📄 কিয়ামত দিনের দীর্ঘতা
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قِيلَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَوْمًا كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، مَا أَطْوَلَ هَذَا الْيَوْمَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنَّهُ لَيُخَفَّفُ عَلَى الْمُؤْمِنِ حَتَّى يَكُونَ عَلَيْهِ أَخَفَّ مِنْ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ يُصَلِّيهَا فِي الدُّنْيَا.
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, يَوْمًا كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ অর্থ: সে দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর।৭২ সেদিনটি তো অনেক দীর্ঘ! রাসূল ﷺ ইরশাদ করলেন, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, মুমিনের জন্য সে দিনটি অনেক হালকা করে দেওয়া হবে, দুনিয়ার এক ওয়াক্ত ফরজ নামায পড়ার চেয়েও হালকা মনে হবে। ৭৩
ٹکا:
৭২. সূরা মাআরিজ: আয়াত-৪
৭৩. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১১৭৫১; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৭৩৩৪; হাদীসটি সহীহ।
হে ভায়েরা! তোমাদের জন্য রয়েছে সেই দিনের দুর্ভোগ যার পরিমাণ হলো, পঞ্চাশ হাজার বছর। সেদিন হবে প্রকম্পনের, ধ্বংসযজ্ঞ, হতাশা ও নৈরাশ্যের। সে এক কঠিন দিন। সেদিন সমস্ত মানুষ রাব্বুল আলামিনের সামনে হাজির হবে। সে দিন হবে তুলনা, হিসাব, ওজন, জিজ্ঞাসাবাদ কম্পন, অর্তনাদ, অবশ্যম্ভী মহাপ্রলয় ও পুনরুত্থান দিন। সেদিন ইতঃপূর্বে কী আমল করেছ, তা সম্মুখে উপস্থিত দেখতে পাবে। সেদিন হবে জয়-পরাজয়ের দিন। সে দিন মানুষ তাদের আমল দেখার জন্য দলে দলে বের হয়ে আসবে। সেদিন কারো মুখমণ্ডল হবে শুভ্র, আলোকোজ্জ্বল, আবার কারো হবে কালো। সেদিন দুনিয়ার কোনো অভিভাবক কাজে আসবে না, কোনো কৌশলই কাজে খাটবে না। পুত্র পিতার, কিংবা পিতা পুত্রের কোনো কাজে আসবে না। সে দিন সকল ফন্দি ব্যর্থ হবে। জালেমদের ওযর আপত্তি কাজে আসবে না। সেদিন প্রত্যেকেই অপরের সাথে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হবে। প্রত্যেক স্তন্যদানকারীনী তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করে ফেলবে। আর তোমরা সেদিন সকলকে দেখবে, যেন নেশায় মত্ত, আসলে তারা নেশায় মত্ত না। বরং আল্লাহর আযাব বড় কঠিন।
হযরত মুকাতিল বিন সুলাইমান রহ. বলেন, কিয়ামতের দিন সকল সৃষ্টি একশত বছর ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে। একশত বছর অন্ধকারে কাটাবে, দিশেহারা হয়ে। আর একশত বছর তাদের রবের নির্দেশের সম্মুখে পরস্পর বিবাদ করে কাটাবে। বলা হয়, কিয়ামত দিনের সময়কাল এক হাজার বছর। তবে মুমিন মুখলিস ব্যক্তির জন্য তা মনে হবে একটি ঘণ্টা কেবল।
সুতরাং হে জ্ঞানী ব্যক্তি! দুনিয়ার যন্ত্রণা ও তীব্রতায় আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে ধৈর্য-ধারণ কর, যাতে কিয়ামতের বিভীষিকা তোমার জন্য সহজ হয়ে যায়।