📄 কিয়ামতের ভয়াবহতা
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَيْفَ أَنْعَمُ، وَصَاحِبُ الْقَرْنِ قَدِ الْتَقَمَ الْقَرْنَ، وَحَنَى جَبْهَتَهُ، وَأَصْغَى السَّمْعَ مَتَى يُؤْمَرُ بِالنَّفْخِ فَيَنْفُخُ. قَالَ الْمُسْلِمُونَ: فَمَا نَقُولُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: قُولُوا: حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি কীভাবে আরাম-আয়েশে থাকব, অথচ শিংগায় ফুৎকারকারী শিংগা মুখে নিয়ে কপাল নত করে কান পেতে রেখেছেন কখন ফুঁক দেওয়ার আদেশ হয়। এ কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কী করব? রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা বলবে, حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক, আল্লাহর উপরই আমাদের ভরসা।৬৫
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ : يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى أَرْضٍ بَيْضَاءَ عَفْرَاءَ كَقُرْصَةِ النَّقِيِّ، لَيْسَ فِيهَا مَعْلَمٌ لِأَحَدٍ.
হযরত সাহল ইবনে সাদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে এমন এক সাদা জমিনের উপর উঠানো হবে, যেখানে কোনো পাহাড় পর্বত বা এমন কোনো বস্তু থাকবে না, যা দিয়ে কোনো কিছুকে চেনা যায়। ৬৬
ٹکا:
৬৫. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৩১; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১১০০৯; হাদীসটি সহীহ। ৬৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৫২১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৯০।
📄 কেউ কারো বোঝা বহন করবে না
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : يُجْمَعُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُقَالُ: أَلَا لِيَقُمْ كُلُّ إِنْسَانٍ إِلَى مَا كَانَ يَعْبُدُهُ فِي الدُّنْيَا، فَيَقُومُونَ حَتَّى يَبْقَى أَهْلُ الْإِسْلَامِ، فَيُقَالُ: مَا لَكُمْ لَمْ تَنْطَلِقُوا كَمَا انْطَلَقَ النَّاسُ؟ فَيَقُولُونَ: إِنَّ لَنَا رَبَّا وَنَحْنُ نَنْتَظِرُهُ فَيُقَالُ لَهُمْ: تَعْرِفُونَهُ؟ فَيَقُولُونَ: سُبْحَانَهُ إِذَا تَعَرَّفَ إِلَيْنَا عَرَفْنَاهُ. فَيَقُولُ لَهُمْ رَبُّهُمْ: أَنَا رَبُّكُمْ، فَيَخِرُّونَ لَهُ سُجَّدًا. وَيُقَالُ لَهُمْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْفَعُوا رُؤُوسَكُمْ، فَقَدْ جَعَلْتُ بَدَلَ كُلِّ إِنْسَانٍ مِنْكُمْ رَجُلًا مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى فِي النَّارِ. قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الْأَرْضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَأَقُومُ فِي ظُلَلٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ একত্রিত হবে। তখন বলা হবে, সবাই তার উপাস্যের কাছে যাও। তখন সবাই চলে যাবে, শুধু মুসলমানরা বাকি থাকবে। তাদেরকে বলা হবে, অন্যরা যেভাবে গেল তোমরা কেন যাচ্ছ না? তারা বলবে, আমাদের একজন রব আছেন, আমরা তাঁর জন্য অপেক্ষা করছি। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কি তাঁকে চেন? তারা বলবে, আল্লাহ পবিত্র, তিনি যখন আমাদের নিকট নিজেকে প্রকাশ করবেন, তখন আমরা অবশ্যই তাঁকে চিনতে পারব। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে আবির্ভূত হবেন এবং বলবেন, আমি তোমাদের রব। তারা সেজদায় পড়ে যাবে। তাদেরকে বলা হবে, মাথা উঠাও, তোমাদের প্রত্যেকের পরিবর্তে একজন করে ইহুদী নাসারাকে জাহান্নামে দেওয়া হবে।
রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম আমার কবর বিদীর্ণ হবে। অতঃপর আমি উঠে যাব এবং ফেরেশতাদের একটি দলের সাথে মিলিত হব। ৬৭
ٹکا:
৬৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৬৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২৭৭৮।
📄 শাফায়াত
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي لَأَشْفَعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَقُولُ: يَا رَبِّ عِبَادُكَ عَبَدُوكَ فِي أَطْرَافِ الْأَرْضِ. قَالَ: فَيُنْجِي اللَّهُ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ، وَتَبْقَى بَقِيَّةٌ فِي النَّارِ يَقُولُونَ: مَا أَغْنَى عَنَّا إِيمَانُنَا، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: هَؤُلَاءِ عُتَقَائِي، فَيَخْرُجُونَ مِنَ النَّارِ، وَيُدْخَلُونَ الْجَنَّةَ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন আমি শাফাআত করব। আমি বলব, হে আমার রব! আপনার বান্দারা দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে আপনার ইবাদত করেছে। আল্লাহ তা'আলা যাদের চাইবেন তাদেরকে নাজাত দিবেন। আর কিছু লোক জাহান্নামে রয়ে যাবে। তারা বলবে, আমাদের ঈমান কোনো কাজে আসল না। আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমরা আমার নাজাতপ্রাপ্ত বান্দা। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।৬৮
ٹکا:
৬৮. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-২৫০৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪৩১৩; হাদীসটি হাসান [আলবানী]।
📄 হাশরের ভয়াবহতা লক্ষ্য করে প্রত্যেকেই ভাববে আজ আমার মুক্তির নেই
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَهُوَ يَقْرَأُ: وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ (الزمر: ٦٧) فَيَقُولُ: يَأْخُذُ الْجَبَّارُ سَمَوَاتِهِ وَأَرَاضِيهِ بِيَدَيْهِ جَمِيعًا، ثُمَّ يَقْبِضُ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى، فَيَقُولُ: أَنَا الْجَبَّارُ، أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الْقُدُّوسُ، أَنَا السَّلَامُ أَنَا الْمُؤْمِنُ، أَنَا الْمُهَيْمِنُ، أَنَا الْعَزِيزُ أَنَا الْكَبِيرُ، أَنَا الْمُتَكَبِّرُ، أَنَا الَّذِي ابْتَدَأْتُ الْأَشْيَاءَ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ، أَنَا الَّذِي أُعِيدُهَا، فَأَيْنَ الْمُلُوكُ، وَأَيْنَ الْجَبَابِرَةُ؟ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَرِّكُ يَدَهُ يَقْبِضُهَا وَيَبْسُطُهَا وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَيُرْجَفُ بِهِ حَتَّى نَقُولَ لِيَخِرَّنَّ بِهِ، ثُمَّ قَرَأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَوْمَ يَأْتِي لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ (هود : ١٠٥) وَكُلُّ نَبِيٌّ يَوْمَئِذٍ يَقُولُ: اللَّهُمَّ سَلَّمْ، اللَّهُمَّ سَلِّمْ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। আমি রাসূল ﷺ কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে এই আয়াত পাঠ করতে শুনেছি- وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ অর্থ: আসমান ও জমিন তাঁর ডান হাতের মুঠোয় থাকবে।৬৯ তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা আসমান ও জমিনকে তাঁর দুই হাতে নিবেন। অতঃপর এক হাতে অন্য হাতের উপর রেখে বলবেন, আমিই শক্তিশালী, আমিই রাজা, আমিই পবিত্র, আমিই নিরাপত্তা দানকারী, আমিই রক্ষক, আমিই পরাক্রমশালী, আমিই বড়, আমিই অহংকারী, আমিই সবকিছু সৃষ্টি করেছি, আমিই আবার সবকিছু ফিরিয়ে আনব। কোথায় আজ রাজা-বাদশাহরা? কোথায় আজ পরাক্রমশালীরা? রাসূল ﷺ একথা বলার সময় তাঁর হাত মুষ্টিবদ্ধ করছিলেন আর খুলছিলেন, এতে মিম্বর কাঁপতে শুরু করল, আমাদের মনে হলো তিনি পড়ে যাবেন। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন-
يَوْمَ يَأْتِي لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ
অর্থ: সেদিন যখন আসবে, তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগা আর কেউ হবে সৌভাগ্যবান। ৭০
প্রত্যেক নবীও সেদিন বলবেন, اللَّهُمَّ سَلِّمْ، اللَّهُمَّ سَلِّمْ হে আল্লাহ আমাকে রক্ষা করুন, হে আল্লাহ আমাকে রক্ষা করুন।
ٹکا:
৬৯. সূরা যুমার: আয়াত-৬৭
৭০. সূরা হুদ: আয়াত-১০৫