📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 শাফায়াত

📄 শাফায়াত


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي لَأَشْفَعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَقُولُ: يَا رَبِّ عِبَادُكَ عَبَدُوكَ فِي أَطْرَافِ الْأَرْضِ. قَالَ: فَيُنْجِي اللَّهُ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ، وَتَبْقَى بَقِيَّةٌ فِي النَّارِ يَقُولُونَ: مَا أَغْنَى عَنَّا إِيمَانُنَا، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: هَؤُلَاءِ عُتَقَائِي، فَيَخْرُجُونَ مِنَ النَّارِ، وَيُدْخَلُونَ الْجَنَّةَ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন আমি শাফাআত করব। আমি বলব, হে আমার রব! আপনার বান্দারা দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে আপনার ইবাদত করেছে। আল্লাহ তা'আলা যাদের চাইবেন তাদেরকে নাজাত দিবেন। আর কিছু লোক জাহান্নামে রয়ে যাবে। তারা বলবে, আমাদের ঈমান কোনো কাজে আসল না। আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমরা আমার নাজাতপ্রাপ্ত বান্দা। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।৬৮

ٹکا:
৬৮. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-২৫০৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪৩১৩; হাদীসটি হাসান [আলবানী]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 হাশরের ভয়াবহতা লক্ষ্য করে প্রত্যেকেই ভাববে আজ আমার মুক্তির নেই

📄 হাশরের ভয়াবহতা লক্ষ্য করে প্রত্যেকেই ভাববে আজ আমার মুক্তির নেই


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَهُوَ يَقْرَأُ: وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ (الزمر: ٦٧) فَيَقُولُ: يَأْخُذُ الْجَبَّارُ سَمَوَاتِهِ وَأَرَاضِيهِ بِيَدَيْهِ جَمِيعًا، ثُمَّ يَقْبِضُ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى، فَيَقُولُ: أَنَا الْجَبَّارُ، أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الْقُدُّوسُ، أَنَا السَّلَامُ أَنَا الْمُؤْمِنُ، أَنَا الْمُهَيْمِنُ، أَنَا الْعَزِيزُ أَنَا الْكَبِيرُ، أَنَا الْمُتَكَبِّرُ، أَنَا الَّذِي ابْتَدَأْتُ الْأَشْيَاءَ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ، أَنَا الَّذِي أُعِيدُهَا، فَأَيْنَ الْمُلُوكُ، وَأَيْنَ الْجَبَابِرَةُ؟ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَرِّكُ يَدَهُ يَقْبِضُهَا وَيَبْسُطُهَا وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَيُرْجَفُ بِهِ حَتَّى نَقُولَ لِيَخِرَّنَّ بِهِ، ثُمَّ قَرَأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَوْمَ يَأْتِي لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ (هود : ١٠٥) وَكُلُّ نَبِيٌّ يَوْمَئِذٍ يَقُولُ: اللَّهُمَّ سَلَّمْ، اللَّهُمَّ سَلِّمْ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। আমি রাসূল ﷺ কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে এই আয়াত পাঠ করতে শুনেছি- وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ অর্থ: আসমান ও জমিন তাঁর ডান হাতের মুঠোয় থাকবে।৬৯ তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা আসমান ও জমিনকে তাঁর দুই হাতে নিবেন। অতঃপর এক হাতে অন্য হাতের উপর রেখে বলবেন, আমিই শক্তিশালী, আমিই রাজা, আমিই পবিত্র, আমিই নিরাপত্তা দানকারী, আমিই রক্ষক, আমিই পরাক্রমশালী, আমিই বড়, আমিই অহংকারী, আমিই সবকিছু সৃষ্টি করেছি, আমিই আবার সবকিছু ফিরিয়ে আনব। কোথায় আজ রাজা-বাদশাহরা? কোথায় আজ পরাক্রমশালীরা? রাসূল ﷺ একথা বলার সময় তাঁর হাত মুষ্টিবদ্ধ করছিলেন আর খুলছিলেন, এতে মিম্বর কাঁপতে শুরু করল, আমাদের মনে হলো তিনি পড়ে যাবেন। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন-
يَوْمَ يَأْتِي لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ
অর্থ: সেদিন যখন আসবে, তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগা আর কেউ হবে সৌভাগ্যবান। ৭০
প্রত্যেক নবীও সেদিন বলবেন, اللَّهُمَّ سَلِّمْ، اللَّهُمَّ سَلِّمْ হে আল্লাহ আমাকে রক্ষা করুন, হে আল্লাহ আমাকে রক্ষা করুন।

ٹکا:
৬৯. সূরা যুমার: আয়াত-৬৭
৭০. সূরা হুদ: আয়াত-১০৫

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 কালেমা জান্নাতে যাওয়ার কারণ

📄 কালেমা জান্নাতে যাওয়ার কারণ


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : يُخْرَجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ شَعِيرَةً، ثُمَّ يُخْرَجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ بُرَّةً، ثُمَّ يُخْرَجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنَ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ ذَرَّةً.

হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যাদের অন্তরে একটি যব পরিমাণও ঈমান থাকবে, আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। এরপর যাদের অন্তরে একটি গম পরিমাণও ঈমান থাকবে, আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। এরপর যাদের অন্তরে একটি অণু পরিমাণও ঈমান থাকবে, আল্লাহ তাদেরকেও জাহান্নাম থেকে বের করবেন।৭১

টিকাঃ
৭১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯৩।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 কিয়ামত দিনের দীর্ঘতা

📄 কিয়ামত দিনের দীর্ঘতা


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قِيلَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَوْمًا كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، مَا أَطْوَلَ هَذَا الْيَوْمَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنَّهُ لَيُخَفَّفُ عَلَى الْمُؤْمِنِ حَتَّى يَكُونَ عَلَيْهِ أَخَفَّ مِنْ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ يُصَلِّيهَا فِي الدُّنْيَا.

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, يَوْمًا كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ অর্থ: সে দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর।৭২ সেদিনটি তো অনেক দীর্ঘ! রাসূল ﷺ ইরশাদ করলেন, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, মুমিনের জন্য সে দিনটি অনেক হালকা করে দেওয়া হবে, দুনিয়ার এক ওয়াক্ত ফরজ নামায পড়ার চেয়েও হালকা মনে হবে। ৭৩

ٹکا:
৭২. সূরা মাআরিজ: আয়াত-৪
৭৩. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১১৭৫১; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৭৩৩৪; হাদীসটি সহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00