📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 আটটি আমল কবরের আযাব থেকে নাজাতের কারণ

📄 আটটি আমল কবরের আযাব থেকে নাজাতের কারণ


فَقِيلَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَاذَا يُنْجِي مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ؟ قَالَ: أَرْبَعٌ تَفْعَلُهَا، وَأَرْبَعٌ تَجْتَنِبُهَا. فَأَمَّا الْأَرْبَعُ الَّتِي تَفْعَلُهَا، فَالصَّلَاةُ وَالصَّدَقَةُ، وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ، وَكَثْرَةُ التَّسْبِيحِ فَإِنَّهُنَّ يُضِئْنَ الْقَبْرَ، وَيُوَسِّعْنَهُ، وَأَمَّا الْأَرْبَعُ الَّتِي تَجْتَنِبُهَا، فَالْكَذِبُ، وَالْخِيَانَةُ، وَالنَّمِيمَةُ، وَالْبَوْلُ عَلَى عَقِبِهِ.

রাসূলকে ﷺ জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিনিস কবরের আযাব থেকে মুক্তি দিবে? তিনি বললেন, চারটি কাজ করবে আর চারটি কাজ থেকে বেঁচে থাকবে। যে চারটি কাজ করতে হবে তা হলো-
১. নামায আদায় করা।
২. সদকা করা।
৩. কুরআন তিলাওয়াত করা।
৪. বেশি বেশি তাসবীহ পাঠ করা। এই আমলগুলো কবরকে আলোকিত করবে এবং প্রশস্ত করবে।
আর যে চারটি কাজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে তা হলো-
১. মিথ্যা বলা থেকে।
২. খিয়ানত করা থেকে।
৩. চোগলখোরি থেকে।
৪. পেশাবের ছিটা থেকে। ৪৭

টিকাঃ
৪৭. মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী: ১/২০৪; হাদীসটিকে ইবনুল কাইয়্যিম ও ইবনে রজব হাম্বলী জাল বলেছেন [আল-মানারুল মুনীফ: ১৩৩; আহওয়ালুল কুবূর: ৪৩]

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 কবরের নীরবতায় বিভ্রান্ত না হওয়া

📄 কবরের নীরবতায় বিভ্রান্ত না হওয়া


عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا ذَكَرَ الْقَبْرَ أَنْشَدَ شِعْرًا فَقَالَ:
أَيُّهَا الْمُغْتَرُّ بِالدَّارِ . . . لَعَمْرُكَ لَا تَغْتَرَنَّ بِسُكُونِ الْقُبُورِ . . . فَمَا فِيهَا مِنَ الْخُمُودِ قَدْرُ مَا فِيهَا مِنَ الْبَلَاءِ.

হযরত আবূদ্দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। কবরের কথা স্মরণ হলে তিনি বলতেন, হে দুনিয়ার মোহে মুগ্ধ মানুষ! সাবধান! কবরের নীরবতা দেখে তোমরা বিভ্রান্ত হয়ো না। কারণ, তাতে বাহ্যিক যত শান্তি, তার চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে বিপদ।

عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي حَائِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ، فَبَيْنَا هُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ وَنَحْنُ مَعَهُ إِذْ حَادَتْ بِهِ حَتَّى كَادَتْ تُلْقِيهِ، وَإِذَا أَقْبُرٌ هُنَاكَ سِتَّةٌ أَوْ خَمْسَةٌ أَوْ أَرْبَعَةٌ، فَقَالَ: مَنْ يَعْرِفُ أَصْحَابَ هَذِهِ الْأَقْبُرِ؟ فَقَالَ رَجُلٌ: أَنَا. قَالَ: فَمَتَى مَاتَ هَؤُلَاءِ؟ قَالَ: مَاتُوا فِي الْإِشْرَاكِ. قَالَ: إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا، وَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ عَذَابَ الْقَبْرِ.

হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ বনু নাজ্জারের বাগানে যাচ্ছিলেন। তিনি একটি খচ্চরের পিঠে আরোহী ছিলেন। আমরাও তার সাথে ছিলাম। হঠাৎ খচ্চরটি এমনভাবে লাফিয়ে উঠল যেন তাকে ফেলে দিবে। সামনে তিনি পাঁচ-ছয়টি কবর দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, এই কবরবাসীদের কে চেনে? এক ব্যক্তি বলল, আমি চিনি। তিনি বললেন, এরা কবে মারা গেছে? সে বলল, এরা তো জাহেলী যুগে মারা গেছে। রাসূল ﷺ বললেন, এই উম্মতকে কবরে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা যদি মৃতদেরকে দাফন করা ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কা না করতে তাহলে আমি দোয়া করতাম, তোমরা যেন কবরের আযাব শুনতে পাও। ৪৮

টিকাঃ
৪৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৬৭; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-২০৬৩।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 মুমিন ও কাফেরের প্রতি কবরের সম্বোধন

📄 মুমিন ও কাফেরের প্রতি কবরের সম্বোধন


عَنْ أَبِي الْحَجَّاجِ الثُّمَالِيُّ، قَالَ: يَقُولُ الْقَبْرُ لِلْمَيِّتِ حِينَ يُوضَعُ فِيهِ: وَيْحَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا غَرَّكَ بِي؟ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنِّي بَيْتُ الْفِتْنَةِ وَبَيْتُ الظُّلْمَةِ، وَبَيْتُ الْوَحْدَةِ، وَبَيْتُ الْهَوَامُ؟ قَالَ: وَيْحَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا غَرَّكَ بِي، وَأَنْتَ كُنْتَ تَمُرُّ بِي فَزَاجًا. فَإِنْ كَانَ مُصْلِحًا أَجَابَ عَنْهُ مُجِيبٌ مِنْ قِبَلِ الْقَبْرِ. يَقُولُ: أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟ قَالَ: فَيَقُولُ الْقَبْرُ : إِذًا أَعُودُ عَلَيْهِ خَضِرًا، وَيَعُودُ جَسَدُهُ نُورًا، وَتَصْعَدُ رُوحُهُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ عَزَّ وَجَلَّ.

আবুল হাজ্জাজ ছুমালী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃতকে কবরে রাখলে কবর তাকে ডেকে বলে, হে আদম সন্তান! ধ্বংস তোমার! কোন জিনিস তোমাকে আমার ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলেছিল? তুমি কি জানতে না যে আমি মুসীবতের ঘর, আমি অন্ধকারের ঘর, আমি নির্জনতার ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর? ধ্বংস তোমার হে আদম সন্তান! কোন জিনিস তোমাকে আমার ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলেছিল? অথচ তুমি অহঙ্কারের সাথে আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে। যদি মৃত ব্যক্তি নেককার হয়, তাহলে কবরের পক্ষ থেকে এক জওয়াব দাতা বলে, আপনি কি জানেন না, সে সৎ কাজের আদেশ করত এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ করত। তখন কবর বলে, তাহলে আমি সবুজে পরিণত হব, তার দেহ নূরে রূপান্তরিত হবে আর তার রূহ আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যাবে। ৪৯

টিকাঃ
৪৯. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৭/১৯১; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৬/২৩৩; কিতাবুজ জুহদ লি-ইবনে মুবারক: ১৪০।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 খেয়ানতের কারণে কবরের আযাব

📄 খেয়ানতের কারণে কবরের আযাব


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كِرْكِرَةُ، وَكَانَ عَلَى ثِقَلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَاتَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هُوَ فِي النَّارِ. فَذَهَبَ أَصْحَابُهُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَوَجَدُوا عَبَاءَةً قَدْ غَلَّهَا.

আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক উকাইলী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ-এর এক খাদেম ছিল যার নাম কিরকিরা। সে মারা গেলে রাসূল বললেন, সে জাহান্নামী। সাহাবাগণ তার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে পেলেন, সে একটি চাদর খিয়ানত করেছিল। ৫০

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَفَلَ مِنْ خَيْبَرَ وَنَزَلَ وَادِيَ الْقُرَى قَامَ غُلَامٌ لَهُ يَعْمَلُ عَمَلًا، فَأَصَابَهُ سَهْمٌ غَرْبٌ، فَقَتَلَهُ، فَقَالَ النَّاسُ : هَنِيئًا لَهُ الشَّهَادَةُ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَلَّا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ الشَّمْلَةَ الَّتِي غَلَّهَا يَوْمَ خَيْبَرَ لَتَلْتَهِبُ عَلَيْهِ نَارًا.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ খায়বার যুদ্ধ থেকে ফিরে ওয়াদিয়ে কোরায় অবস্থান করছিলেন। এক গোলাম তাঁর কাজে ব্যস্ত ছিল, এরই মধ্যে একটি অজ্ঞাত তীর এসে তাকে আঘাত করে এবং সে শহীদ হয়ে যায়। লোকেরা বলল, তাকে মুবারকবাদ, সে শহীদ হয়েছে। রাসূল ﷺ বললেন, কখনোই না। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, খায়বারের যুদ্ধে খিয়ানত করা চাদরটি তার উপর আগুন হয়ে জ্বলছে। ৫১

টিকাঃ
৫০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩০৭৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৯৫১১।
৫১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৪২৩৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১১৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00