📄 জাহান্নামের সর্বাধিক লঘু আযাব
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ أَدْنَى أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، مَنْ يُجْعَلُ لَهُ نَعْلَانِ مِنْ نَارٍ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব তার হবে, যার পায়ে আগুনের দুটি জুতা পরিয়ে দেওয়া হবে। এতে তার মগজ টগবগ করতে থাকবে।৭৯
টিকাঃ
৭৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২১৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১০৯৮৭।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ أَدْنَى أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، مَنْ يُجْعَلُ لَهُ نَعْلَانِ مِنْ نَارٍ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব তার হবে, যার পায়ে আগুনের দুটি জুতা পরিয়ে দেওয়া হবে। এতে তার মগজ টগবগ করতে থাকবে।৭৯
টিকাঃ
৭৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২১৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১০৯৮৭।
রাসূল ইরশাদ করেন—
ইননা আহওয়ানা আহলিল নারী আযাবান লারাজুলুন ফী রিজলাইহি না'লানি মিন নারিন ইয়াগলী মিনহুমা দিমগুহু কাআন্নাহু মিরজালুন, মাসামিউহু জামরুন, ওয়া আদরাসুহু জামরুন, আশফಾರುহু লাহাবুন নিরানি ওয়া তাখরুজু আহশাউ বাতনিহি মিন ক্বাদামাইহি, ওয়া ইন্নাহু লাইয়ারা আন্নাহু আশাদদু আহলিন নারি আযাবান, ওয়া ইন্নাহু আহওয়ানু আহলিন নারি আযাবান।
জাহান্নামে সর্বাধিক কম আযাবের অধিকারী হবে সে ব্যক্তি, যাকে আগুনের জুতা পরানো হয়েছে। ফলে তার মগজ তা কড়াইয়ে ফুটন্ত পানির মতো বলকাইতে থাকে। তার কান দাঁত ইত্যাদি আগুনে পরিণত হবে। তার উদরের অস্ত্র গলে পায়ে গড়িয়ে পড়বে। সে মনে করবে, জাহান্নামীদের মধ্যে সে সর্বাধিক আযাব ভোগ করছে। অথচ তাকে সবচেয়ে লঘু আযাব দেওয়া হয়েছে।
টিকাঃ
১১০. মুসান্নাফে ইবনে শাইবা ১৩/১৫৭; সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৫৬১, ৬৫৬২; সহীহ মুসলিম: হাদীস- ২১১, ২১২, ২১৩; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৬০৪; মুসনাদে আহমাদ: ৩০/৩৩৯। সহীহ মুসলিমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে সর্বাপেক্ষা কম শাস্তির ব্যাপারে আবু তালেবের কথা বলা হয়েছে।
📄 জাহান্নামীদের আর্তনাদ
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يُلْقَى عَلَى أَهْلِ النَّارِ الْجُوعُ حَتَّى يَعْدِلَ مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الْعَذَابِ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ مِنْ ضَرِيعٍ، لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ ذِي غُصَّةٍ فَيَذْكُرُونَ أَنَّهُمْ كَانُوا يُجِيزُونَ الْغَصَصَ فِي الدُّنْيَا بِالشَّرَابِ، فَيَسْتَسْقُونَ، فَيُرْفَعُ إِلَيْهِمُ الْحَمِيمُ بِكَلَالِيبِ مِنْ حَدِيدٍ، فَإِذَا دَنَتْ مِنْ وُجُوهِهِمْ شَوَتْ وُجُوهَهُمْ، فَإِذَا دَخَلَتْ بُطُونَهُمْ قَطَّعَتْ مَا فِي بُطُونِهِمْ، فَيَقُولُونَ ادْعُو خَزَنَةَ جَهَنَّمَ. فَيَقُولُونَ: أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ، قَالُوا بَلَى قَالُوا: فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا مَالِكًا، فَيَقُولُونَ: يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ، قَالَ : فَيُجِيبُهُمْ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ. قَالَ الْأَعْمَشُ: نُبِّئْتُ أَنَّ بَيْنَ دُعَائِهِمْ وَبَيْنَ إِجَابَةِ مَالِكٍ إِيَّاهُمْ أَلْفَ عَامٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا رَبَّكُمْ، فَلَا أَحَدَ خَيْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ، رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ. قَالَ : فَيُجِيبُهُمُ اخْسَنُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ، قَالَ: فَعِنْدَ ذَلِكَ يَئِسُوا مِنْ كُلِّ خَيْرٍ، وَعِنْدَ ذَلِكَ يَأْخُذُونَ فِي الزَّفِيرِ وَالْحَسْرَةِ وَالْوَيْلِ.
হযরত আবুদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামীদের উপর ক্ষুধা চাপিয়ে দেওয়া হবে। যা হবে তাদের আযাবের সমপরিমাণ। তারা খেতে চাইলে তাদেরকে যারী নামক কাঁটাযুক্ত ফল দেওয়া হবে। যা তাদের ক্ষুধা নিবারণ করবে না এবং তাদের পুষ্টিও যোগাবে না। আবার তারা খেতে চাইলে তাদেরকে এমন খাবার দেওয়া হবে, যা তাদের গলায় আটকে যাবে। তখন তাদের মনে হবে দুনিয়াতে তারা খাবার গলায় আটকে গেলে পানি পান করত। তাই তারা পানি চাইবে। তাদেরকে এমন গরম পানি দেওয়া হবে, যার কারণে তাদের চেহারা ঝলসে যাবে। তাদের পেটে প্রবেশ করলে পেটের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে। তখন তারা বলবে, জাহান্নামের প্রহরীদেরকে ডাক। জাহান্নামের প্রহরীরা এসে বলবে, তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট প্রমাণসহ নবীগণ আসেনি? তারা বলবে, এসেছিল। তারা বলবে, তাহলে এখন তোমরাই ডাকো। কিন্তু কাফেরদের দোয়া কোনো কাজে আসবে না। এরপর তারা বলবে, মালিক (জাহান্নামের প্রধান প্রহরী)-কে ডাক। তারা ডাকবে, হে মালিক! তোমার রবকে বল, তিনি যেন আমাদেরকে মেরে ফেলেন। সে উত্তরে বলবে, তোমাদেরকে এভাবেই থাকতে হবে।
হযরত আমাশ বলেন, এই আহ্বানের পর থেকে মালিক ফেরেশতার জবাব দেওয়া পর্যন্ত একহাজার বছর পার হয়ে যাবে। তারপর তারা বলবে, তোমাদের রবকে ডাক। কারণ, তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। তারা বলবে, হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে গ্রাস করেছিল এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত। হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দিন। আর যদি এমন কাজ করি তবে আমরা অবশ্যই জালেম হিসেবে গণ্য হব। আল্লাহ বলবেন, এখানেই থাকো, আমার সাথে কোনো কথা বলো না। এ কথা শোনার পর তারা সকল কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করতে থাকবে। ৮০
ٹکا:
৮০. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৮৬; মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/৩৮১। হাদীসটি হাসান [আলবানী, সহীহুত তারগীব: ৩৬৬৭]।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يُلْقَى عَلَى أَهْلِ النَّارِ الْجُوعُ حَتَّى يَعْدِلَ مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الْعَذَابِ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ مِنْ ضَرِيعٍ، لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ ذِي غُصَّةٍ فَيَذْكُرُونَ أَنَّهُمْ كَانُوا يُجِيزُونَ الْغَصَصَ فِي الدُّنْيَا بِالشَّرَابِ، فَيَسْتَسْقُونَ، فَيُرْفَعُ إِلَيْهِمُ الْحَمِيمُ بِكَلَالِيبِ مِنْ حَدِيدٍ، فَإِذَا دَنَتْ مِنْ وُجُوهِهِمْ شَوَتْ وُجُوهَهُمْ، فَإِذَا دَخَلَتْ بُطُونَهُمْ قَطَّعَتْ مَا فِي بُطُونِهِمْ، فَيَقُولُونَ ادْعُو خَزَنَةَ جَهَنَّمَ. فَيَقُولُونَ: أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ، قَالُوا بَلَى قَالُوا: فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا مَالِكًا، فَيَقُولُونَ: يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ، قَالَ : فَيُجِيبُهُمْ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ. قَالَ الْأَعْمَشُ: نُبِّئْتُ أَنَّ بَيْنَ دُعَائِهِمْ وَبَيْنَ إِجَابَةِ مَالِكٍ إِيَّاهُمْ أَلْفَ عَامٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا رَبَّكُمْ، فَلَا أَحَدَ خَيْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ، رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ. قَالَ : فَيُجِيبُهُمُ اخْسَنُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ، قَالَ: فَعِنْدَ ذَلِكَ يَئِسُوا مِنْ كُلِّ خَيْرٍ، وَعِنْدَ ذَلِكَ يَأْخُذُونَ فِي الزَّفِيرِ وَالْحَسْرَةِ وَالْوَيْلِ.
হযরত আবুদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামীদের উপর ক্ষুধা চাপিয়ে দেওয়া হবে। যা হবে তাদের আযাবের সমপরিমাণ। তারা খেতে চাইলে তাদেরকে যারী নামক কাঁটাযুক্ত ফল দেওয়া হবে। যা তাদের ক্ষুধা নিবারণ করবে না এবং তাদের পুষ্টিও যোগাবে না। আবার তারা খেতে চাইলে তাদেরকে এমন খাবার দেওয়া হবে, যা তাদের গলায় আটকে যাবে। তখন তাদের মনে হবে দুনিয়াতে তারা খাবার গলায় আটকে গেলে পানি পান করত। তাই তারা পানি চাইবে। তাদেরকে এমন গরম পানি দেওয়া হবে, যার কারণে তাদের চেহারা ঝলসে যাবে। তাদের পেটে প্রবেশ করলে পেটের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে। তখন তারা বলবে, জাহান্নামের প্রহরীদেরকে ডাক। জাহান্নামের প্রহরীরা এসে বলবে, তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট প্রমাণসহ নবীগণ আসেনি? তারা বলবে, এসেছিল। তারা বলবে, তাহলে এখন তোমরাই ডাকো। কিন্তু কাফেরদের দোয়া কোনো কাজে আসবে না। এরপর তারা বলবে, মালিক (জাহান্নামের প্রধান প্রহরী)-কে ডাক। তারা ডাকবে, হে মালিক! তোমার রবকে বল, তিনি যেন আমাদেরকে মেরে ফেলেন। সে উত্তরে বলবে, তোমাদেরকে এভাবেই থাকতে হবে।
হযরত আমাশ বলেন, এই আহ্বানের পর থেকে মালিক ফেরেশতার জবাব দেওয়া পর্যন্ত একহাজার বছর পার হয়ে যাবে। তারপর তারা বলবে, তোমাদের রবকে ডাক। কারণ, তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। তারা বলবে, হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে গ্রাস করেছিল এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত। হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দিন। আর যদি এমন কাজ করি তবে আমরা অবশ্যই জালেম হিসেবে গণ্য হব। আল্লাহ বলবেন, এখানেই থাকো, আমার সাথে কোনো কথা বলো না। এ কথা শোনার পর তারা সকল কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করতে থাকবে। ৮০
ٹکا:
৮০. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৮৬; মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/৩৮১। হাদীসটি হাসান [আলবানী, সহীহুত তারগীব: ৩৬৬৭]।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামের অধিবাসীরা দোযখের প্রধান প্রহরী মালেককে ক্রমাগত চল্লিশ বছর ডাকতে থাকবে কিন্তু সে তাদের ডাকে সারা দেবে না। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে— 'ইন্নাকুম মাকিছুন' অর্থ: তোমরা সেখানে চিরজীবন থাকবে। অতঃপর তারা তাদের রবকে ডেকে বলবে— 'রাব্বানা আখরিজনা মিনহা ফাহিন উদনা ফাইন্না জালিমুন' অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এ আগুন থেকে রক্ষা করুন। এরপর আমরা যদি পুনরায় কুফুরী করি, তবে আমরা অবশ্যই জালেম। দুনিয়ার বয়সের দ্বিগুণ সময় পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাদের ডাকে সাড়া দিবেন না। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে— 'ইখসাউ ফীহা ওয়ালা তুকাল্লিমুন' অর্থ: তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই থাক, আমার সাথে কথা বলো না।
তিনি বলেন, এরপর জাহান্নামবাসীরা আর কোনো শব্দ করবে না। বরং জাহান্নাম থেকে কেবল আর্তনাদ ও আর্তচিৎকার ভেসে আসবে। তাদের আওয়াজ হবে গাধার আওয়াজের মতো, যার শুরু হবে চিৎকারে, শেষ হবে বিভৎস আর্তনাদে। হযরত কাতাদা রহ. বলতেন— হে লোক সকল! এ থেকে বাঁচার কোনো কৌশল তোমাদের জানা আছে, নাকি এ আগুন সহ্য করার ক্ষমতা আছে? হে লোক সকল। নিশ্চয় আল্লাহর আনুগত্য করা এর থেকে অনেক সহজ। সুতরাং তোমরা তার আনুগত্য কর।
বলা হয়, জাহান্নামবাসীরা এক হাজার বছর আর্তনাদ ও মিনতি করতে থাকবে, কিন্তু তা তাদের কোনো কাজে আসবে না। তখন তারা পরস্পর বলাবলি করবে, দুনিয়াতে বিপদে ধৈর্যধারণ করলে আমাদের মুক্তির ব্যবস্থা হতো। সুতরাং তারা এক হাজার বছর ধৈর্যধারণ করবে, তবুও তাদের কোনো লাভ হবে না। তখন তারা বলবে— 'সাওয়াউন আলাইনা আজাজিনা আম সবারনা মা লানা মিম মাহিদিন' অর্থ: আমরা কাকুতি-মিনতি করি কিংবা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য উভয়ই অবস্থায় সমান, আমাদের কোনো মুক্তি নেই।
অতঃপর তারা এক হাজার বছর পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার নিকট পিপাসা ও আযাব দূর করার জন্য পানি বর্ষণের আবেদন জানাবে। এভাবে এক হাজার বছর কান্নাকাটি করার পর আল্লাহ তা'আলা জিবরাঈল আ. কে বলবেন, তারা কী চায়? জিবরাঈল আ. বলবেন, হে রব, আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। তারা বৃষ্টি চায়। তখন আকাশে লাল রঙের মেঘ দেখা দেবে। ফলে তাদের ধারণা হবে, এ নিশ্চয় বৃষ্টিপ্রবাহী মেঘ। কিন্তু সে মেঘ থেকে তাদের উপর খচ্চরের মতো বিচ্ছু পতিত হবে। সে বিচ্ছু একবার দংশন করলে এক হাজার বছর পর্যন্ত তার ব্যথা থাকে। ফের এক হাজার বছর বৃষ্টির জন্য কান্নাকাটি করে সময় অতিবাহিত করবে। এরপর আকাশে কালো মেঘ দেখা দেবে। তাদের ধারণা হবে এ নিশ্চয় বৃষ্টিপ্রবাহী মেঘ। কিন্তু সে মেঘ থেকে তাদের উপর উটের ঘাড়ের মতো সাপ পতিত হবে, যা একবার কাউকে দংশন করলে এক হাজার বছর পর্যন্ত তার ব্যথা থাকে। কুরআনে বর্ণিত নিম্নোক্ত আয়াতে এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে— 'যিদনাহুম আযাবান ফাওক্বাল আযাবি বিমা কানু ইউফসিদুন' অর্থ: আমি তাদের জন্য আযাবের উপর আযাব বৃদ্ধি করে দেব। কারণ, তারা পাপাচার করে বেড়াত। অর্থাৎ, তাদের কুফুরীর কারণে ও আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে。
অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি পেতে চায় এবং আখেরাতের সওয়াব পেতে চায়, তার কর্তব্য হলো, আল্লাহর আনুগত্য করতে গিয়ে দুনিয়ার যন্ত্রণায় ধৈর্যধারণ করা। যেমন, হাদীসে এসেছে: জান্নাতকে (নফসের) অপছন্দ ও কষ্টসমূহ দিয়ে আবৃত করা হয়েছে আর জাহান্নামকে আবৃত করা হয়েছে কু-প্রবৃত্তি দিয়ে।
এরপর তিনি কয়েকটি কবিতা আবৃতি করলেন। সেগুলো হলো—
জ্ঞানীদের জন্য বার্ধক্যে এক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে, যা তাকে শৈশবের গাফলতী থেকে সরিয়ে রাখে, যখন সেটার নিদর্শন তার কপালে প্রকাশ পায়।
আমি লক্ষ্য করেছি, মানুষ তখনই ঈর্ষণীয় জীবিকার আশা রাখে, যখন শস্যের সবুজ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।
মন্দ সঙ্গী থেকে সাবধান! তার থেকে বেঁচে থাক। পারলে তার সাথে কোমল আচরণ কর।
খাঁটি বন্ধুর কাছে থাক, তার সাথে ঝগড়া কর না। যতক্ষণ তার সাথে ঝগড়া না করবে, ততক্ষণ খাঁটি বন্ধুত্ব পাবে।
খোঁজ করতে যদি হয়, তাহলে কোনো শরীফ মানুষকে খোঁজো। এমন শরীফ বন্ধুর সঙ্গ তোমাকে উচ্চ মর্যাদাবান করে দিবে।
আর যে কোনো অযোগ্যের সাথে ভালো আচরণ কর। কারণ, এটার ফল সমুদ্রের গভীরেও পাবে।
আল্লাহর জান্নাত আকাশের বিশালতায় বিদ্যমান। তবে সেটা বিপদ ও কষ্টের প্রাচীরে ঘেরা।
টিকাঃ
১১১. সূরা যুখরুফ: আয়াত-৭৭
১১২. সুরা মুমিনুন: আয়াত-১০৭
১১৩. সুরা মুমিনুন: আয়াত-১০৮; মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/৪২৯ (৩৪৯২); ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন আর আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। আল্লামা হাইসামী বলেছেন, হাদীসটি ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন এবং এর রাবীগণ বুখারী-মুসলিমের রাবী।
১১৪. সুরা ইবরাহীম: আয়াত-২১
১১৫. সুরা আন নাহল, আয়াত-৮৮
১১৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৮৭; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮২২।
📄 জিবরাঈল আ.-এর জান্নাত ও জাহান্নাম পরিদর্শন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ أَرْسَلَ جِبْرِيلَ إِلَى الْجَنَّةِ، فَقَالَ: انْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، قَالَ : فَجَاءَهَا وَنَظَرَ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللهُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهِ قَالَ: فَوَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ، فَقَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَانْظُرْ إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهَا، فَإِذَا هِيَ قَدْ حُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ : وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خِفْتُ أَنْ لَا يَدْخُلَهَا أَحَدٌ، قَالَ: اذْهَبْ إِلَى النَّارِ فَانْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا فَإِذَا هِيَ يَرْكَبُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلَهَا. فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالشَّهَوَاتِ، ثُمَّ قَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا. فَرَجَعَ إِلَيْهَا، فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لَا يَنْجُوَ مِنْهَا أَحَدٌ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন জিবরাঈল আ. কে জান্নাতে পাঠালেন এবং বললেন, জান্নাত ও তার অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত নেয়ামতগুলো দেখে এসো। তিনি দেখে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! যে-ই জান্নাতের কথা শুনবে সে-ই তাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে কষ্ট-ক্লেশ দিয়ে বেষ্টন করে জিবরাঈল আ. কে বললেন, আবার যাও। তিনি গিয়ে দেখেন জান্নাত কষ্ট-ক্লেশ দ্বারা বেষ্টিত। তিনি এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! আমার তো ভয় হচ্ছে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আল্লাহ তা'আলা বললেন, এবার জাহান্নাম ও তার অধিবাসীদের জন্য তৈরি করা শাস্তি দেখে এসো। তিনি দেখলেন, জাহান্নাম একে অপরের উপর ঢেউ খেলছে। তিনি ফিরে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! জাহান্নামের কথা শোনার পর কেউই সেখানে প্রবেশ করবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে প্রবৃত্তির লালসা দিয়ে বেষ্টন করে বললেন, আবার যাও। তিনি গিয়ে ফিরে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! আমার তো ভয় হচ্ছে, কেউই জাহান্নাম থেকে রেহাই পাবে না।৮১
ٹکا:
৮১. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৬০; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৪৪। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ أَرْسَلَ جِبْرِيلَ إِلَى الْجَنَّةِ، فَقَالَ: انْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، قَالَ : فَجَاءَهَا وَنَظَرَ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللهُ لِأَهْلِهَا فِيهَا، قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهِ قَالَ: فَوَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ، فَقَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَانْظُرْ إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهَا، فَإِذَا هِيَ قَدْ حُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ : وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خِفْتُ أَنْ لَا يَدْخُلَهَا أَحَدٌ، قَالَ: اذْهَبْ إِلَى النَّارِ فَانْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لِأَهْلِهَا فِيهَا فَإِذَا هِيَ يَرْكَبُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلَهَا. فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالشَّهَوَاتِ، ثُمَّ قَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا. فَرَجَعَ إِلَيْهَا، فَقَالَ: وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لَا يَنْجُوَ مِنْهَا أَحَدٌ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন জিবরাঈল আ. কে জান্নাতে পাঠালেন এবং বললেন, জান্নাত ও তার অধিবাসীদের জন্য প্রস্তুতকৃত নেয়ামতগুলো দেখে এসো। তিনি দেখে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! যে-ই জান্নাতের কথা শুনবে সে-ই তাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে কষ্ট-ক্লেশ দিয়ে বেষ্টন করে জিবরাঈল আ. কে বললেন, আবার যাও। তিনি গিয়ে দেখেন জান্নাত কষ্ট-ক্লেশ দ্বারা বেষ্টিত। তিনি এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! আমার তো ভয় হচ্ছে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আল্লাহ তা'আলা বললেন, এবার জাহান্নাম ও তার অধিবাসীদের জন্য তৈরি করা শাস্তি দেখে এসো। তিনি দেখলেন, জাহান্নাম একে অপরের উপর ঢেউ খেলছে। তিনি ফিরে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! জাহান্নামের কথা শোনার পর কেউই সেখানে প্রবেশ করবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে প্রবৃত্তির লালসা দিয়ে বেষ্টন করে বললেন, আবার যাও। তিনি গিয়ে ফিরে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম! আমার তো ভয় হচ্ছে, কেউই জাহান্নাম থেকে রেহাই পাবে না।৮১
ٹکا:
৮১. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৬০; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৪৪। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা'আলা জিবরাঈল আ.-কে ডেকে বললেন, জান্নাত এবং জান্নাতের অধিবাসীদের জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে, তা দেখে এসো। জিবরাঈল আ. দেখে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের শপথ! জান্নাত সম্পর্কে যেই শুনবে, সে অবশ্যই তাতে প্রবেশ করবে। এরপর তাকে কষ্ট, যন্ত্রণা ও অপছন্দনীয় বিষয়ে মুড়ে দেওয়া হলো। অতঃপর আল্লাহ জিবরাঈল আ.-কে বললেন, এবার দেখে এসো। জিবরাঈল আ. দেখে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের শপথ! আমি তো আশঙ্কা করছি, কেউ তাতে প্রবেশ করতে পারবে না। অতঃপর তাকে জাহান্নামে জাহান্নাম এবং তার অধিবাসীদের জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে, সেগুলো দেখে আসতে বললেন। জিবরাঈল আ. দেখে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের শপথ! জাহান্নাম সম্পর্কে যেই শুনবে, সে কোনোভাবেই তাতে প্রবেশ করবে না। এরপর তাকে প্রবৃত্তি আকঙ্ক্ষা ও কামনায় মুড়ে দেওয়া হলো। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তখন জিবরাঈল আ. কে বললেন, পুনরায় দেখে এসো। জিবরাঈল আ. দেখে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের ও জালালতের শপথ! আমার ভয় হচ্ছে যে, কেউ এর থেকে বাঁচতে পারবে না。
রাসূল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা যা ইচ্ছা জাহান্নাম সম্পর্কে বর্ণনা কর, তোমরা যেভাবেই বর্ণনা কর না কেন, তা তার চেয়েও কঠিনতর।
হযরত মায়মুন বিন মেহরান রহ. থেকে বর্ণিত। যখন কুরআনের এ আয়াত নাযিল হলো— 'ওয়া ইন্না জাহান্নামা লামাউইদুহুম আজমাঈন' অর্থ: তাদের সকলের প্রতিশ্রুত স্থান জাহান্নাম। তখন সালমান রাযি. মাথায় হাত রেখে তিন দিন কেবল ছুটে চললেন, কেউ তাকে থামাতে পারেনি।
টিকাঃ
১১৮. সুনানে আবু দাউদ: হাদীস-৪৮৪৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৬০; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-৩৭৬৩। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
১১৯. ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ আল-বাকের-এর জীবনীতে তাঁর বাণী হিসেবে ইমাম যাহাবী এই বাক্যটি এনেছেন। [সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৪০৬; আল-মুজালাসাতু ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম লি আবী বকর দিনাওয়ারী: হাদীস-৮৫৩ - সনদসহ মুহাম্মদ আল বাকেরের বাণী হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে)।
১২০. সুরা হিজর, আয়াত-৪৩
📄 জাহান্নামের আলোচনা
জাহান্নামের আলোচনা
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُجَاءُ بِجَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ، مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে। তার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে। প্রত্যেক লাগামের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে, তারা তাকে টেনে নিয়ে আসবে। ৮২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ كَانَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مِائَةُ أَلْفِ أَوْ يَزِيدُونَ، وَفِيهِمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَتَنَفَّسَ فَأَصَابَهُمْ نَفَسُهُ لَاحْتَرَقَ الْمَسْجِدُ وَمَنْ فِيهِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যদি এই মসজিদে এক লক্ষ বা ততোধিক মানুষ থাকে আর তাদের মধ্যে কোনো জাহান্নামী থাকে, সে যদি একবার নিঃশ্বাস ফেলে আর তা তাদেরকে স্পর্শ করে তাহলে মসজিদ ও মসজিদের সকল লোক জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। ৮৩
عَنْ مُجَاهِدٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: كَلَّا إِنَّهَا لَظَى. نَزَّاعَةً لِلشَّوَى (المعارج : ١٥ - ١٦) قَالَ: تَأْكُلُ مَا دُونَ الْعَظْمِ، وَتَدَعُ الْفُؤَادَ، ثُمَّ يَعُودُ كَمَا كَانَ فَتَعُودُ لِأَكْلِهِ.
হযরত মুজাহিদ রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী- كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَىٰ অর্থ: কখনও না। নিশ্চয়ই এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে নিবে। ৮৪-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের আগুন হাড়ের উপরস্থ সবকিছু খেয়ে ফেলবে, কিন্তু অন্তরটা রেখে দেবে। আবার সব আগের মত হয়ে যাবে এবং সে আবার খেতে থাকবে।
عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : تَقُولُ جَهَنَّمُ يَا رَبِّ لَا تُطْفِئْ حَرِّي فَلَيْسَ لِي عَذَابُ إِلَّا حَرَّى، وَلَا تُطْفِئْ جَمْرِي فَلَيْسَ لِي قُوَّةٌ إِلَّا بِجَمْرِي.
হযরত উবাইদ ইবনে উমায়ের রাযি. বলেন, জাহান্নাম আল্লাহর নিকট আবেদন করে বলবে, হে আমার রব! আপনি আমার আগুন নির্বাপিত করবেন না, কারণ আমার আযাবের মূলই তো হলো আগুন। আর আমার অঙ্গার নিভিয়ে দিবেন না, কারণ অঙ্গারই তো আমার শক্তি।
টکا:
৮২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৭৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৮৩. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৬৪০৮; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির রাবীগণ নির্ভরযোগ্য [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৮৮]।
৮৪. সূরা মাআরিজ: আয়াত-১৫-১৬
জাহান্নামের আলোচনা
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُجَاءُ بِجَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ، مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে। তার সত্তর হাজার লাগাম থাকবে। প্রত্যেক লাগামের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে, তারা তাকে টেনে নিয়ে আসবে। ৮২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ كَانَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مِائَةُ أَلْفِ أَوْ يَزِيدُونَ، وَفِيهِمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَتَنَفَّسَ فَأَصَابَهُمْ نَفَسُهُ لَاحْتَرَقَ الْمَسْجِدُ وَمَنْ فِيهِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যদি এই মসজিদে এক লক্ষ বা ততোধিক মানুষ থাকে আর তাদের মধ্যে কোনো জাহান্নামী থাকে, সে যদি একবার নিঃশ্বাস ফেলে আর তা তাদেরকে স্পর্শ করে তাহলে মসজিদ ও মসজিদের সকল লোক জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। ৮৩
عَنْ مُجَاهِدٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: كَلَّا إِنَّهَا لَظَى. نَزَّاعَةً لِلشَّوَى (المعارج : ١٥ - ١٦) قَالَ: تَأْكُلُ مَا دُونَ الْعَظْمِ، وَتَدَعُ الْفُؤَادَ، ثُمَّ يَعُودُ كَمَا كَانَ فَتَعُودُ لِأَكْلِهِ.
হযরত মুজাহিদ রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী- كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَىٰ অর্থ: কখনও না। নিশ্চয়ই এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে নিবে। ৮৪-এর ব্যাখ্যায় বলেন, জাহান্নামের আগুন হাড়ের উপরস্থ সবকিছু খেয়ে ফেলবে, কিন্তু অন্তরটা রেখে দেবে। আবার সব আগের মত হয়ে যাবে এবং সে আবার খেতে থাকবে।
عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : تَقُولُ جَهَنَّمُ يَا رَبِّ لَا تُطْفِئْ حَرِّي فَلَيْسَ لِي عَذَابُ إِلَّا حَرَّى، وَلَا تُطْفِئْ جَمْرِي فَلَيْسَ لِي قُوَّةٌ إِلَّا بِجَمْرِي.
হযরত উবাইদ ইবনে উমায়ের রাযি. বলেন, জাহান্নাম আল্লাহর নিকট আবেদন করে বলবে, হে আমার রব! আপনি আমার আগুন নির্বাপিত করবেন না, কারণ আমার আযাবের মূলই তো হলো আগুন। আর আমার অঙ্গার নিভিয়ে দিবেন না, কারণ অঙ্গারই তো আমার শক্তি।
টکا:
৮২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৭৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৮৩. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৬৪০৮; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির রাবীগণ নির্ভরযোগ্য [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৮৮]।
৮৪. সূরা মাআরিজ: আয়াত-১৫-১৬
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত— একবার জিবরাঈল আ. এমন এক সময় রাসূল-এর নিকট আগমন করলেন, সাধারণত যে সময়ে তিনি আগমন করেন না। তার চেহারা ছিল বিবর্ণ। রাসূল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার, আপনাকে এমন বিবর্ণ মুখে দেখছি কেন? তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার নিকট এমন এক সময়ে উপস্থিত হয়েছি, যখন আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে তার শিখা বিচ্ছুরণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ সত্য জেনেছে যে, জাহান্নাম সত্য, জাহান্নামের আগুন সত্য, কবরের আযাব সত্য এবং আল্লাহ তা'আলার আযাবই প্রবল, সে যেন তার চোখকে বিশ্রাম না দেয়, যতক্ষণ না এগুলো থেকে নিরাপদ হয়।
নবী করীম বললেন, হে জিবরাঈল! আমাকে জাহান্নামের বর্ণনা শোনান। তিনি বললেন, তবে শুনুন! আল্লাহ তা'আলা জাহান্নাম সৃষ্টির পর তাকে এক হাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করলেন, ফলে তা টকটকে লাল হয়ে গেল। এরপর আরো একহাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করলেন, ফলে তা সাদা হয়ে গেল। অতঃপর তাকে এক হাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করলেন, ফলে তা ঘুটঘুটে কালো হয়ে গেল। এখন তা কালো বর্ণই আছে। তার শিখা কখনো নেভে না ও জ্বলন্ত অঙ্গার কখনো শীতল হয় না। সে সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন। যদি জাহান্নামের সামান্য পরিমাণ আগুন দুনিয়াবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তবে তার উত্তাপের কারণে শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে।
সে সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন। জাহান্নামীদের কোনো কাপড় যদি আসমান-জমিনের মধ্যস্থানে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তার দুর্গন্ধে ও তাপে দুনিয়াবাসীর মৃত্যু হয়ে যাবে। সে সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যনবীরূপে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর কিতাবে জাহান্নামের যে শিকলের বর্ণনা দিয়েছেন, যদি তার এক হাত পরিমাণ দুনিয়ার কোনো পাহাড়ে রাখা হয়, তবে তা সাত তবক যমীনসহ গলে যাবে। সে সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে নবীরূপে প্রেরণ করেছেন যদি পৃথিবীর পশ্চিমে কোনো ব্যক্তিকে আযাব দেওয়া হয়, তাহলে আযাবের তীব্রতায় পূর্ব প্রান্তে থাকা ব্যক্তিরাও ভষ্ম হয়ে যাবে। জাহান্নামের তাপ ভয়ানক, এর গভীরতাও বেশি, এর বেড়ীগুলো হবে লোহার, এর পানীয় হবে ফুটন্ত পানি ও পুঁজের এবং এর পরিধেয় বস্ত্র হবে আগুনের。
টিকাঃ
১২১. মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/৩৮৬-৩৮৭; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটি ইমাম ত্ববারানী আওসাতে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে সালাম ত্বাউল নামক জয়ীফ রাবীর কারণে হাদীসটি জয়ীফ।