📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

📄 চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়


عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ لَمْ يَجِدْ مِنْ كَرْبِهِ مَا يَشْغَلُهُ عَنِ الرِّضَا بِاللَّهِ، وَالتَّلَذُّذِ بِالنَّظَرِ إِلَيْهِ.

হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট এই রেওয়ায়াত পৌঁছেছে যে, মুমিনের যখন মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখন সে মৃত্যুযন্ত্রণার চেয়ে বেশি আল্লাহ তা'আলার দিদার লাভের আনন্দে বিভোর থাকে।

عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَا ابْنَ آدَمَ يُصِيبُكَ كُلَّ يَوْمٍ ثَلَاثَةٌ لَا تَعْتَبِرُ بِوَاحِدَةٍ مِنْهَا: يُنْقَصُ مِنْ عُمُرِكَ، وَلَا تَهْتَمُّ بِهِ وَتَأْكُلُ رِزْقَكَ وَلَا تَحْمَدُهُ، وَكُلَّ يَوْمِ تُدْنِي مِنَ الْآخِرَةِ مَرْحَلَةً، وَتَبْعُدُ عَنِ الدُّنْيَا مَرْحَلَةٌ وَلَا تَبَالِي بِهِ، ثُمَّ قَرَأَ: وَيْلُ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ.

যায়িদ ইবনে আসলাম রাযি. বলেন, হে আদম সন্তান! প্রতিদিন তুমি তিনটি অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হও। কিন্তু তার কোনোটি থেকেই তুমি শিক্ষাগ্রহণ কর না। প্রতিদিন তোমার বয়স কমে যায়, কিন্তু তুমি তার পরোয়া কর না, প্রতিদিন তুমি আল্লাহর দেওয়া রিযিক খাও কিন্তু তার জন্য শোকর আদায় কর না। প্রতিদিন তুমি পরকালের নিকটবর্তী হচ্ছ আর দুনিয়া থেকে দূরে যাচ্ছ, কিন্তু তুমি তার পরোয়া কর না। তারপর তিনি এ আয়াত পড়লেন- وَيْلُ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ অর্থ: সে দিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য ধ্বংস। ৩৫

عَنِ الْفُضَيْلِ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى رَجُلٍ وَهُوَ فِي النَّزْعِ، فَجَعَلْنَا نُلَقِّنُهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهُوَ لَا يَقُولُهَا، فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقُولَهَا، لِأَنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهَا جَبَلًا، قُلْتُ لَهُ : صِفْ لِي ذَلِكَ الْجَبَلَ. قَالَ : مِنْ دُيُونِ النَّاسِ عَلَيَّ.

হযরত ফুযাইল রহ. বলেন, আমরা মুমূর্ষু এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলাম। তাকে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ-এর তালকীন করা হলে সে বলতে পারছিল না। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরলে সে বলল, আল্লাহর কসম, আমি তা বলতে পারছি না। কারণ, আমার ও তার মাঝখানে একটি পাহাড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বললাম, পাহাড়টি সম্পর্কে বলো। সে বলল, মানুষের ঋণ। ৩৬

عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، قَالَ : أَهْوَنُ مَا يَكُونُ الْمَوْتُ عِنْدَ أَهْلِ الدُّنْيَا أَشَدُّ مِنْ ضَرْبَةِ أَلْفِ سَيْفٍ.

হযরত সুলাইমান তাইমী রহ. বলেন, দুনিয়াদারদের নিকট মৃত্যু যদিও সহজ মনে হয়, কিন্তু তা একহাজার তরবারীর আঘাতের চেয়েও কঠিন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বুদ্ধিমানের জন্য চারটি বিষয় অবশ্যই লক্ষণীয়।
১. মৃত্যু যখন সত্য তাহলে দুনিয়ার প্রতি এত আনন্দ কেন?
২. হিসাব-নিকাশ যখন সত্য তাহলে এত সম্পদ জমা করে কী লাভ?
৩. কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তা'আলার মুখোমুখি হতে হবে, তাহলে এত গুনাহ করে কী লাভ?
৪. পুলসিরাত যখন পার হতেই হবে, তাহলে আত্ম-অহমিকা দেখিয়ে কী লাভ?

টিকাঃ
৩৫. সূরা মুরসালাত: আয়াত-১৫
৩৬. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫৫৬০; আল-আকিবাহ ফী আহওয়ালিল আখিরাহ: ২৮০।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 মৃত্যুর সময় মুমিনের সুসংবাদ

📄 মৃত্যুর সময় মুমিনের সুসংবাদ


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ} [ق: ۱۹] قَالَ: جَاءَ مَلَكَانِ يُبَشِّرَانِهِ بِالْجَنَّةِ إِنْ كَانَ مُؤْمِنًا وَإِنْ كَانَ كَافِرًا يُبَشِّرَانِهِ بِالنَّارِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ অর্থ: আর মৃত্যু যন্ত্রণা সত্যিই আসবে, যা থেকে তুমি পলায়ন করতে। ৩৭
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন। মুমিন হলে তারা তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন, আর কাফের হলে জাহান্নামের দুঃসংবাদ দেন।

টিকাঃ
৩৭. সূরা কাফ: আয়াত-১৯

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 অলসতা থেকে সচেতন হওয়ার আলামত

📄 অলসতা থেকে সচেতন হওয়ার আলামত


হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয আর-রাযী রহ. বলেন, অলসতার ঘোর থেকে জেগে ওঠার চারটি আলামত রয়েছে-
১. أَوَّلُهَا: الْفَرَحُ بِلِقَاءِ اللَّهِ تَعَالَى، وَالثَّانِي: تَرْكُ الِاشْتِغَالِ بِالدُّنْيَا، وَالثَّالِثُ: الِاسْتِعْدَادُ لِلْمَوْتِ قَبْلَ نُزُولِهِ، وَالرَّابِعُ: عَدَمُ النَّدَامَةِ عِنْدَ خُرُوجِ الرُّوحِ

অর্থ: আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য আনন্দবোধ করা। দুনিয়া বিমুখ হওয়া। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। রুহ বের হওয়ার সময় অনুতপ্ত না হওয়া।

عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : الْغُرَّةُ بِاللَّهِ أَنْ يُصِرَّ الْعَبْدُ عَلَى الْمَعْصِيَةِ، وَيَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ الْمَغْفِرَةَ.

হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রাযি. বলেন, আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করার অর্থ হলো, লাগাতার গুনাহ করে আবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা পাওয়ার আশা করা।

وَقَالَ أَيْضًا: كُلُّ يَوْمٍ يَعِيشُهُ الْمُؤْمِنُ غَنِيمَةٌ.

তিনি আরো বলেন, মুমিন প্রতিটি দিনই ফায়দা অর্জন করে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ

📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ


عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ؟ فَقَالَ: أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا، وَأَحْسَنُهُمْ لَهُ اسْتِعْدَادًا أُولَئِكَ الْأَكْيَاسُ.

হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাযি. বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন মুমিন সবচেয়ে বুদ্ধিমান? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করে এবং তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে তারাই সবচেয়ে বুদ্ধিমান। ৩৮

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ يَعْنِي الْمَوْتَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি করে স্মরণ কর। ৩৯
হযরত আয়েশা রাযি. রাসূলকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন কি শহীদদের সাথে আর কাউকে উঠানো হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তি দিনে রাতে বিশ বার মৃত্যুকে স্মরণ করে।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَا يُعَدُّ فِي الْجَاهِلِينَ حَتَّى يَنْسَى الْمَوْتَ.

আনাস রাযি. বলেন, যে মৃত্যুকে ভুলে যায় তাকে অজ্ঞদের মাঝে গণ্য করা হয়।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَوْ تَعْلَمُ الْبَهَائِمُ مِنَ الْمَوْتِ مَا تَعْلَمُونَ، مَا أَكَلْتُمْ مِنْهَا سَمِينًا.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা মৃত্যু সম্পর্কে যা জান, পশু-পাখিরা যদি তা জানত, তবে তোমরা কোনো মোটা পশু পেত না। ৪০

টিকাঃ
৩৮. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫৯; আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: ১৩৬৩৯; হাদীসটি হাসান।
৩৯. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩০৭; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-১৮২৪। ইমাম তিরমিযী বলেন, এটি হাসান গরীব হাদীস।
৪০. শুআবুল ঈমান: হাদীস-১০৫৮০; আয-যুহদ, আহমাদ: পৃষ্ঠা-১২৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00