জাহান্নামী থাকে, সে যদি একবার নিঃশ্বাস ফেলে আর তা তাদেরকে স্পর্শ করে তাহলে মসজিদ ও মসজিদের সকল লোক জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। ৮৩

عَنْ مُجَاهِدٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: كَلَّا إِنَّهَا لَظَى. نَزَّاعَةً لِلشَّوَى (المعارج : ١٥ - ١٦) قَالَ: تَأْكُلُ مَا دُونَ الْعَظْمِ، وَتَدَعُ الْفُؤَادَ، ثُمَّ يَعُودُ كَمَا كَانَ فَتَعُودُ لِأَكْلِهِ.

হযরত মুজাহিদ রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী- كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَىٰ অর্থ: কখনও না। নিশ্চয়ই এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে নিবে। ৮৪-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের আগুন হাড়ের উপরস্থ সবকিছু খেয়ে ফেলবে, কিন্তু অন্তরটা রেখে দেবে। আবার সব আগের মত হয়ে যাবে এবং সে আবার খেতে থাকবে।

عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : تَقُولُ جَهَنَّمُ يَا رَبِّ لَا تُطْفِئْ حَرِّي فَلَيْسَ لِي عَذَابُ إِلَّا حَرَّى، وَلَا تُطْفِئْ جَمْرِي فَلَيْسَ لِي قُوَّةٌ إِلَّا بِجَمْرِي.

হযরত উবাইদ ইবনে উমায়ের রাযি. বলেন, জাহান্নাম আল্লাহর নিকট আবেদন করে বলবে, হে আমার রব! আপনি আমার আগুন নির্বাপিত করবেন না, কারণ আমার আযাবের মূলই তো হলো আগুন। আর আমার অঙ্গার নিভিয়ে দিবেন না, কারণ অঙ্গারই তো আমার শক্তি।

টکا:
৮২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৭৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৮৩. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৬৪০৮; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির রাবীগণ নির্ভরযোগ্য [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৮৮]।
৮৪. সূরা মাআরিজ: আয়াত-১৫-১৬

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত— একবার জিবরাঈল আ. এমন এক সময় রাসূল-এর নিকট আগমন করলেন, সাধারণত যে সময়ে তিনি আগমন করেন না। তার চেহারা ছিল বিবর্ণ। রাসূল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার, আপনাকে এমন বিবর্ণ মুখে দেখছি কেন? তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার নিকট এমন এক সময়ে উপস্থিত হয়েছি, যখন আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে তার শিখা বিচ্ছুরণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ সত্য জেনেছে যে, জাহান্নাম সত্য, জাহান্নামের আগুন সত্য, কবরের আযাব সত্য এবং আল্লাহ তা'আলার আযাবই প্রবল, সে যেন তার চোখকে বিশ্রাম না দেয়, যতক্ষণ না এগুলো থেকে নিরাপদ হয়।

নবী করীম বললেন, হে জিবরাঈল! আমাকে জাহান্নামের বর্ণনা শোনান। তিনি বললেন, তবে শুনুন! আল্লাহ তা'আলা জাহান্নাম সৃষ্টির পর তাকে এক হাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করলেন, ফলে তা টকটকে লাল হয়ে গেল। এরপর আরো একহাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করলেন, ফলে তা সাদা হয়ে গেল। অতঃপর তাকে এক হাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করলেন, ফলে তা ঘুটঘুটে কালো হয়ে গেল। এখন তা কালো বর্ণই আছে। তার শিখা কখনো নেভে না ও জ্বলন্ত অঙ্গার কখনো শীতল হয় না। সে সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন। যদি জাহান্নামের সামান্য পরিমাণ আগুন দুনিয়াবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তবে তার উত্তাপের কারণে শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে।

সে সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন। জাহান্নামীদের কোনো কাপড় যদি আসমান-জমিনের মধ্যস্থানে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তার দুর্গন্ধে ও তাপে দুনিয়াবাসীর মৃত্যু হয়ে যাবে। সে সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যনবীরূপে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর কিতাবে জাহান্নামের যে শিকলের বর্ণনা দিয়েছেন, যদি তার এক হাত পরিমাণ দুনিয়ার কোনো পাহাড়ে রাখা হয়, তবে তা সাত তবক যমীনসহ গলে যাবে। সে সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে নবীরূপে প্রেরণ করেছেন যদি পৃথিবীর পশ্চিমে কোনো ব্যক্তিকে আযাব দেওয়া হয়, তাহলে আযাবের তীব্রতায় পূর্ব প্রান্তে থাকা ব্যক্তিরাও ভষ্ম হয়ে যাবে। জাহান্নামের তাপ ভয়ানক, এর গভীরতাও বেশি, এর বেড়ীগুলো হবে লোহার, এর পানীয় হবে ফুটন্ত পানি ও পুঁজের এবং এর পরিধেয় বস্ত্র হবে আগুনের。

টিকাঃ
১২১. মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/৩৮৬-৩৮৭; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটি ইমাম ত্ববারানী আওসাতে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে সালাম ত্বাউল নামক জয়ীফ রাবীর কারণে হাদীসটি জয়ীফ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জাহান্নামের দরজাসমূহ

📄 জাহান্নামের দরজাসমূহ


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ لِجَهَنَّمَ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ لَا يَدْخُلُهُ إِلَّا الْعَاقُّونَ لِوَالِدَيْهِمْ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামের একটি দরজার নাম রাইয়ান, যা দিয়ে শুধু পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানরাই প্রবেশ করবে।

عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مَقْسُومٌ} [الحجر: ٤٣- ٤٤]. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: أَبْوَابُهَا بَعْضُهَا أَسْفَلَ مِنْ بَعْضٍ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ . لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِّكُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُومٌ অর্থ: তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। এর সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে। ৮৫-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের দরজাগুলো একটির নিচে আরেকটি অবস্থিত।

টিকাঃ
৮৫. সূরা হিজর: আয়াত-৪৩-৪৪

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ لِجَهَنَّمَ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ لَا يَدْخُلُهُ إِلَّا الْعَاقُّونَ لِوَالِدَيْهِمْ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামের একটি দরজার নাম রাইয়ান, যা দিয়ে শুধু পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানরাই প্রবেশ করবে।

عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مَقْسُومٌ} [الحجر: ٤٣- ٤٤]. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: أَبْوَابُهَا بَعْضُهَا أَسْفَلَ مِنْ بَعْضٍ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ . لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِّكُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُومٌ অর্থ: তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। এর সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে। ৮৫-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের দরজাগুলো একটির নিচে আরেকটি অবস্থিত।

টিকাঃ
৮৫. সূরা হিজর: আয়াত-৪৩-৪৪

জাহান্নামের দরজা হলো সাতটি। প্রতিটি দরজা দিয়ে নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষ প্রবেশ করবে। তখন রাসূল জিজ্ঞেস করলেন, সে দরজাগুলো কি আমাদের দরজার মতো? জিবরাঈল বললেন, না বরং তা উন্মুক্ত। একটি অপরটির তলদেশে অবস্থিত। এক দরজা থেকে অপর দরজার দূরত্ব হলো, সত্তর বছরের দূরত্বের সমান। এর প্রতিটি দরজা অপরটির তুলনায় সত্তর গুণ বেশি উত্তপ্ত হবে। সেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তাদেরকে দরজার নিকটে নেওয়া হবে, তখন দ্বাররক্ষীরা শিকল ও বেড়ী দিয়ে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে। শিকল তাদের মুখে প্রবেশ করিয়ে পেছন দিয়ে বের করা হবে। শিকল দিয়ে বাম হাতকে গলায় বেঁধে দেওয়া হবে। ডান হাতকে বুকের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করিয়ে কাঁধের মধ্য দিয়ে বের করে শিখলের সাথে বেঁধে দেওয়া হবে। প্রত্যেককে তার শয়তানের সাথে একই শিকলে বেঁধে মাটিতে উপুড় করে হেঁচড়ে নেওয়া হবে। ফেরেশতাগণ তাদেরকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে প্রহার করবেন। যখনি তারা সে ভয়ানক যন্ত্রণা থেকে বেরোতে চাইবে, তাদেরকে সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জাহান্নামের কোন দরজায় কে থাকবে

📄 জাহান্নামের কোন দরজায় কে থাকবে


وَقَالَ مُقَاتِلٌ : الْبَابُ الْأَعْلَى لِأَهْلِ التَّوْحِيدِ الَّذِينَ أُدْخِلُوا النَّارَ يُعَذِّبُونَ بِقَدْرِ ذُنُوبِهِمْ ثُمَّ يُخْرَجُونَ، وَالثَّانِي لِلْيَهُودِ، وَالثَّالِثُ لِلنَّصَارَى، وَالرَّابِعُ لِلصَّابِئِينَ، وَالْخَامِسُ لِلْمَجُوسِ، وَالسَّادِسُ لِأَهْلِ الشِّرْكِ وَالسَّابِعُ لِلْمُنَافِقِينَ.
মুকাতেল রহ. বলেন, জাহান্নামের দরজাগুলো হলো, একটির নিচে আরেকটি। এক দরজা থেকে আরেক দরজার মাঝে ৫০০ বছরের দূরত্ব। ১ম দরজায় থাকবে এই উম্মতের মুনাফিকরা, ২য় দরজায় থাকবে মুশরিকরা, ৩য় দরজায় সাবিঈন, ৪র্থ দরজায় নাসারারা, ৫ম দরজায় মাজুসীরা (অগ্নিউপাসক), ৬ষ্ঠ দরজায় ইহুদীরা আর ৭ম দরজায় থাকবে ফিরাউন, নমরূদ ও তাদের অনুসারীরা। ৮৬

ٹکا:
৮৬. এই বর্ণনাটি কোনো হাদীস গ্রন্থে পাওয়া যায়নি। আল্লাহ ভালো জানেন।

وَقَالَ مُقَاتِلٌ : الْبَابُ الْأَعْلَى لِأَهْلِ التَّوْحِيدِ الَّذِينَ أُدْخِلُوا النَّارَ يُعَذِّبُونَ بِقَدْرِ ذُنُوبِهِمْ ثُمَّ يُخْرَجُونَ، وَالثَّانِي لِلْيَهُودِ، وَالثَّالِثُ لِلنَّصَارَى، وَالرَّابِعُ لِلصَّابِئِينَ، وَالْخَامِسُ لِلْمَجُوسِ، وَالسَّادِسُ لِأَهْلِ الشِّرْكِ وَالسَّابِعُ لِلْمُنَافِقِينَ.
মুকাতেল রহ. বলেন, জাহান্নামের দরজাগুলো হলো, একটির নিচে আরেকটি। এক দরজা থেকে আরেক দরজার মাঝে ৫০০ বছরের দূরত্ব। ১ম দরজায় থাকবে এই উম্মতের মুনাফিকরা, ২য় দরজায় থাকবে মুশরিকরা, ৩য় দরজায় সাবিঈন, ৪র্থ দরজায় নাসারারা, ৫ম দরজায় মাজুসীরা (অগ্নিউপাসক), ৬ষ্ঠ দরজায় ইহুদীরা আর ৭ম দরজায় থাকবে ফিরাউন, নমরূদ ও তাদের অনুসারীরা। ৮৬

ٹکا:
৮৬. এই বর্ণনাটি কোনো হাদীস গ্রন্থে পাওয়া যায়নি। আল্লাহ ভালো জানেন।

অতঃপর নবী করীম ইরশাদ করলেন, সে সব দরজায় কারা থাকবে? জিবরাঈল আ. বললেন, সর্বনিম্নে অবস্থিত দরজায় থাকবে মুনাফিকরা এবং যারা ঈসা আ. কর্তৃক খাবার ভর্তি দস্তরখানের মুজিযা দেখানোর পরও কুফরীতে অটল ছিল তারা এবং ফেরআউনের বংশধররা। এর নাম হবে হাবিয়া। দ্বিতীয় দরজায় থাকবে মুশরিকরা। এর নাম জাহীম। তৃতীয় দরজায় থাকবে সাবেঈরা। এর নাম সাক্বার। চতুর্থ দরজায় থাকবে ইবলীস, তার অনুসারী ও মূর্তিপূজকগণ। এর নাম লাযা। পঞ্চম দরজায় থাকবে ইহুদীরা। এর নাম হুতামা। ষষ্ঠ দরজার দরজায় থাকবে নাসারারা। এর নাম সাঈর। সপ্তমটির কথা উল্লেখে জিবরাঈল আ. লজ্জাবোধ করছিলেন। রাসূল বললেন, সপ্তম দরজায় কারা থাকবে? তখন জিবরাঈল বললেন, এখানে থাকবে আপনার উম্মতের কবীরা গুনাহকারীরা, যারা তাওবা করা ব্যতীতই মৃত্যুবরণ করেছে। তখন নবী বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। জিবরাঈল আ. তাঁর জ্ঞান ফেরা পর্যন্ত রাসূলের মস্তক মুবারক তার কোলে রাখলেন। জ্ঞান ফিরলে রাসূল বললেন, হে জিবরাঈল! এ তো আমার জন্য মহাবিপদ ও অতিকষ্টের কারণ! এরপর তিনি বললেন, আমার উম্মতের কেউ কি জাহান্নামে প্রবেশ করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আপনার উম্মতের কবীরা গুনাহকারীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

অতঃপর রাসূল কেঁদে উঠলেন, তার সঙ্গে জিবরাঈলও কাঁদলেন। এরপর রাসূল নিজ ঘরে প্রবেশ করলেন এবং লোকালয় বের হওয়া বন্ধ করে দিলেন। কেবল সালাতের সময় বের হয়ে সালাত আদায় করে চলে যেতেন। কারো সাথে কথা বলতেন না, বরং কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন, আল্লাহর নিকট কাকুতি-মিনতি জানাতেন। তৃতীয় দিন আবূ বকর রাযি. তার দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। বললেন, হে করুণা গৃহের অধিবাসীগণ! আস্সালামু আলাইকুম। রাসূল -এর সঙ্গে দেখা করার কোনো সুযোগ আছে কি? কেউ তার উত্তর দিল না। তিনিও কাঁদলেন এবং সে স্থান থেকে সরে গেলেন। অতঃপর হযরত উমর রাযি. তার দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। বললেন, হে করুণা গৃহের অধিবাসীরা, আস্সালামু আলাইকুম। আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ আছে কি? তার কথারও কেউ উত্তর দিল না। তিনিও কাঁদলেন এবং সরে গেলেন। অতঃপর সালমান ফারসী রাযি. তার দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। বললেন, হে করুণা গৃহের অধিবাসীগণ! আপনাদের উপর সালাম। আমার আঁকা রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাত করার সুযোগ আছে কি? তার কথার কেউ উত্তর দিলো না। তিনিও কাঁদলেন এবং সরে গেলেন। কান্নার বেগের কারণে তিনি একবার পড়ে যাচ্ছিলেন, আবার উঠে হাঁটছিলেন। এভাবে হযরত ফাতেমা রাযি.-এর গৃহ সম্মুখে এসে তিনি বললেন, হে রাসূলের কন্যা! আপনার উপর সালাম। আলী রাযি. তখন ঘরে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বললেন, হে রাসূলের কন্যা! রাসূল তো সকলের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। নামাযের সময় ব্যতীত তিনি বের হন না। তিনি কারো সঙ্গে কথাও বলেন না এবং কাউকে তার গৃহে প্রবেশের অনুমতি দেন না। একথা শুনে ফাতেমা রাযি. তৎক্ষণাৎ পশমী জামা পরে বেরিয়ে পড়লেন এবং রাসূল-এর দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। সালাম দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ফাতেমা। রাসূল তখন সেজদারত অবস্থায় কাঁদছিলেন। তিনি মাথা উত্তোলন করে বললেন, কী হলো! আমার নয়ণমণি ফাতেমাকে আমার নিকট আসতে দেওয়া হলো না? তার জন্য দরজা খুলে দাও। দরজা খোলা হলে, হযরত ফাতেমা ভিতরে প্রবেশ করে রাসূল-এর অবস্থা দেখে দীর্ঘ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।

রাসূল-এর অবস্থা ছিল করুণ। তার দেহ মুবারক হলুদাভ ও বিবর্ণ ছিল। কান্না ও যন্ত্রণাকাতরতার ফলে তার মুখমণ্ডলের ত্বক ঝুলে ছিল। হযরত ফাতেমা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার এ অবস্থা কেন? রাসূল বললেন, হে ফাতেমা! জিবরাঈল এসে আমাকে জাহান্নামের দরজাসমূহের বর্ণনা দিয়েছেন। আমাকে বলেছেন, সবচেয়ে উপরের দরজার অধিবাসী হবে আমার উম্মতের কবীরা গুনাহকারীরা। এটিই আমার কান্নার কারণ।

ফাতেমা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কীভাবে সেখানে প্রবেশ করবে? রাসূল বললেন, ফেরেশতগণ তাদেরকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে যাবে। তাদের চেহারা কালো হবে না, চোখ নীল হবে না, তাদের মুখ সীলমোহর করা হবে না, তাদেরকে শয়তানের সাথে একত্রিত করা হবে না, তাদেরকে বেড়ী ও শিকলও পরানো হবে না। ফাতেমা বললেন, ফেরেশতাগণ কীভাবে তাদেরকে টেনে নিয়ে যাবে? রাসূল বললেন, পুরুষদেরকে দাড়ি ধরে এবং নারীদেরকে চুলের গোছা ও সম্মুখের চুল ধরে টেনে নেওয়া হবে। এভাবে, আমার উম্মতের বহু বৃদ্ধকে দাড়িতে ধরে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা বলতে থাকবে, হায়, আমাদের বৃদ্ধত্ব ও দুর্বলতার প্রতি করুণা কর! অনেক যুবককে দাঁড়িতে ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা নিজেদের যৌবন ও সৌন্দর্যের দোহাই দিতে থাকবে। আমার উম্মতের অনেক নারীকে চুল ধরে টেনে নিয়ে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। তারা নিজেদের লাঞ্ছনা ও পর্দাহীনতার দোহাই দিতে থাকবে। এভাবে তাদের সকলকে জাহান্নামের প্রধান প্রহরী মালেকের নিকট নিয়ে যাওয়া হবে। মালেক তাদেরকে দেখে অন্যান্য ফেরেশতাদেরকে বলবেন, এরা কারা? এদের বিষয়টি তো আশ্চর্যজনক! এমন দুর্ভাগা তো আমার নিকট আসেনি। এদের চেহারা কালো নয়, তাদের চোখ নীল হয়নি, তাদের মুখে সীলমোহর এঁটে দেওয়া হয়নি এবং তাদেরকে শয়তানের সাথে বেঁধে হাজির করা হয়নি! তাদের গলাতেও তো বেড়ী ও শিকল দেখতে পাচ্ছি না। ফেরেশতাগণ বলবেন, এভাবেই এদেরকে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তখন মালেক তাদের দিকে তাকিয়ে বলবেন, হে অভাগার দল, তোমরা কারা? অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যখন ফেরেশতারা তাদেরকে নিয়ে যাবে, তখন তারা 'মুহাম্মদ মুহাম্মদ' বলে রাসূল -এর দোহাই দিতে থাকবে। দোযখের ফেরেশতা মালেককে দেখে তারা মুহাম্মদ-কে ভুলে যাবে। মালেক তাদেরকে বলবে, তোমরা কারা? তারা বলবে, আমরা এমন উম্মত যাদের উপর কুরআন নাযিল করা হয়েছিল এবং যারা সিয়াম পালন করত। মালেক বলবেন, কুরআন তো কেবল মুহাম্মদের উম্মতের উপর নাযিল করা হয়েছিল। যখন তারা ফেরেশতার মুখে মুহাম্মদের নাম শুনবে, সকলে চিৎকার করে বলে উঠবে আমরা তো মুহাম্মদ-এর উম্মত। তখন মালেক তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন, তোমাদের কুরআনে কি গুনাহাচারের প্রতি সতর্কবার্তা হয়নি? যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং তারা জাহান্নামের আগুন ও তার রক্ষীদেরকে স্বচক্ষে দেখবে, তখন তারা মালেককে বলবে, হে মালেক! আমাদেরকে অনুমতি দাও, আমরা নিজেদের দুর্ভাগ্যের জন্য একটু কেঁদে নেই। মালেক তাদেরকে অনুমতি প্রদান করলে তারা দীর্ঘ কান্নায় ভেঙ্গে পড়বে। এমনকি এক সময় তাদের অশ্রু শেষ হয়ে যাবে। তখন তাদের চোখ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকবে। মালেক বলবেন, দুনিয়াতে যদি এমন কান্না কাঁদতে, তবে তা কতই না উত্তম হতো! আল্লাহর ভয়ে যদি এমন কান্না করা হতো, তবে আজ তোমাদেরকে আগুন স্পর্শ করতে পারত না। মালেক তখন জাহান্নাম রক্ষীদেরকে বলবে, তাদেরকে আগুনে ফেলে দাও। যখন তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সকলেই বলে উঠবে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। ফলে আগুন পিছিয়ে যাবে। মালেক আগুনকে বলবেন, হে আগুন! তাদেরকে পাকড়াও কর। আগুন বলবে, তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা অবস্থায় তাদেরকে পাকড়াও করার ক্ষমতা আমার নেই। মালেক বলবে, তাদেরকে পাকড়াও কর। আগুন আবার বলবে, তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা অবস্থায় তাদেরকে পাকড়াও করার ক্ষমতা আমার নেই। এরপর মালেক বলবে, এভাবেই পাকড়াও কর। কারণ, রাব্বুল আলামীন এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।

অতঃপর আগুন তাদের কাউকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পাকড়াও করবে, কাউকে হাঁটু পর্যন্ত পাকড়াও করবে, কাউকে কোমর পর্যন্ত পাকড়াও করবে, আবার কারো কারো কণ্ঠনালি পর্যন্ত আগুন পৌঁছে যাবে। এভাবে যখন মুখের দিকে অগ্রসর হবে, তখন মালেক বলবেন, তাদের মুখগুলোকে পুড়িয়ো না। কারণ, দুনিয়াতে তারা রহমানের দরবারে দীর্ঘ দীর্ঘ সেজদা করেছে। তাদের কলবগুলোকে পুড়িয়ো না। কারণ, রমযান মাসে তারা দীর্ঘ সময় অভুক্ত থেকেছে। এভাবে তারা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী অতিবাহিত করবে। তারা বলতে থাকবে, হে সর্বোত্তম করুণাকারী! হে স্নেহবর্ষণকারী! হে ইহসানকারী!

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দোযখ থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর মুক্তি

📄 দোযখ থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর মুক্তি


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ أَهْلَ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا، لَا يَمُوتُونَ فِيهَا وَلَا يَحْيَوْنَ، وَلَكِنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيدِ تُصِيبُهُمُ النَّارُ، حَتَّى إِذَا صَارُوا حُمَمًا، أُذِنَ فِي الشَّفَاعَةِ، فَيُجَاءُ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ، فَيُنْبَثُّونَ عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ، فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামের অধিবাসীরা জাহান্নামে মারাও যাবে না আবার বেঁচেও থাকবে না। কিন্তু তাওহীদে বিশ্বাসীদের কেউ কেউ জাহান্নামে থাকবে, অতঃপর তারা যখন জ্বলে পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে তখন শাফায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। তাদেরকে দলে দলে আনা হবে এবং জান্নাতের নহরে ছেড়ে দেওয়া হবে। তখন বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! তোমরা তাদের উপর পানি ঢেলে দাও। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে।৮৭

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَلَوْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিও তার অন্তরে যব পরিমাণ ঈমানও থাকে।৮৮

ٹکا:
৮৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪৩৮৫।
৮৮. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯৩।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ أَهْلَ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا، لَا يَمُوتُونَ فِيهَا وَلَا يَحْيَوْنَ، وَلَكِنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيدِ تُصِيبُهُمُ النَّارُ، حَتَّى إِذَا صَارُوا حُمَمًا، أُذِنَ فِي الشَّفَاعَةِ، فَيُجَاءُ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ، فَيُنْبَثُّونَ عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ، فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামের অধিবাসীরা জাহান্নামে মারাও যাবে না আবার বেঁচেও থাকবে না। কিন্তু তাওহীদে বিশ্বাসীদের কেউ কেউ জাহান্নামে থাকবে, অতঃপর তারা যখন জ্বলে পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে তখন শাফায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। তাদেরকে দলে দলে আনা হবে এবং জান্নাতের নহরে ছেড়ে দেওয়া হবে। তখন বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! তোমরা তাদের উপর পানি ঢেলে দাও। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে।৮৭

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَلَوْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদিও তার অন্তরে যব পরিমাণ ঈমানও থাকে।৮৮

ٹکا:
৮৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪৩৮৫।
৮৮. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯৩।

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা যখন তার ফয়সালা শেষে বলবেন, হে জিবরাঈল! মুহাম্মদের উম্মতের গুনাহগারদের কী অবস্থা? তিনি বলবেন, হে আল্লাহ! আপনিই তাদের ব্যাপারে ভালো জানেন। আল্লাহ বলবেন, যাও, দেখে এসো তাদের কী অবস্থা? জিবরাঈল আ. দোযখের ফেরেশতা মালেকের কাছে যাবেন, তিনি তখন জাহান্নামের মধ্যখানে আগুনের মিম্বরে সমাসীন থাকবেন। মালেক জিবরাঈল আ. কে দেখে সসম্মানে দাঁড়িয়ে যাবেন। বলবেন, হে জিবরাঈল! আপনি এখানে কী কারণে এসেছেন? জিবরাঈল বলবেন, মুহাম্মদ -এর উম্মতের গুনাহগারদের কী অবস্থা? (তা দেখতে এসেছি)। মালেক বলবেন, তাদের অবস্থা তো খুবই করুণ, তাদের অবস্থান খুবই সঙ্কীর্ণ। খুবই সঙ্কীর্ণ দশায় তারা অবস্থান করছে। তাদের দেহগুলো ভস্ম হয়ে গেছে, দেহের গোশতগুলো আগুন ভক্ষণ করে ফেলেছে। কেবল তাদের মুখমণ্ডল ও কলবসমূহ বাকী আছে, কলবে ঈমান জ্বলজ্বল করছে। জিবরাঈল বলবেন, তাদের ঢাকনা উন্মুক্ত কর, আমি তাদেরকে দেখব। রাসূল বলেন, অতঃপর মালেক রক্ষীদেরকে নির্দেশ দিবেন। তারা ঢাকনা খুলবে। জাহান্নামবাসীরা যখন জিবরাঈল আ. ও তার সুন্দর চেহারা দেখবে, তখন বুঝতে পারবে যে, ইনি আযাবের ফেরেশতা নন। তখন তারা বলবে, এ কোন বান্দা, যার চেয়ে সুন্দর কাউকে আমরা ইতঃপূর্বে দেখিনি? মালেক বলবেন, ইনি জিবরাঈল। রবের নিকট যার বড় মর্যাদা রয়েছে এবং মুহাম্মদ-এর নিকট যিনি ওহী নিয়ে যেতেন। জাহান্নামবাসীরা যখন মুহাম্মদ -এর নাম শুনবে, তখন সকলে চিৎকার করে বলে উঠবে, হে জিবরাঈল! আমাদের পক্ষ থেকে মুহাম্মদকে সালাম জানাবেন এবং বলবেন, আমাদের গুনাহ তার ও আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছে। তাকে আমাদের মন্দ অবস্থা সম্পর্কে জানাবেন।

হযরত জিবরাঈল আ. সেখান থেকে ফিরে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবেন। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, মুহাম্মদের উম্মতকে কী অবস্থায় দেখলে? জিবরাঈল বলবেন, হে রব! তাদের অবস্থা করুণ, তাদের স্থান অতি সঙ্কীর্ণ। আল্লাহ বলবেন, তারা কি তোমার নিকট কিছু চেয়েছে? তিনি বলবেন, হ্যাঁ আল্লাহ চেয়েছে। তারা আমাকে তাদের নবীর নিকট সালাম পৌঁছে দিতে এবং তাদের মন্দ অবস্থা সম্পর্কে জানাতে বলেছে। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, যাও তাকে জানান দিয়ে আসো।

অতঃপর জিবরাঈল আ. রাসূল -এর নিকট গমন করবেন। তিনি তখন চার হাজার পা বিশিষ্ট শুভ্র মোতির তাঁবুতে অবস্থান করবেন। প্রতিটি দরজায় থাকবে স্বর্ণের তৈরি দু'টি কপাট। জিবরাঈল বলবেন, হে মুহাম্মাদ! আমি আপনার উম্মতের সে গুনাহগারদের কাছ থেকে এসেছি, যারা এখনো আযাব ভোগ করছে। তারা আপনাকে সালাম জানিয়েছে এবং বলেছে যে, তাদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। তাদের স্থান খুবই সঙ্কীর্ণ। একথা শুনে নবী আরশের নীচে এসে সেজদায় লুটিয়ে পড়বেন এবং আল্লাহ তা'আলার এমন প্রশংসা করবেন, যা ইতঃপূর্বে কেউ করেনি। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তোমার মস্তক উত্তোলন কর। আবেদন কর। প্রদান করা হবে এবং সুপারিশ কর, কবুল করা হবে।

তিনি বলবেন, হে আমার রব! আমার উম্মতের কিছু দুর্ভাগা যাদের উপর আপনার হুকুম কার্যকর হয়েছে, যাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে, তাদের ব্যাপারে সুপারিশ করছি। তাদের ব্যাপারে সুপারিশ কবুল করুন। আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমার সুপারিশ কবুল করা হলো। সুতরাং তুমি জাহান্নামে যাও এবং যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে, তাদেরকে বের করে আন।

রাসূল তখন জাহান্নামে যাবেন। জাহান্নামের ফেরেশতা মালেক তাকে দেখে সসম্মানে দাঁড়িয়ে যাবেন। রাসূল বলবেন, হে মালেক! আমার উম্মতের দুর্ভাগাদের কী অবস্থা? তিনি বলবেন, তাদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ, তারা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক আযাব ভোগ করছে। তিনি বলবেন, দরজা খুলে দাও এবং তাদের ঢাকনা উন্মুক্ত কর। জাহান্নামবাসীরা তাকে দেখে চিৎকার করে বলে উঠবে হে মুহাম্মদ! আগুনে আমাদের চামড়া পুড়ে গেছে এবং আমাদের কলিজা জ্বলে গেছে। রাসূল তাদের সকলকে বের করবেন। ইতোমধ্যে তারা কয়লা হয়ে গেছে। তিনি তাদেরকে জান্নাতের দরজার সম্মুখে এক নহরের নিকট নিয়ে যাবেন, যাকে হায়াত নামক নহর বলা হয়। তারা সেখানে গোসল করবে। ফলে তারা যুবক হয়ে বের হবে, যাদের চোখ হবে সুরমামিশ্রিত, চেহারা হবে চাঁদের মতো উজ্জ্বল। তাদের কপালে লেখা থাকবে 'আল-জাহান্নামিয়্যূনা উতিক্বা-উর রাহমানি মিনান নারি' অর্থাৎ, 'এরা হলো, জাহান্নামী যারা রহমানের বিশেষ দয়ায় জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছে'। এরপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। জাহান্নামবাসীরা যখন দেখবে যে, মুসলমানগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছে, তখন তারা আফসোস করে বলতে থাকবে, হায়, আমরা যদি মুসলমান হতাম এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতাম! কুরআনে একে বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে— 'রুবামা ইয়াওয়াদ্দু ল্লাজিনা কাফারু লাও কানু মুসলিমীন' অর্থ: যারা কুফরী করেছে, তারা এক সময় কামনা করবে, হায়, যদি তারা মুসলমান হতো।

টিকাঃ
১২২. সুরা হিজর: আয়াত-২

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية