📄 সৎকর্ম কবরের আযাব থেকে মুক্তির কারণ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ الْمَيِّتَ يَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ حِينَ يُوَلُّونَ عَنْهُ مُدْبِرِينَ، فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَانَتِ الصَّلَاةُ عِنْدَ رَأْسِهِ، وَالصِّيَامُ عَنْ يَمِينِهِ وَالزَّكَاةُ عَنْ شِمَالِهِ، وَكَانَ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ، وَالصِّلَةِ، وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، فَيُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ، فَتَقُولُ الصَّلَاةُ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَمِينِهِ فَيَقُولُ الصِّيَامُ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ. ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ شِمَالِهِ فَتَقُولُ الزَّكَاةُ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، ثُمَّ يُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ فَيَقُولُ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে লোকজন যখন ফিরে যায়, তখন মৃতব্যক্তি তাদের পায়ের আওয়াজ শুনতে পায়। মৃত ব্যক্তি যদি মুমিন হয় তাহলে নামায তার মাথার পাশে, রোযা ডানপাশে, যাকাত বামপাশে এবং অন্যান্য সৎকর্ম যেমন, সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, ভালো কাজ করা এবং মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা তার পায়ের দিকে থাকে। ফেরেশতাগণ মাথার দিক দিয়ে আসতে চাইলে নামায বলে, এদিক দিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। অতঃপর ডানদিক থেকে আসতে চাইলে রোযা বলে, এদিক দিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। অতঃপর বাম দিক থেকে আসতে চাইলে যাকাত বলে, এদিক দিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। তারপর পায়ের দিক দিয়ে আসতে চাইলে অন্যান্য নেক আমল বলে, এদিক দিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।৬১
ٹکا:
৬১. সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৩১১৭; মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস-১০৭; হাকেম ও যাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কবরের আযাব সম্পর্কে আমি জানতাম না। একবার এক ইহুদী নারী আমার নিকট এসে কিছু চাইলে আমি তাকে কিছু দিলাম। তখন সে বলল, আল্লাহ তোমাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। তখন আমার ধারণা ছিল যে, তার কথা হয়তো ইহুদীদের কল্পকাহিনী প্রসূত। এমন সময় রাসূল গৃহে আগমন করলেন, আমি তাকে বিষয়টি জানালাম। তিনি আমাকে জানালেন যে, কবরের আযাব সত্য।
সুতরাং মুসলমান মাত্রই কর্তব্য হলো, কবরের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং উত্তম কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে কবরে যাওয়ার আগেই কবরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কারণ, যতদিন দুনিয়ায় আছে, ততদিন নেক কাজ করা সহজ। আর কবরের প্রবেশ করার পর প্রবলভাবে আকাঙ্ক্ষা করবে যে, তাকে যেন একটি মাত্র ভালো কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সে সুযোগ তাকে দেওয়া হবে না। ফলে সে নিদারুণ হতাশ অবস্থায় থাকবে।
জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কাজ হলো মৃতদের ব্যাপারে চিন্তা করা। কারণ, মৃতরা আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে যে, তাদের যেন দু রাকাআত সালাত আদায়ের তাওফীক দেওয়া হয় কিংবা একবার মাত্র লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পাঠের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তাদেরকে সে সুযোগ দেওয়া হবে না। মৃতরা জীবিতদের ব্যাপারে অবাক হয় যে, তারা কীভাবে সময়গুলো বেকার ও অনর্থক কর্মে অতিবাহিত করে।
হে ভাই! তাই তুমি তোমার সময়কে নষ্ট কর না। কারণ, এটিই হলো, তোমার মূলধন। যতক্ষণ তোমার কাছে মূলধন আছে, লাভের আশাও রয়েছে। তোমার আখেরাতের পাথেয় তো বর্তমানে লুকিয়ে আছে। সুতরাং সঠিক সময়ে যেন আখেরাতের পাথেয় সঞ্চয় করতে পার, সর্বতোভাবে সে চেষ্টাই কর। একদিন আসবে, যখন এ ক্ষুদ্র পাথেয়ই তোমার জন্য বৃহৎরূপ ধারণ করবে। সুতরাং যতটা সম্ভব, সস্তার দিনে তা অধিকহারে কুক্ষিগত কর। কারণ, মৃত্যুর পর শত চেষ্টা করেও তা সংগ্রহ করতে পারবে না।
আল্লাহর নিকট আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের তাওফীক দান করেন এবং আমাদেরকে যেন সেদিন তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন, যারা সেদিন লজ্জিত হয়ে দুনিয়ায় ফিরে যাওয়ার আবেদন জানাবে, কিন্তু তাদের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আল্লাহ তা'আলা যেন আমাদের এবং সমস্ত মুসলিমদের মৃত্যুর বিভীষিকা সহজ করে দেন।
টিকাঃ
৭৯. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩৭২; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-১৩০৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৫৪১৯