📄 মুমিন ও কাফেরের প্রতি কবরের সম্বোধন
عَنْ أَبِي الْحَجَّاجِ الثُّمَالِيُّ، قَالَ: يَقُولُ الْقَبْرُ لِلْمَيِّتِ حِينَ يُوضَعُ فِيهِ: وَيْحَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا غَرَّكَ بِي؟ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنِّي بَيْتُ الْفِتْنَةِ وَبَيْتُ الظُّلْمَةِ، وَبَيْتُ الْوَحْدَةِ، وَبَيْتُ الْهَوَامُ؟ قَالَ: وَيْحَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا غَرَّكَ بِي، وَأَنْتَ كُنْتَ تَمُرُّ بِي فَزَاجًا. فَإِنْ كَانَ مُصْلِحًا أَجَابَ عَنْهُ مُجِيبٌ مِنْ قِبَلِ الْقَبْرِ. يَقُولُ: أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟ قَالَ: فَيَقُولُ الْقَبْرُ : إِذًا أَعُودُ عَلَيْهِ خَضِرًا، وَيَعُودُ جَسَدُهُ نُورًا، وَتَصْعَدُ رُوحُهُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ عَزَّ وَجَلَّ.
আবুল হাজ্জাজ ছুমালী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃতকে কবরে রাখলে কবর তাকে ডেকে বলে, হে আদম সন্তান! ধ্বংস তোমার! কোন জিনিস তোমাকে আমার ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলেছিল? তুমি কি জানতে না যে আমি মুসীবতের ঘর, আমি অন্ধকারের ঘর, আমি নির্জনতার ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর? ধ্বংস তোমার হে আদম সন্তান! কোন জিনিস তোমাকে আমার ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলেছিল? অথচ তুমি অহঙ্কারের সাথে আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে। যদি মৃত ব্যক্তি নেককার হয়, তাহলে কবরের পক্ষ থেকে এক জওয়াব দাতা বলে, আপনি কি জানেন না, সে সৎ কাজের আদেশ করত এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ করত। তখন কবর বলে, তাহলে আমি সবুজে পরিণত হব, তার দেহ নূরে রূপান্তরিত হবে আর তার রূহ আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যাবে। ৪৯
টিকাঃ
৪৯. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৭/১৯১; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৬/২৩৩; কিতাবুজ জুহদ লি-ইবনে মুবারক: ১৪০।
হযরত উসাইদ বিন আব্দুর রহমান বলেন, আমর নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, মুমিনের মৃত্যুর পর যখন তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে বলতে থাকে, আমাকে দ্রুত নিয়ে যাও। যখন তাকে কবরে রাখা হয়, তখন জমিন তাকে লক্ষ্য করে বলে, যখন তুমি আমার উপরে হাঁটতে, তখন আমি তোমাকে পছন্দ করতাম। এখন তুমিই আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়।
আর কাফেরের মৃত্যুর পর যখন তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে বলতে থাকে, আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। যখন কবরে রাখা হয়, তখন জমিন তাকে লক্ষ্য করে বলতে থাকে, যখন তুমি আমার উপর দিয়ে হাঁটতে, তখন আমি তোমাকে অপছন্দ করতাম। এখন তুমিই আমার নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত。
হযরত উসমান বিন আফফান রাযি. থেকে বর্ণিত- একবার তিনি কোনো এক কবরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। তখন তাকে বলা হলো, জান্নাত জাহান্নামের আলোচনা করা হলে আপনি কাঁদেন না, অথচ কবর দেখে কাঁদছেন? তখন তিনি বললেন, রাসূল বলেছেন, কবর হলো, আখেরাতের প্রথম মনযিল। যদি এখানে বান্দা মুক্তি পায়, তবে পরবর্তী মনযিলগুলো তার জন্য সহজ হয়ে যায়। আর যদি মুক্তি না পায়, তবে পরবর্তী মনযিলগুলো কঠিন হবে。
টিকাঃ
৭২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩০৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৬৭; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব।
📄 খেয়ানতের কারণে কবরের আযাব
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كِرْكِرَةُ، وَكَانَ عَلَى ثِقَلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَاتَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هُوَ فِي النَّارِ. فَذَهَبَ أَصْحَابُهُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَوَجَدُوا عَبَاءَةً قَدْ غَلَّهَا.
আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক উকাইলী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ-এর এক খাদেম ছিল যার নাম কিরকিরা। সে মারা গেলে রাসূল বললেন, সে জাহান্নামী। সাহাবাগণ তার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে পেলেন, সে একটি চাদর খিয়ানত করেছিল। ৫০
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَفَلَ مِنْ خَيْبَرَ وَنَزَلَ وَادِيَ الْقُرَى قَامَ غُلَامٌ لَهُ يَعْمَلُ عَمَلًا، فَأَصَابَهُ سَهْمٌ غَرْبٌ، فَقَتَلَهُ، فَقَالَ النَّاسُ : هَنِيئًا لَهُ الشَّهَادَةُ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَلَّا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ الشَّمْلَةَ الَّتِي غَلَّهَا يَوْمَ خَيْبَرَ لَتَلْتَهِبُ عَلَيْهِ نَارًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ খায়বার যুদ্ধ থেকে ফিরে ওয়াদিয়ে কোরায় অবস্থান করছিলেন। এক গোলাম তাঁর কাজে ব্যস্ত ছিল, এরই মধ্যে একটি অজ্ঞাত তীর এসে তাকে আঘাত করে এবং সে শহীদ হয়ে যায়। লোকেরা বলল, তাকে মুবারকবাদ, সে শহীদ হয়েছে। রাসূল ﷺ বললেন, কখনোই না। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, খায়বারের যুদ্ধে খিয়ানত করা চাদরটি তার উপর আগুন হয়ে জ্বলছে। ৫১
টিকাঃ
৫০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩০৭৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৯৫১১।
৫১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪২৩৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১১৫।
হযরত আব্দুল হামীদ বিন মাহমূদ রহ. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদা আমি ইবনে আব্বাস রাযি.-এর নিকট বসা ছিলাম। ইত্যবসরে এক সম্প্রদায়ের লোকেরা তার নিকট উপস্থিত হয়। অতঃপর ঘটনা বর্ণনা করে, একদা আমরা হজের সফরে বের হলাম। আমাদের সঙ্গে জনৈক ব্যক্তি ছিল। যাতুস সাফাহ নামক স্থানে পৌঁছলে, সে মৃত্যুবরণ করে। আমরা তার কাফনের ব্যবস্থা করলাম। তার কবর খুঁড়লাম। কবরে দেখতে পেলাম, একটি কালো সাপ বসে আসে। ফলে এ স্থানটি বাদ দিয়ে অন্য আরেকটি কবর খুঁড়লাম। সেখানেও দেখতে পেলাম যে, কবর জুড়ে কালোসাপ বসে আছে। এটিও বাদ দিয়ে তৃতীয় আরেকটি কবর খুঁড়লাম। কিন্তু সেখানেও দেখতে পেলাম যে, একটি কালো সাপ কবর জুড়ে বসে আছে। সুতরাং আমরা তাকে এ অবস্থায় রেখে আপনার কাছে এসেছি।
ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, সাপটি হলো, তার কর্ম। সুতরাং তোমরা গিয়ে যে কোনো এক কবরে তাকে দাফন করে দাও। আল্লাহর শপথ! তোমরা যদি পুরো দুনিয়ার মাটিও খুঁড়ে ফেল, তাহলে এই একই দৃশ্য দেখতে পাবে। দাফনের পর তোমরা তার সম্প্রদায়ের নিকট এ সংবাদ পৌঁছে দাও।
অতঃপর আমরা পূর্বে খননকৃত কোনো কবরে দাফন করলাম। সফর শেষে মৃত ব্যক্তির জিনিস পত্র তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করি। তার স্ত্রীকে উক্ত ব্যক্তির কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। সে বলল, আমার স্বামী গমের ব্যবসা করত। প্রতিদিন পরিমাণমত গম নিতো। আর তার সমপরিমাণ মাটি ও ভূষির মিশ্রণ ঘটাত।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, এ রেওয়ায়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, খেয়ানত কবরের আযাবের কারণ। উক্ত ঘটনায় লোকেরা যা দেখেছে, তা জীবিতদের জন্য শিক্ষাস্বরূপ যে, তারা খিয়ানত করবে না。
📄 জমিনের প্রতিদিনের ঘোষণা
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مُصَلَّاهُ، فَرَأَى نَاسًا كَأَنَّهُمْ يَكْشِرُونَ فَقَالَ: أَمَا إِنَّكُمْ لَوْ أَكْثَرْتُمْ ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ، يَعْنِي الْمَوْتَ لَشَغَلَكُمْ عَمَّا أَرَى، فَأَكْثِرُوا ذِكْرَ هَادِمِ اللَّذَّاتِ فَإِنَّهُ مَا مِنْ يَوْمٍ إِلَّا وَالْقَبْرُ يُنَادِي فِيهِ: أَنَا بَيْتُ الْغُرْبَةِ، وَأَنَا بَيْتُ الْوَحْدَةِ، وَأَنَا بَيْتُ الدُّودِ وَالْهَوَامِ، أَنَا بَيْتُ التُّرَابِ، وَإِذَا دُفِنَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ قَالَ لَهُ الْقَبْرُ: مَرْحَبًا وَأَهْلًا أَمَا إِنْ كُنْتَ لَأَحَبَّ مَنْ يَمْشِي عَلَى ظَهْرِي إِلَيَّ فَإِذْ وُلِّيتُكَ الْيَوْمَ وَصِرْتَ إِلَيَّ فَسَتَرَى صَنِيعِي بِكَ. قَالَ فَيَتَّسِعُ لَهُ مَدَّ بَصَرِهِ، وَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ. وَإِذَا دُفِنَ الْعَبْدُ الْفَاجِرُ أَوِ الْكَافِرُ قَالَ لَهُ الْقَبْرُ: لَا مَرْحَبًا وَلَا أَهْلًا أَمَا إِنْ كُنْتَ لَأَبْغَضَ مَنْ يَمْشِي عَلَى ظَهْرِي إِلَيَّ فَإِذْ وُلِّيتُكَ الْيَوْمَ وَصِرْتَ إِلَيَّ فَسَتَرَى صَنِيعِي بِكَ. قَالَ فَيَلْتَئِمُ عَلَيْهِ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ، ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَصَابِعِهِ فَأَدْخَلَ بَعْضَهَا فِي جَوْفِ بَعْضٍ وَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى النَّارِ، وَيُقَيِّضُ اللَّهُ لَهُ سَبْعِينَ تِنِّينًا لَوْ نَفَخَ أَحَدُهُمْ فِي الْأَرْضِ مَا أَنْبَتَتْ شَيْئًا مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا، فَيَنْهَشْنَهُ وَيَخْدِشْنَهُ حَتَّى يُفْضَى بِهِ إِلَى الْحِسَابِ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। একদিন রাসূল ﷺ ঈদগাহে প্রবেশ করে কিছু লোককে হাসতে দেখে বললেন, যদি তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি করে স্মরণ করতে, তবে তোমরা এমন করতে না। সুতরাং তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ কর। প্রতিদিন কবর ডেকে বলে, আমি প্রবাসের ঘর, আমি নির্জনতার ঘর, আমি পোকা-মাকড়ের ঘর, আমি মাটির ঘর। যখন কোনো মুমিন বান্দাকে দাফন করা হয়, তখন কবর তাকে বলে, তোমাকে স্বাগতম। আমার উপর যারা চলাফেরা করত তাদের মধ্যে তুমিই ছিলে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আজ যখন তুমি আমার কাছে এসেছ, তখন দেখবে আমি তোমার সাথে কেমন আচরণ করি। অতঃপর তার কবর দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। আর যখন কোনো কাফের বা ফাসেককে দাফন করা হয় তখন কবর তাকে বলে, তোমার জন্য কোনো শুভেচ্ছা নেই। আমার উপর যারা চলাফেরা করত, তুমি ছিলে তাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত। আজ তুমি আমার কাছে এসেছ। আমি তোমার সাথে কেমন ব্যবহার করি, তুমি তা দেখতে পাবে। অতঃপর তার কবর তাকে এমনভাবে চাপ দিবে যে, তার এক পাশের পাজর অন্য পাশে ঢুকে যাবে। এরপর রাসূল ﷺ তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো একটিকে অপরটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন। অতঃপর জাহান্নামের দিকে তার জন্য একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। আল্লাহ তার জন্য সত্তরটি বিষধর সাপ নিযুক্ত করবেন। সেগুলোর কোনো একটি যদি জমিনে নিঃশ্বাস ফেলত তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো ফসল উৎপন্ন হতো না। সে সাপগুলো তাকে বিচার পর্যন্ত দংশন করতে থাকবে। ৫২
টিকাঃ
৫২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৬০; মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-১০২৮; আল-মুজামুল আওসাত: হাদীস-৬২৭৩; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।
বলা হয়, জমিন প্রতিদিন মানুষকে পাঁচবার সম্বোধন করে বলতে থাকে। জমিন বলে-
১. হে আদমের সন্তান, তুমি আমার উপর হাঁটছ অথচ তোমার গন্তব্য আমার উদরে।
২. হে আদম সন্তান, তুমি আমার উপর নানা রঙের খাবার খাও অথচ আমার উদরে তোমাকে কীট পতঙ্গরা খাবে।
৩. হে আদম সন্তান, তুমি আমার উপরে বসে হাসছো অথচ অচিরেই আমার উদরে বসে তুমি কাঁদবে।
৪. হে আদম সন্তান, আমার উপর আনন্দ করছ অথচ অচিরেই আমার উদরে বসে তুমি দুঃখ পোহাবে।
৫. হে আদম সন্তান, আমার উপর তুমি গুনাহ করছ অথচ অচিরেই আমার উদরে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
📄 চোগলখোরী ও নামাযে অবহেলা কবরের আযাবের কারণ
فَقِيهٌ آخَرُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَمَّا رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ مَا يُعْرَضُ عَلَيَّ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِي، رَأَيْتُ رَجُلًا قَدْ وَكَّلَ بِهِ مَلَكٌ مِنْ مَلَائِكَةِ الْعَذَابِ، فَجَاءَتْهُ الصَّلَاةُ فَاسْتَنْقَذَتْهُ مِنْ يَدِهِ، وَرَأَيْتُ رَجُلًا تَجْتَمِعُ عَلَيْهِ ظُلْمَةُ الْقَبْرِ فَجَاءَهُ الْوُضُوءُ فَأَنْجَاهُ مِنْ ذَلِكَ، وَرَأَيْتُ رَجُلًا تَنَاوَشُهُ زَبَانِيَةُ الْعَذَابِ فَجَاءَتْهُ صَدَقَتُهُ فَخَلَّصَتْهُ مِنْ أَيْدِيهِمْ، وَرَأَيْتُ رَجُلًا يَلْهَثُ عَطَشًا فَجَاءَهُ صِيَامُهُ فَسَقَاهُ، وَرَأَيْتُ رَجُلًا وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّبِيِّينَ حِجَابٌ، فَجَاءَهُ غُسْلُهُ مِنَ الْجَنَابَةِ فَأَخَذَ بِيَدِهِ فَأَجْلَسَهُ إِلَى جَنْبِي.
জনৈক ফকীহ থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি আমার উম্মতের আমলগুলো স্বপ্নে দেখলাম। দেখলাম, এক ব্যক্তিকে আযাবের ফেরেশতা ধরে নিয়ে যাচ্ছে, ইত্যবসরে তার নামায এসে তাকে তার হাত থেকে মুক্ত করে নিয়ে গেল। এক ব্যক্তিকে দেখলাম কবরের অন্ধকারে সে নিপতিত, তার উযু এসে তাকে উদ্ধার করল। আরেক ব্যক্তিকে দেখলাম আযাবের ফেরেশতারা তাকে মারার জন্য ঘিরে ধরেছে, এমন সময় তার সদকা এসে তাকে মুক্ত করল। এক ব্যক্তিকে পিপাসার্ত অবস্থায় হাঁপাতে দেখলাম, তার রোযা এসে তাকে পানি পান করাল। আরেক ব্যক্তিকে দেখলাম নবীগণের এবং তার মাঝে একটি পর্দা রয়েছে, এমন সময় তার গোসল এসে তাকে আমার পাশে বসিয়ে দিল। ৫৩
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ: إِنَّهُمَا لَيُعَذِّبَانِ، وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ، أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ، وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ لَا يَسْتَبْرِئُ مِنْ بَوْلِهِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, রাসূল ﷺ একদা দু'টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি বললেন, এ কবরবাসীকে আযাব দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে এমন কোনো বড় গুনাহের কারণে আযাব দেওয়া হচ্ছে না, যা থেকে বেঁচে থাকা অসম্ভব। তাদের একজন পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না, অপরজন চোগলখোরী করত। ৫৪
টিকাঃ
৫৩. জামেউল বায়ান আন তা'বীলি আয়িল কুরআন, তাবারী: ৮/১৪৮; তারীখে দামেশক: ৫৯/৩৯২; মুজামুল আওসাত: ৪/৩৫; হাদীসটি মুরসাল সহীহ।
৫৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-২১৬; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৯২।
হযরত আমর বিন দীনার রহ. বলেন, মদীনার জনৈক ব্যক্তির বোন পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করত। সে অসুস্থ হলে বোনের সেবা-শুশ্রূষা করার জন্য তার নিকট যেত। ইতোমধ্যে তার মৃত্যু হয়ে যায়। তার কাফনের ব্যবস্থা করে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কাফন দাফন শেষে তার মনে পড়ল যে, কবরে সে একটি থলে ফেলে এসেছে। অতঃপর একজন সঙ্গী নিয়ে কবরে যায় এবং কবর খুঁড়ে থলে তুলে নেয়। সে সঙ্গীকে বলল, তুমি একটু সরে দাঁড়াও। দেখি আমার বোনের কী অবস্থা। সে কবরের ঢাকনা খুললে দেখতে পেল কবর জুড়ে আগুন ছড়িয়ে আছে। তৎক্ষণাৎ সে তা ঢেকে দেয়। অতঃপর তার মায়ের নিকট এসে বলে, বোনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাকে অবহিত কর। মা বললেন, তোমার বোন সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস কর না। সে তো ধ্বংস হয়ে গেছে। তোমার বোন বিলম্বে নামায পড়তো এবং পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা ছাড়াই নামায আদায় করত। আর প্রতিবেশীরা ঘুমিয়ে পড়লে তাদের দরজায় কান লাগিয়ে গোপন কথা শুনত এবং তা অন্যখানে লাগাত। অর্থাৎ, সে চোগলখোরী করে বেড়াত। এটি কবরের আযাবের কারণ। সুতরাং কবরের আযাব, মুনকার নাকীরের প্রশ্ন এবং আল্লাহর যাবতীয় শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য অবশ্যই চোগলখোরী ও পাপাচার পরিহার করতে হবে।