📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 মৃত্যুর স্মরণ ও তা থেকে গাফেল থাকার পরিণতি

📄 মৃত্যুর স্মরণ ও তা থেকে গাফেল থাকার পরিণতি


عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: كَفَى بِالْمَوْتِ وَاعِظًا، وَكَفَى بِالدَّهْرِ مُفَرِّقًا، وَكَفَى بِالْيَوْمِ ذَاهِبًا وَغَدًا جَائِيًا.

হযরত আবুদ দারদা রাযি. বলেন, ওয়ায নসীহতের জন্য মৃত্যুই যথেষ্ট, শিক্ষ গ্রহণের জন্য দুনিয়া যথেষ্ট, আজ চলে যাওয়া আর কাল আসা এই তো জীবন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, মৃত্যু স্মরণের অনেক ফযীলত রয়েছে, যা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য উপকারী। দুনিয়াতে উপকারী এভাবে যে, দুনিয়া ত্যাগী ও অল্পে তুষ্ট হওয়া যায় এবং ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বাড়ে। আর আখেরাতের উপকার হলো, আল্লাহর সাক্ষাতে আনন্দ পাওয়া যায়, অন্তরে আল্লাহর রহমতের আশা জাগে। আর যে ব্যক্তি মৃত্যুকে ভুলে থাকে তার জন্য রয়েছে শাস্তিস্বরূপ তিনটি বিষয়- প্রথমত, তওবায় বিলম্ব করা। দ্বিতীয়ত, অল্পে তুষ্ট না থাকা। তৃতীয়ত, ইবাদতে অলসতা।
মৃতদেরকে দেখে মৃত্যুর ব্যাপারে গাফেল থাকার আলামত চারটি-
১. তাদের কবর দেখে অথচ এর দ্বারা কোনো শিক্ষাগ্রহণ করে না।
২. মৃতের সম্পদ ভক্ষণ করে, অথচ এর দ্বারা কোনো শিক্ষাগ্রহণ করে না।
৩. জানাযায় শরীক হয় কিন্তু তার কোনো চিন্তা থাকে না।
৪. মৃত্যুর আলোচনা হয়, কিন্তু কোনো উপকার হয় না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 মৃত্যুর বিভীষিকা

📄 মৃত্যুর বিভীষিকা


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: بَعَثَ اللهُ تَعَالَى مَلَكَ الْمَوْتِ إِلَى إِدْرِيسَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِيَقْبِضَ رُوحَهُ، فَحَمَلَهُ مَعَهُ إِلَى السَّمَاءِ. قَالَ: فَمَرُّوا بِمَلَكِ يُشْرِفُ عَلَى الْجِنَانِ، فَقَالَ لَهُ إِدْرِيسُ: يَا مَلَكَ الْمَوْتِ سَلْ هَذَا الْمَلَكَ أَنْ يَفْتَحَ لَنَا بَابَ الْجَنَّةِ حَتَّى أَرَاهَا قَبْلَ مَوْتِي، فَإِنَّهُ أَطْيَبُ لِنَفْسِي. فَسَأَلَهُ فَأَبَى، فَقَالَ لَهُ مَلَكُ الْمَوْتِ: قَدْ أَمَرَهُ اللهُ تَعَالَى أَنْ لَا يَفْتَحَ لِأَحَدٍ قَبْلَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِذَا بِإِدْرِيسَ عَلَيْهِ السَّلَامُ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَقَالَ لَهُ مَلَكُ الْمَوْتِ: يَا إِدْرِيسُ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّهُ لَا يَفْتَحُ لِأَحَدٍ قَبْلَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَكَيْفَ دَخَلْتَهَا؟ فَقَالَ إِدْرِيسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ: يَا مَلَكَ الْمَوْتِ أَلَمْ تُذِقْنِي الْمَوْتَ؟ قَالَ: بَلَى، قَالَ: وَكَذَلِكَ كَانَ أَمْرُ رَبِّي لِي فَقَدْ وَفَّيْتَ، قَالَ مَلَكُ الْمَوْتِ: أَوَ لَمْ تَسْأَلْ رَبَّكَ أَنْ تَنْظُرَ إِلَى النَّارِ فَتَرَى أَهْوَالَهَا؟ فَرَأَيْتُهَا وَدَخَلَتْهَا كَمَا أَمَرَكَ رَبُّكَ، قَالَ: بَلَى. قَالَ إِدْرِيسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ: فَقَدْ أَدْخَلَنِي رَبِّي الْجَنَّةَ، وَقَدْ قَالَ رَبِّي: وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ (الحجر : ٤٨) فَدَخَلَهَا، وَقَدْ قَبَضَ اللهُ رُوحَهُ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা মালাকুল মওতকে হযরত ইদরীস আ.-এর রূহ কবয করার জন্য প্রেরণ করলেন। তিনি ইদরীস আ.-কে নিয়ে আকাশের দিকে রওয়ানা হলেন। পথে জান্নাতের দায়িত্বশীল ফেরেশতার সাথে সাক্ষাৎ হলো। ইদরীস আ. মালাকুল মওতকে বললেন, এই ফেরেশতাকে বলো, তিনি যেন আমার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেন, আমি মৃত্যুর পূর্বে তা দেখে নিতে চাই, তাহলে আমার মনটা শান্ত হবে। তিনি তাকে বললে সে অস্বীকৃতি জানাল। মালাকুল মওত বললেন, হে ইদরীস, আল্লাহ তাকে নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর পূর্বে কারো জন্য জান্নাতের দরজা খুলতে নিষেধ করেছেন। ইদরীস আ. তখন আরশের নীচে গেলেন। মালাকুল মওত তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে ইদরীস! আমি কি বলিনি মুহাম্মদ ﷺ-এর পূর্বে জান্নাতের দরজা খোলা হবে না। তাহলে তুমি কীভাবে জান্নাতে প্রবেশ করলে? ইদরীস আ. বললেন, তুমি কি আমাকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করাও নি? তিনি বললেন, অবশ্যই। ইদরীস আ. বললেন, আল্লাহ আমাকে এ নির্দেশই দিয়েছিলেন, আমিও তা পালন করেছি। তখন মালাকুল মওত বললেন, আল্লাহ কি তোমাকে জাহান্নাম দেখতে বলেন নি? তুমি কি তা দেখেছ এবং তাতে প্রবেশ করেছ? ইদরীস আ. বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আর আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন এবং বলেছেন, وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ অর্থ: তাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হবে না। তাই আমি এখানেই থাকবো। আল্লাহ তা'আলা তার রুহ কবজ করে নিলেন। ৩৪

টিকাঃ
৩৪. আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন লিল-হাকেম: হাদীস-৪০৪৯; ইবনে আবি হাতিম: ৭/২২৫৫, ২/৭০০; ইবনে কাসীর রহ. বলেছেন, এর সনদ ইবনে আব্বাস পর্যন্ত সহীহ [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৫/২৪২]

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

📄 চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়


عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ لَمْ يَجِدْ مِنْ كَرْبِهِ مَا يَشْغَلُهُ عَنِ الرِّضَا بِاللَّهِ، وَالتَّلَذُّذِ بِالنَّظَرِ إِلَيْهِ.

হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট এই রেওয়ায়াত পৌঁছেছে যে, মুমিনের যখন মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখন সে মৃত্যুযন্ত্রণার চেয়ে বেশি আল্লাহ তা'আলার দিদার লাভের আনন্দে বিভোর থাকে।

عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَا ابْنَ آدَمَ يُصِيبُكَ كُلَّ يَوْمٍ ثَلَاثَةٌ لَا تَعْتَبِرُ بِوَاحِدَةٍ مِنْهَا: يُنْقَصُ مِنْ عُمُرِكَ، وَلَا تَهْتَمُّ بِهِ وَتَأْكُلُ رِزْقَكَ وَلَا تَحْمَدُهُ، وَكُلَّ يَوْمِ تُدْنِي مِنَ الْآخِرَةِ مَرْحَلَةً، وَتَبْعُدُ عَنِ الدُّنْيَا مَرْحَلَةٌ وَلَا تَبَالِي بِهِ، ثُمَّ قَرَأَ: وَيْلُ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ.

যায়িদ ইবনে আসলাম রাযি. বলেন, হে আদম সন্তান! প্রতিদিন তুমি তিনটি অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হও। কিন্তু তার কোনোটি থেকেই তুমি শিক্ষাগ্রহণ কর না। প্রতিদিন তোমার বয়স কমে যায়, কিন্তু তুমি তার পরোয়া কর না, প্রতিদিন তুমি আল্লাহর দেওয়া রিযিক খাও কিন্তু তার জন্য শোকর আদায় কর না। প্রতিদিন তুমি পরকালের নিকটবর্তী হচ্ছ আর দুনিয়া থেকে দূরে যাচ্ছ, কিন্তু তুমি তার পরোয়া কর না। তারপর তিনি এ আয়াত পড়লেন- وَيْلُ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ অর্থ: সে দিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য ধ্বংস। ৩৫

عَنِ الْفُضَيْلِ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى رَجُلٍ وَهُوَ فِي النَّزْعِ، فَجَعَلْنَا نُلَقِّنُهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهُوَ لَا يَقُولُهَا، فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقُولَهَا، لِأَنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهَا جَبَلًا، قُلْتُ لَهُ : صِفْ لِي ذَلِكَ الْجَبَلَ. قَالَ : مِنْ دُيُونِ النَّاسِ عَلَيَّ.

হযরত ফুযাইল রহ. বলেন, আমরা মুমূর্ষু এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলাম। তাকে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ-এর তালকীন করা হলে সে বলতে পারছিল না। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরলে সে বলল, আল্লাহর কসম, আমি তা বলতে পারছি না। কারণ, আমার ও তার মাঝখানে একটি পাহাড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বললাম, পাহাড়টি সম্পর্কে বলো। সে বলল, মানুষের ঋণ। ৩৬

عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، قَالَ : أَهْوَنُ مَا يَكُونُ الْمَوْتُ عِنْدَ أَهْلِ الدُّنْيَا أَشَدُّ مِنْ ضَرْبَةِ أَلْفِ سَيْفٍ.

হযরত সুলাইমান তাইমী রহ. বলেন, দুনিয়াদারদের নিকট মৃত্যু যদিও সহজ মনে হয়, কিন্তু তা একহাজার তরবারীর আঘাতের চেয়েও কঠিন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বুদ্ধিমানের জন্য চারটি বিষয় অবশ্যই লক্ষণীয়।
১. মৃত্যু যখন সত্য তাহলে দুনিয়ার প্রতি এত আনন্দ কেন?
২. হিসাব-নিকাশ যখন সত্য তাহলে এত সম্পদ জমা করে কী লাভ?
৩. কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তা'আলার মুখোমুখি হতে হবে, তাহলে এত গুনাহ করে কী লাভ?
৪. পুলসিরাত যখন পার হতেই হবে, তাহলে আত্ম-অহমিকা দেখিয়ে কী লাভ?

টিকাঃ
৩৫. সূরা মুরসালাত: আয়াত-১৫
৩৬. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫৫৬০; আল-আকিবাহ ফী আহওয়ালিল আখিরাহ: ২৮০।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 মৃত্যুর সময় মুমিনের সুসংবাদ

📄 মৃত্যুর সময় মুমিনের সুসংবাদ


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ} [ق: ۱۹] قَالَ: جَاءَ مَلَكَانِ يُبَشِّرَانِهِ بِالْجَنَّةِ إِنْ كَانَ مُؤْمِنًا وَإِنْ كَانَ كَافِرًا يُبَشِّرَانِهِ بِالنَّارِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ অর্থ: আর মৃত্যু যন্ত্রণা সত্যিই আসবে, যা থেকে তুমি পলায়ন করতে। ৩৭
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন। মুমিন হলে তারা তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন, আর কাফের হলে জাহান্নামের দুঃসংবাদ দেন।

টিকাঃ
৩৭. সূরা কাফ: আয়াত-১৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00