📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

📄 চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়


عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ لَمْ يَجِدْ مِنْ كَرْبِهِ مَا يَشْغَلُهُ عَنِ الرِّضَا بِاللَّهِ، وَالتَّلَذُّذِ بِالنَّظَرِ إِلَيْهِ.

হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট এই রেওয়ায়াত পৌঁছেছে যে, মুমিনের যখন মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখন সে মৃত্যুযন্ত্রণার চেয়ে বেশি আল্লাহ তা'আলার দিদার লাভের আনন্দে বিভোর থাকে।

عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَا ابْنَ آدَمَ يُصِيبُكَ كُلَّ يَوْمٍ ثَلَاثَةٌ لَا تَعْتَبِرُ بِوَاحِدَةٍ مِنْهَا: يُنْقَصُ مِنْ عُمُرِكَ، وَلَا تَهْتَمُّ بِهِ وَتَأْكُلُ رِزْقَكَ وَلَا تَحْمَدُهُ، وَكُلَّ يَوْمِ تُدْنِي مِنَ الْآخِرَةِ مَرْحَلَةً، وَتَبْعُدُ عَنِ الدُّنْيَا مَرْحَلَةٌ وَلَا تَبَالِي بِهِ، ثُمَّ قَرَأَ: وَيْلُ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ.

যায়িদ ইবনে আসলাম রাযি. বলেন, হে আদম সন্তান! প্রতিদিন তুমি তিনটি অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হও। কিন্তু তার কোনোটি থেকেই তুমি শিক্ষাগ্রহণ কর না। প্রতিদিন তোমার বয়স কমে যায়, কিন্তু তুমি তার পরোয়া কর না, প্রতিদিন তুমি আল্লাহর দেওয়া রিযিক খাও কিন্তু তার জন্য শোকর আদায় কর না। প্রতিদিন তুমি পরকালের নিকটবর্তী হচ্ছ আর দুনিয়া থেকে দূরে যাচ্ছ, কিন্তু তুমি তার পরোয়া কর না। তারপর তিনি এ আয়াত পড়লেন- وَيْلُ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ অর্থ: সে দিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য ধ্বংস। ৩৫

عَنِ الْفُضَيْلِ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى رَجُلٍ وَهُوَ فِي النَّزْعِ، فَجَعَلْنَا نُلَقِّنُهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهُوَ لَا يَقُولُهَا، فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقُولَهَا، لِأَنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهَا جَبَلًا، قُلْتُ لَهُ : صِفْ لِي ذَلِكَ الْجَبَلَ. قَالَ : مِنْ دُيُونِ النَّاسِ عَلَيَّ.

হযরত ফুযাইল রহ. বলেন, আমরা মুমূর্ষু এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলাম। তাকে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ-এর তালকীন করা হলে সে বলতে পারছিল না। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরলে সে বলল, আল্লাহর কসম, আমি তা বলতে পারছি না। কারণ, আমার ও তার মাঝখানে একটি পাহাড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বললাম, পাহাড়টি সম্পর্কে বলো। সে বলল, মানুষের ঋণ। ৩৬

عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، قَالَ : أَهْوَنُ مَا يَكُونُ الْمَوْتُ عِنْدَ أَهْلِ الدُّنْيَا أَشَدُّ مِنْ ضَرْبَةِ أَلْفِ سَيْفٍ.

হযরত সুলাইমান তাইমী রহ. বলেন, দুনিয়াদারদের নিকট মৃত্যু যদিও সহজ মনে হয়, কিন্তু তা একহাজার তরবারীর আঘাতের চেয়েও কঠিন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বুদ্ধিমানের জন্য চারটি বিষয় অবশ্যই লক্ষণীয়।
১. মৃত্যু যখন সত্য তাহলে দুনিয়ার প্রতি এত আনন্দ কেন?
২. হিসাব-নিকাশ যখন সত্য তাহলে এত সম্পদ জমা করে কী লাভ?
৩. কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তা'আলার মুখোমুখি হতে হবে, তাহলে এত গুনাহ করে কী লাভ?
৪. পুলসিরাত যখন পার হতেই হবে, তাহলে আত্ম-অহমিকা দেখিয়ে কী লাভ?

টিকাঃ
৩৫. সূরা মুরসালাত: আয়াত-১৫
৩৬. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫৫৬০; আল-আকিবাহ ফী আহওয়ালিল আখিরাহ: ২৮০।

বর্ণিত আছে, হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. কে বলা হলো, আপনি যদি আমাদের সাথে কিছুটা সময় অতিবাহিত করতেন এবং আমরা আপনার কাছ থেকে কিছু নসীহত শ্রবণ করতাম। তখন তিনি বললেন, আমি চারটি বিষয় নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি। যদি অবসর পাই, তবে তোমাদের সাথে সময় অতিবাহিত করব। তাকে বলা হলো, সে চারটি বিষয় কী? তিনি বললেন-
১. প্রতিজ্ঞা দিন নিয়ে আমি চিন্তিত, যেদিন আল্লাহ তা'আলা আদম সন্তানদের থেকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টির সমাপ্তির পর هَؤُلَاءِ فِي الْجَنَّةِ وَلَا أُبَالِي وَهَؤُلَاءِ فِي النَّارِ وَلَا أُبَالِي অর্থাৎ, 'এরা জান্নাতী, এতে আমি কোনো পরোওয়া করি না। আর এরা জাহান্নামী, এতেও আমি কোনো পরোয়া করি না।' হায়! আমার জানা নেই আমি কোন শ্রেণীভুক্ত!
২. সে সময় নিয়ে আমি চিন্তিত, যখন মায়ের উদরে অনাগত সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা সিদ্ধান্ত প্রদান করেন এবং তাতে রূহ ফুঁকে দেন, আর এ ব্যাপারে নিয়োজিত ফেরেশতা তখন বলেন, يَا رَبِّ أَشَقِيُّ أَمْ سَعِيدٌ অর্থাৎ, হে রব! এ শিশু কি সৌভাগ্যবান হবে নাকি অভাগা? আমার জানা নেই, আমার ক্ষেত্রে সে সময়ে কী উত্তর হয়েছিল?
৩. মালাকুল মওতের উপস্থিত হওয়ার সময় নিয়ে আমি চিন্তিত। যখন সে আমার রূহ কবজ করার জন্য আসবে। আর বলবে, يَا رَبِّ أَمَعَ الْمُسْلِمِينَ أَمْ مَعَ الْكَافِرِينَ অর্থাৎ, হে রব! এ কি মুসলমানদের সাথে থাকবে নাকি কাফেরদের সাথে? আমার জানা নেই, আমার বেলায় কী জবাব হবে?
৪. আমি আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণী নিয়ে পেরেশান হয়ে আছি, কুরআনে এসেছে وَامْتَارُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ অর্থাৎ, হে গুনাহগাররা! আজ তোমরা পৃথক হয়ে যাও। আমার জানা নেই, আমি কোন শ্রেণী ভুক্ত হবো।

টিকাঃ
৫০. মুসনাদে আহমাদ: ৪/১৮৬; সহীহ ইবন হিব্বান হাদীস-৩৩৮; হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মৃত্যুর সময় মুমিনের সুসংবাদ

📄 মৃত্যুর সময় মুমিনের সুসংবাদ


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ} [ق: ۱۹] قَالَ: جَاءَ مَلَكَانِ يُبَشِّرَانِهِ بِالْجَنَّةِ إِنْ كَانَ مُؤْمِنًا وَإِنْ كَانَ كَافِرًا يُبَشِّرَانِهِ بِالنَّارِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ অর্থ: আর মৃত্যু যন্ত্রণা সত্যিই আসবে, যা থেকে তুমি পলায়ন করতে। ৩৭
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন। মুমিন হলে তারা তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন, আর কাফের হলে জাহান্নামের দুঃসংবাদ দেন।

টিকাঃ
৩৭. সূরা কাফ: আয়াত-১৯

ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, সৌভাগ্যবান সে ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ অনুধাবনের শক্তি দিয়েছেন এবং যাকে জাগিয়ে তুলেছেন আলস্যের তন্দ্রা থেকে। তাওফীক দিয়েছেন শেষ সময় ও খাতেমা নিয়ে চিন্তা করতে। আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা জানাই, যেন তিনি আমাদের খাতেমা বিল খায়ের করেন এবং আমাদের জন্য পরিণামে সুসংবাদের ব্যবস্থা করেন। কারণ, মুমিনের জন্য মৃত্যুকালে রয়েছে সুসংবাদ। কুরআনে এসেছে- إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ. অর্থ: নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা এবং বলে তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না। তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সুসংবাদ গ্রহণ কর। অর্থাৎ, যারা ঈমান আনে আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি। অতঃপর ঈমানের উপর অবিচল থাকে।
কারো কারো মতে اسْتَقَامُوا (ইস্তেকামাত) অর্থ হলো, তারা ফরজ সমূহ আদায় করে এবং হারাম কাজ থেকে বিরত থাকে।
ইয়াহইয়া বিন মুআয রাজী উক্ত শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন, اسْتَقَامُوا অর্থাৎ, যারা কথা ও কাজে দৃঢ়তা অবলম্বন করে।
অপর কেউ বলেন, যারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মত ও পথ অবলম্বন করে।
মৃত্যুকালীন এ সকল লোকের নিকট ফেরেশতাগণ সুসংবাদ নিয়ে আগমন করবে, বলবেন, দুনিয়াতে কোনোরূপ ভয় কর না এবং আখেরাতেও কোনো দুশ্চিন্তা কর না। বরং সুসংবাদ গ্রহণ কর ওই জান্নাতর, যার ওয়াদা তোমাদেরকে নবীদের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা দিয়েছেন।
বলা হয়, মৃত্যুকালীন সুসংবাদ পাঁচ ধরনের। যথা-
১. সাধারণ মুমিনদের জন্য সুসংবাদ। তাদের উদ্দেশ্য করে বলা হবে, চিরকালীন আযাবের ভয় কর না। কারণ, নবী ও সালেহীনের শাফায়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদেরকে মুক্তি দিবেন। প্রতিদান হারানোর ভয় কর না। বরং সুসংবাদ গ্রহণ কর জান্নাতের। অর্থাৎ, তোমাদের শেষ গন্তব্য হলো জান্নাত।
২. ইখলাস সম্পন্ন মুমিনদের জন্য সুসংবাদ। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হবে, তোমাদের আমল পণ্ড করে দেওয়ার ভয় নেই। বরং তা দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে। তাওবার পর তোমরা যে আমল করেছ তার জন্য দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
৩. তাওবাকারীদের জন্য সুসংবাদ। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা তোমাদের কৃত গুনাহের কারণে ভীত হয়ো না। তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তাওবার পরে যে আমল করেছ তার প্রতিদানের ব্যাপারে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
৪. যাহেদদের জন্য সুসংবাদ। তাদেরকে বলা হবে, হাশর হিসাব নিকাশ ইত্যাদি নিয়ে তোমাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। তোমাদের প্রতিদানও দ্বিগুণ করা হবে। কোনোরূপ হিসাব গ্রহণ ও আযাব ব্যতীতই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর।
৫. আলেমদের জন্য সুসংবাদ, যারা মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দিয়েছে এবং ইলম অনুসারে আমল করেছে। তাদেরকে বলা হবে, কিয়ামত দিনের বিভীষিকায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই এবং দুশ্চিন্তারও কিছু নেই। তোমরা যে আমল করেছ, তার প্রতিদান অবশ্যই পাবে। তোমরা এবং যারা তোমাদের অনুসরণ করেছে সকলে জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর।
সুসংবাদ তার জন্য, যার পার্থিব জীবনের শেষ প্রাপ্তি সুসংবাদ হয়। কারণ, সুসংবাদ কেবল তাকেই প্রদান করা হবে, যে মুমিন হবে, মুহসিন হবে। ফেরেশতাগণ তাদের নিকট আসলে তারা ফেরেশতাদেরকে বলবে, তোমরা কারা? তোমাদের চেয়ে সুন্দর চেহারার কাউকে দেখিনি এবং সুঘ্রাণময়ও কাউকে দেখিনি। উত্তরে ফেরেশতাগণ বলবে- نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ অর্থ: আমরা পার্থিব জীবন ও আখেরাতে তোমাদের বন্ধু। অর্থাৎ, আমরা সেই ফেরেশতা, যারা দুনিয়াতে তোমাদের আমল লিপিবদ্ধ করতাম। আখেরাতেও আমরা তোমাদের সহচর হবো। সুতরাং জ্ঞানী ব্যক্তির কাজ হলো, আলস্যের নিদ্রা ত্যাগ করা।

টিকাঃ
৫১. সূরা হা-মীম সাজদাহ: আয়াত-৩০
৫২. হা-মীম সাজদাহ: আয়াত-৩১

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অলসতা থেকে সচেতন হওয়ার আলামত

📄 অলসতা থেকে সচেতন হওয়ার আলামত


হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয আর-রাযী রহ. বলেন, অলসতার ঘোর থেকে জেগে ওঠার চারটি আলামত রয়েছে-
১. أَوَّلُهَا: الْفَرَحُ بِلِقَاءِ اللَّهِ تَعَالَى، وَالثَّانِي: تَرْكُ الِاشْتِغَالِ بِالدُّنْيَا، وَالثَّالِثُ: الِاسْتِعْدَادُ لِلْمَوْتِ قَبْلَ نُزُولِهِ، وَالرَّابِعُ: عَدَمُ النَّدَامَةِ عِنْدَ خُرُوجِ الرُّوحِ

অর্থ: আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য আনন্দবোধ করা। দুনিয়া বিমুখ হওয়া। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। রুহ বের হওয়ার সময় অনুতপ্ত না হওয়া।

عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : الْغُرَّةُ بِاللَّهِ أَنْ يُصِرَّ الْعَبْدُ عَلَى الْمَعْصِيَةِ، وَيَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ الْمَغْفِرَةَ.

হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রাযি. বলেন, আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করার অর্থ হলো, লাগাতার গুনাহ করে আবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা পাওয়ার আশা করা।

وَقَالَ أَيْضًا: كُلُّ يَوْمٍ يَعِيشُهُ الْمُؤْمِنُ غَنِيمَةٌ.

তিনি আরো বলেন, মুমিন প্রতিটি দিনই ফায়দা অর্জন করে।

আলস্যের নিদ্রা থেকে জেগে উঠার আলামত চারটি। যথা-
১. أَنْ يُدَبِّرَ أَمْرَ الدُّنْيَا بِالْقَنَاعَةِ وَالتَّسْوِيفِ : অর্থ : ধীরস্থির ও তৃপ্তির সাথে পার্থিব বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা করা।
২. أَنْ يُدَبِّرَ أَمْرَ الْآخِرَةِ بِالْحِرْصِ وَالتَّعْجِيلِ : অর্থ : আখেরাতের বিষয়ে লোভ রাখা ও ত্বরা নিয়ে কাজ করা।
৩. أَنْ يُدَبِّرَ أَمْرَ الدِّينِ بِالْعِلْمِ وَالْاِجْتِهَادِ : অর্থ : দ্বীনের ইলম অনুযায়ী আমল করা এবং এর জন্য চেষ্টা করা।
৪. أَنْ يُدَبِّرَ أَمْرَ الْخُلقِ بِالنَّصِيحَةِ وَالْمُدَارَاةِ : অর্থ : সৃষ্টিকুলের বিষয়ে কল্যাণ কামনা ও সদাচারের মাধ্যমে চিন্তা করা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ

📄 সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ


عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ؟ فَقَالَ: أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا، وَأَحْسَنُهُمْ لَهُ اسْتِعْدَادًا أُولَئِكَ الْأَكْيَاسُ.

হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাযি. বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন মুমিন সবচেয়ে বুদ্ধিমান? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করে এবং তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে তারাই সবচেয়ে বুদ্ধিমান। ৩৮

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ يَعْنِي الْمَوْتَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি করে স্মরণ কর। ৩৯
হযরত আয়েশা রাযি. রাসূলকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন কি শহীদদের সাথে আর কাউকে উঠানো হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তি দিনে রাতে বিশ বার মৃত্যুকে স্মরণ করে।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَا يُعَدُّ فِي الْجَاهِلِينَ حَتَّى يَنْسَى الْمَوْتَ.

আনাস রাযি. বলেন, যে মৃত্যুকে ভুলে যায় তাকে অজ্ঞদের মাঝে গণ্য করা হয়।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَوْ تَعْلَمُ الْبَهَائِمُ مِنَ الْمَوْتِ مَا تَعْلَمُونَ، مَا أَكَلْتُمْ مِنْهَا سَمِينًا.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা মৃত্যু সম্পর্কে যা জান, পশু-পাখিরা যদি তা জানত, তবে তোমরা কোনো মোটা পশু পেত না। ৪০

টিকাঃ
৩৮. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫৯; আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী: ১৩৬৩৯; হাদীসটি হাসান।
৩৯. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩০৭; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-১৮২৪। ইমাম তিরমিযী বলেন, এটি হাসান গরীব হাদীস।
৪০. শুআবুল ঈমান: হাদীস-১০৫৮০; আয-যুহদ, আহমাদ: পৃষ্ঠা-১২৮।

বলা হয়, মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে ব্যক্তি, যার মাঝে পাঁচটি গুণ রয়েছে। গুণগুলো হলো-
১. أَن يَكُونَ عَلَى عِبَادَةِ رَبِّهِ مُقْبِلًا অর্থ: যে তার রবের ইবাদতের প্রবল আগ্রহী।
২. أَن يَكُونَ لِنَفْعِ الْخَلْقِ طَالِبًا অর্থ: যে সকলের জন্য বাহ্যিকভাবেই কল্যাণকামী।
৩. أَن يَكُونَ مِن شَرِّ النَّاسِ ثَرًّا أَمِيْنًا অর্থ: যে ব্যক্তির মন্দ থেকে সকলেই নিরাপদ।
৪. أَن يَكُونَ عَمَّا فِي أَيْدِي النَّاسِ آيِسًا অর্থ: যে অন্যের হাতে থাকা জিনিস থেকে উদাসীন।
৫. أَن يَكُونَ لِلْمَوْتِ مُسْتَعِدًّا অর্থ: যে মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
হে ভাই! জেনে রেখ, আমাদের সৃষ্টিই মৃত্যুর জন্য, এর থেকে পলায়নের কোনোই পথ নেই। আল্লাহ বলেছেন - إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ অর্থ: তুমিও মৃত্যুবরণ করবে এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ আরো বলেছেন- قُلْ لَن يَنفَعَكُمُ الْفِرَارُ إِن فَرَرْتُم مِّنَ الْمَوْতِ أَوِ الْقَتْلِ অর্থ : আপনি বলুন, পলায়ন তোমাদের কোনোই কাজে আসবে না, যদি তোমরা মৃত্যু ও যুদ্ধ থেকে পলায়ন কর। সুতরাং প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য, মৃত্যুর পূর্বেই মৃত্যুর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ আরো বলেছেন- قُلْ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ অর্থ : অতএব, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক, তবে মৃত্যু কামনা কর। বস্তুতঃপূূর্বের কর্মের ফলে তারা কখনোই মৃত্যুর কামনা করবে না। সুতরাং এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, কেবল সত্যবাদীরাই মৃত্যুর কামনা করতে পারে। আর যে মিথ্যাবাদী, মন্দ কর্মের দরুন সে মৃত্যু থেকে পলায়ন করে। কারণ, মুমিন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, তাই সে রবের সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। যেমন হাদীসে বর্ণিত আছে।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ قَالَ: أُحِبُّ الْفَقْرَ تَوَاضُعًا لِرَبِّي وَأُحِبُّ الْمَرَضَ تَكْفِيرًا لِلْخَطَايَا وَأُحِبُّ الْمَوْتَ اشْتِيَاقًا إِلَى رَبِّي.
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি দারিদ্র্যকে পছন্দ করি, আমার রবের প্রতি বিনয় বশত। আর আমি অসুস্থতাকে পছন্দ করি, গুনাহের কাফফারা হিসাবে। আর মৃত্যুকে পছন্দ করি রবের সাক্ষাত লাভের আশায়।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : مَا مِنْ نَفْسٍ بَارَّةٍ أَوْ فَاجِرَةٍ إِلَّا وَالْمَوْتُ خَيْرٌ لَهَا فَإِنْ كَانَتْ بَارَّةً فَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلأَبْرَارِ (آلَ عِمْرَانَ : ১৯৮) وَإِنْ كَانَتْ فَاجِرَةً فَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ لِيَزْدَادُوا إِثْمًا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ (آلَ عِمْرَانَ : (১৭৮)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, মানুষ সৎ হোক কিংবা বদ হোক মৃত্যুই তার জন্য উত্তম। কেননা, যদি সে সৎ হয়, তাহলে তার ব্যাপারে আল্লাহ বলেন-
وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلْأَبْرَارِ
অর্থ: আর আল্লাহর নিকট যা রয়েছে, তা সদাচারীর জন্য কল্যাণকর। আর যদি দূরাচারী হয়, তাহলে তার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ لِيَزْدَادُوا إِثْمًا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ.
অর্থ: আমি তাদেরকে অবকাশ দেই, যাতে তারা পাপে ভরে ওঠে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্চনাকর শাস্তি।

টিকাঃ
৫০. সূরা যুমার : আয়াত-৩০
৫১. সূরা আহযাব : আয়াত-১৬
৫২. সূরা বাকারা : আয়াত-৯৪-৯৫
৫৬. শুআবুল ঈমান, বাইহাকী, হাদীস-৯৬১১; আয-যুহৃদ, আহমাদ ইবনে হাম্বল, হাদীস-৮১৫।
৫৭. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৯৮
৫৮. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৭৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px