📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 জাহান্নামীদের আর্তনাদ

📄 জাহান্নামীদের আর্তনাদ


عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يُلْقَى عَلَى أَهْلِ النَّارِ الْجُوعُ حَتَّى يَعْدِلَ مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الْعَذَابِ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ مِنْ ضَرِيعٍ، لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ ذِي غُصَّةٍ فَيَذْكُرُونَ أَنَّهُمْ كَانُوا يُجِيزُونَ الْغَصَصَ فِي الدُّنْيَا بِالشَّرَابِ، فَيَسْتَسْقُونَ، فَيُرْفَعُ إِلَيْهِمُ الْحَمِيمُ بِكَلَالِيبِ مِنْ حَدِيدٍ، فَإِذَا دَنَتْ مِنْ وُجُوهِهِمْ شَوَتْ وُجُوهَهُمْ، فَإِذَا دَخَلَتْ بُطُونَهُمْ قَطَّعَتْ مَا فِي بُطُونِهِمْ، فَيَقُولُونَ ادْعُو خَزَنَةَ جَهَنَّمَ. فَيَقُولُونَ: أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ، قَالُوا بَلَى قَالُوا: فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا مَالِكًا، فَيَقُولُونَ: يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ، قَالَ : فَيُجِيبُهُمْ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ. قَالَ الْأَعْمَشُ: نُبِّئْتُ أَنَّ بَيْنَ دُعَائِهِمْ وَبَيْنَ إِجَابَةِ مَالِكٍ إِيَّاهُمْ أَلْفَ عَامٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا رَبَّكُمْ، فَلَا أَحَدَ خَيْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ، رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ. قَالَ : فَيُجِيبُهُمُ اخْسَنُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ، قَالَ: فَعِنْدَ ذَلِكَ يَئِسُوا مِنْ كُلِّ خَيْرٍ، وَعِنْدَ ذَلِكَ يَأْخُذُونَ فِي الزَّفِيرِ وَالْحَسْرَةِ وَالْوَيْلِ.

হযরত আবুদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামীদের উপর ক্ষুধা চাপিয়ে দেওয়া হবে। যা হবে তাদের আযাবের সমপরিমাণ। তারা খেতে চাইলে তাদেরকে যারী নামক কাঁটাযুক্ত ফল দেওয়া হবে। যা তাদের ক্ষুধা নিবারণ করবে না এবং তাদের পুষ্টিও যোগাবে না। আবার তারা খেতে চাইলে তাদেরকে এমন খাবার দেওয়া হবে, যা তাদের গলায় আটকে যাবে। তখন তাদের মনে হবে দুনিয়াতে তারা খাবার গলায় আটকে গেলে পানি পান করত। তাই তারা পানি চাইবে। তাদেরকে এমন গরম পানি দেওয়া হবে, যার কারণে তাদের চেহারা ঝলসে যাবে। তাদের পেটে প্রবেশ করলে পেটের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে। তখন তারা বলবে, জাহান্নামের প্রহরীদেরকে ডাক। জাহান্নামের প্রহরীরা এসে বলবে, তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট প্রমাণসহ নবীগণ আসেনি? তারা বলবে, এসেছিল। তারা বলবে, তাহলে এখন তোমরাই ডাকো। কিন্তু কাফেরদের দোয়া কোনো কাজে আসবে না। এরপর তারা বলবে, মালিক (জাহান্নামের প্রধান প্রহরী)-কে ডাক। তারা ডাকবে, হে মালিক! তোমার রবকে বল, তিনি যেন আমাদেরকে মেরে ফেলেন। সে উত্তরে বলবে, তোমাদেরকে এভাবেই থাকতে হবে।
হযরত আমাশ বলেন, এই আহ্বানের পর থেকে মালিক ফেরেশতার জবাব দেওয়া পর্যন্ত একহাজার বছর পার হয়ে যাবে। তারপর তারা বলবে, তোমাদের রবকে ডাক। কারণ, তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। তারা বলবে, হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে গ্রাস করেছিল এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত। হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দিন। আর যদি এমন কাজ করি তবে আমরা অবশ্যই জালেম হিসেবে গণ্য হব। আল্লাহ বলবেন, এখানেই থাকো, আমার সাথে কোনো কথা বলো না। এ কথা শোনার পর তারা সকল কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করতে থাকবে। ৮০

ٹکا:
৮০. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৮৬; মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/৩৮১। হাদীসটি হাসান [আলবানী, সহীহুত তারগীব: ৩৬৬৭]।

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يُلْقَى عَلَى أَهْلِ النَّارِ الْجُوعُ حَتَّى يَعْدِلَ مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الْعَذَابِ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ مِنْ ضَرِيعٍ، لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ ذِي غُصَّةٍ فَيَذْكُرُونَ أَنَّهُمْ كَانُوا يُجِيزُونَ الْغَصَصَ فِي الدُّنْيَا بِالشَّرَابِ، فَيَسْتَسْقُونَ، فَيُرْفَعُ إِلَيْهِمُ الْحَمِيمُ بِكَلَالِيبِ مِنْ حَدِيدٍ، فَإِذَا دَنَتْ مِنْ وُجُوهِهِمْ شَوَتْ وُجُوهَهُمْ، فَإِذَا دَخَلَتْ بُطُونَهُمْ قَطَّعَتْ مَا فِي بُطُونِهِمْ، فَيَقُولُونَ ادْعُو خَزَنَةَ جَهَنَّمَ. فَيَقُولُونَ: أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ، قَالُوا بَلَى قَالُوا: فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا مَالِكًا، فَيَقُولُونَ: يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ، قَالَ : فَيُجِيبُهُمْ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ. قَالَ الْأَعْمَشُ: نُبِّئْتُ أَنَّ بَيْنَ دُعَائِهِمْ وَبَيْنَ إِجَابَةِ مَالِكٍ إِيَّاهُمْ أَلْفَ عَامٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا رَبَّكُمْ، فَلَا أَحَدَ خَيْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ، رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ. قَالَ : فَيُجِيبُهُمُ اخْسَنُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ، قَالَ: فَعِنْدَ ذَلِكَ يَئِسُوا مِنْ كُلِّ خَيْرٍ، وَعِنْدَ ذَلِكَ يَأْخُذُونَ فِي الزَّفِيرِ وَالْحَسْرَةِ وَالْوَيْلِ.

হযরত আবুদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামীদের উপর ক্ষুধা চাপিয়ে দেওয়া হবে। যা হবে তাদের আযাবের সমপরিমাণ। তারা খেতে চাইলে তাদেরকে যারী নামক কাঁটাযুক্ত ফল দেওয়া হবে। যা তাদের ক্ষুধা নিবারণ করবে না এবং তাদের পুষ্টিও যোগাবে না। আবার তারা খেতে চাইলে তাদেরকে এমন খাবার দেওয়া হবে, যা তাদের গলায় আটকে যাবে। তখন তাদের মনে হবে দুনিয়াতে তারা খাবার গলায় আটকে গেলে পানি পান করত। তাই তারা পানি চাইবে। তাদেরকে এমন গরম পানি দেওয়া হবে, যার কারণে তাদের চেহারা ঝলসে যাবে। তাদের পেটে প্রবেশ করলে পেটের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে। তখন তারা বলবে, জাহান্নামের প্রহরীদেরকে ডাক। জাহান্নামের প্রহরীরা এসে বলবে, তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট প্রমাণসহ নবীগণ আসেনি? তারা বলবে, এসেছিল। তারা বলবে, তাহলে এখন তোমরাই ডাকো। কিন্তু কাফেরদের দোয়া কোনো কাজে আসবে না। এরপর তারা বলবে, মালিক (জাহান্নামের প্রধান প্রহরী)-কে ডাক। তারা ডাকবে, হে মালিক! তোমার রবকে বল, তিনি যেন আমাদেরকে মেরে ফেলেন। সে উত্তরে বলবে, তোমাদেরকে এভাবেই থাকতে হবে।
হযরত আমাশ বলেন, এই আহ্বানের পর থেকে মালিক ফেরেশতার জবাব দেওয়া পর্যন্ত একহাজার বছর পার হয়ে যাবে। তারপর তারা বলবে, তোমাদের রবকে ডাক। কারণ, তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। তারা বলবে, হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে গ্রাস করেছিল এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত। হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দিন। আর যদি এমন কাজ করি তবে আমরা অবশ্যই জালেম হিসেবে গণ্য হব। আল্লাহ বলবেন, এখানেই থাকো, আমার সাথে কোনো কথা বলো না। এ কথা শোনার পর তারা সকল কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করতে থাকবে। ৮০

ٹکا:
৮০. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৮৬; মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/৩৮১। হাদীসটি হাসান [আলবানী, সহীহুত তারগীব: ৩৬৬৭]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 জিবরাঈল আ.-এর জান্নাত ও জাহান্নাম পরিদর্শন

📄 জিবরাঈল আ.-এর জান্নাত ও জাহান্নাম পরিদর্শন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ أَرْسَلَ جِبْرِيلَ إِلَى الْجَنَّةِ، فَقَالَ: انْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، قَالَ : فَجَاءَهَا وَنَظَرَ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللهُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهِ قَالَ: فَوَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ، فَقَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَانْظُرْ إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهَا، فَإِذَا هِيَ قَدْ حُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ : وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خِفْتُ أَنْ لَا يَدْخُلَهَا أَحَدٌ، قَالَ: اذْهَبْ إِلَى النَّارِ فَانْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا فَإِذَا هِيَ يَرْكَبُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلَهَا. فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالشَّهَوَاتِ، ثُمَّ قَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا. فَرَجَعَ إِلَيْهَا، فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لَا يَنْجُوَ مِنْهَا أَحَدٌ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন জিবরাঈল আ. কে জান্নাতে পাঠালেন এবং বললেন, জান্নাত ও তার অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত নেয়ামতগুলো দেখে এসো। তিনি দেখে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! যে-ই জান্নাতের কথা শুনবে সে-ই তাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে কষ্ট-ক্লেশ দিয়ে বেষ্টন করে জিবরাঈল আ. কে বললেন, আবার যাও। তিনি গিয়ে দেখেন জান্নাত কষ্ট-ক্লেশ দ্বারা বেষ্টিত। তিনি এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! আমার তো ভয় হচ্ছে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আল্লাহ তা'আলা বললেন, এবার জাহান্নাম ও তার অধিবাসীদের জন্য তৈরি করা শাস্তি দেখে এসো। তিনি দেখলেন, জাহান্নাম একে অপরের উপর ঢেউ খেলছে। তিনি ফিরে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! জাহান্নামের কথা শোনার পর কেউই সেখানে প্রবেশ করবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে প্রবৃত্তির লালসা দিয়ে বেষ্টন করে বললেন, আবার যাও। তিনি গিয়ে ফিরে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! আমার তো ভয় হচ্ছে, কেউই জাহান্নাম থেকে রেহাই পাবে না।৮১

ٹکا:
৮১. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৬০; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৪৪। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ أَرْسَلَ جِبْرِيلَ إِلَى الْجَنَّةِ، فَقَالَ: انْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، قَالَ : فَجَاءَهَا وَنَظَرَ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللهُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهِ قَالَ: فَوَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ، فَقَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَانْظُرْ إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهَا، فَإِذَا هِيَ قَدْ حُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ : وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خِفْتُ أَنْ لَا يَدْخُلَهَا أَحَدٌ، قَالَ: اذْهَبْ إِلَى النَّارِ فَانْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا فَإِذَا هِيَ يَرْكَبُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلَهَا. فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالشَّهَوَاتِ، ثُمَّ قَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا. فَرَجَعَ إِلَيْهَا، فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لَا يَنْجُوَ مِنْهَا أَحَدٌ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন জিবরাঈল আ. কে জান্নাতে পাঠালেন এবং বললেন, জান্নাত ও তার অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত নেয়ামতগুলো দেখে এসো। তিনি দেখে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! যে-ই জান্নাতের কথা শুনবে সে-ই তাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে কষ্ট-ক্লেশ দিয়ে বেষ্টন করে জিবরাঈল আ. কে বললেন, আবার যাও। তিনি গিয়ে দেখেন জান্নাত কষ্ট-ক্লেশ দ্বারা বেষ্টিত। তিনি এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! আমার তো ভয় হচ্ছে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আল্লাহ তা'আলা বললেন, এবার জাহান্নাম ও তার অধিবাসীদের জন্য তৈরি করা শাস্তি দেখে এসো। তিনি দেখলেন, জাহান্নাম একে অপরের উপর ঢেউ খেলছে। তিনি ফিরে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! জাহান্নামের কথা শোনার পর কেউই সেখানে প্রবেশ করবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে প্রবৃত্তির লালসা দিয়ে বেষ্টন করে বললেন, আবার যাও। তিনি গিয়ে ফিরে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! আমার তো ভয় হচ্ছে, কেউই জাহান্নাম থেকে রেহাই পাবে না।৮১

ٹکا:
৮১. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৬০; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৪৪। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 জাহান্নামের আলোচনা

📄 জাহান্নামের আলোচনা


জাহান্নামের আলোচনা
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُجَاءُ بِجَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ، مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে। তার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে। প্রত্যেক লাগামের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে, তারা তাকে টেনে নিয়ে আসবে। ৮২

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ كَانَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مِائَةُ أَلْفِ أَوْ يَزِيدُونَ، وَفِيهِمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَتَنَفَّسَ فَأَصَابَهُمْ نَفَسُهُ لَاحْتَرَقَ الْمَسْجِدُ وَمَنْ فِيهِ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যদি এই মসজিদে এক লক্ষ বা ততোধিক মানুষ থাকে আর তাদের মধ্যে কোনো জাহান্নামী থাকে, সে যদি একবার নিঃশ্বাস ফেলে আর তা তাদেরকে স্পর্শ করে তাহলে মসজিদ ও মসজিদের সকল লোক জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। ৮৩

عَنْ مُجَاهِدٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: كَلَّا إِنَّهَا لَظَى. نَزَّاعَةً لِلشَّوَى (المعارج : ١٥ - ١٦) قَالَ: تَأْكُلُ مَا دُونَ الْعَظْمِ، وَتَدَعُ الْفُؤَادَ، ثُمَّ يَعُودُ كَمَا كَانَ فَتَعُودُ لِأَكْلِهِ.

হযরত মুজাহিদ রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী- كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَىٰ অর্থ: কখনও না। নিশ্চয়ই এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে নিবে। ৮৪-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের আগুন হাড়ের উপরস্থ সবকিছু খেয়ে ফেলবে, কিন্তু অন্তরটা রেখে দেবে। আবার সব আগের মত হয়ে যাবে এবং সে আবার খেতে থাকবে।

عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : تَقُولُ جَهَنَّمُ يَا رَبِّ لَا تُطْفِئْ حَرِّي فَلَيْسَ لِي عَذَابُ إِلَّا حَرَّى، وَلَا تُطْفِئْ جَمْرِي فَلَيْسَ لِي قُوَّةٌ إِلَّا بِجَمْرِي.

হযরত উবাইদ ইবনে উমায়ের রাযি. বলেন, জাহান্নাম আল্লাহর নিকট আবেদন করে বলবে, হে আমার রব! আপনি আমার আগুন নির্বাপিত করবেন না, কারণ আমার আযাবের মূলই তো হলো আগুন। আর আমার অঙ্গার নিভিয়ে দিবেন না, কারণ অঙ্গারই তো আমার শক্তি।

টکا:
৮২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৭৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৮৩. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৬৪০৮; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির রাবীগণ নির্ভরযোগ্য [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৮৮]।
৮৪. সূরা মাআরিজ: আয়াত-১৫-১৬

জাহান্নামের আলোচনা
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُجَاءُ بِجَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ، مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে। তার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে। প্রত্যেক লাগামের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে, তারা তাকে টেনে নিয়ে আসবে। ৮২

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ كَانَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مِائَةُ أَلْفِ أَوْ يَزِيدُونَ، وَفِيهِمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَتَنَفَّسَ فَأَصَابَهُمْ نَفَسُهُ لَاحْتَرَقَ الْمَسْجِدُ وَمَنْ فِيهِ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যদি এই মসজিদে এক লক্ষ বা ততোধিক মানুষ থাকে আর তাদের মধ্যে কোনো জাহান্নামী থাকে, সে যদি একবার নিঃশ্বাস ফেলে আর তা তাদেরকে স্পর্শ করে তাহলে মসজিদ ও মসজিদের সকল লোক জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। ৮৩

عَنْ مُجَاهِدٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: كَلَّا إِنَّهَا لَظَى. نَزَّاعَةً لِلشَّوَى (المعارج : ١٥ - ١٦) قَالَ: تَأْكُلُ مَا دُونَ الْعَظْمِ، وَتَدَعُ الْفُؤَادَ، ثُمَّ يَعُودُ كَمَا كَانَ فَتَعُودُ لِأَكْلِهِ.

হযরত মুজাহিদ রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী- كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَىٰ অর্থ: কখনও না। নিশ্চয়ই এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে নিবে। ৮৪-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের আগুন হাড়ের উপরস্থ সবকিছু খেয়ে ফেলবে, কিন্তু অন্তরটা রেখে দেবে। আবার সব আগের মত হয়ে যাবে এবং সে আবার খেতে থাকবে।

عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : تَقُولُ جَهَنَّمُ يَا رَبِّ لَا تُطْفِئْ حَرِّي فَلَيْسَ لِي عَذَابُ إِلَّا حَرَّى، وَلَا تُطْفِئْ جَمْرِي فَلَيْسَ لِي قُوَّةٌ إِلَّا بِجَمْرِي.

হযরত উবাইদ ইবনে উমায়ের রাযি. বলেন, জাহান্নাম আল্লাহর নিকট আবেদন করে বলবে, হে আমার রব! আপনি আমার আগুন নির্বাপিত করবেন না, কারণ আমার আযাবের মূলই তো হলো আগুন। আর আমার অঙ্গার নিভিয়ে দিবেন না, কারণ অঙ্গারই তো আমার শক্তি।

টکا:
৮২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৭৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৮৩. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৬৪০৮; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির রাবীগণ নির্ভরযোগ্য [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৮৮]।
৮৪. সূরা মাআরিজ: আয়াত-১৫-১৬

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 জাহান্নামের দরজাসমূহ

📄 জাহান্নামের দরজাসমূহ


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ لِجَهَنَّمَ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ لَا يَدْخُلُهُ إِلَّا الْعَاقُّونَ لِوَالِدَيْهِمْ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামের একটি দরজার নাম রাইয়ান, যা দিয়ে শুধু পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানরাই প্রবেশ করবে।

عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مَقْسُومٌ} [الحجر: ٤٣- ٤٤]. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: أَبْوَابُهَا بَعْضُهَا أَسْفَلَ مِنْ بَعْضٍ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ . لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِّكُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُومٌ অর্থ: তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। এর সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে। ৮৫-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের দরজাগুলো একটির নিচে আরেকটি অবস্থিত।

টিকাঃ
৮৫. সূরা হিজর: আয়াত-৪৩-৪৪

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ لِجَهَنَّمَ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ لَا يَدْخُلُهُ إِلَّا الْعَاقُّونَ لِوَالِدَيْهِمْ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামের একটি দরজার নাম রাইয়ান, যা দিয়ে শুধু পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানরাই প্রবেশ করবে।

عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مَقْسُومٌ} [الحجر: ٤٣- ٤٤]. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: أَبْوَابُهَا بَعْضُهَا أَسْفَلَ مِنْ بَعْضٍ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. আল্লাহ তা'আলার বাণী- وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ . لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِّكُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُومٌ অর্থ: তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। এর সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে। ৮৫-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের দরজাগুলো একটির নিচে আরেকটি অবস্থিত।

টিকাঃ
৮৫. সূরা হিজর: আয়াত-৪৩-৪৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00