📄 কবরে কাফেরের প্রশ্নোত্তর
قَالَ: وَإِنَّ الْعَبْدَ الْكَافِرَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ، نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاءِ مَلَائِكَةٌ سُودُ الْوُجُوهِ، مَعَهُمُ الْمُسُوحُ، فَيَجْلِسُونَ مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ، ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ اخْرُجِي إِلَى سَخَطٍ مِنَ اللَّهِ وَغَضَبٍ قَالَ: فَتُفَرَّقُ فِي جَسَدِهِ، فَيَنْتَزِعُهَا كَمَا يُنْتَزَعُ السَّفُودُ مِنَ الصُّوفِ الْمَبْلُولِ، فَيَأْخُذُهَا، فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَجْعَلُوهَا فِي تِلْكَ الْمُسُوحِ، وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَنتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ وُجِدَتْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، فَيَصْعَدُونَ بِهَا، فَلَا يَمُرُّونَ بِهَا عَلَى مَلَأَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا: مَا هَذَا الرُّوحُ الْخَبِيثُ؟ فَيَقُولُونَ: فَلَانُ بْنُ فُلَانٍ بِأَقْبَحِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانَ يُسَمَّى بِهَا فِي الدُّنْيَا، حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيُسْتَفْتَحُ لَهُ، فَلَا يُفْتَحُ لَهُ، ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي سِجِّينٍ فِي الْأَرْضِ السُّفْلَى، فَتُطْرَحُ رُوحُهُ طَرْحًا، ثُمَّ قَرَأَ: وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ، فَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي. فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَلَا يَهْتَدِي لِاسْمِهِ فَيُقَالُ مُحَمَّدٌ فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ ذَاكَ. فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ كَذَبَ فَافْرِشُوا لَهُ مِنَ النَّارِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ، فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا، وَسَمُومِهَا، وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ، وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ قَبِيحُ الْوَجْهِ، قَبِيحُ الثِّيَابِ، مُنْتِنُ الرِّيحِ، فَيَقُولُ: أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُوءُكَ هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ. فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيءُ بِالشَّرِّ. فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ، فَيَقُولُ: رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ
রাসূল ইরশাদ করেন, কাফের বান্দা যখন দুনিয়া ত্যাগ করে পরকালের দিকে যাত্রা করে তখন তার নিকট কালো চেহারার একদল ফেরেশতা আসেন। তাদের সাথে থাকে একটি টাট (চটের কাপড়)। তারা তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বসে থাকে। এরপর মালাকুল মওত এসে তার মাথার পাশে বসে বলবেন, হে নাপাক রূহ, আল্লাহর ক্রোধ ও গজবের দিকে বের হয়ে আয়। তখন রূহ তার দেহে ছড়িয়ে পড়বে। মালাকুল মওত তার রূহ এমনভাবে বের করে আনবেন, যেমনভাবে ভেজা পশম থেকে কাঁটাযুক্ত শিক টেনে বের করা হয়। মালাকুল মওত রূহ হাতে নেওয়ার পর মুহূর্ত বিলম্ব না করে ফেরেশতাগণ তার থেকে নিয়ে টাটে পেঁচিয়ে ফেলবেন। তখন তা থেকে এমন দুর্গন্ধ বের হতে থাকবে যেমন দুর্গন্ধ দুনিয়াতে আর পাওয়া যাবে না। অতঃপর তারা এ রূহ নিয়ে আসমানের দিকে উঠতে থাকবেন। পথে যত ফেরেশতার সাথে দেখা হবে, তারা জিজ্ঞেস করবে, এটা কার খবীস রূহ? তারা তখন দুনিয়াতে তাকে যে নামে ডাকা হতো সে নাম উল্লেখ করে বলবে, এ হলো অমুকের ছেলে অমুকের রূহ। এভাবে তারা আসমানের দরজা পর্যন্ত পৌঁছাবে। কিন্তু তাদের জন্য দরজা খোলা হবে না। অতঃপর রাসূল এই আয়াত পাঠ করলেন,
لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ
অর্থ: তাদের জন্য আসমানের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে।
আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তার আমলনামা সিজ্জীনে লিখে দাও, যা সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থিত। এরপর তার রূহকে সেখান থেকেই নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর রাসূল এই আয়াত পাঠ করলেন,
وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
অর্থ: আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর মৃতভোজী পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।৪১
অতঃপর তার রূহ তার দেহে ফিরিয়ে আনা হবে। তার নিকট দুইজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করবেন,
তোমার রব কে? সে বলবে, হায়! হায়! আমি তো জানি না।
তাঁরা জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দীন কী? সে বলবে, হায়! হায়! আমি জানি না।
তাঁরা জিজ্ঞেস করবেন, এই ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের মাঝে প্রেরণ করা হয়েছিল? সে তাঁর নাম বলতে পারবে না। তাকে বলা হবে, মুহাম্মদ। সে বলবে, হায়! হায়! আমি তো জানি না। মানুষকে বলতে শুনেছি।
তখন আসমান থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা দিবেন, সে মিথ্যা বলেছে। তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং জাহান্নামের দিকে তার একটি দরজা খুলে দাও। তখন জাহান্নাম থেকে তার দিকে উত্তপ্ত হাওয়া ও বিষাক্ত বাতাস আসতে থাকবে। তার কবরকে এমনভাবে সংকুচিত করে দেওয়া হবে যে, তার এক পাশের হাড় অপর পাশে ঢুকে যাবে। এমতাবস্থায় একজন কুৎসিত, দুর্গন্ধযুক্ত লোক তার নিকট এসে বলবে, এমন দুঃসংবাদ গ্রহণ কর যা তোমাকে কষ্ট দিবে। এ তো সে দিন, যার ব্যাপারে তোমাকে ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল। সে বলবে, তুমি কে? তোমার চেহারা তো অকল্যাণের বার্তা দিচ্ছে। সে বলবে, আমি তোমার বদ আমল। তখন সে বলবে, হে আমার রব! কিয়ামত সংঘটিত করিও না। ৪২
টিকাঃ
৪১. সূরা হজ : আয়াত-৩১
৪২. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৫৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৮৫৩৪; হাদীসটি সহীহ [হাকেম, ইবনে কাইয়্যিম, আলবানী প্রমুখ]।
রাসূল বলেন, কাফের বান্দা যখন দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আখেরাতের প্রতি ধাবিত হয়, তখন তার নিকট আসমান থেকে কালো চেহারার ফেরেশতা আগমন করেন। তাদের সাথে চট থাকে। দৃষ্টিজুড়ে তারা তার সম্মুখে বসেন। অতঃপর মালাকুল মওত তার মাথার সম্মুখে এসে বসেন। অতঃপর বলেন, হে মন্দ আত্মা! বেরিয়ে আস! আল্লাহর শাস্তি ও ক্রোধের দিকে। ফলে আত্মা ভয়ে প্রতি অঙ্গে ছড়িয়ে যায়। তিনি তাকে এমনভাবে টেনে বের করেন, যেভাবে ভেজা পশম থেকে শিক বের করা হয়। ফলে তার শিরা-উপশিরা ছিড়ে যায়। অতঃপর ফেরেশতাগণ তা গ্রহণ করেন এবং মালাকুল মওতের হাতে মুহূর্তমাত্র রেখে পুনরায় তা গ্রহণ করে সে চটে রেখে দেন। তা থেকে লাশের দুর্গন্ধ আসতে থাকে। তারা তাকে নিয়ে উপরে আরোহণ করেন। যখনি তারা কোনো ফেরেশতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, তারা জিজ্ঞেস করেন, এ কার মন্দ আত্মা! তারা বলে, এ হলো, অমুকের পুত্র অমুকের আত্মা। তারা বিভিন্ন মন্দ নামে তার পরিচয় প্রদান করেন। অতঃপর তারা দুনিয়ার আসমানে উপনীত হয়ে দরজা উন্মুক্ত করার আবেদন জানান। কিন্তু দরজা উন্মুক্ত করা হয় না। অতঃপর রাসূল এ আয়াত তিলাওয়াত করেন- 'লা তুফাত্তাহু লাহুম আবওয়াবুস্ সামায়ি ওয়ালা ইয়াদখুলুনাল জান্নাতা হাত্তা ইয়ালিজাল জামালু ফী সাম্মিল খিয়াতি' অর্থ: তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সুচের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করবে।
অতঃপর আল্লাহ বলবেন, তার নাম সিজ্জীনে লিপিবদ্ধ কর। এরপর তার আত্মাকে ছুঁড়ে ফেলা হবে। এ সময় রাসূল নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন- 'ওয়ামাইঁ ইউশরিক বিল্লাহি ফাকায়ান্নামা খাররা মিনাস্ সামায়ি ফাতাক্বত্বাফুহুত ত্বাইরু আও তাহওয়ী বির্হিরীহু ফী মাকানিন সাহীকি' অর্থ: আর যে আল্লাহর সাথে শিরক করে সে যেন আকাশ থেকে ভূপাতিত হলো অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।
অর্থাৎ, তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং রূহ তার দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করবেন, তোমার রব কে? সে বলবে, হায়, আমি তো জানি না! তারা বলবেন, তোমার দীন কী? সে বলবে, আমি জানি না। অতঃপর তারা বলবেন, তার সম্পর্কে তুমি কী বল, যাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল? সে বলবে, হায়! আমি জানি না।
তখন আসমান থেকে ঘোষণা আসবে, বান্দা মিথ্যা বলছে। সুতরাং তার জন্য আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও, যেন তার কাছে আগুনের দহন ও লাভা আসে। ফলে আগুনের তীব্র দহন তাকে ঝলসাতে থাকবে। আর কবরকে এতো সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে যে, তার দেহের একদিকের হাড় অপর দিকের সাথে মিলে যাবে। অতঃপর কুৎসিত চেহারা ও কদাকার বস্ত্র পরিহিত, দুর্গন্ধযুক্ত এক ব্যক্তি তার নিকট উপস্থিত হবে। বলবে, দুঃসংবাদ গ্রহণ কর এমন কিছুর, যা তোমাকে যন্ত্রণা দেবে। এ হলো, সে দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে প্রদান করা হতো। সে বলবে, কে তুমি? উত্তর দেবে, আমি তোমার মন্দ আমল। তখন সে বলবে, হে রব কিয়ামত কায়েম করবেন না? কিয়ামত কায়েম করবেন না!
টিকাঃ
৬৩. সূরা আ'রাফ: আয়াত-৪০
৬৪. সূরা হাজ্জ: আয়াত-৩১
৬৫. সুনানে আবূ দাউদ: হাদীস-৪৭৫৩; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-২০০১; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১৫৪৮; মুসনাদে আহমদ: ৩০/৪৯৯ (১৮৫৩৪) হাদীসটি সহীহ।
📄 মুসলমানদের রূহ যেভাবে কবজ করা হবে
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: دَخَلْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ ابْنِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَجُودُ بِنَفْسِهِ، فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ ﷺ تَذْرِفَانِ فَقَالَ: لَا يَرْحَمُ اللهُ مِنْ عِبَادِهِ إِلَّا الرُّحَمَاءَ، وَلَوْلَا أَنَّهُ أَمْرُ حَقٌّ وَوَعْدُ صِدْقٌ، وَأَنَّ آخِرَنَا يَلْحَقُ أَوَّلَنَا لَحَزِنًا عَلَيْكَ حُزْنًا هُوَ أَشَدُّ مِنْ هَذَا وَإِنَّا بِكَ لَمَحْزُونُونَ. قَالَ سُفْيَانُ : أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، أَنَّهُ قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ رُوحَ الْمُؤْمِنِ تُسَلُّ مِنْ بَيْنِ الْجِلْدِ وَالظُّفْرِ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলের সাথে রাসূলের পুত্র ইবরাহীমের নিকট প্রবেশ করলাম। তখন সে মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিল। রাসূলের চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করে থাকেন। মৃত্যু যদি সত্য না হতো, আখেরাতের ওয়াদা যদি সত্য না হতো, আর অগ্রবর্তীদের সাথে পরবর্তীদের সাক্ষাৎ যদি না হতো, তাহলে আমি এর চেয়েও বেশি কাঁদতাম।
হযরত সুফইয়ান বলেন, হযরত সুলাইমান তাইমী রহ. বলেন, মুমিনের রুহ চামড়া এবং নখের মাঝখান থেকে টেনে বের করা হয়।৪৩
ٹکا:
৪৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩০৩; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩১২৬।
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন, মুমিন বান্দার মৃত্যুর সময় হলে তার নিকট একজন ফেরেশতা রেশমি কাপড় নিয়ে আগমন করেন। যাতে থাকে খুশবু ও সুগদ্ধি ফুল। আটা থেকে চুল বের হওয়ার মতো তার আত্মা দেহ থেকে বেরিয়ে আসে। বলা হয় হে প্রশান্ত আত্মা! তোমার রবের নিকট চলো এমতাবস্থায় যে, তুমি তার প্রতি সন্তুষ্ট আর তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট। তখন তার রূহ বের করে মেশক আম্বরে রাখা হয় এবং রেশমী কাপড়ে মুড়ে দেওয়া হয় ও তাকে ইল্লিয়্যীনে প্রেরণ করা হয়।
টিকাঃ
৬৬. মুসনাদে বায্যার হাদীস-৯৫৪১; তবারানী আওসাত হাদীস-৭৪২; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৩/১০৫; শরহে সুদূর: হাদীস-১৫; হাদীসটি সহীহ।
📄 কাফেরের রূহ যেভাবে কবজ করা হয়
وَقَالَ مُجَاهِدٌ : إِنَّ الْكَافِرَ إِذَا مَاتَ، وَقَدْ كَانَتْ لَهُ أَعْمَالُ بَرٍ أَبْدَلَهُ اللهُ بِهَا الْأَمْنَ فِي قَبْرِهِ، فَهُوَ يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ الَّذِي كُنْتَ تَعْمَلُ بِهِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَدَّلَكَ بِعَمَلِكَ الصَّالِحِ الَّذِي كَانَ مِنْكَ أَمَانًا إِلَى يَوْمِ الدِّينِ.
মুজাহিদ রহ. বলেন, কাফের যদি দুনিয়াতে কিছু ভালো কাজ করে থাকে, তাহলে মৃত্যুর পর কবরে আল্লাহ তার কিছু প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তাকে জাহান্নামে তার স্থান দেখিয়ে বলা হয়, এটা ছিল তোমার ঠিকান। কিন্তু দুনিয়াতে তোমার করা কিছু ভালো কাজের কারণে আল্লাহ তোমাকে কিয়ামত পর্যন্ত এখানে শান্তিতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন।
عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ: يُرَدُّ عَلَى الْمَيِّتِ مِنَ الْعَقْلِ مِثْلُ الصَّبِيِّ فَيُقَالَ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَنْظُرُ إِلَى يَمِينِهِ فَلَا يَرَى شَيْئًا، وَيَنْظُرُ إِلَى شِمَالِهِ فَلَا يَرَى شَيْئًا فَيُذَكِّرُهُ اللَّهُ فَيَقُولُ: رَبِّيَ اللَّهُ فَيُقَالُ: وَمَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ : الْإِسْلَامُ. فَيُقَالُ لَهُ: مَنْ نَبِيُّكَ؟ فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ نَوْمَةَ الْعَرُوسِ، فَيَفْتَحُ لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ فَيَرَى زَهْرَتَهَا وَنَضْرَتَهَا، وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ تَعَالَى لَهُ فِيهَا فَلَا يَزَالُ يُحِبُّ أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ.
হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রহ. বলেন, কবরে মানুষকে শিশুর মতো জ্ঞান দেওয়া হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার রব কে? সে ডানে বামে তাকিয়ে কিছুই দেখবে না। তখন আল্লাহ তাকে স্মরণ করিয়ে দিবেন, আর সে বলবে, আমার রব আল্লাহ। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার দীন কী? সে বলবে, আমার দীন ইসলাম। তাকে বলা হবে, তোমার নবী কে? সে বলবে, মুহাম্মদ ﷺ। অতঃপর তাকে বলা হবে, ঘুমাও! এমনভাবে ঘুমাও যেমন ঘুমালে কেউ জাগায় না। আর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। সে জান্নাতের বিভিন্ন নেয়ামত দেখতে থাকবে এবং বলতে থাকবে, হায়! কিয়ামত যদি এর চেয়েও আগে হতো!
قَالَ: وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ مُنْكَرٌ وَنَكِيرٌ أَصْوَاتُهُمَا كَالرَّعْدِ، وَأَبْصَارُهُمَا كَالْبَرْقِ، مَعَهُمَا مِرْزَبَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهَا أَهْلُ مِنَى لَمْ يُقِلُّوهَا فَيُقَالُ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَتَلَجْلَجُ فِي كَلَامِهِ لَا يَدْرِي مَا يَقُولُ، فَيَضْرِبَانِهِ ضَرْبَةً يَتَطَايَرُ مِنْهَا شَرَارُهَا فَيَمْتَلِيءُ قَبْرُهُ نَارًا، وَيَتَفَرَّقُ تُرَابُهُ، ثُمَّ يَعُودُ فَيَضْرِبَانِهِ الثَّانِيَةَ، فَيَتَطَايَرُ شَرَارًا أَكْثَرَ مِنَ الْأُولَى فَيَقُولُ: رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ.
তিনি বলেন, কাফেরের নিকট মুনকার ও নাকীর আসবেন, তাঁদের কন্ঠ হবে মেঘের গর্জনের মত, আর চোখ হবে বিজলীর চমকের মত। তাঁদের সাথে থাকবে লোহার হাতুড়ি। যদি মীনার সমস্ত মানুষ একত্রিত হয়ে তা উত্তোলন করতে চায়, তাও পারবে না। তারা তাকে জিজ্ঞেস করবে, তোমার রব কে? সে তোতলিয়ে তোতলিয়ে উত্তর দেবে, আমি জানি না। তখন তারা এমন জোরে তাকে আঘাত করবে যে, তার কবর আগুন দিয়ে ভরে যাবে। এরপর দ্বিতীয়বার আঘাত করলে তার শরীর থেকে ছিটকে পড়া স্ফুলিঙ্গ প্রথমবারের চেয়ে আরও বেশি হবে। সে তখন বলতে থাকবে, হে রব! কিয়ামত যেন কায়েম না হয়। ৪৪
টিকাঃ
৪৪. ফতহুল বারী: ৩/২৩৪-২৩৫; সাঈদ ইবনে মানসুর তার সুনানে সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
পক্ষান্তরে কাফেরের মৃত্যুর সময় হলে একজন ফেরেশতা পশমে তৈরি চট নিয়ে আসে, যাতে থাকে জ্বলন্ত অঙ্গার। বহু কষ্টে তার আত্মা বের করা হয়। তাকে বলা হয়, হে মন্দ আত্মা! বের হয়ে আসো! তোমার রবের প্রতি এমতাবস্থায় যে, তুমি দিশেহারা ও ক্রোধে আপতিত। বের হয়ে আসো! আল্লাহ কর্তৃক লাঞ্ছনা ও আযাবের দিকে। যখন তার রূহ বের করা হয়, তখন তাকে উক্ত জ্বলন্ত অঙ্গারে রাখা হয়। তার ভিতর থেকে বলকানো পানির শব্দের ন্যায় শব্দ আসতে থাকে। তার রূহকে চটে মুড়ে সিজ্জীনে প্রেরণ করা হয়।
টিকাঃ
৬৭. মুসনাদে বায্যার হাদীস-৯৫৪১; তবারানী আওসাত হাদীস-৭৪২; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৩/১০৫; শরহে সুদূর: হাদীস-১৫; হাদীসটি সহীহ।
📄 মুসলমান ও কাফেরের কবরের পার্থক্য
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ مَيِّتٍ يَمُوتُ إِلَّا وَيُرْفَعُ لَهُ عَمَلُهُ إِلَى مَوْضِعِ صَلَاتِهِ مِنَ الْأَرْضِ، فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا بَكَتْ عَلَيْهِ الْأَرْضُ، وَقَالَتْ : عَبْدُ اللَّهِ الْمُؤْمِنُ فَتَدْعُو لَهُ بِالْخَيْرِ، وَإِنْ كَانَ كَافِرًا لَعَنَتْهُ، وَقَالَتْ: عَبْدُ اللَّهِ الْكَافِرُ وَاسْتَرَاحَ مِنِّي الْخَلْقُ وَالْحَجَرُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ.
হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির আমল তার নামাযের স্থানে পৌঁছানো হয়। সে মুমিন হলে জমিন তার জন্য কাঁদতে থাকে এবং বলে, এ তো আল্লাহর নেক বান্দা। আর সে তার জন্য কল্যাণের দোয়া করতে থাকে। আর যদি সে কাফের হয়, তখন জমিন তাকে অভিশাপ দেয় এবং বলে, এ তো আল্লাহর নাফরমান বান্দা ছিল। তার মৃত্যুতে মানুষ, পাথর, গাছপালা এবং জীবজন্তু সবাই শান্তি পেয়েছে।
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلَّا وَلَهُ فِي السَّمَاءِ بَابَانِ: بَابٌ يَنْزِلُ مِنْهُ رِزْقُهُ، وَبَابٌ يَصْعَدُ إِلَيْهِ عَمَلُهُ، فَإِذَا مَاتَ بَكَيَا عَلَيْهِ، وَهُوَ قَوْلُهُ تَعَالَى: فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ (الدخان : ۲۹) وَأَمَّا الْكَافِرُ فَلَا يَبْكِي عَلَيْهِ شَيْءٌ.
রাসূল ইরশাদ করেন, প্রতিটি মুমিনের আসমানে দু'টি করে দরজা থাকে। একটি দিয়ে তার রিযিক আসে, অপরটি দিয়ে তার আমল উপরে যায়। সে মারা গেলে উভয় দরজা তার জন্য কাঁদতে থাকে। আল্লাহ তা'আলা এ কথাই কুরআনে বলেছেন- فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ অর্থ: অতঃপর তাদের জন্য আসমান-জমিন কেউ ক্রন্দন করল না। ৪৫
কিন্তু কাফেরের জন্য কেউই কাঁদে না। ৪৬
টিকাঃ
৪৫. সূরা দুখান: আয়াত-২৯
৪৬. তাফসীরে ত্ববারী: ২১/১৮৮; মুসতাদরাকে হাকেম: ২/৪৭৪। হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত- যখন মুমিনকে কবরে রাখা হয়, তার কবরকে সত্তর হাত বিস্তৃত করে দেওয়া হয়। তার উপর সুগন্ধি ফুল ছিটানো হয়, রেশমী কাপড় মুড়ে দেওয়া হয়। যদি কুরআনের কিছু তার মুখস্থ থাকে, তবে এর নূরই তার জন্য যথেষ্ঠ হয়। অন্যথায় তার কবরে সূর্যের মতো আলোর ব্যবস্থা করা হয়। তার উপমা হলো, নববধূর মতো, যে কিনা ঘুমিয়ে থাকে। তাকে ঘুম থেকে সেই জাগিয়ে তোলে, যে তার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। আর সে ঘুম থেকে এভাবে জেগে ওঠে, যেন এখনো তার তৃপ্তি মেটেনি।
পক্ষান্তরে কাফেরের কবর এতই সঙ্কীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, তার পাজরের হাড় উদরে ঢুকে পড়ে। তার কবরে উটের গর্দানের মতো সাপ প্রেরণ করা হয়। এগুলো এভাবে দেহকে ভক্ষণ করে যে, হাড়ে কোনো গোশত থাকে না। আযাবের ফেরেশতাদেরকে তার নিকট অন্ধ, মূক ও বধির করে প্রেরণ করা হয়। তাদের হাতে লোহার দুরমুজ থাকে। তারা তাকে বেদম প্রহার করতে থাকে। এরা বধির, তাই তার চিৎকার শুনতে পায় না যে, করুণার উদ্রেক হবে। এরা অন্ধ, তাই তাকে দেখতে পায় না যে, দয়ার পরশ দেখাবে। তার সম্মুখে সকাল সন্ধ্যা জাহান্নাম পেশ করা হয়।
টিকাঃ
৬৮. মুস্তাদরাকে হাকেম: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২৯৩, আল-মুনতাখাব: হাদীস-৬৪২।