📄 স্মরণীয় ও উপদেশমূলক উক্তি
আবুদ দারদা রাযি. বলেন, তিনটি বিষয়ের জন্য আমি দুনিয়া ভালোবাসি- গরমের দিনে রোযা রাখা, রাতের বেলা ইবাদত করা, আর এমন লোকদের সাথে উঠাবসা করা যারা উত্তম কথা বলে, যেমন উত্তম ফল বাছাই করা হয়।
ক্বাতাদা রহ. বলেন, এই ইলমের মজলিসগুলো হলো গনীমতের মাল। এতে হেকমত থেকে কিছু নাও। কারণ, নেককাররা হেকমতের কথা বলে থাকেন। তুমি সেই বৈঠকে বস। হতে পারে তুমিও এর বরকত পেয়ে যাবে এবং তাদের কাতারে শামিল হয়ে যাবে।
আলী রাযি. বলেন, তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করতে থাক। এটা সর্বোত্তম যিকির। আর সে বিষয়ের আকাঙ্ক্ষা কর, যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে দিয়েছেন। কারণ, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর রাসূল ﷺ এর হেদায়েতকে অনুসরণ কর, কারণ তা সর্বোত্তম হেদায়েত। নবীজির সুন্নতকে ধারণ কর, কারণ তা সর্বোত্তম আদর্শ। কুরআন পাঠ শিক্ষা কর, কারণ তা সর্বোত্তম কালাম। দীনের জ্ঞান অর্জন কর, কারণ তা অন্তরের বসন্ত।
عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: مَنْ خَافَ الْمَوْتَ هَانَتْ عَلَيْهِ مَصَائِبُ الدُّنْيَا.
কাতাদা রহ. বলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে ভয় করে তার জন্য দুনিয়ার যাবতীয় বিপদ সহজ হয়ে যায়।
قَالَ رَجُلٌ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحِمَهُ اللهُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنِّي أَحْبَبْتُكَ حُبًّا شَدِيدًا فَقَالَ: وَلِمَ؟ قَالَ: رَأَيْتُكَ وَأَنْتَ بِالْمَدِينَةِ وَأَبُوكَ وَالِيَهَا، وَأَنْتَ لَمْ تَزَلْ أَخَشَنَ النَّاسِ لِبَاسًا، وَأَجْفَاهُمْ عَيْشًا، وَأَكْثَرَهُمْ صِيَامًا قَالَ عُمَرُ: مَنْ تَذَكَّرَ الْمَوْتَ أَكْثَرَ مِنْهُ، ارْتَضَى مِنَ الدُّنْيَا بِالْيَسِيرِ
এক ব্যক্তি উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ.কে বলল, আমি আপনাকে খুবই ভালোবাসি। তিনি বললেন, কেন? সে বলল, যখন আপনার বাবা মদীনার গভর্নর ছিলেন আর আপনি তাঁর ছেলে ছিলেন, তখনো আপনি খুব সাধারণ পোশাকে থাকতেন, সাধারণ জীবন যাপন করতেন এবং বেশি বেশি রোযা রাখতেন। এ জন্য আমি আপনাকে ভালোবাসি। উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. বললেন, যে ব্যক্তি বেশি বেশি মৃত্যুর স্মরণ করে সে তো দুনিয়ার খুব অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকে।
وَقَالَ أَيْضًا: لَوْ فَارَقَنِي ذِكْرُ الْمَوْتِ سَاعَةً لَفَسَدَ قَلْبِي.
তিনি আরো বলেন, এক মুহূর্তের জন্য যদি আমি মৃত্যুর কথা ভুলে যাই, আমার অন্তর নষ্ট হয়ে যাবে।
وَقَالَ يَزِيدُ بْنُ تَمِيمٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى: مَنْ لَمْ يَكُنِ الْمَوْتُ لَهُ مَوْعِظَةٌ، فَلَا مَوْعِظَةَ لَهُ.
ইয়াযিদ ইবনে তামীম রহ. বলেন, যার জন্য মৃত্যু কোনো উপদেশ হতে পারল না, তার জন্য আর কোনো উপদেশ নেই।
وَقَالَ دَاوُدُ الطَّائِي رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: الدُّنْيَا سُوقٌ رَبِحَ مِنْهَا قَوْمٌ وَخَسِرَ فِيهَا آخَرُونَ.
দাউদ তায়ী রহ. বলেন, দুনিয়া একটি বাজার, এখানে কেউ লাভবান হয় আর কেউ লোকসানের শিকার হয়।
وَقَالَ بَعْضُ الْحُكَمَاءِ: مَنْ أَكْثَرَ ذِكْرَ الْمَوْتِ أُكْرِمَ بِثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ: تَعْجِيلُ التَّوْبَةِ، وَقَنَاعَةُ الْقَلْبِ، وَنَشَاطُ الْعِبَادَةِ، وَمَنْ نَسِيَ ذِكْرَ الْمَوْتِ عُوقِبَ بِثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ: تَسْوِيفُ التَّوْبَةِ وَتَرْكُ الرِّضَا بِالْكَفَافِ وَالتَّكَاسُلُ فِي الْعِبَادَةِ.
জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে মৃত্যুর স্মরণ করে, তাকে তিনটি মর্যাদা দান করা হয়। যথা- ১. দ্রুত তাওবার তাওফীক দেওয়া হয়, ২. অল্পে তুষ্টির গুণ দান করা হয়, ৩. ইবাদতের উদ্যম দান করা হয়।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মৃত্যুকে ভুলে থাকে, তাকে তিন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। যথা-
১. তাওবায় বিলম্ব করা।
২. অল্পে তুষ্ট না থাকা।
৩. ইবাদতে অলসতা।
فَكِّرْ يَا ابْنَ آدَمَ فِي فَنَاءِ عُمُرِكَ، وَذَهَابِ قُوَّتِكَ وَانْحِنَاءِ قَامَتِكَ، وَشَيْبِ شَعْرِكَ، وَقُرْبِ أَجَلِكَ، وَمَا يَكُونُ حَالُكَ عِنْدَ مُعَالَجَةِ سَكَرَاتِ الْمَوْتِ وَمَا تُجِيبُ بِهِ مُنْكَرًا وَنَكِيرًا، وَبَيْنَ يَدَيْ مَنْ تَقِفُ غَدًا، وَإِلَى أَيِّ دَارٍ تُحْمَلُ؟ فَتَدَارَكَ مَا بَقِيَ مِنْ عُمُرِكَ، فَعَسَى أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكَ مَا مَضَى.
হে আদম সন্তান! একটু ভাবুন তো, আপনার জীবন কীভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে! আপনার শক্তি কোথায় চলে যাচ্ছে! আপনার কোমড় কীভাবে বেকে যাচ্ছে! আপনার চুলগুলো কীভাবে সাদা হয়ে যাচ্ছে! আর আপনার মৃত্যুর সময়ও ঘনিয়ে আসছে! যখন মৃত্যুর যন্ত্রণা শুরু হবে তখন আপনার কী অবস্থা হবে! মুনকার নাকীরের প্রশ্নের উত্তরে আপনি কী বলবেন! কিয়ামতের দিন আপনি কার সামনে দাঁড়াবেন! আপনাকে কোন ঘরে নিয়ে যাওয়া হবে! সুতরাং আপনার জীবনের অবশিষ্ট অংশের সদ্ব্যবহার করুন। হয়তো আল্লাহ আপনার অতীত জীবনের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
হযরত শাকীক বলখী রহ. বলেন, চারটি বিষয়ে মানুষকে আমি কথায় এক রকম পেয়েছি, আর কাজে পেয়েছি ভিন্ন রকম।
১. قَالُوا : إِنَّا عَبِيدُ اللهِ تَعَالَى، وَيَعْمَلُونَ عَمَلَ الْأَحْرَارِ অর্থ : তারা বলে আমরা আল্লাহর দাস। অথচ তাদের আচরণ হয় স্বাধীনের মতো।
২. قَالُوا إِنَّ اللَّهَ كَفِيلٌ لِأَرْزَاقِنَا، وَلَا تَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ إِلَّا مَعَ شَيْءٍ مِنَ الدُّنْيَا অর্থ : তারা বলে আল্লাহ আমাদের রিযিকদাতা, অথচ দুনিয়ার সাথে জড়িয়ে পড়া ব্যতীত তাদের অন্তর প্রশান্তি পায় না।
৩. قَالُوا إِنَّ الْآخِرَةَ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا، وَهُمْ يَجْمَعُونَ الْمَالَ لِلدُّنْيَا অর্থ : তারা বলে, আখেরাত দুনিয়ার তুলনায় উত্তম, অথচ তারা দুনিয়ার জন্য সম্পদ আহরণ ও জমা করায় লিপ্ত।
৪. قَالُوا لَا بُدَّ لَنَا مِنَ الْمَوْتِ، وَيَعْمَلُونَ أَعْمَالَ قَوْمٍ لَا يَمُوتُونَ আমাদেরকে অবশ্যই মৃত্যুবরণ করতে হবে, অথচ তারা এমন কর্মে লিপ্ত, মনে হয় যেন তারা কখনোই মৃত্যু বরণ করবে না।
হযরত আবু যর গিফারী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন বিষয় (ব্যক্তি) আমাকে বিস্মিত করে এবং আমার ভিতর হাসির উদ্রেক করে। পক্ষান্তরে অপর তিনটি বিষয় আমাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত করে এবং আমাকে কাঁদায়। আমার মাঝে হাসির উদ্রেক করে, এমন তিন ব্যক্তি হলো-
১. مُؤَمِّلُ الدُّنْيَا وَالْمَوْتُ يَطْلُبُهُ অর্থ : দুনিয়া প্রত্যাশী ব্যক্তি, অথচ মৃত্যু সর্বদা তাকে তাড়া করছে। অর্থাৎ, তার আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘ হয়, কিন্তু মৃত্যু নিয়ে কখনো ভাবে না।
২. غَافِلٌ وَلَيْسَ بِمَغْفُولٍ عَنْهُ অর্থ : উদাসীন ব্যক্তি, অথচ তার ব্যাপারে উদাসীন থাকা হয় না। অর্থাৎ, মৃত্যুর ব্যাপারে সে উদাসীন হলেও, কিয়ামত তার সামনে ধেয়ে আসছে।
৩. ضَاحِكَ مِلْءَ فِيهِ، لَا يَدْرِي اللهُ سَاخِطٌ عَلَيْهِ أَمْ رَاضٍ عَنْهُ অর্থ : এমন ব্যক্তি যার মুখ ভরা হাসি, অথচ সে নিশ্চিত নয় আল্লাহ তার উপর নারাজ না সন্তুষ্ট।
পক্ষান্তরে যে তিনটি বিষয় আমাকে কাঁদায় তা হলো-
১. فُرَاقُ الْأَحِبَّةِ অর্থ : প্রিয় ব্যক্তিদের বিচ্ছেদ। অর্থাৎ, রাসূল ﷺ ও তাঁর সাহাবীদের বিচ্ছেদ।
২. هَوْلُ الْمَطْلَعِ يَعْنِي نُزُولَ الْمَوْتِ অর্থ : মৃত্যুর বিভীষিকা।
৩. الْوُقُوفُ بَيْنَ يَدَيِ اللهِ، لَا أَدْرِي إِلَى أَيْنَ يَأْمُرُ بِي رَبِّي إِلَى الْجَنَّةِ أَمْ إِلَى النَّارِ :. আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত হওয়া। আমার জানা নেই, তিনি আমাকে জান্নাতে নাকি জাহান্নামে যাওয়ার নির্দেশ দিবেন।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : لَوْ عَلِمَتْ الْبَهَائِمُ مِنَ الْمَوْتِ مَا عَلِمَ ابْنُ آدَمَ مَا أَكَلُوْا مِنْهَا لَحْمًا سَمِينًا
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত- রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আদম সন্তান মৃত্যু সম্পর্কে যা জানে পশুরা যদি জানত তাহলে কখনোই তারা (আদম সন্তান) উৎকৃষ্ট গোশত খেতে পেতো না।
টিকাঃ
৪৮. মুসনাদুস-শিহাব : হাদীস-১৪৩৪; যাওয়ায়েদে যুহদ, ইবনে মুবারক : হাদীস-১৫২। হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল।
📄 মৃত্যুর স্মরণ ও তা থেকে গাফেল থাকার পরিণতি
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: كَفَى بِالْمَوْتِ وَاعِظًا، وَكَفَى بِالدَّهْرِ مُفَرِّقًا، وَكَفَى بِالْيَوْمِ ذَاهِبًا وَغَدًا جَائِيًا.
হযরত আবুদ দারদা রাযি. বলেন, ওয়ায নসীহতের জন্য মৃত্যুই যথেষ্ট, শিক্ষ গ্রহণের জন্য দুনিয়া যথেষ্ট, আজ চলে যাওয়া আর কাল আসা এই তো জীবন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, মৃত্যু স্মরণের অনেক ফযীলত রয়েছে, যা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য উপকারী। দুনিয়াতে উপকারী এভাবে যে, দুনিয়া ত্যাগী ও অল্পে তুষ্ট হওয়া যায় এবং ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বাড়ে। আর আখেরাতের উপকার হলো, আল্লাহর সাক্ষাতে আনন্দ পাওয়া যায়, অন্তরে আল্লাহর রহমতের আশা জাগে। আর যে ব্যক্তি মৃত্যুকে ভুলে থাকে তার জন্য রয়েছে শাস্তিস্বরূপ তিনটি বিষয়- প্রথমত, তওবায় বিলম্ব করা। দ্বিতীয়ত, অল্পে তুষ্ট না থাকা। তৃতীয়ত, ইবাদতে অলসতা।
মৃতদেরকে দেখে মৃত্যুর ব্যাপারে গাফেল থাকার আলামত চারটি-
১. তাদের কবর দেখে অথচ এর দ্বারা কোনো শিক্ষাগ্রহণ করে না।
২. মৃতের সম্পদ ভক্ষণ করে, অথচ এর দ্বারা কোনো শিক্ষাগ্রহণ করে না।
৩. জানাযায় শরীক হয় কিন্তু তার কোনো চিন্তা থাকে না।
৪. মৃত্যুর আলোচনা হয়, কিন্তু কোনো উপকার হয় না।
বর্ণিত আছে, হযরত আবূ হামেদ লিফাফ রহ. বলতেন, যে ব্যক্তি অধিকহারে মৃত্যুকে স্মরণ করবে, তাকে তিন ধরনের সম্মান দান করা হবে। যথা- ১. تَعْجِيلِ التَّوْبَةِ অর্থ : দ্রুত তাওবা। ২. قَنَاعَةِ الْقُوتِ অর্থ : অল্পেতুষ্ট থাকা। ৩. نَشَاطَ الْعِبَادَةِ অর্থ : ইবাদতে উদ্যোমী হওয়া।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মৃত্যুকে ভুলে যাবে, তার উপর তিনটি আযাব আপতিত হবে। যথা- ১. تَسْوِيفِ التَّوْبَةِ অর্থ : তাওবায় বিলম্ব হওয়া। ২. تَرْكَ الرِّضَا بِالْكَفَافِ অর্থ: অল্পে তুষ্ট না হওয়া। ৩. التَّكَاسُلِ فِي الْعِبَادَةِ অর্থ: ইবাদতে অলসতা।
📄 মৃত্যুর বিভীষিকা
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: بَعَثَ اللهُ تَعَالَى مَلَكَ الْمَوْتِ إِلَى إِدْرِيسَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِيَقْبِضَ رُوحَهُ، فَحَمَلَهُ مَعَهُ إِلَى السَّمَاءِ. قَالَ: فَمَرُّوا بِمَلَكِ يُشْرِفُ عَلَى الْجِنَانِ، فَقَالَ لَهُ إِدْرِيسُ: يَا مَلَكَ الْمَوْتِ سَلْ هَذَا الْمَلَكَ أَنْ يَفْتَحَ لَنَا بَابَ الْجَنَّةِ حَتَّى أَرَاهَا قَبْلَ مَوْتِي، فَإِنَّهُ أَطْيَبُ لِنَفْسِي. فَسَأَلَهُ فَأَبَى، فَقَالَ لَهُ مَلَكُ الْمَوْتِ: قَدْ أَمَرَهُ اللهُ تَعَالَى أَنْ لَا يَفْتَحَ لِأَحَدٍ قَبْلَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِذَا بِإِدْرِيسَ عَلَيْهِ السَّلَامُ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَقَالَ لَهُ مَلَكُ الْمَوْتِ: يَا إِدْرِيسُ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّهُ لَا يَفْتَحُ لِأَحَدٍ قَبْلَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَكَيْفَ دَخَلْتَهَا؟ فَقَالَ إِدْرِيسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ: يَا مَلَكَ الْمَوْتِ أَلَمْ تُذِقْنِي الْمَوْتَ؟ قَالَ: بَلَى، قَالَ: وَكَذَلِكَ كَانَ أَمْرُ رَبِّي لِي فَقَدْ وَفَّيْتَ، قَالَ مَلَكُ الْمَوْتِ: أَوَ لَمْ تَسْأَلْ رَبَّكَ أَنْ تَنْظُرَ إِلَى النَّارِ فَتَرَى أَهْوَالَهَا؟ فَرَأَيْتُهَا وَدَخَلَتْهَا كَمَا أَمَرَكَ رَبُّكَ، قَالَ: بَلَى. قَالَ إِدْرِيسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ: فَقَدْ أَدْخَلَنِي رَبِّي الْجَنَّةَ، وَقَدْ قَالَ رَبِّي: وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ (الحجر : ٤٨) فَدَخَلَهَا، وَقَدْ قَبَضَ اللهُ رُوحَهُ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা মালাকুল মওতকে হযরত ইদরীস আ.-এর রূহ কবয করার জন্য প্রেরণ করলেন। তিনি ইদরীস আ.-কে নিয়ে আকাশের দিকে রওয়ানা হলেন। পথে জান্নাতের দায়িত্বশীল ফেরেশতার সাথে সাক্ষাৎ হলো। ইদরীস আ. মালাকুল মওতকে বললেন, এই ফেরেশতাকে বলো, তিনি যেন আমার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেন, আমি মৃত্যুর পূর্বে তা দেখে নিতে চাই, তাহলে আমার মনটা শান্ত হবে। তিনি তাকে বললে সে অস্বীকৃতি জানাল। মালাকুল মওত বললেন, হে ইদরীস, আল্লাহ তাকে নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর পূর্বে কারো জন্য জান্নাতের দরজা খুলতে নিষেধ করেছেন। ইদরীস আ. তখন আরশের নীচে গেলেন। মালাকুল মওত তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে ইদরীস! আমি কি বলিনি মুহাম্মদ ﷺ-এর পূর্বে জান্নাতের দরজা খোলা হবে না। তাহলে তুমি কীভাবে জান্নাতে প্রবেশ করলে? ইদরীস আ. বললেন, তুমি কি আমাকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করাও নি? তিনি বললেন, অবশ্যই। ইদরীস আ. বললেন, আল্লাহ আমাকে এ নির্দেশই দিয়েছিলেন, আমিও তা পালন করেছি। তখন মালাকুল মওত বললেন, আল্লাহ কি তোমাকে জাহান্নাম দেখতে বলেন নি? তুমি কি তা দেখেছ এবং তাতে প্রবেশ করেছ? ইদরীস আ. বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আর আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন এবং বলেছেন, وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ অর্থ: তাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হবে না। তাই আমি এখানেই থাকবো। আল্লাহ তা'আলা তার রুহ কবজ করে নিলেন। ৩৪
টিকাঃ
৩৪. আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন লিল-হাকেম: হাদীস-৪০৪৯; ইবনে আবি হাতিম: ৭/২২৫৫, ২/৭০০; ইবনে কাসীর রহ. বলেছেন, এর সনদ ইবনে আব্বাস পর্যন্ত সহীহ [তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৫/২৪২]
বর্ণিত আছে, ঈসা আ. আল্লাহর ইচ্ছায় মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম ছিলেন। একবার কাফেরদের কেউ তাকে লক্ষ্য করে বলল, তুমি কেবল এমন মৃতকেই জীবিত কর, যে মাত্র মৃত্যুবরণ করেছে। হতে পারে তার মৃত্যুই হয়নি। সুতরাং এমন কাউকে জীবিত কর, যে পৃথিবীর আদিকালে মৃত্যুবরণ করেছে। ঈসা আ. তাদেরকে বললেন, তোমাদের ইচ্ছানুসারে একজনকে নির্ধারণ কর। তারা বলল, সাম বিন নূহকে জীবিত করে দেখাও। তিনি সামের কবরের নিকট এসে দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন। আল্লাহ সাম বিন নূহ আ. কে জীবিত করে দিলেন। দেখা গেল, তার দাড়ি চুল সাদা হয়ে গেছে। কেউ বলল, এ কী! তোমার কালে তো বার্ধক্য ছিল না। অর্থাৎ, দাড়ি চুল সাদা হতো না। সাম বলল, আমি ডাক শুনতে পেয়েছি, তাই ভেবেছি যে, কিয়ামত হয়ে গেছে। ভয়ে আমার মাথার চুল ও দাড়ির সাদা হয়ে গেছে। কেউ বলল, কখন তোমার মৃত্যু হয়েছিল? তিনি বললেন, চার হাজার বছর পূর্বে। কিন্তু এখনো আমার থেকে মৃত্যু বিভীষিকা দূর হয়নি। বলা হয়, যখনি কোনো মুমিনের মৃত্যু হয়, তখন তার নিকট জীবন এবং দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু শহীদগণ ব্যতীত সকলে মৃত্যুর যন্ত্রণার ভয়ে দুনিয়ায় ফিরে আসতে সম্মত হয় না। শহীদদের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ, তাদের মৃত্যুতে কোনো যন্ত্রণা নেই। তাই তারা দুনিয়াতে ফিরে এসে পুনরায় শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন।
টিকাঃ
৪৯. ইবরাহীম বিন আদহাম- জন্ম: ১০০ হি.। তাঁর উপাধী ছিল "সাইয়্যিদুয যুহহাদ" (যাহেদ-শ্রেষ্ঠ)। তিনি ছিলেন খুরাসানের বলখের অধিবাসী। ১৬২ হি. সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
📄 চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ لَمْ يَجِدْ مِنْ كَرْبِهِ مَا يَشْغَلُهُ عَنِ الرِّضَا بِاللَّهِ، وَالتَّلَذُّذِ بِالنَّظَرِ إِلَيْهِ.
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট এই রেওয়ায়াত পৌঁছেছে যে, মুমিনের যখন মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখন সে মৃত্যুযন্ত্রণার চেয়ে বেশি আল্লাহ তা'আলার দিদার লাভের আনন্দে বিভোর থাকে।
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَا ابْنَ آدَمَ يُصِيبُكَ كُلَّ يَوْمٍ ثَلَاثَةٌ لَا تَعْتَبِرُ بِوَاحِدَةٍ مِنْهَا: يُنْقَصُ مِنْ عُمُرِكَ، وَلَا تَهْتَمُّ بِهِ وَتَأْكُلُ رِزْقَكَ وَلَا تَحْمَدُهُ، وَكُلَّ يَوْمِ تُدْنِي مِنَ الْآخِرَةِ مَرْحَلَةً، وَتَبْعُدُ عَنِ الدُّنْيَا مَرْحَلَةٌ وَلَا تَبَالِي بِهِ، ثُمَّ قَرَأَ: وَيْلُ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ.
যায়িদ ইবনে আসলাম রাযি. বলেন, হে আদম সন্তান! প্রতিদিন তুমি তিনটি অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হও। কিন্তু তার কোনোটি থেকেই তুমি শিক্ষাগ্রহণ কর না। প্রতিদিন তোমার বয়স কমে যায়, কিন্তু তুমি তার পরোয়া কর না, প্রতিদিন তুমি আল্লাহর দেওয়া রিযিক খাও কিন্তু তার জন্য শোকর আদায় কর না। প্রতিদিন তুমি পরকালের নিকটবর্তী হচ্ছ আর দুনিয়া থেকে দূরে যাচ্ছ, কিন্তু তুমি তার পরোয়া কর না। তারপর তিনি এ আয়াত পড়লেন- وَيْلُ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ অর্থ: সে দিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য ধ্বংস। ৩৫
عَنِ الْفُضَيْلِ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى رَجُلٍ وَهُوَ فِي النَّزْعِ، فَجَعَلْنَا نُلَقِّنُهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهُوَ لَا يَقُولُهَا، فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقُولَهَا، لِأَنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهَا جَبَلًا، قُلْتُ لَهُ : صِفْ لِي ذَلِكَ الْجَبَلَ. قَالَ : مِنْ دُيُونِ النَّاسِ عَلَيَّ.
হযরত ফুযাইল রহ. বলেন, আমরা মুমূর্ষু এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলাম। তাকে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ-এর তালকীন করা হলে সে বলতে পারছিল না। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরলে সে বলল, আল্লাহর কসম, আমি তা বলতে পারছি না। কারণ, আমার ও তার মাঝখানে একটি পাহাড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বললাম, পাহাড়টি সম্পর্কে বলো। সে বলল, মানুষের ঋণ। ৩৬
عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، قَالَ : أَهْوَنُ مَا يَكُونُ الْمَوْتُ عِنْدَ أَهْلِ الدُّنْيَا أَشَدُّ مِنْ ضَرْبَةِ أَلْفِ سَيْفٍ.
হযরত সুলাইমান তাইমী রহ. বলেন, দুনিয়াদারদের নিকট মৃত্যু যদিও সহজ মনে হয়, কিন্তু তা একহাজার তরবারীর আঘাতের চেয়েও কঠিন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বুদ্ধিমানের জন্য চারটি বিষয় অবশ্যই লক্ষণীয়।
১. মৃত্যু যখন সত্য তাহলে দুনিয়ার প্রতি এত আনন্দ কেন?
২. হিসাব-নিকাশ যখন সত্য তাহলে এত সম্পদ জমা করে কী লাভ?
৩. কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তা'আলার মুখোমুখি হতে হবে, তাহলে এত গুনাহ করে কী লাভ?
৪. পুলসিরাত যখন পার হতেই হবে, তাহলে আত্ম-অহমিকা দেখিয়ে কী লাভ?
টিকাঃ
৩৫. সূরা মুরসালাত: আয়াত-১৫
৩৬. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫৫৬০; আল-আকিবাহ ফী আহওয়ালিল আখিরাহ: ২৮০।
বর্ণিত আছে, হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. কে বলা হলো, আপনি যদি আমাদের সাথে কিছুটা সময় অতিবাহিত করতেন এবং আমরা আপনার কাছ থেকে কিছু নসীহত শ্রবণ করতাম। তখন তিনি বললেন, আমি চারটি বিষয় নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি। যদি অবসর পাই, তবে তোমাদের সাথে সময় অতিবাহিত করব। তাকে বলা হলো, সে চারটি বিষয় কী? তিনি বললেন-
১. প্রতিজ্ঞা দিন নিয়ে আমি চিন্তিত, যেদিন আল্লাহ তা'আলা আদম সন্তানদের থেকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টির সমাপ্তির পর هَؤُلَاءِ فِي الْجَنَّةِ وَلَا أُبَالِي وَهَؤُلَاءِ فِي النَّارِ وَلَا أُبَالِي অর্থাৎ, 'এরা জান্নাতী, এতে আমি কোনো পরোওয়া করি না। আর এরা জাহান্নামী, এতেও আমি কোনো পরোয়া করি না।' হায়! আমার জানা নেই আমি কোন শ্রেণীভুক্ত!
২. সে সময় নিয়ে আমি চিন্তিত, যখন মায়ের উদরে অনাগত সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা সিদ্ধান্ত প্রদান করেন এবং তাতে রূহ ফুঁকে দেন, আর এ ব্যাপারে নিয়োজিত ফেরেশতা তখন বলেন, يَا رَبِّ أَشَقِيُّ أَمْ سَعِيدٌ অর্থাৎ, হে রব! এ শিশু কি সৌভাগ্যবান হবে নাকি অভাগা? আমার জানা নেই, আমার ক্ষেত্রে সে সময়ে কী উত্তর হয়েছিল?
৩. মালাকুল মওতের উপস্থিত হওয়ার সময় নিয়ে আমি চিন্তিত। যখন সে আমার রূহ কবজ করার জন্য আসবে। আর বলবে, يَا رَبِّ أَمَعَ الْمُسْلِمِينَ أَمْ مَعَ الْكَافِرِينَ অর্থাৎ, হে রব! এ কি মুসলমানদের সাথে থাকবে নাকি কাফেরদের সাথে? আমার জানা নেই, আমার বেলায় কী জবাব হবে?
৪. আমি আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণী নিয়ে পেরেশান হয়ে আছি, কুরআনে এসেছে وَامْتَارُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ অর্থাৎ, হে গুনাহগাররা! আজ তোমরা পৃথক হয়ে যাও। আমার জানা নেই, আমি কোন শ্রেণী ভুক্ত হবো।
টিকাঃ
৫০. মুসনাদে আহমাদ: ৪/১৮৬; সহীহ ইবন হিব্বান হাদীস-৩৩৮; হাদীসটি সহীহ।