📄 মুসলমান ও কাফেরের কবরের পার্থক্য
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ مَيِّتٍ يَمُوتُ إِلَّا وَيُرْفَعُ لَهُ عَمَلُهُ إِلَى مَوْضِعِ صَلَاتِهِ مِنَ الْأَرْضِ، فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا بَكَتْ عَلَيْهِ الْأَرْضُ، وَقَالَتْ : عَبْدُ اللَّهِ الْمُؤْمِنُ فَتَدْعُو لَهُ بِالْخَيْرِ، وَإِنْ كَانَ كَافِرًا لَعَنَتْهُ، وَقَالَتْ: عَبْدُ اللَّهِ الْكَافِرُ وَاسْتَرَاحَ مِنِّي الْخَلْقُ وَالْحَجَرُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ.
হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির আমল তার নামাযের স্থানে পৌঁছানো হয়। সে মুমিন হলে জমিন তার জন্য কাঁদতে থাকে এবং বলে, এ তো আল্লাহর নেক বান্দা। আর সে তার জন্য কল্যাণের দোয়া করতে থাকে। আর যদি সে কাফের হয়, তখন জমিন তাকে অভিশাপ দেয় এবং বলে, এ তো আল্লাহর নাফরমান বান্দা ছিল। তার মৃত্যুতে মানুষ, পাথর, গাছপালা এবং জীবজন্তু সবাই শান্তি পেয়েছে।
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلَّا وَلَهُ فِي السَّمَاءِ بَابَانِ: بَابٌ يَنْزِلُ مِنْهُ رِزْقُهُ، وَبَابٌ يَصْعَدُ إِلَيْهِ عَمَلُهُ، فَإِذَا مَاتَ بَكَيَا عَلَيْهِ، وَهُوَ قَوْلُهُ تَعَالَى: فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ (الدخان : ۲۹) وَأَمَّا الْكَافِرُ فَلَا يَبْكِي عَلَيْهِ شَيْءٌ.
রাসূল ইরশাদ করেন, প্রতিটি মুমিনের আসমানে দু'টি করে দরজা থাকে। একটি দিয়ে তার রিযিক আসে, অপরটি দিয়ে তার আমল উপরে যায়। সে মারা গেলে উভয় দরজা তার জন্য কাঁদতে থাকে। আল্লাহ তা'আলা এ কথাই কুরআনে বলেছেন- فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ অর্থ: অতঃপর তাদের জন্য আসমান-জমিন কেউ ক্রন্দন করল না। ৪৫
কিন্তু কাফেরের জন্য কেউই কাঁদে না। ৪৬
টিকাঃ
৪৫. সূরা দুখান: আয়াত-২৯
৪৬. তাফসীরে ত্ববারী: ২১/১৮৮; মুসতাদরাকে হাকেম: ২/৪৭৪। হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত- যখন মুমিনকে কবরে রাখা হয়, তার কবরকে সত্তর হাত বিস্তৃত করে দেওয়া হয়। তার উপর সুগন্ধি ফুল ছিটানো হয়, রেশমী কাপড় মুড়ে দেওয়া হয়। যদি কুরআনের কিছু তার মুখস্থ থাকে, তবে এর নূরই তার জন্য যথেষ্ঠ হয়। অন্যথায় তার কবরে সূর্যের মতো আলোর ব্যবস্থা করা হয়। তার উপমা হলো, নববধূর মতো, যে কিনা ঘুমিয়ে থাকে। তাকে ঘুম থেকে সেই জাগিয়ে তোলে, যে তার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। আর সে ঘুম থেকে এভাবে জেগে ওঠে, যেন এখনো তার তৃপ্তি মেটেনি।
পক্ষান্তরে কাফেরের কবর এতই সঙ্কীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, তার পাজরের হাড় উদরে ঢুকে পড়ে। তার কবরে উটের গর্দানের মতো সাপ প্রেরণ করা হয়। এগুলো এভাবে দেহকে ভক্ষণ করে যে, হাড়ে কোনো গোশত থাকে না। আযাবের ফেরেশতাদেরকে তার নিকট অন্ধ, মূক ও বধির করে প্রেরণ করা হয়। তাদের হাতে লোহার দুরমুজ থাকে। তারা তাকে বেদম প্রহার করতে থাকে। এরা বধির, তাই তার চিৎকার শুনতে পায় না যে, করুণার উদ্রেক হবে। এরা অন্ধ, তাই তাকে দেখতে পায় না যে, দয়ার পরশ দেখাবে। তার সম্মুখে সকাল সন্ধ্যা জাহান্নাম পেশ করা হয়।
টিকাঃ
৬৮. মুস্তাদরাকে হাকেম: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২৯৩, আল-মুনতাখাব: হাদীস-৬৪২।
📄 আটটি আমল কবরের আযাব থেকে নাজাতের কারণ
فَقِيلَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَاذَا يُنْجِي مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ؟ قَالَ: أَرْبَعٌ تَفْعَلُهَا، وَأَرْبَعٌ تَجْتَنِبُهَا. فَأَمَّا الْأَرْبَعُ الَّتِي تَفْعَلُهَا، فَالصَّلَاةُ وَالصَّدَقَةُ، وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ، وَكَثْرَةُ التَّسْبِيحِ فَإِنَّهُنَّ يُضِئْنَ الْقَبْرَ، وَيُوَسِّعْنَهُ، وَأَمَّا الْأَرْبَعُ الَّتِي تَجْتَنِبُهَا، فَالْكَذِبُ، وَالْخِيَانَةُ، وَالنَّمِيمَةُ، وَالْبَوْلُ عَلَى عَقِبِهِ.
রাসূলকে ﷺ জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিনিস কবরের আযাব থেকে মুক্তি দিবে? তিনি বললেন, চারটি কাজ করবে আর চারটি কাজ থেকে বেঁচে থাকবে। যে চারটি কাজ করতে হবে তা হলো-
১. নামায আদায় করা।
২. সদকা করা।
৩. কুরআন তিলাওয়াত করা।
৪. বেশি বেশি তাসবীহ পাঠ করা। এই আমলগুলো কবরকে আলোকিত করবে এবং প্রশস্ত করবে।
আর যে চারটি কাজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে তা হলো-
১. মিথ্যা বলা থেকে।
২. খিয়ানত করা থেকে।
৩. চোগলখোরি থেকে।
৪. পেশাবের ছিটা থেকে। ৪৭
টিকাঃ
৪৭. মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী: ১/২০৪; হাদীসটিকে ইবনুল কাইয়্যিম ও ইবনে রজব হাম্বলী জাল বলেছেন [আল-মানারুল মুনীফ: ১৩৩; আহওয়ালুল কুবূর: ৪৩]
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি কবরের আযাব থেকে রক্ষা পেতে চায় তার জন্য চারটি বিষয় অবশ্য পালনীয় এবং অপর চারটি বিষয় অবশ্য বর্জনীয়। যে চারটি বিষয় অবশ্য পালনীয় তা হলো-
১. সালাতের পাবন্দী।
২. সদকা।
৩. কুরআন তিলাওয়াত।
৪. অধিহারে তাসবীহ পাঠ।
এ বিষয়গুলো কবরে আলো দান করে এবং তাকে প্রশস্ত করে তোলে। অপর যে চারটি বিষয় বর্জনীয়, তা হলো-
১. মিথ্যাচার।
২. খেয়ানত।
৩. চোগলখোরী।
৪. পেশাবের ছিটা দেহে লাগতে না দেওয়া。
হযরত কাতাদা ও আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেছেন, তোমরা প্রস্রাবের ছিঁটা থেকে বেঁচে থাক। কারণ, কবরের অধিকাংশ আযাব এর কারনেই হয়ে থাকে। বর্ণিত আছে, রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য চারটি বিষয় অপছন্দ করেন। যথা- ১. সালাতে অনর্থক কর্মকাণ্ড। ২. কুরআন তিলাওয়াতের সময় অনর্থক কথাবার্তা ও মনযোগহীনতা। ৩. রোজা রেখে গুনাহ করা বা গালমন্দ করা। ৪. এবং কবরস্থানে হাসাহাসি করা。
টিকাঃ
৬৯. সুনানে দারাকুতনী: ১/১২৮; শরহে মুশকিলিল আছার: ১৩/১৮৯; হাদীসটি সহীহ (বিস্তারিত দেখুন: আল-বাদরুল মুনীর, ইবনুল মুলাক্কিন: ২/৩২৩)।
৭০. আয যুহদ, ইবনে মুবারক: হাদীস-১৫৫৭; মুসনাদে শিহাব: ২/১৫৫; মীযানুল ইতিদাল: ১/৪০২; হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য তবে মুরসাল (দেখুন: আল-বিনায়াহ, বদরুদ্দীন আইনী: ২/৪৩৫- ৪৩৬)।
📄 কবরের নীরবতায় বিভ্রান্ত না হওয়া
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا ذَكَرَ الْقَبْرَ أَنْشَدَ شِعْرًا فَقَالَ:
أَيُّهَا الْمُغْتَرُّ بِالدَّارِ . . . لَعَمْرُكَ لَا تَغْتَرَنَّ بِسُكُونِ الْقُبُورِ . . . فَمَا فِيهَا مِنَ الْخُمُودِ قَدْرُ مَا فِيهَا مِنَ الْبَلَاءِ.
হযরত আবূদ্দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। কবরের কথা স্মরণ হলে তিনি বলতেন, হে দুনিয়ার মোহে মুগ্ধ মানুষ! সাবধান! কবরের নীরবতা দেখে তোমরা বিভ্রান্ত হয়ো না। কারণ, তাতে বাহ্যিক যত শান্তি, তার চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে বিপদ।
عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي حَائِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ، فَبَيْنَا هُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ وَنَحْنُ مَعَهُ إِذْ حَادَتْ بِهِ حَتَّى كَادَتْ تُلْقِيهِ، وَإِذَا أَقْبُرٌ هُنَاكَ سِتَّةٌ أَوْ خَمْسَةٌ أَوْ أَرْبَعَةٌ، فَقَالَ: مَنْ يَعْرِفُ أَصْحَابَ هَذِهِ الْأَقْبُرِ؟ فَقَالَ رَجُلٌ: أَنَا. قَالَ: فَمَتَى مَاتَ هَؤُلَاءِ؟ قَالَ: مَاتُوا فِي الْإِشْرَاكِ. قَالَ: إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا، وَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ عَذَابَ الْقَبْرِ.
হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ বনু নাজ্জারের বাগানে যাচ্ছিলেন। তিনি একটি খচ্চরের পিঠে আরোহী ছিলেন। আমরাও তার সাথে ছিলাম। হঠাৎ খচ্চরটি এমনভাবে লাফিয়ে উঠল যেন তাকে ফেলে দিবে। সামনে তিনি পাঁচ-ছয়টি কবর দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, এই কবরবাসীদের কে চেনে? এক ব্যক্তি বলল, আমি চিনি। তিনি বললেন, এরা কবে মারা গেছে? সে বলল, এরা তো জাহেলী যুগে মারা গেছে। রাসূল ﷺ বললেন, এই উম্মতকে কবরে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা যদি মৃতদেরকে দাফন করা ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কা না করতে তাহলে আমি দোয়া করতাম, তোমরা যেন কবরের আযাব শুনতে পাও। ৪৮
টিকাঃ
৪৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮৬৭; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-২০৬৩।
মুহাম্মাদ বিন সাম্মাক রহ. থেকে বর্ণিত- একবার তিনি কবরস্থানের দিকে তাকিয়ে বললেন, এ কবরসমূহের নীরবতা যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে। হয়তো অনেক যন্ত্রণাক্লিষ্ট ব্যক্তি এখানে শুয়ে আছে। সুতরাং জ্ঞানী ব্যক্তির কাজ হলো, কবরে প্রবেশের পূর্বে অধিকহারে তার কথা স্মরণ করা।
হযরত সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেন- যে ব্যক্তি কবরের কথা বেশি বেশি স্মরণ করবে, সে তার কবরে জান্নাতের একটি বাগান পাবে। আর যে ব্যক্তি তা থেকে গাফেল থাকবে, সে এটাকে জাহান্নামের একটি গর্ত হিসাবে পাবে。
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত- তিনি কোনো খুতবায় বলেন- হে আল্লাহর বান্দাগণ, মৃত্যুর কথা স্মরণ রাখো! মৃত্যুর কথা স্মরণ রাখো!! এর থেকে পলায়ন করার কোনো সুযোগ নেই। যদি তোমরা পলায়ন কর তবুও সে তোমাদেরকে আটকে ফেলবে। মুত্যু তোমাদের কেশগুচ্ছ ধরে বসে আছে। সুতরাং মুক্তির পথ তালাশ কর। মুক্তির পথ তালাশ কর। কারণ, তোমাদের পিছনে কবর তোমাদেরকে তালাশ করছে। মনে রেখ! কবর হয়তো তোমাদের জন্য জান্নাতের উদ্যান কিংবা জাহান্নামের গর্ত হবে। তোমার কবর প্রতিদিন তিনবার চিৎকার করে বলে, আমি অন্ধকার ঘর, আমি কীটপতঙ্গের ঘর। মনে রেখ! এর পরেও আরেকটি কঠিন দিন রয়েছে, যা বালককে বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে এবং বৃদ্ধদেরকে মাতাল বানিয়ে দিবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন- প্রত্যেক স্তন্যদায়ী ভুলে যাবে তার দুগ্ধপোষ্যকে, প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করে ফেলবে। মানুষকে দেখতে পাবে, যেন তারা নেশাগ্রস্ত। অথচ তারা নেশাগ্রস্ত না। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি ভয়ানক। মনে রেখ, ওই দিনের পরে আরো কঠিন দিন রয়েছে, যার আগুনের তাপ আরো তীব্র, যার অলঙ্কার হলো লোহার বেড়ি, যার পানি হলো পুঁজ। এতে আল্লাহর কোনো করুনা থাকবে না।
রাবী বলেন, খুতবা শুনে মুসলমানগণ দীর্ঘ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। অতঃপর হযরত আলী রাযি. বললেন, এরপর তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে জান্নাত যার প্রশস্থতা আসমান ও জমিনের সমপরিমাণ। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য। আল্লাহ আমাদেরকে জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেক রক্ষা করুন এবং সুখময় জান্নাত দান করুন。
টিকাঃ
৭১. সূরা হজ: আয়াত-২
📄 মুমিন ও কাফেরের প্রতি কবরের সম্বোধন
عَنْ أَبِي الْحَجَّاجِ الثُّمَالِيُّ، قَالَ: يَقُولُ الْقَبْرُ لِلْمَيِّتِ حِينَ يُوضَعُ فِيهِ: وَيْحَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا غَرَّكَ بِي؟ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنِّي بَيْتُ الْفِتْنَةِ وَبَيْتُ الظُّلْمَةِ، وَبَيْتُ الْوَحْدَةِ، وَبَيْتُ الْهَوَامُ؟ قَالَ: وَيْحَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا غَرَّكَ بِي، وَأَنْتَ كُنْتَ تَمُرُّ بِي فَزَاجًا. فَإِنْ كَانَ مُصْلِحًا أَجَابَ عَنْهُ مُجِيبٌ مِنْ قِبَلِ الْقَبْرِ. يَقُولُ: أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟ قَالَ: فَيَقُولُ الْقَبْرُ : إِذًا أَعُودُ عَلَيْهِ خَضِرًا، وَيَعُودُ جَسَدُهُ نُورًا، وَتَصْعَدُ رُوحُهُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ عَزَّ وَجَلَّ.
আবুল হাজ্জাজ ছুমালী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃতকে কবরে রাখলে কবর তাকে ডেকে বলে, হে আদম সন্তান! ধ্বংস তোমার! কোন জিনিস তোমাকে আমার ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলেছিল? তুমি কি জানতে না যে আমি মুসীবতের ঘর, আমি অন্ধকারের ঘর, আমি নির্জনতার ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর? ধ্বংস তোমার হে আদম সন্তান! কোন জিনিস তোমাকে আমার ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলেছিল? অথচ তুমি অহঙ্কারের সাথে আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে। যদি মৃত ব্যক্তি নেককার হয়, তাহলে কবরের পক্ষ থেকে এক জওয়াব দাতা বলে, আপনি কি জানেন না, সে সৎ কাজের আদেশ করত এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ করত। তখন কবর বলে, তাহলে আমি সবুজে পরিণত হব, তার দেহ নূরে রূপান্তরিত হবে আর তার রূহ আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যাবে। ৪৯
টিকাঃ
৪৯. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৭/১৯১; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৬/২৩৩; কিতাবুজ জুহদ লি-ইবনে মুবারক: ১৪০।
হযরত উসাইদ বিন আব্দুর রহমান বলেন, আমর নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, মুমিনের মৃত্যুর পর যখন তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে বলতে থাকে, আমাকে দ্রুত নিয়ে যাও। যখন তাকে কবরে রাখা হয়, তখন জমিন তাকে লক্ষ্য করে বলে, যখন তুমি আমার উপরে হাঁটতে, তখন আমি তোমাকে পছন্দ করতাম। এখন তুমিই আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়।
আর কাফেরের মৃত্যুর পর যখন তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে বলতে থাকে, আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। যখন কবরে রাখা হয়, তখন জমিন তাকে লক্ষ্য করে বলতে থাকে, যখন তুমি আমার উপর দিয়ে হাঁটতে, তখন আমি তোমাকে অপছন্দ করতাম। এখন তুমিই আমার নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত。
হযরত উসমান বিন আফফান রাযি. থেকে বর্ণিত- একবার তিনি কোনো এক কবরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। তখন তাকে বলা হলো, জান্নাত জাহান্নামের আলোচনা করা হলে আপনি কাঁদেন না, অথচ কবর দেখে কাঁদছেন? তখন তিনি বললেন, রাসূল বলেছেন, কবর হলো, আখেরাতের প্রথম মনযিল। যদি এখানে বান্দা মুক্তি পায়, তবে পরবর্তী মনযিলগুলো তার জন্য সহজ হয়ে যায়। আর যদি মুক্তি না পায়, তবে পরবর্তী মনযিলগুলো কঠিন হবে。
টিকাঃ
৭২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩০৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৬৭; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব।