📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 পুনরায় জীবিতকরণ

📄 পুনরায় জীবিতকরণ


فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى ذَلِكَ إِذْ تَصَدَّعَتِ الْأَرْضُ مِنْ قُطْرِ إِلَى قُطْرٍ، وَرَأَوْا أَمْرًا عَظِيمًا لَمْ يَرَوْا مِثْلَهُ، فَأَخَذَهُمُ الْفَزَعُ حَتَّى ذَهِلَتْ عُقُولُهُمْ، ثُمَّ نَظَرُوا إِلَى السَّمَاءِ، فَإِذَا هِيَ كَالْمُهْلِ ثُمَّ خُسِفَتْ شَمْسُهَا وَقَمَرُهَا، وَانْتَثَرَتْ نُجُومُهَا، ثُمَّ كُشِطَتْ عَنْهُمْ، قَالَ: فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى: يَا جِبْرِيلُ أَنْتَ عَلَى مَا وَكَّلْتُكَ، وَيَا مَلَكَ الْمَوْتِ أَنْتَ عَلَى مَا وَكَّلْتُكَ. ثُمَّ يَأْمُرُ اللهُ تَعَالَى إِسْرَافِيلَ بِنَفْخَةِ الصَّعْقِ فَيَنْفُخُ، فَيُصْعَقُ أَهْلُ السَّمَوَاتِ وَأَهْلُ الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ، فَإِذَا هُمْ قَدْ خَمَدُوا فَيَأْتِي مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى الْجَبَّارِ، فَيَقُولُ: قَدْ مَاتَ أَهْلُ السَّمَوَاتِ، وَأَهْلُ الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ، فَيَقُولُ وَهُوَ أَعْلَمُ: فَمَنْ بَقِيَ؟ فَيَقُولُ: بَقِيتَ أَنْتَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ، وَبَقِيتُ أَنَا، وَبَقِيَ حَمَلَةُ الْعَرْشِ، وَبَقِيَ جِبْرِيلُ وَمِيكَائِيلُ، وَيَقُولُ: فَيَمُوتُ جِبْرِيلُ وَمِيكَائِيلُ، ثُمَّ يَقُولُ لِحَمَلَةِ الْعَرْشِ فَيَمُوتُونَ، ثُمَّ يَأْتِي مَلَكُ الْمَوْتِ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ قَدْ مَاتَ حَمَلَةُ الْعَرْشِ. فَيَقُولُ وَهُوَ أَعْلَمُ: فَمَنْ بَقِيَ؟ فَيَقُولُ: بَقِيتَ أَنْتَ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَبَقِيتُ أَنَا فَيَقُولُ: يَا مَلَكَ الْمَوْتِ أَنْتَ خَلْقٌ مِنْ خَلْقِي، خَلَقْتُكَ لِمَا أَرَدْتُ، فَمُتْ. فَيَمُوتُ ثُمَّ يُنَادِي الْجَبَّارُ: لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ فَلَا يُجِيبُهُ أَحَدٌ، فَيَقُولُ لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ. ثُمَّ يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ تَعَالَى وَأَوَّلُ مَنْ يُبْعَثُ إِسْرَافِيلُ وَجِبْرِيلُ وَمِيكَائِيلُ وَمَلَكُ الْمَوْتِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ. فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى: كَمْ لَبِثْتُمْ؟ فَيَقُولُونَ: لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ إِلَّا أَنَّكَ لَمْ تُمِتْنَا. فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى لِإِسْرَافِيلَ: قُمْ فَانْفُخْ فِي الصُّورِ نَفْخَةَ الْبَعْثِ، فَيَنْفُخُ، فَيَكُونُ الْعِبَادُ فَرِيقَيْنِ فَرِيقًا فِي الْجَنَّةِ، وَفَرِيقًا فِي السَّعِيرِ.

এমন অবস্থায় যখন জমিন বিদীর্ণ হয়ে যাবে এবং এমন সব বিষয় ঘটবে যা মানুষ কখনো দেখেনি। এতে মানুষ অস্থির হয়ে জ্ঞান হারাতে থাকবে। তারপর তারা আসমানের দিকে তাকিয়ে দেখবে, তা গলিত তামার মতো হয়ে গেছে। সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ লেগে যাবে। তারাগুলোও একে একে খসে পড়বে এবং আকাশকে গুটিয়ে নেওয়া হবে। আল্লাহ তা'আলা জিবরাঈল আ. ও মালাকুল মওতকে বলবেন, তোমরা নিজেদের দায়িত্বে স্থির থাকো। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ইসরাফিল আ.কে ফুঁক দেওয়ার আদেশ দিলে তিনি ফুঁক দিবেন। ফলে আল্লাহ যাদের চাইবেন, তারা ছাড়া আসমান জমিনের সকলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। তাদের মধ্যে কোনোরূপ প্রাণ থাকবে না। তখন মালাকুল মওত বলবেন, হে পরওয়ারদিগার! আসমান ও জমিনের সকলেই মৃত্যুবরণ করেছে শুধু আপনি, আমি, আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ, জিবরাঈল ও মিকাইল ছাড়া। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, জিবরাঈল ও মিকাইলকেও মৃত্যু দাও। অতঃপর তারা উভয়ে মৃত্যুবরণ করলে, আল্লাহ তা'আলা আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের মৃত্যু ঘটাবেন। তারপর মালাকুল মওত বলবেন, হে রব! আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণও মৃত্যুবরণ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা জিজ্ঞেস করবেন, আর কে বাকি আছে? মালাকুল মওত বলবেন, আপনি চিরঞ্জীব এবং আমি। আল্লাহ বলবেন, তুমি তো আমার সৃষ্টি। আমি তোমাকে যে জন্য সৃষ্টি করেছিলাম তা তুমি করেছ, এবার তুমিও মরে যাও। তখন মালাকুল মওতও মারা যাবেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করবেন- لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ আজ রাজত্ব কার? কেউ কোনো উত্তর দিবে না। তখন তিনিই জবাব দিবেন- لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ একচ্ছত্র অধিপতি আল্লাহ্র। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা জিবরাঈল, মিকাইল ও ইসরাফিল এবং মালাকুল মওতকে জীবিত করবেন এবং জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলবে, আপনি তো আমাদেরকে মৃত্যু দেননি, আমরা তো একদিন বা তার চেয়ে কম সময় ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ ইসরাফিলকে বলবেন, যাও তুমি শিংগায় ফুঁক দাও। তিনি শিংগায় ফুঁক দিবেন এবং সকল মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হবে। একদল জান্নাতে অপরদল জাহান্নামে যাবে। ৬৪

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 কিয়ামতের ভয়াবহতা

📄 কিয়ামতের ভয়াবহতা


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَيْفَ أَنْعَمُ، وَصَاحِبُ الْقَرْنِ قَدِ الْتَقَمَ الْقَرْنَ، وَحَنَى جَبْهَتَهُ، وَأَصْغَى السَّمْعَ مَتَى يُؤْمَرُ بِالنَّفْخِ فَيَنْفُخُ. قَالَ الْمُسْلِمُونَ: فَمَا نَقُولُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: قُولُوا: حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি কীভাবে আরাম-আয়েশে থাকব, অথচ শিংগায় ফুৎকারকারী শিংগা মুখে নিয়ে কপাল নত করে কান পেতে রেখেছেন কখন ফুঁক দেওয়ার আদেশ হয়। এ কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কী করব? রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা বলবে, حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক, আল্লাহর উপরই আমাদের ভরসা।৬৫

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ : يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى أَرْضٍ بَيْضَاءَ عَفْرَاءَ كَقُرْصَةِ النَّقِيِّ، لَيْسَ فِيهَا مَعْلَمٌ لِأَحَدٍ.

হযরত সাহল ইবনে সাদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে এমন এক সাদা জমিনের উপর উঠানো হবে, যেখানে কোনো পাহাড় পর্বত বা এমন কোনো বস্তু থাকবে না, যা দিয়ে কোনো কিছুকে চেনা যায়। ৬৬

ٹکا:
৬৫. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৩১; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১১০০৯; হাদীসটি সহীহ। ৬৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৫২১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৯০।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 কেউ কারো বোঝা বহন করবে না

📄 কেউ কারো বোঝা বহন করবে না


عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : يُجْمَعُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُقَالُ: أَلَا لِيَقُمْ كُلُّ إِنْسَانٍ إِلَى مَا كَانَ يَعْبُدُهُ فِي الدُّنْيَا، فَيَقُومُونَ حَتَّى يَبْقَى أَهْلُ الْإِسْلَامِ، فَيُقَالُ: مَا لَكُمْ لَمْ تَنْطَلِقُوا كَمَا انْطَلَقَ النَّاسُ؟ فَيَقُولُونَ: إِنَّ لَنَا رَبَّا وَنَحْنُ نَنْتَظِرُهُ فَيُقَالُ لَهُمْ: تَعْرِفُونَهُ؟ فَيَقُولُونَ: سُبْحَانَهُ إِذَا تَعَرَّفَ إِلَيْنَا عَرَفْنَاهُ. فَيَقُولُ لَهُمْ رَبُّهُمْ: أَنَا رَبُّكُمْ، فَيَخِرُّونَ لَهُ سُجَّدًا. وَيُقَالُ لَهُمْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْفَعُوا رُؤُوسَكُمْ، فَقَدْ جَعَلْتُ بَدَلَ كُلِّ إِنْسَانٍ مِنْكُمْ رَجُلًا مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى فِي النَّارِ. قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَا أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ عَنْهُ الْأَرْضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَأَقُومُ فِي ظُلَلٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ একত্রিত হবে। তখন বলা হবে, সবাই তার উপাস্যের কাছে যাও। তখন সবাই চলে যাবে, শুধু মুসলমানরা বাকি থাকবে। তাদেরকে বলা হবে, অন্যরা যেভাবে গেল তোমরা কেন যাচ্ছ না? তারা বলবে, আমাদের একজন রব আছেন, আমরা তাঁর জন্য অপেক্ষা করছি। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কি তাঁকে চেন? তারা বলবে, আল্লাহ পবিত্র, তিনি যখন আমাদের নিকট নিজেকে প্রকাশ করবেন, তখন আমরা অবশ্যই তাঁকে চিনতে পারব। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে আবির্ভূত হবেন এবং বলবেন, আমি তোমাদের রব। তারা সেজদায় পড়ে যাবে। তাদেরকে বলা হবে, মাথা উঠাও, তোমাদের প্রত্যেকের পরিবর্তে একজন করে ইহুদী নাসারাকে জাহান্নামে দেওয়া হবে।
রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম আমার কবর বিদীর্ণ হবে। অতঃপর আমি উঠে যাব এবং ফেরেশতাদের একটি দলের সাথে মিলিত হব। ৬৭

ٹکا:
৬৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৬৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২৭৭৮।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 শাফায়াত

📄 শাফায়াত


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي لَأَشْفَعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَقُولُ: يَا رَبِّ عِبَادُكَ عَبَدُوكَ فِي أَطْرَافِ الْأَرْضِ. قَالَ: فَيُنْجِي اللَّهُ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ، وَتَبْقَى بَقِيَّةٌ فِي النَّارِ يَقُولُونَ: مَا أَغْنَى عَنَّا إِيمَانُنَا، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: هَؤُلَاءِ عُتَقَائِي، فَيَخْرُجُونَ مِنَ النَّارِ، وَيُدْخَلُونَ الْجَنَّةَ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন আমি শাফাআত করব। আমি বলব, হে আমার রব! আপনার বান্দারা দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে আপনার ইবাদত করেছে। আল্লাহ তা'আলা যাদের চাইবেন তাদেরকে নাজাত দিবেন। আর কিছু লোক জাহান্নামে রয়ে যাবে। তারা বলবে, আমাদের ঈমান কোনো কাজে আসল না। আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমরা আমার নাজাতপ্রাপ্ত বান্দা। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।৬৮

ٹکا:
৬৮. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-২৫০৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪৩১৩; হাদীসটি হাসান [আলবানী]।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00