📄 কবরে মুসলমানের প্রশ্নোত্তর
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ، فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّ عَلَى رُؤُوسِنَا الطَّيْرَ، وَفِي يَدِهِ عُودٌ يَنْكُتُ بِهِ فِي الْأَرْضِ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، قَالَهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا. ثُمَّ قَالَ: إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ مَلَائِكَةٌ مِنَ السَّمَاءِ بِيضُ الْوُجُوهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الشَّمْسُ مَعَهُمْ كَفَنٌ مِنْ أَكْفَانِ الْجَنَّةِ، وَحَنُوطٌ مِنْ حَنُوطِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَجْلِسُوا مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ، ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ اخْرُجِي إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ، قَالَ: فَتَخْرُجُ تَسِيلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ مِنْ فِي السِّقَاءِ، فَيَأْخُذُهَا، فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَأْخُذُوهَا، فَيَجْعَلُوهَا فِي ذَلِكَ الْكَفَنِ وَفِي ذَلِكَ الْحَنُوطِ، وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَطْيَبِ نَفْحَةِ مِسْكِ وُجِدَتْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ. قَالَ : فَيَصْعَدُونَ بِهَا فَلَا يَمُرُّونَ بِهَا عَلَى مَلَاءٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا: مَا هَذَا الرُّوحُ الطَّيِّبُ؟ فَيَقُولُونَ: هَذَا فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ بِأَحْسَنِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانُوا يُسَمُّونَهُ بِهَا فِي الدُّنْيَا حَتَّى يَنْتَهُوا بِهَا إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَسْتَفْتِحُونَ لَهُ، فَيُفْتَحُ لَهُمْ، فَيُشَيِّعُهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي تَلِيهَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ، وَأَعِيدُوهُ إِلَى الْأَرْضِ، فَإِنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ، وَفِيهَا أُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا أُخْرِجُهُمْ تَارَةً أُخْرَى. قَالَ : فَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ، فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ: رَبِّيَ اللَّهُ. فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: دِينِيَ الْإِسْلَامُ. فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُولُ: هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَقُولَانِ لَهُ: وَمَا عِلْمُكَ؟ فَيَقُولُ : قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ. فَيُنَادِي مُنَادٍ فِي السَّمَاءِ: أَنْ صَدَقَ عَبْدِي، فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ، قَالَ فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ مَدَّ بَصَرِهِ. قَالَ: وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ حَسَنُ الْوَجْهِ، حَسَنُ الشَّيَابِ، طَيِّبُ الرِّيحِ، فَيَقُولُ: أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُرُّكَ، هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ. فَيَقُولُ لَهُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيءُ بِالْخَيْرِ فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الصَّالِحُ. فَيَقُولُ: رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ حَتَّى أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي وَمَالِي
হযরত বারা ইবনে আযেব রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা আমরা রাসূল ﷺ-এর সাথে জনৈক আনসারী সাহাবীর জানাযায় অংশগ্রহণ করলাম। দাফনের কাজ তখনো শেষ হয়নি। তাই রাসূল ﷺ কবরের পাশে বসলেন, আমরাও রাসূল ﷺ-এর আশেপাশে এমনভাবে বসে গেলাম, যেন আমাদের মাথায় পাখি বসেছে। তাঁর হাতে ছিল একটি কাঠি, যা দিয়ে তিনি মাটিতে আঁচড় কাটছিলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে বললেন, কবরের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও। এ কথাটি তিনি দু'বার কিংবা তিনবার বললেন। এরপর তিনি বললেন, মুমিন যখন দুনিয়া ত্যাগ করে পরকালের দিকে যাত্রা করে তখন আসমান থেকে একদল ফেরেস্তা তার নিকট অবতরণ করে। তাদের চেহারা হবে সূর্যের মত উজ্জ্বল। তাদের সাথে থাকবে জান্নাতী কাফন এবং জান্নাতী সুগন্ধি। তারা মৃত ব্যক্তির দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বসে থাকবে। এরপর মালাকুল মওত এসে তার মাথার পাশে বসে বলবেন, হে পবিত্র আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বের হয়ে আস। তখন তার রূহ এমনভাবে বের হবে যেমনভাবে মশকের মুখ থেকে পানি বের হয়। মালাকুল মওত তার রূহ গ্রহণ করার পর এক মুহূর্তও তা তার হাতে রাখেন না। অন্যান্য ফেরেশতাগণ দ্রুত তা গ্রহণ করে জান্নাতী কাফনে রেখে দেন এবং জান্নাতী সুগন্ধি মাখিয়ে দেন। তখন তা থেকে এমন সুগন্ধি বের হতে থাকে, যেমন সুগন্ধি দুনিয়াতে আর পাওয়া যাবে না। অতঃপর তারা এ রূহ নিয়ে আসমানের দিকে উঠতে থাকেন। পথে যত ফেরেশতার সাথে দেখা হয়, সবাই জিজ্ঞেস করেন, এত উত্তম রূহ কার? তারা তখন দুনিয়াতে তার যত ভালো নাম ছিল সবগুলো বলে বলবেন, এ হলো অমুকের ছেলে অমুক। অতঃপর তারা তাকে নিয়ে আসমানের দরজায় উপস্থিত হবেন এবং দরজা খুলতে বলবেন। দরজা খুলে দেওয়া হবে। প্রতিটি আসমানের নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ পরবর্তী আসমান পর্যন্ত তার সাথে যাবেন। এভাবে তাকে সপ্তম আসমান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমার বান্দার নাম ইল্লিনে লিখে দাও। আর তাকে পুনরায় দুনিয়াতে তার কবরে নিয়ে যাও। কারণ, আমি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, তাতেই ফিরিয়ে দিব এবং তা থেকেই আবার জীবিত করব। অতঃপর তার রূহ তার দেহে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর তার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসবেন এবং তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করবেন-
তোমার রব কে? সে বলবে, আমার রব আল্লাহ।
তাঁরা জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দীন কী? সে বলবে, আমার দীন ইসলাম।
তাঁরা জিজ্ঞেস করবেন, এই লোকটি কে? যাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। সে বলবে, ইনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ﷺ।
তাঁরা বলবেন, তুমি কীভাবে জানলে? সে বলবে, আমি আল্লাহর কিতাব পাঠ করেছি, তার উপর ঈমান এনেছি এবং তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি। তখন আসমান থেকে এক ঘোষক ঘোষণা দিবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। এরপর তার দিকে জান্নাতের বাতাস ও সুগন্ধি আসতে থাকবে। তার কবর দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। এমতাবস্থায় একজন সুদর্শন, সুবেশী ও সুগন্ধিযুক্ত ব্যক্তি তার নিকট এসে বলবে, এমন বিষয়ের সুসংবাদ গ্রহণ কর যা তোমাকে খুশি করবে। এ তো সেই দিন, যার ব্যাপারে তোমাকে ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল। সে বলবে, তুমি কে? তোমার চেহারা তো কল্যাণের বার্তা দেয়। সে বলবে, আমি তোমার নেক আমল। তখন সে বলবে, হে রব! কিয়ামত সংঘটিত কর, কিয়ামত সংঘটিত কর। যাতে আমি আমার পরিবার ও সম্পদের নিকট ফিরে যেতে পারি।
📄 কবরে কাফেরের প্রশ্নোত্তর
قَالَ: وَإِنَّ الْعَبْدَ الْكَافِرَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ، نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاءِ مَلَائِكَةٌ سُودُ الْوُجُوهِ، مَعَهُمُ الْمُسُوحُ، فَيَجْلِسُونَ مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ، ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ اخْرُجِي إِلَى سَخَطٍ مِنَ اللَّهِ وَغَضَبٍ قَالَ: فَتُفَرَّقُ فِي جَسَدِهِ، فَيَنْتَزِعُهَا كَمَا يُنْتَزَعُ السَّفُودُ مِنَ الصُّوفِ الْمَبْلُولِ، فَيَأْخُذُهَا، فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَجْعَلُوهَا فِي تِلْكَ الْمُسُوحِ، وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَنتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ وُجِدَتْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، فَيَصْعَدُونَ بِهَا، فَلَا يَمُرُّونَ بِهَا عَلَى مَلَأَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا: مَا هَذَا الرُّوحُ الْخَبِيثُ؟ فَيَقُولُونَ: فَلَانُ بْنُ فُلَانٍ بِأَقْبَحِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانَ يُسَمَّى بِهَا فِي الدُّنْيَا، حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيُسْتَفْتَحُ لَهُ، فَلَا يُفْتَحُ لَهُ، ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي سِجِّينٍ فِي الْأَرْضِ السُّفْلَى، فَتُطْرَحُ رُوحُهُ طَرْحًا، ثُمَّ قَرَأَ: وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ، فَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ : هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي. فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَلَا يَهْتَدِي لِاسْمِهِ فَيُقَالُ مُحَمَّدٌ فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ ذَاكَ. فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ كَذَبَ فَافْرِشُوا لَهُ مِنَ النَّارِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ، فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا، وَسَمُومِهَا، وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ، وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ قَبِيحُ الْوَجْهِ، قَبِيحُ الثِّيَابِ، مُنْتِنُ الرِّيحِ، فَيَقُولُ: أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُوءُكَ هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ. فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيءُ بِالشَّرِّ. فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ، فَيَقُولُ: رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ
রাসূল ইরশাদ করেন, কাফের বান্দা যখন দুনিয়া ত্যাগ করে পরকালের দিকে যাত্রা করে তখন তার নিকট কালো চেহারার একদল ফেরেশতা আসেন। তাদের সাথে থাকে একটি টাট (চটের কাপড়)। তারা তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বসে থাকে। এরপর মালাকুল মওত এসে তার মাথার পাশে বসে বলবেন, হে নাপাক রূহ, আল্লাহর ক্রোধ ও গজবের দিকে বের হয়ে আয়। তখন রূহ তার দেহে ছড়িয়ে পড়বে। মালাকুল মওত তার রূহ এমনভাবে বের করে আনবেন, যেমনভাবে ভেজা পশম থেকে কাঁটাযুক্ত শিক টেনে বের করা হয়। মালাকুল মওত রূহ হাতে নেওয়ার পর মুহূর্ত বিলম্ব না করে ফেরেশতাগণ তার থেকে নিয়ে টাটে পেঁচিয়ে ফেলবেন। তখন তা থেকে এমন দুর্গন্ধ বের হতে থাকবে যেমন দুর্গন্ধ দুনিয়াতে আর পাওয়া যাবে না। অতঃপর তারা এ রূহ নিয়ে আসমানের দিকে উঠতে থাকবেন। পথে যত ফেরেশতার সাথে দেখা হবে, তারা জিজ্ঞেস করবে, এটা কার খবীস রূহ? তারা তখন দুনিয়াতে তাকে যে নামে ডাকা হতো সে নাম উল্লেখ করে বলবে, এ হলো অমুকের ছেলে অমুকের রূহ। এভাবে তারা আসমানের দরজা পর্যন্ত পৌঁছাবে। কিন্তু তাদের জন্য দরজা খোলা হবে না। অতঃপর রাসূল এই আয়াত পাঠ করলেন,
لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ
অর্থ: তাদের জন্য আসমানের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে।
আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তার আমলনামা সিজ্জীনে লিখে দাও, যা সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থিত। এরপর তার রূহকে সেখান থেকেই নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর রাসূল এই আয়াত পাঠ করলেন,
وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
অর্থ: আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর মৃতভোজী পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।৪১
অতঃপর তার রূহ তার দেহে ফিরিয়ে আনা হবে। তার নিকট দুইজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করবেন,
তোমার রব কে? সে বলবে, হায়! হায়! আমি তো জানি না।
তাঁরা জিজ্ঞেস করবেন, তোমার দীন কী? সে বলবে, হায়! হায়! আমি জানি না।
তাঁরা জিজ্ঞেস করবেন, এই ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের মাঝে প্রেরণ করা হয়েছিল? সে তাঁর নাম বলতে পারবে না। তাকে বলা হবে, মুহাম্মদ। সে বলবে, হায়! হায়! আমি তো জানি না। মানুষকে বলতে শুনেছি।
তখন আসমান থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা দিবেন, সে মিথ্যা বলেছে। তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং জাহান্নামের দিকে তার একটি দরজা খুলে দাও। তখন জাহান্নাম থেকে তার দিকে উত্তপ্ত হাওয়া ও বিষাক্ত বাতাস আসতে থাকবে। তার কবরকে এমনভাবে সংকুচিত করে দেওয়া হবে যে, তার এক পাশের হাড় অপর পাশে ঢুকে যাবে। এমতাবস্থায় একজন কুৎসিত, দুর্গন্ধযুক্ত লোক তার নিকট এসে বলবে, এমন দুঃসংবাদ গ্রহণ কর যা তোমাকে কষ্ট দিবে। এ তো সে দিন, যার ব্যাপারে তোমাকে ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল। সে বলবে, তুমি কে? তোমার চেহারা তো অকল্যাণের বার্তা দিচ্ছে। সে বলবে, আমি তোমার বদ আমল। তখন সে বলবে, হে আমার রব! কিয়ামত সংঘটিত করিও না। ৪২
টিকাঃ
৪১. সূরা হজ : আয়াত-৩১
৪২. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৫৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৮৫৩৪; হাদীসটি সহীহ [হাকেম, ইবনে কাইয়্যিম, আলবানী প্রমুখ]।
📄 মুসলমানদের রূহ যেভাবে কবজ করা হবে
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: دَخَلْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ ابْنِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَجُودُ بِنَفْسِهِ، فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ ﷺ تَذْرِفَانِ فَقَالَ: لَا يَرْحَمُ اللهُ مِنْ عِبَادِهِ إِلَّا الرُّحَمَاءَ، وَلَوْلَا أَنَّهُ أَمْرُ حَقٌّ وَوَعْدُ صِدْقٌ، وَأَنَّ آخِرَنَا يَلْحَقُ أَوَّلَنَا لَحَزِنًا عَلَيْكَ حُزْنًا هُوَ أَشَدُّ مِنْ هَذَا وَإِنَّا بِكَ لَمَحْزُونُونَ. قَالَ سُفْيَانُ : أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، أَنَّهُ قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ رُوحَ الْمُؤْمِنِ تُسَلُّ مِنْ بَيْنِ الْجِلْدِ وَالظُّفْرِ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলের সাথে রাসূলের পুত্র ইবরাহীমের নিকট প্রবেশ করলাম। তখন সে মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিল। রাসূলের চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করে থাকেন। মৃত্যু যদি সত্য না হতো, আখেরাতের ওয়াদা যদি সত্য না হতো, আর অগ্রবর্তীদের সাথে পরবর্তীদের সাক্ষাৎ যদি না হতো, তাহলে আমি এর চেয়েও বেশি কাঁদতাম।
হযরত সুফইয়ান বলেন, হযরত সুলাইমান তাইমী রহ. বলেন, মুমিনের রুহ চামড়া এবং নখের মাঝখান থেকে টেনে বের করা হয়।৪৩
ٹکا:
৪৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩০৩; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩১২৬।
📄 কাফেরের রূহ যেভাবে কবজ করা হয়
وَقَالَ مُجَاهِدٌ : إِنَّ الْكَافِرَ إِذَا مَاتَ، وَقَدْ كَانَتْ لَهُ أَعْمَالُ بَرٍ أَبْدَلَهُ اللهُ بِهَا الْأَمْنَ فِي قَبْرِهِ، فَهُوَ يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ الَّذِي كُنْتَ تَعْمَلُ بِهِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَدَّلَكَ بِعَمَلِكَ الصَّالِحِ الَّذِي كَانَ مِنْكَ أَمَانًا إِلَى يَوْمِ الدِّينِ.
মুজাহিদ রহ. বলেন, কাফের যদি দুনিয়াতে কিছু ভালো কাজ করে থাকে, তাহলে মৃত্যুর পর কবরে আল্লাহ তার কিছু প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তাকে জাহান্নামে তার স্থান দেখিয়ে বলা হয়, এটা ছিল তোমার ঠিকান। কিন্তু দুনিয়াতে তোমার করা কিছু ভালো কাজের কারণে আল্লাহ তোমাকে কিয়ামত পর্যন্ত এখানে শান্তিতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন।
عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ: يُرَدُّ عَلَى الْمَيِّتِ مِنَ الْعَقْلِ مِثْلُ الصَّبِيِّ فَيُقَالَ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَنْظُرُ إِلَى يَمِينِهِ فَلَا يَرَى شَيْئًا، وَيَنْظُرُ إِلَى شِمَالِهِ فَلَا يَرَى شَيْئًا فَيُذَكِّرُهُ اللَّهُ فَيَقُولُ: رَبِّيَ اللَّهُ فَيُقَالُ: وَمَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ : الْإِسْلَامُ. فَيُقَالُ لَهُ: مَنْ نَبِيُّكَ؟ فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ نَوْمَةَ الْعَرُوسِ، فَيَفْتَحُ لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ فَيَرَى زَهْرَتَهَا وَنَضْرَتَهَا، وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ تَعَالَى لَهُ فِيهَا فَلَا يَزَالُ يُحِبُّ أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ.
হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রহ. বলেন, কবরে মানুষকে শিশুর মতো জ্ঞান দেওয়া হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার রব কে? সে ডানে বামে তাকিয়ে কিছুই দেখবে না। তখন আল্লাহ তাকে স্মরণ করিয়ে দিবেন, আর সে বলবে, আমার রব আল্লাহ। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার দীন কী? সে বলবে, আমার দীন ইসলাম। তাকে বলা হবে, তোমার নবী কে? সে বলবে, মুহাম্মদ ﷺ। অতঃপর তাকে বলা হবে, ঘুমাও! এমনভাবে ঘুমাও যেমন ঘুমালে কেউ জাগায় না। আর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। সে জান্নাতের বিভিন্ন নেয়ামত দেখতে থাকবে এবং বলতে থাকবে, হায়! কিয়ামত যদি এর চেয়েও আগে হতো!
قَالَ: وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ مُنْكَرٌ وَنَكِيرٌ أَصْوَاتُهُمَا كَالرَّعْدِ، وَأَبْصَارُهُمَا كَالْبَرْقِ، مَعَهُمَا مِرْزَبَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهَا أَهْلُ مِنَى لَمْ يُقِلُّوهَا فَيُقَالُ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَتَلَجْلَجُ فِي كَلَامِهِ لَا يَدْرِي مَا يَقُولُ، فَيَضْرِبَانِهِ ضَرْبَةً يَتَطَايَرُ مِنْهَا شَرَارُهَا فَيَمْتَلِيءُ قَبْرُهُ نَارًا، وَيَتَفَرَّقُ تُرَابُهُ، ثُمَّ يَعُودُ فَيَضْرِبَانِهِ الثَّانِيَةَ، فَيَتَطَايَرُ شَرَارًا أَكْثَرَ مِنَ الْأُولَى فَيَقُولُ: رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ.
তিনি বলেন, কাফেরের নিকট মুনকার ও নাকীর আসবেন, তাঁদের কন্ঠ হবে মেঘের গর্জনের মত, আর চোখ হবে বিজলীর চমকের মত। তাঁদের সাথে থাকবে লোহার হাতুড়ি। যদি মীনার সমস্ত মানুষ একত্রিত হয়ে তা উত্তোলন করতে চায়, তাও পারবে না। তারা তাকে জিজ্ঞেস করবে, তোমার রব কে? সে তোতলিয়ে তোতলিয়ে উত্তর দেবে, আমি জানি না। তখন তারা এমন জোরে তাকে আঘাত করবে যে, তার কবর আগুন দিয়ে ভরে যাবে। এরপর দ্বিতীয়বার আঘাত করলে তার শরীর থেকে ছিটকে পড়া স্ফুলিঙ্গ প্রথমবারের চেয়ে আরও বেশি হবে। সে তখন বলতে থাকবে, হে রব! কিয়ামত যেন কায়েম না হয়। ৪৪
টিকাঃ
৪৪. ফতহুল বারী: ৩/২৩৪-২৩৫; সাঈদ ইবনে মানসুর তার সুনানে সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।