📄 মৃত্যুর ধরন
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: مَوْتُ الْفَجْأَةِ رَاحَةٌ لِلْمُؤْمِنِ، وَحَسْرَةٌ عَلَى الْكَافِرِ.
হযরত আনাস রাযি. বলেন, আকস্মিক মৃত্যু মুমিনের জন্য আরামদায়ক আর কাফেরের জন্য আফসোসের কারণ। ২৮
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، قَالَتْ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ مَوْتِ الْفَجْأَةِ، فَقَالَ: هُوَ رَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِ، وَأَخْذَةٌ أَسَفٌ لِلْفَاجِرِ.
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমি রাসূল ﷺ-এর কাছে আকস্মিক মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটা মুমিনের জন্য রহমত এবং গুনাহগার ব্যক্তির জন্য কঠিন শাস্তি। ২৯
টিকাঃ
২৮. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৩৮৭৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৩/২৭৯।
২৯. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৫০৫৮; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩১১৫।
📄 তিনটি বিষয় মনে রাখা কর্তব্য
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, প্রত্যেক মুসলমানের তিনটি বিষয় সর্বদা মনে রাখা উচিত-
১. সে কোথা থেকে এসেছে? তার অস্তিত্ব কীভাবে হলো?
২. সে কোথায় আছে?
৩. সে কোথায় যাবে?
এ তিনটি বিষয় মনে রাখলে সে কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর নাফরমানি করবে না। সে মনে করবে, আমি মায়ের পেটে একটি নাপাক ফোটা থেকে সৃষ্টি হয়েছি। তারপর দুনিয়াতে দুর্বল অবস্থায় এসেছি। এখন আল্লাহ তা'আলা আমাকে সম্মান ও শক্তি দান করেছেন। আমার রব আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এমন রবের নাফরমানী আমি কীভাবে করব!
সে যখন তার অবস্থান নিয়ে চিন্তা করবে যে, তার চারপাশে আল্লাহর অনেক নিয়ামত রয়েছে এবং সে নিজেও এর মধ্যে অবস্থান করছে, তখন সে এই চিন্তা করে আল্লাহর নাফরমানী থেকে বিরত থাকবে যে, আমি আল্লাহর দেওয়া রিযিক খেয়ে তাঁর জমিনে বাস করে কীভাবে তাঁর নাফরমানী করতে পারি?
আর সে যখন তার শেষ পরিণামের কথা চিন্তা করবে যে, আমাকে কবরে যেতে হবে। যেখানে মুনকার-নাকীরের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হবে। তখন সে নাফরমানীর কথা কল্পনাও করতে পারবে না।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ
অর্থ: হে মানুষ! তোমাকে তোমার মহান রবের ব্যাপারে কিসে ধোঁকায় ফেলল? ৩০
বর্ণিত আছে, রাসূল ﷺ যখনই এই আয়াত পড়তেন, তখন বলতেন, মূর্খতা তাকে ধোঁকায় ফেলেছে।
ٹکا:
৩০. সূরা ইনফিতার: আয়াত-৬
📄 চারটি বিষয়ে গুরুত্বপ্রদান কর্তব্য
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআয আর-রাযী রহ. বলেন, عجبْتُ مِمَّنْ يَحْزَنُ عَلَى نُقْصَانِ مَالِهِ كَيْفَ لَا يَحْزَنُ عَلَى نُقْصَانِ عُمُرِهِ وَعَجِبْتُ مِمَّنْ يَطْلُبُ الدُّنْيَا وَالْمَوْتُ يَطْلُبُهُ وَعَجِبْتُ مِمَّنْ يَبْنِي الْقُصُورَ وَالْقَبْرُ مَصِيرُهُ وَعَجِبْتُ مِمَّنْ يَضحَكُ وَخَلْفَهُ النَّارُ
১. যে ব্যক্তি সম্পদের স্বল্পতার জন্য চিন্তিত অথচ জীবন কমে যাওয়ার জন্য চিন্তিত নয়।
২. যে দুনিয়ার পিছনে ছুটে অথচ মৃত্যু তার পিছনে ধাবমান।
৩. যে বড় প্রাসাদ নির্মাণ করে অথচ কবরই তার শেষ ঠিকানা।
৪. যে অনর্থক হাসে অথচ তার সামনে জাহান্নামের আগুন রয়েছে।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক মানুষের হায়াতের প্রতিটি দিন ও রাতের জন্য তার রিযিক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কেউ তার নির্ধারিত রিযিকের চেয়ে বেশি পাবে না এবং তার নির্ধারিত সময় আসার পূর্বে মৃত্যুবরণ করবে না। সুতরাং মানুষের উচিত হারাম উপার্জন পরিহার করা এবং পরকালের পাথেয় অর্জন করার জন্য অধিক সময় ব্যয় করা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, اَلْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ ، وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ تَعَالَى
অর্থ: বুদ্ধিমান সে, যে নিজের নাফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরকালের জন্য কাজ করে। আর অক্ষম সে, যে নিজের নফসকে প্রবৃত্তির অনুসারী বানায় এবং আল্লাহর কাছে আশা-আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে। ৩১
টিকাঃ
৩১. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৫৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৬০; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭৬৩২; হাদীসটি হাসান।
📄 মৃত্যুর স্বরূপ
عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ أَنَّ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَمَّا قَبَضَ اللهُ رُوحَهُ، قَالَ: كَيْفَ وَجَدْتَ الْمَوْتَ يَا خَلِيلَ الرَّحْمَنِ؟ فَقَالَ: كَصُفُودٍ أُدْخِلَ فِي صُوفٍ رَطْبٍ، ثُمَّ نُزِعَ فَتَعَلَّقَ الصُّوفُ بِالشَّوْكِ. فَقَالَ لَهُ: إِنَّا قَدْ هَوَّنَّا عَلَيْكَ
আবূল খলীল রহ. থেকে বর্ণিত। মৃত্যুর পর আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম আ.-কে জিজ্ঞেস করলেন, মৃত্যুর স্বাদ কেমন পেয়েছেন? তিনি উত্তর দিলেন, ভেজা পশমে গরম লোহার শিক ঢুকিয়ে তা টেনে বের করলে পশমগুলো যেভাবে শিকের কাঁটায় আটকে যায়, আমি মৃত্যুর সময় তেমন কষ্ট পেয়েছি। আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি তো আপনার উপর তা সহজ করে দিয়েছিলাম। ৩২
টিকাঃ
৩২. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: হাদীস-৩৪৫৬৩; আয-যুহদ, আহমাদ: হাদীস-৪৪২; তারিখে দামেশক: ৬/৪০০।