📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ

📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ


عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ؟ فَقَالَ: أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا، وَأَحْسَنُهُمْ لَهُ اسْتِعْدَادًا أُولَئِكَ الْأَكْيَاسُ.

হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাযি. বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন মুমিন সবচেয়ে বুদ্ধিমান? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করে এবং তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে তারাই সবচেয়ে বুদ্ধিমান। ৩৮

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ يَعْنِي الْمَوْتَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি করে স্মরণ কর। ৩৯
হযরত আয়েশা রাযি. রাসূলকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন কি শহীদদের সাথে আর কাউকে উঠানো হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তি দিনে রাতে বিশ বার মৃত্যুকে স্মরণ করে।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَا يُعَدُّ فِي الْجَاهِلِينَ حَتَّى يَنْسَى الْمَوْتَ.

আনাস রাযি. বলেন, যে মৃত্যুকে ভুলে যায় তাকে অজ্ঞদের মাঝে গণ্য করা হয়।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَوْ تَعْلَمُ الْبَهَائِمُ مِنَ الْمَوْتِ مَا تَعْلَمُونَ، مَا أَكَلْتُمْ مِنْهَا سَمِينًا.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা মৃত্যু সম্পর্কে যা জান, পশু-পাখিরা যদি তা জানত, তবে তোমরা কোনো মোটা পশু পেত না। ৪০

টিকাঃ
৩৮. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫৯; আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: ১৩৬৩৯; হাদীসটি হাসান।
৩৯. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩০৭; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-১৮২৪। ইমাম তিরমিযী বলেন, এটি হাসান গরীব হাদীস।
৪০. শুআবুল ঈমান: হাদীস-১০৫৮০; আয-যুহদ, আহমাদ: পৃষ্ঠা-১২৮।

বলা হয়, মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে ব্যক্তি, যার মাঝে পাঁচটি গুণ রয়েছে। গুণগুলো হলো-
১. أَن يَكُونَ عَلَى عِبَادَةِ رَبِّهِ مُقْبِلًا অর্থ: যে তার রবের ইবাদতের প্রবল আগ্রহী।
২. أَن يَكُونَ لِنَفْعِ الْخَلْقِ طَالِبًا অর্থ: যে সকলের জন্য বাহ্যিকভাবেই কল্যাণকামী।
৩. أَن يَكُونَ مِن شَرِّ النَّاسِ ثَرًّا أَمِيْنًا অর্থ: যে ব্যক্তির মন্দ থেকে সকলেই নিরাপদ।
৪. أَن يَكُونَ عَمَّا فِي أَيْدِي النَّاسِ آيِسًا অর্থ: যে অন্যের হাতে থাকা জিনিস থেকে উদাসীন।
৫. أَن يَكُونَ لِلْمَوْتِ مُسْتَعِدًّا অর্থ: যে মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
হে ভাই! জেনে রেখ, আমাদের সৃষ্টিই মৃত্যুর জন্য, এর থেকে পলায়নের কোনোই পথ নেই। আল্লাহ বলেছেন - إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ অর্থ: তুমিও মৃত্যুবরণ করবে এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ আরো বলেছেন- قُلْ لَن يَنفَعَكُمُ الْفِرَارُ إِن فَرَرْتُم مِّنَ الْمَوْতِ أَوِ الْقَتْلِ অর্থ : আপনি বলুন, পলায়ন তোমাদের কোনোই কাজে আসবে না, যদি তোমরা মৃত্যু ও যুদ্ধ থেকে পলায়ন কর। সুতরাং প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য, মৃত্যুর পূর্বেই মৃত্যুর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ আরো বলেছেন- قُلْ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ অর্থ : অতএব, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক, তবে মৃত্যু কামনা কর। বস্তুতঃপূূর্বের কর্মের ফলে তারা কখনোই মৃত্যুর কামনা করবে না। সুতরাং এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, কেবল সত্যবাদীরাই মৃত্যুর কামনা করতে পারে। আর যে মিথ্যাবাদী, মন্দ কর্মের দরুন সে মৃত্যু থেকে পলায়ন করে। কারণ, মুমিন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, তাই সে রবের সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। যেমন হাদীসে বর্ণিত আছে।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ قَالَ: أُحِبُّ الْفَقْرَ تَوَاضُعًا لِرَبِّي وَأُحِبُّ الْمَرَضَ تَكْفِيرًا لِلْخَطَايَا وَأُحِبُّ الْمَوْتَ اشْتِيَاقًا إِلَى رَبِّي.
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি দারিদ্র্যকে পছন্দ করি, আমার রবের প্রতি বিনয় বশত। আর আমি অসুস্থতাকে পছন্দ করি, গুনাহের কাফফারা হিসাবে। আর মৃত্যুকে পছন্দ করি রবের সাক্ষাত লাভের আশায়।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : مَا مِنْ نَفْسٍ بَارَّةٍ أَوْ فَاجِرَةٍ إِلَّا وَالْمَوْتُ خَيْرٌ لَهَا فَإِنْ كَانَتْ بَارَّةً فَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلأَبْرَارِ (آلَ عِمْرَانَ : ১৯৮) وَإِنْ كَانَتْ فَاجِرَةً فَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ لِيَزْدَادُوا إِثْمًا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ (آلَ عِمْرَانَ : (১৭৮)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, মানুষ সৎ হোক কিংবা বদ হোক মৃত্যুই তার জন্য উত্তম। কেননা, যদি সে সৎ হয়, তাহলে তার ব্যাপারে আল্লাহ বলেন-
وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلْأَبْرَارِ
অর্থ: আর আল্লাহর নিকট যা রয়েছে, তা সদাচারীর জন্য কল্যাণকর। আর যদি দূরাচারী হয়, তাহলে তার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ لِيَزْدَادُوا إِثْمًا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ.
অর্থ: আমি তাদেরকে অবকাশ দেই, যাতে তারা পাপে ভরে ওঠে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্চনাকর শাস্তি।

টিকাঃ
৫০. সূরা যুমার : আয়াত-৩০
৫১. সূরা আহযাব : আয়াত-১৬
৫২. সূরা বাকারা : আয়াত-৯৪-৯৫
৫৬. শুআবুল ঈমান, বাইহাকী, হাদীস-৯৬১১; আয-যুহৃদ, আহমাদ ইবনে হাম্বল, হাদীস-৮১৫।
৫৭. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৯৮
৫৮. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৭৮

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সর্বোত্তম ও সর্বাধিক বুদ্ধিমান মুমিন

📄 সর্বোত্তম ও সর্বাধিক বুদ্ধিমান মুমিন


عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ أَنَا عَاشِرُ عَشَرَةٍ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ: يَا رَسُولَ اللهِ مَنْ أَكْيَسُ النَّاسِ وَأَحْزَمُ النَّاسِ؟ فَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ: أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا، وَأَشَدُّهُمْ لَهُ اسْتِعْدَادًا، أُولَئِكَ الْأَكْيَاسُ، ذَهَبُوا بِشَرَفِ الدُّنْيَا وَكَرَامَةِ الْآخِرَةِ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দশজনের একটি দলসহ রাসূলের ﷺ কাছে আসলাম। আনসারদের একজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান এবং বিচক্ষণ কে? রাসূল ইরশাদ করলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করে এবং তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে তারাই সবচেয়ে বুদ্ধিমান। তারা দুনিয়া ও আখেরাতের সম্মান অর্জন করে।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : الْمَوْتُ رَاحَة المؤمن
আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন মৃত্যু মুমিনের জন্য প্রশান্তি স্বরূপ।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ سُئِلَ أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَفْضَلُ قَالَ : أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا। قِيلَ وَأَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ قَالَ : أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا وَأَحْسَنُهُمْ لَهُ اسْتِعْدَادًا.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন, একবার রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মুমিনদের মধ্যে কে সর্বোত্তম? তিনি বললেন, যে সর্বোত্তম চরিত্রবান। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, মুমিনদের মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমান কে? তিনি বললেন, যে মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করে এবং মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ.
শাদ্দাদ ইবনে আওস রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন- বুদ্ধিমান সে, যে নিজেকে বিনয়ী করে তোলে এবং মৃত্যু পরবর্তী সময়ের জন্য আমল করে। নির্বোধ ও অক্ষম সে, যে নিজেকে প্রবৃত্তির অনুবর্তী করে এবং আল্লাহর নিকট (ক্ষমার) আশা রাখে।

টিকাঃ
৫৯. আমরা হাদীসটির সনদ ও হুবহু এই শব্দে হাদীসটি রাসূল থেকে বর্ণিত পাইনি। তবে হাদীসের মূল বক্তব্যটি সহীহ সনদে বিখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি.-এর বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
৬০. সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৪২৫৯; আল-মু'জামুস সগীর, তবারানী : হাদীস-১০০৮। শায়েখ আলবানী রহ. বলেন, হাদীসটি হাসান।
৬১. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৪৫৯; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৪২৬০; মুসনাদে আহমদ : হাদীস- ১৭১২৩। ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন, হাদীসটি হাসান।

ফন্ট সাইজ
15px
17px