📄 জাহান্নামের সাপ-বিচ্ছু
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ فِي النَّارِ حَيَّاتٌ لَهَا أَنْيَابٌ أَمْثَالُ النَّخْلِ الطُّوَالِ، تَلْسَعُ اللَّسْعَةَ، فَيَجِدُ حَرَارَتَهَا أَرْبَعِينَ خَرِيفًا، وَإِنَّ فِيهَا عَقَارِبَ أَمْثَالَ الْبِغَالِ الْمُؤَكَّفَةِ تَلْدَغُ أَحَدَهُمْ لَدْغَةً يَجِدُ أَلَمَهَا أَرْبَعِينَ سَنَةً.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে জাযয়ি রাযি. বলেন, জাহান্নামে এমন কিছু সাপ আছে, যেগুলোর দাঁত খেজুর গাছের সমান লম্বা। সেগুলো একবার দংশন করলে চল্লিশ বছর তার যন্ত্রণা অনুভব হয়। এবং সেখানে এমন বিচ্ছুও আছে যেগুলো সওয়ারীর মত বড়। সেগুলো একবার দংশন করলে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার যন্ত্রণা থাকবে। ৭৭
টکا:
৭৭. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭৮০৫; মুস্তাদরাকে হাকেম: ৪/৫৯৩। ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ فِي النَّارِ حَيَّاتٌ لَهَا أَنْيَابٌ أَمْثَالُ النَّخْلِ الطُّوَالِ، تَلْسَعُ اللَّسْعَةَ، فَيَجِدُ حَرَارَتَهَا أَرْبَعِينَ خَرِيفًا، وَإِنَّ فِيهَا عَقَارِبَ أَمْثَالَ الْبِغَالِ الْمُؤَكَّفَةِ تَلْدَغُ أَحَدَهُمْ لَدْغَةً يَجِدُ أَلَمَهَا أَرْبَعِينَ سَنَةً.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে জাযয়ি রাযি. বলেন, জাহান্নামে এমন কিছু সাপ আছে, যেগুলোর দাঁত খেজুর গাছের সমান লম্বা। সেগুলো একবার দংশন করলে চল্লিশ বছর তার যন্ত্রণা অনুভব হয়। এবং সেখানে এমন বিচ্ছুও আছে যেগুলো সওয়ারীর মত বড়। সেগুলো একবার দংশন করলে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার যন্ত্রণা থাকবে। ৭৭
টکا:
৭৭. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭৮০৫; মুস্তাদরাকে হাকেম: ৪/৫৯৩। ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
ফকীহ সমরকান্দী রহ. বলেন, হযরত মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত— জাহান্নামের কিছু গর্ত রয়েছে, যাতে উটের ঘাড়ের মতো মোটা সাপ এবং কালো খচ্চরের মতো বিচ্ছু থাকবে। জাহান্নামীরা আগুন থেকে পালিয়ে সাপগুলোর কাছে গেলে সাপ ঠোঁট দিয়ে তাদেরকে আঁকড়ে ধরবে এবং মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত সমস্ত দেহের চামড়া তুলে নিবে। সুতরাং পুনরায় জাহান্নামে গমন করাই কেবল তাদেরকে এ থেকে মুক্তি দেবে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হারেস যুবাইদী রাযি. থেকে বর্ণিত— রাসূল ইরশাদ করেন, দোযখে উটের গ্রীবার মতো সাপ থাকবে। সেগুলো কাউকে দংশন করলে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার কষ্ট থাকবে। দোযখে কিছু বিচ্ছু থাকবে, সেগুলো কাউকে দংশন করলে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার কষ্ট থাকবে।
টিকাঃ
১০৫. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১৩/১৬০; আয-যুহদ লি হান্নাদ: হাদীস-২৫৯। সনদটি সহীহ।
১০৬. সহীহ ইবনে হিব্বান ১৬/৫১২ (৭৪৭১); মুসতাদরাকে হাকেম: ৪/৫৯৩; মুসনাদে আহমাদ: ৪/১৯১; ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন আর আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত সনদটিকে হাসান বলেছেন।
📄 দোযখের আগুন
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَوْ أَنَّ غَرْبًا مِنْ جَهَنَّمَ أُرْسِلَ إِلَى الدُّنْيَا، لَأَحْرَقَ مَا عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، وَلَوْ أَنَّ سِرْبَالًا مِنْ سَرَابِيلِ أَهْلِ النَّارِ، أُرْسِلَ إِلَى الدُّنْيَا لَأَمَاتَ مَنْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مِنْ نَتَنِ رِيحِهِ، وَلَوْ أَنَّ ذِرَاعًا مِنَ السِّلْسِلَةِ الَّتِي ذَكَرَ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ أُرْسِلَ إِلَى الدُّنْيَا لَأَذَابَتِ الْحَدِيدَ، وَأَتَتْ عَلَى الْأَرْضِ السُّفْلَى.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নাম থেকে যদি এক বালতি আগুনও দুনিয়াতে আসে তাহলে পৃথিবীর সব কিছু জ্বলে ছাই হয়ে যাবে। জাহান্নামীদের পোশাকের একটি টুকরাও যদি দুনিয়াতে আসে তাহলে তার গন্ধে দুনিয়ার সব জীব মারা যাবে। কুরআনে যে শিকলের কথা বলা হয়েছে, তার একহাতও যদি দুনিয়াতে আসে তাহলে লোহা গলে যাবে এবং সর্বনিম্ন জমিন পর্যন্ত তার প্রভাব পড়বে। ৭৮
ٹکا:
৭৮. মাজমাউজ যাওয়ায়েদ: ১০/৩৮৬। ইমাম হাইসামী সনদটি হাসান বলেছেন।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَوْ أَنَّ غَرْبًا مِنْ جَهَنَّمَ أُرْسِلَ إِلَى الدُّنْيَا، لَأَحْرَقَ مَا عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، وَلَوْ أَنَّ سِرْبَالًا مِنْ سَرَابِيلِ أَهْلِ النَّارِ، أُرْسِلَ إِلَى الدُّنْيَا لَأَمَاتَ مَنْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مِنْ نَتَنِ رِيحِهِ، وَلَوْ أَنَّ ذِرَاعًا مِنَ السِّلْسِلَةِ الَّتِي ذَكَرَ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ أُرْسِلَ إِلَى الدُّنْيَا لَأَذَابَتِ الْحَدِيدَ، وَأَتَتْ عَلَى الْأَرْضِ السُّفْلَى.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নাম থেকে যদি এক বালতি আগুনও দুনিয়াতে আসে তাহলে পৃথিবীর সব কিছু জ্বলে ছাই হয়ে যাবে। জাহান্নামীদের পোশাকের একটি টুকরাও যদি দুনিয়াতে আসে তাহলে তার গন্ধে দুনিয়ার সব জীব মারা যাবে। কুরআনে যে শিকলের কথা বলা হয়েছে, তার একহাতও যদি দুনিয়াতে আসে তাহলে লোহা গলে যাবে এবং সর্বনিম্ন জমিন পর্যন্ত তার প্রভাব পড়বে। ৭৮
ٹکا:
৭৮. মাজমাউজ যাওয়ায়েদ: ১০/৩৮৬। ইমাম হাইসামী সনদটি হাসান বলেছেন।
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, দুনিয়াতে তোমাদের এ আগুন জাহান্নামের সত্তর ভাগের একভাগ এবং যদি তাকে দু'বার সমুদ্রে ধৌত না করা হতো, তবে তোমরা তাকে কোনো কাজেই লাগাতে পারতে না।
হযরত মুজাহিদ রহ. বলেন, তোমাদের এ আগুনও জাহান্নামের আগুন থেকে পানাহ চায়।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তোমাদের দুনিয়ার আগুন জাহান্নামের আগুন হতে সত্তর ভাগ কম উষ্ণ। আর এটাকেও যদি সমুদ্রে দু'বার ধৌত করা না হতো, তাহলে এর দ্বারা তোমরা উপকৃত হতে পারতে না। মুজাহিদ রহ. বলেন, তোমাদের দুনিয়ার এ আগুন জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চায়।
টিকাঃ
১০৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩২৬৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৪৩; মুসনাদে হুমাইদী: হাদীস-১১২৯; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৭৪৬৩; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-৭৩২৭; কিতাবুল বা'সি ওয়ান নুশুর লিল বাইহাকী: হাদীস-৮৯৯, ৫০০। হাদীসটি সহীহ সনদে রাসূল থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও মুরসাল ও মাওকুফ বর্ণনাও বিদ্যমান রয়েছে।
১০৮. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১৩/১৬১(৩৫২৮৩)।
১০৯. আল-বা'ছু ওয়ান নুশুর, বাইহাকী, হাদীস-৪৯৯; মাওয়ারিদুয যামআন, হাদীস- ২৬০৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, আবূ হুরাইরা রাযি. থেকে মারফু বর্ণনা, হাদীস-৭৪৬৩ (সনদ সহীহ- শুয়াইব আরনাউত)।
📄 জাহান্নামের সর্বাধিক লঘু আযাব
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ أَدْنَى أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، مَنْ يُجْعَلُ لَهُ نَعْلَانِ مِنْ نَارٍ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব তার হবে, যার পায়ে আগুনের দুটি জুতা পরিয়ে দেওয়া হবে। এতে তার মগজ টগবগ করতে থাকবে।৭৯
টিকাঃ
৭৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২১৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১০৯৮৭।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ أَدْنَى أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، مَنْ يُجْعَلُ لَهُ نَعْلَانِ مِنْ نَارٍ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব তার হবে, যার পায়ে আগুনের দুটি জুতা পরিয়ে দেওয়া হবে। এতে তার মগজ টগবগ করতে থাকবে।৭৯
টিকাঃ
৭৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২১৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১০৯৮৭।
রাসূল ইরশাদ করেন—
ইননা আহওয়ানা আহলিল নারী আযাবান লারাজুলুন ফী রিজলাইহি না'লানি মিন নারিন ইয়াগলী মিনহুমা দিমগুহু কাআন্নাহু মিরজালুন, মাসামিউহু জামরুন, ওয়া আদরাসুহু জামরুন, আশফಾರುহু লাহাবুন নিরানি ওয়া তাখরুজু আহশাউ বাতনিহি মিন ক্বাদামাইহি, ওয়া ইন্নাহু লাইয়ারা আন্নাহু আশাদদু আহলিন নারি আযাবান, ওয়া ইন্নাহু আহওয়ানু আহলিন নারি আযাবান।
জাহান্নামে সর্বাধিক কম আযাবের অধিকারী হবে সে ব্যক্তি, যাকে আগুনের জুতা পরানো হয়েছে। ফলে তার মগজ তা কড়াইয়ে ফুটন্ত পানির মতো বলকাইতে থাকে। তার কান দাঁত ইত্যাদি আগুনে পরিণত হবে। তার উদরের অস্ত্র গলে পায়ে গড়িয়ে পড়বে। সে মনে করবে, জাহান্নামীদের মধ্যে সে সর্বাধিক আযাব ভোগ করছে। অথচ তাকে সবচেয়ে লঘু আযাব দেওয়া হয়েছে।
টিকাঃ
১১০. মুসান্নাফে ইবনে শাইবা ১৩/১৫৭; সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৫৬১, ৬৫৬২; সহীহ মুসলিম: হাদীস- ২১১, ২১২, ২১৩; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৬০৪; মুসনাদে আহমাদ: ৩০/৩৩৯। সহীহ মুসলিমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে সর্বাপেক্ষা কম শাস্তির ব্যাপারে আবু তালেবের কথা বলা হয়েছে।
📄 জাহান্নামীদের আর্তনাদ
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يُلْقَى عَلَى أَهْلِ النَّارِ الْجُوعُ حَتَّى يَعْدِلَ مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الْعَذَابِ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ مِنْ ضَرِيعٍ، لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ ذِي غُصَّةٍ فَيَذْكُرُونَ أَنَّهُمْ كَانُوا يُجِيزُونَ الْغَصَصَ فِي الدُّنْيَا بِالشَّرَابِ، فَيَسْتَسْقُونَ، فَيُرْفَعُ إِلَيْهِمُ الْحَمِيمُ بِكَلَالِيبِ مِنْ حَدِيدٍ، فَإِذَا دَنَتْ مِنْ وُجُوهِهِمْ شَوَتْ وُجُوهَهُمْ، فَإِذَا دَخَلَتْ بُطُونَهُمْ قَطَّعَتْ مَا فِي بُطُونِهِمْ، فَيَقُولُونَ ادْعُو خَزَنَةَ جَهَنَّمَ. فَيَقُولُونَ: أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ، قَالُوا بَلَى قَالُوا: فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا مَالِكًا، فَيَقُولُونَ: يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ، قَالَ : فَيُجِيبُهُمْ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ. قَالَ الْأَعْمَشُ: نُبِّئْتُ أَنَّ بَيْنَ دُعَائِهِمْ وَبَيْنَ إِجَابَةِ مَالِكٍ إِيَّاهُمْ أَلْفَ عَامٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا رَبَّكُمْ، فَلَا أَحَدَ خَيْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ، رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ. قَالَ : فَيُجِيبُهُمُ اخْسَنُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ، قَالَ: فَعِنْدَ ذَلِكَ يَئِسُوا مِنْ كُلِّ خَيْرٍ، وَعِنْدَ ذَلِكَ يَأْخُذُونَ فِي الزَّفِيرِ وَالْحَسْرَةِ وَالْوَيْلِ.
হযরত আবুদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামীদের উপর ক্ষুধা চাপিয়ে দেওয়া হবে। যা হবে তাদের আযাবের সমপরিমাণ। তারা খেতে চাইলে তাদেরকে যারী নামক কাঁটাযুক্ত ফল দেওয়া হবে। যা তাদের ক্ষুধা নিবারণ করবে না এবং তাদের পুষ্টিও যোগাবে না। আবার তারা খেতে চাইলে তাদেরকে এমন খাবার দেওয়া হবে, যা তাদের গলায় আটকে যাবে। তখন তাদের মনে হবে দুনিয়াতে তারা খাবার গলায় আটকে গেলে পানি পান করত। তাই তারা পানি চাইবে। তাদেরকে এমন গরম পানি দেওয়া হবে, যার কারণে তাদের চেহারা ঝলসে যাবে। তাদের পেটে প্রবেশ করলে পেটের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে। তখন তারা বলবে, জাহান্নামের প্রহরীদেরকে ডাক। জাহান্নামের প্রহরীরা এসে বলবে, তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট প্রমাণসহ নবীগণ আসেনি? তারা বলবে, এসেছিল। তারা বলবে, তাহলে এখন তোমরাই ডাকো। কিন্তু কাফেরদের দোয়া কোনো কাজে আসবে না। এরপর তারা বলবে, মালিক (জাহান্নামের প্রধান প্রহরী)-কে ডাক। তারা ডাকবে, হে মালিক! তোমার রবকে বল, তিনি যেন আমাদেরকে মেরে ফেলেন। সে উত্তরে বলবে, তোমাদেরকে এভাবেই থাকতে হবে।
হযরত আমাশ বলেন, এই আহ্বানের পর থেকে মালিক ফেরেশতার জবাব দেওয়া পর্যন্ত একহাজার বছর পার হয়ে যাবে। তারপর তারা বলবে, তোমাদের রবকে ডাক। কারণ, তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। তারা বলবে, হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে গ্রাস করেছিল এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত। হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দিন। আর যদি এমন কাজ করি তবে আমরা অবশ্যই জালেম হিসেবে গণ্য হব। আল্লাহ বলবেন, এখানেই থাকো, আমার সাথে কোনো কথা বলো না। এ কথা শোনার পর তারা সকল কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করতে থাকবে। ৮০
ٹکا:
৮০. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৮৬; মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/৩৮১। হাদীসটি হাসান [আলবানী, সহীহুত তারগীব: ৩৬৬৭]।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يُلْقَى عَلَى أَهْلِ النَّارِ الْجُوعُ حَتَّى يَعْدِلَ مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الْعَذَابِ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ مِنْ ضَرِيعٍ، لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ فَيَسْتَغِيثُونَ، فَيُغَاثُونَ بِطَعَامٍ ذِي غُصَّةٍ فَيَذْكُرُونَ أَنَّهُمْ كَانُوا يُجِيزُونَ الْغَصَصَ فِي الدُّنْيَا بِالشَّرَابِ، فَيَسْتَسْقُونَ، فَيُرْفَعُ إِلَيْهِمُ الْحَمِيمُ بِكَلَالِيبِ مِنْ حَدِيدٍ، فَإِذَا دَنَتْ مِنْ وُجُوهِهِمْ شَوَتْ وُجُوهَهُمْ، فَإِذَا دَخَلَتْ بُطُونَهُمْ قَطَّعَتْ مَا فِي بُطُونِهِمْ، فَيَقُولُونَ ادْعُو خَزَنَةَ جَهَنَّمَ. فَيَقُولُونَ: أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ، قَالُوا بَلَى قَالُوا: فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا مَالِكًا، فَيَقُولُونَ: يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ، قَالَ : فَيُجِيبُهُمْ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ. قَالَ الْأَعْمَشُ: نُبِّئْتُ أَنَّ بَيْنَ دُعَائِهِمْ وَبَيْنَ إِجَابَةِ مَالِكٍ إِيَّاهُمْ أَلْفَ عَامٍ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: ادْعُوا رَبَّكُمْ، فَلَا أَحَدَ خَيْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ، رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ. قَالَ : فَيُجِيبُهُمُ اخْسَنُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ، قَالَ: فَعِنْدَ ذَلِكَ يَئِسُوا مِنْ كُلِّ خَيْرٍ، وَعِنْدَ ذَلِكَ يَأْخُذُونَ فِي الزَّفِيرِ وَالْحَسْرَةِ وَالْوَيْلِ.
হযরত আবুদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জাহান্নামীদের উপর ক্ষুধা চাপিয়ে দেওয়া হবে। যা হবে তাদের আযাবের সমপরিমাণ। তারা খেতে চাইলে তাদেরকে যারী নামক কাঁটাযুক্ত ফল দেওয়া হবে। যা তাদের ক্ষুধা নিবারণ করবে না এবং তাদের পুষ্টিও যোগাবে না। আবার তারা খেতে চাইলে তাদেরকে এমন খাবার দেওয়া হবে, যা তাদের গলায় আটকে যাবে। তখন তাদের মনে হবে দুনিয়াতে তারা খাবার গলায় আটকে গেলে পানি পান করত। তাই তারা পানি চাইবে। তাদেরকে এমন গরম পানি দেওয়া হবে, যার কারণে তাদের চেহারা ঝলসে যাবে। তাদের পেটে প্রবেশ করলে পেটের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে। তখন তারা বলবে, জাহান্নামের প্রহরীদেরকে ডাক। জাহান্নামের প্রহরীরা এসে বলবে, তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট প্রমাণসহ নবীগণ আসেনি? তারা বলবে, এসেছিল। তারা বলবে, তাহলে এখন তোমরাই ডাকো। কিন্তু কাফেরদের দোয়া কোনো কাজে আসবে না। এরপর তারা বলবে, মালিক (জাহান্নামের প্রধান প্রহরী)-কে ডাক। তারা ডাকবে, হে মালিক! তোমার রবকে বল, তিনি যেন আমাদেরকে মেরে ফেলেন। সে উত্তরে বলবে, তোমাদেরকে এভাবেই থাকতে হবে।
হযরত আমাশ বলেন, এই আহ্বানের পর থেকে মালিক ফেরেশতার জবাব দেওয়া পর্যন্ত একহাজার বছর পার হয়ে যাবে। তারপর তারা বলবে, তোমাদের রবকে ডাক। কারণ, তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু। তারা বলবে, হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে গ্রাস করেছিল এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত। হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দিন। আর যদি এমন কাজ করি তবে আমরা অবশ্যই জালেম হিসেবে গণ্য হব। আল্লাহ বলবেন, এখানেই থাকো, আমার সাথে কোনো কথা বলো না। এ কথা শোনার পর তারা সকল কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করতে থাকবে। ৮০
ٹکا:
৮০. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫৮৬; মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/৩৮১। হাদীসটি হাসান [আলবানী, সহীহুত তারগীব: ৩৬৬৭]।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামের অধিবাসীরা দোযখের প্রধান প্রহরী মালেককে ক্রমাগত চল্লিশ বছর ডাকতে থাকবে কিন্তু সে তাদের ডাকে সারা দেবে না। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে— 'ইন্নাকুম মাকিছুন' অর্থ: তোমরা সেখানে চিরজীবন থাকবে। অতঃপর তারা তাদের রবকে ডেকে বলবে— 'রাব্বানা আখরিজনা মিনহা ফাহিন উদনা ফাইন্না জালিমুন' অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এ আগুন থেকে রক্ষা করুন। এরপর আমরা যদি পুনরায় কুফুরী করি, তবে আমরা অবশ্যই জালেম। দুনিয়ার বয়সের দ্বিগুণ সময় পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাদের ডাকে সাড়া দিবেন না। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে— 'ইখসাউ ফীহা ওয়ালা তুকাল্লিমুন' অর্থ: তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই থাক, আমার সাথে কথা বলো না।
তিনি বলেন, এরপর জাহান্নামবাসীরা আর কোনো শব্দ করবে না। বরং জাহান্নাম থেকে কেবল আর্তনাদ ও আর্তচিৎকার ভেসে আসবে। তাদের আওয়াজ হবে গাধার আওয়াজের মতো, যার শুরু হবে চিৎকারে, শেষ হবে বিভৎস আর্তনাদে। হযরত কাতাদা রহ. বলতেন— হে লোক সকল! এ থেকে বাঁচার কোনো কৌশল তোমাদের জানা আছে, নাকি এ আগুন সহ্য করার ক্ষমতা আছে? হে লোক সকল। নিশ্চয় আল্লাহর আনুগত্য করা এর থেকে অনেক সহজ। সুতরাং তোমরা তার আনুগত্য কর।
বলা হয়, জাহান্নামবাসীরা এক হাজার বছর আর্তনাদ ও মিনতি করতে থাকবে, কিন্তু তা তাদের কোনো কাজে আসবে না। তখন তারা পরস্পর বলাবলি করবে, দুনিয়াতে বিপদে ধৈর্যধারণ করলে আমাদের মুক্তির ব্যবস্থা হতো। সুতরাং তারা এক হাজার বছর ধৈর্যধারণ করবে, তবুও তাদের কোনো লাভ হবে না। তখন তারা বলবে— 'সাওয়াউন আলাইনা আজাজিনা আম সবারনা মা লানা মিম মাহিদিন' অর্থ: আমরা কাকুতি-মিনতি করি কিংবা ধৈর্য ধরি, আমাদের জন্য উভয়ই অবস্থায় সমান, আমাদের কোনো মুক্তি নেই।
অতঃপর তারা এক হাজার বছর পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার নিকট পিপাসা ও আযাব দূর করার জন্য পানি বর্ষণের আবেদন জানাবে। এভাবে এক হাজার বছর কান্নাকাটি করার পর আল্লাহ তা'আলা জিবরাঈল আ. কে বলবেন, তারা কী চায়? জিবরাঈল আ. বলবেন, হে রব, আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। তারা বৃষ্টি চায়। তখন আকাশে লাল রঙের মেঘ দেখা দেবে। ফলে তাদের ধারণা হবে, এ নিশ্চয় বৃষ্টিপ্রবাহী মেঘ। কিন্তু সে মেঘ থেকে তাদের উপর খচ্চরের মতো বিচ্ছু পতিত হবে। সে বিচ্ছু একবার দংশন করলে এক হাজার বছর পর্যন্ত তার ব্যথা থাকে। ফের এক হাজার বছর বৃষ্টির জন্য কান্নাকাটি করে সময় অতিবাহিত করবে। এরপর আকাশে কালো মেঘ দেখা দেবে। তাদের ধারণা হবে এ নিশ্চয় বৃষ্টিপ্রবাহী মেঘ। কিন্তু সে মেঘ থেকে তাদের উপর উটের ঘাড়ের মতো সাপ পতিত হবে, যা একবার কাউকে দংশন করলে এক হাজার বছর পর্যন্ত তার ব্যথা থাকে। কুরআনে বর্ণিত নিম্নোক্ত আয়াতে এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে— 'যিদনাহুম আযাবান ফাওক্বাল আযাবি বিমা কানু ইউফসিদুন' অর্থ: আমি তাদের জন্য আযাবের উপর আযাব বৃদ্ধি করে দেব। কারণ, তারা পাপাচার করে বেড়াত। অর্থাৎ, তাদের কুফুরীর কারণে ও আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে。
অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি পেতে চায় এবং আখেরাতের সওয়াব পেতে চায়, তার কর্তব্য হলো, আল্লাহর আনুগত্য করতে গিয়ে দুনিয়ার যন্ত্রণায় ধৈর্যধারণ করা। যেমন, হাদীসে এসেছে: জান্নাতকে (নফসের) অপছন্দ ও কষ্টসমূহ দিয়ে আবৃত করা হয়েছে আর জাহান্নামকে আবৃত করা হয়েছে কু-প্রবৃত্তি দিয়ে।
এরপর তিনি কয়েকটি কবিতা আবৃতি করলেন। সেগুলো হলো—
জ্ঞানীদের জন্য বার্ধক্যে এক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে, যা তাকে শৈশবের গাফলতী থেকে সরিয়ে রাখে, যখন সেটার নিদর্শন তার কপালে প্রকাশ পায়।
আমি লক্ষ্য করেছি, মানুষ তখনই ঈর্ষণীয় জীবিকার আশা রাখে, যখন শস্যের সবুজ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।
মন্দ সঙ্গী থেকে সাবধান! তার থেকে বেঁচে থাক। পারলে তার সাথে কোমল আচরণ কর।
খাঁটি বন্ধুর কাছে থাক, তার সাথে ঝগড়া কর না। যতক্ষণ তার সাথে ঝগড়া না করবে, ততক্ষণ খাঁটি বন্ধুত্ব পাবে।
খোঁজ করতে যদি হয়, তাহলে কোনো শরীফ মানুষকে খোঁজো। এমন শরীফ বন্ধুর সঙ্গ তোমাকে উচ্চ মর্যাদাবান করে দিবে।
আর যে কোনো অযোগ্যের সাথে ভালো আচরণ কর। কারণ, এটার ফল সমুদ্রের গভীরেও পাবে।
আল্লাহর জান্নাত আকাশের বিশালতায় বিদ্যমান। তবে সেটা বিপদ ও কষ্টের প্রাচীরে ঘেরা।
টিকাঃ
১১১. সূরা যুখরুফ: আয়াত-৭৭
১১২. সুরা মুমিনুন: আয়াত-১০৭
১১৩. সুরা মুমিনুন: আয়াত-১০৮; মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/৪২৯ (৩৪৯২); ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন আর আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। আল্লামা হাইসামী বলেছেন, হাদীসটি ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন এবং এর রাবীগণ বুখারী-মুসলিমের রাবী।
১১৪. সুরা ইবরাহীম: আয়াত-২১
১১৫. সুরা আন নাহল, আয়াত-৮৮
১১৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৮৭; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮২২।