📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রূহ কবজ এবং মালাকুল মওত কর্তৃক মৃতের পরিজনকে সম্বোধন

📄 রূহ কবজ এবং মালাকুল মওত কর্তৃক মৃতের পরিজনকে সম্বোধন


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ مَلَكَ الْمَوْتِ يَخْطُرُ كُلَّ يَوْمٍ فِي كُلِّ بَيْتٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ، فَإِذَا رَأَى رَجُلًا قَدْ فَرَغَ رِزْقُهُ، وَانْقَضَى أَجَلُهُ، أَلْقَى عَلَيْهِ مِنْ غَمِّ الْمَوْتِ، وَكُرَبَاتِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ يَتَشَرَّبُ الْعَرَقُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَتَغَيَّرُ أَلْوَانُهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَحْتَاجُ أَلْسِنَتُهُمْ وَمِنْهُمْ مَنْ تَذْرِفُ عَيْنَاهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يُغَرْغِرُ فِي صَدْرِهِ. فَيَقُولُ مَلَكُ الْمَوْتِ: مَا لَكُمْ؟ فَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا أَكَلْتُ لَهُ رِزْقًا، وَلَا أَفْنَيْتُ لَهُ عُمُرًا، وَلَا قَرَّبْتُ لَهُ أَجَلًا، وَإِنَّ لِي فِيكُمْ عَوْدَةٌ ثُمَّ عَوْدَةٌ حَتَّى لَا أُبْقِي مِنْكُمْ أَحَدًا. قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: وَالَّذِي نَفْسُ عَلِيِّ بِيَدِهِ لَوْ يَرَوْنَ مَكَانَهُ، وَيَسْمَعُونَ كَلَامَهُ، لَذَهِلُوا عَنْ مَيِّتِهِمْ، وَلَبَكَوْا عَلَى أَنْفُسِهِمْ.

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুল মওত প্রতিদিন পাঁচবার মানুষের বাড়িতে আসেন। যখন কারো রিযিক শেষ হয়ে যায় এবং মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন সে মৃত্যুর ভয়ে কাতর হয়ে পড়ে। কেউ কেউ ঘামতে থাকে। কারো কারো চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায়। কারো জিহ্বা শুকিয়ে যায়। কারো চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে। কারো কারো বুক ধড়ফড় করতে থাকে। তখন মালাকুল মওত তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কী হয়েছে তোমাদের? আমি তো তার রিযিক খাইনি, তার হায়াত কমিয়ে দেইনি এবং তার মৃত্যুও ঘনিয়ে আনিনি। তোমাদের কাছে আমি বারবার আসব, যতক্ষণ না তোমাদের সবাইকে নিয়ে যাব।
হযরত আলী রাযি. বলেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি মৃতের পরিবারের লোকেরা মৃত্যুর ফেরেশতার অবস্থা জানতে এবং তার কথা শুনতে পারত, তাহলে তারা মৃতের জন্য না কেঁদে নিজের জন্য কাঁদত। ২৫

টিকাঃ
২৫. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৭/২; ইমাম বুখারী রহ. এ বর্ণনার ব্যাপারে বলেছেন, এটি মানুষের কথা, হাদীস নয়। এর সনদও মজবুত নয়। [আত-তারীখুল কাবীর: ৮/৪৪]

عَنْ عَلَيَّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى مَلَكَ الْمَوْتِ عِنْدَ رَأْسِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : رُفُقْ بِصَاحِبِي فَإِنَّهُ مُؤْمِنٌ، فَقَالَ أَبْشِرْ يَا مُحَمَّدُ؛ فَإِني بِكُلِّ مُؤْمِنٍ رَفِيقٌ، وَاللهِ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي لَأَقْبِضُ رُوحَ ابْنِ آدَمَ فَإِذَا صَرَخَ صَارِخُ مِنْ أَهْلِهِ قُلْتُ : مَا هُذَا الصُّرَاحُ، فَوَ اللهِ مَا ظَلَمْنَاهُ وَلَا سَبَقْنَا أَجَلَهُ، وَلَا اسْتَعْجَلْنَا قَدَرَهُ، فَمَا لَنَا فِي قَبْضَةٍ مِنْ ذَنْبٍ، فَإِنْ تَرْضَوْا بِمَا صَنَعَ اللَّهُ تُؤْجَرُوا وَإِنْ تَسْخَطُوا أَوْ تَجْزَعُوا تَأْتَمُوا وَتُؤْزَرُوا وَمَا لَكُمْ عِنْدَنَا مِنْ عُتْبَةٍ، وَإِنَّ لَنَا عَلَيْكُمْ لَبَقِيَّةً وَعَوْدَةً، فَالْحَذَرَ الْحَذَرَ، وَمَا مِنْ أَهْلِ بَيْتِ شَعْرٍ أَوْ مَدَرٍ فِي بَرَّ أَوْ بَحْرٍ إِلَّا وَأَنَا أَتَصَفَحُ وُجُوهَهُمْ فِي كُلِّ يَوْমٍ وَلَيْلَةٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ، حَتَّى إِنِّي لَأَعْرِفُ صَغِيرَهُمْ وَكَبِيرَهُمْ، وَأَعْرَفُ مِنْهُمْ بِأَنْفُسِهِمْ، وَاللَّهِ يَا مُحَمَّدُ لَوْ أَنِّي أَرَدْتُ أَنْ أَقْبِضَ رُوحَ بَعُوضَةٍ مَا قَدِرْتُ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى يَكُون اللَّهُ تَعَالَى هُوَ الْآمِرُ بِقَبْضِهَا.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত- রাসূল জনৈক আনসারের মাথার সম্মুখে মালাকুল মওতকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। রাসূল তাকে বললেন, আমার সঙ্গীর সঙ্গে তুমি কোমল আচরণ কর। কারণ, সে মুমিন। মালাকুল মওত তাকে বললেন, হে মুহাম্মদ! সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আমি প্রত্যেক মুমিনের জন্যই কোমল। আল্লাহর শপথ! হে মুহাম্মদ! আমি যখন কোনো আদম সন্তানের রূহ কবজ করতে যাই, তখন তার পরিবারের কেউ চিৎকার করে উঠে। আমি বলি, এই চিৎকার কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তার উপর জুলুম করিনি। সুতরাং তার রূহ কবজ করে আমি তো গুনাহ করিনি। আল্লাহ যা করেছেন, সে ব্যাপারে যদি তোমরা সন্তোষ প্রকাশ কর, তবে তোমরা প্রতিদান পাবে। যদি অসন্তুষ্ট হয়ে বিলাপ জুড়ে দাও, তবে গুনাহ করলে এবং অপরাধী হলে। তোমরা আমাকে দোষ দেয়ার কিছু নেই। বরং তোমাদের নিকট আমার পাওনা আছে, আমি ফিরে আসব। তাই সতর্ক হও! জগতের এমন কোনো বাসিন্দা নেই, প্রতি রাতে ও প্রতি দিনে আমি যার চেহারা পাঁচবার দেখি না। আমি তাদের ছোট-বড় সকলকে চিনি, বরং তাদের নিজেদের তুলনায় আমি তাদেরকে অধিক চিনি। আল্লাহর শপথ! হে মুহাম্মদ! আমি যদি কোনো মাছির রূহ কবজ করতে চাই, তবে সক্ষম হব না, যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলা তা কবজের নির্দেশ প্রদান করেন।

টিকাঃ
৪৬. আল-মুজামুল কাবীর, ত্ববারানী হাদীস-৪১৮৮; হাদীসটির সনদে আমর বিন শমর জুফী নামে রাফেজী মিথ্যাবাদী রাবী থাকায় শায়েখ আলবানী রহ. হাদীসটিকে জাল বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কবর হবে জান্নাতের উদ্যান কিংবা জাহান্নামের গর্ত

📄 কবর হবে জান্নাতের উদ্যান কিংবা জাহান্নামের গর্ত


فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْقَبْرُ إِمَّا رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ أَوْ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ النِّيرَانِ.
রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কবর হবে জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যে কোনো বাগান কিংবা জাহান্নামের গর্তসমূহের কোনো গর্ত। ২৬

عَنْ هَانِيِّ مَوْلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ عُثْمَانَ كَانَ إِذَا وَقَفَ عَلَى الْقَبْرِ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ. فَقِيلَ لَهُ: تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي، وَتَبْكِي مِنْ هَذَا؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْقَبْرُ أَوَّلُ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ، فَإِنْ نَجَا مِنْهُ، فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ، وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ.

হযরত উসমান রাযি.-এর মুক্তদাস হানি রহ. বলেন, উসমান রাযি. যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন তিনি এত কাঁদতেন যে, তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে বলা হলো, জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনায় তো আপনি কাঁদেন না, কবরের পাশে কেন কাঁদেন? তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, কবর হলো, আখেরাতের প্রথম মনযিল। যে ব্যক্তি এখানে মুক্তি পাবে, তার পরবর্তী মনযিলগুলো আরো সহজ হয়ে যাবে। আর যে এখানে মুক্তি পাবে না, তার পরবর্তী মনযিলগুলো এর চেয়েও কঠিন হবে। ২৭

টিকাঃ
২৬. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৬০; আল-মুজামুল কাবীর: ১২/৩৮৩; হাদীসটি হাসান।
২৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩০৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৬৭; ইমাম তিরমিযী ও হাকেম হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

رَوَى أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ. أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ رأَى أُنَاسًا يَضْحَكُوْنَ فَقَالَ : أَمَا إِنَّكُمْ لَوْ أَكْثَرْتُمْ مِنْ ذِكْرِ هَاذِهِ اللَّذَاتِ لَشَغَلَكُمْ عَمَّا أَرَى. ثُمَّ قَالَ : أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ يَعْنِي الْمَوْتَ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّمَا الْقَبْرُ رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ أَوْ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ النَّارِ.
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বর্ণনা করেন, একবার রাসূল কয়েকজন ব্যক্তিকে হাস্যরত দেখতে পেলেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, যদি তোমরা যাবতীয় স্বাদ বিস্বাদকারী মৃত্যুর স্মরণ অধিক হারে করতে, তবে আমি তোমাদেরকে যাতে লিপ্ত দেখছি, তোমাদেরকে তা থেকে বিরত রাখত। অতঃপর বললেন, যাবতীয় স্বাদ হরণকারী মৃত্যুর স্মরণ অধিকহারে কর। এরপর বললেন, কবর হবে হয়তো জান্নাতের একটি উদ্যান কিংবা জাহান্নামের গর্ত।

টিকাঃ
৪৭. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২৪৬০,২৩০৭; সুনানে নাসায়ী হাদীস-১৮২৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫৮। হাদীসটির সনদ জয়ীফ। তবে হাদীসের প্রথম অংশটি সহীহ যা আবু হুরায়রা থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মৃত্যুর ধরন

📄 মৃত্যুর ধরন


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: مَوْتُ الْفَجْأَةِ رَاحَةٌ لِلْمُؤْمِنِ، وَحَسْرَةٌ عَلَى الْكَافِرِ.
হযরত আনাস রাযি. বলেন, আকস্মিক মৃত্যু মুমিনের জন্য আরামদায়ক আর কাফেরের জন্য আফসোসের কারণ। ২৮
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، قَالَتْ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ مَوْتِ الْفَجْأَةِ، فَقَالَ: هُوَ رَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِ، وَأَخْذَةٌ أَسَفٌ لِلْفَاجِرِ.

হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমি রাসূল ﷺ-এর কাছে আকস্মিক মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটা মুমিনের জন্য রহমত এবং গুনাহগার ব্যক্তির জন্য কঠিন শাস্তি। ২৯

টিকাঃ
২৮. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৩৮৭৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৩/২৭৯।
২৯. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৫০৫৮; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩১১৫।

قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لِكَعْبٍ: يَا كَعْبُ حَدَّثْنَا عَنِ الْمَوْتِ قَالَ : إِنَّ الْمَوْتَ كَشَجَرَةِ شَوْكِ أُدْخِلَتْ فِي جَوْفِ ابْنِ آدَمَ فَأَخَذَتْ كُلُّ شَوْكَةٍ بِعِرْقٍ مِنْهُ، ثُمَّ جَذَبَهَا رَجُلٌ شَدِيدُ الْقُوَى، فَقَطَعَ مِنْهَا مَا قَطَعَ وَأَبْقَى مَا أَبْقَى.
হযরত ওমর রাযি. কা'ব রাযি. কে লক্ষ্য করে বললেন, হে কা'ব মৃত্যু সম্পর্কে আমাদের কিছু বর্ণনা কর। কা'ব রাযি. বললেন, মৃত্যু হলো, কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ন্যায়, যা আদম সন্তানের উদরে প্রবেশ করানো হয়। অতঃপর প্রবল শক্তিধর এক ব্যক্তি সে বৃক্ষে টান দেয়, ফলে কিছু অংশ ছিঁড়ে যায়, কিছু অংশ ভিতরে রয়ে যায়।
হযরত হযরত সুফইয়ান সাওরীর প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে, তার সামনে মৃত্যুর আলোচনা করা হলে বেশ কয়েকদিন তার কাছে কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেত না। কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলতেন, জানি না! আমি জানি না!

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তিনটি বিষয় মনে রাখা কর্তব্য

📄 তিনটি বিষয় মনে রাখা কর্তব্য


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, প্রত্যেক মুসলমানের তিনটি বিষয় সর্বদা মনে রাখা উচিত-
১. সে কোথা থেকে এসেছে? তার অস্তিত্ব কীভাবে হলো?
২. সে কোথায় আছে?
৩. সে কোথায় যাবে?
এ তিনটি বিষয় মনে রাখলে সে কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর নাফরমানি করবে না। সে মনে করবে, আমি মায়ের পেটে একটি নাপাক ফোটা থেকে সৃষ্টি হয়েছি। তারপর দুনিয়াতে দুর্বল অবস্থায় এসেছি। এখন আল্লাহ তা'আলা আমাকে সম্মান ও শক্তি দান করেছেন। আমার রব আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এমন রবের নাফরমানী আমি কীভাবে করব!
সে যখন তার অবস্থান নিয়ে চিন্তা করবে যে, তার চারপাশে আল্লাহর অনেক নিয়ামত রয়েছে এবং সে নিজেও এর মধ্যে অবস্থান করছে, তখন সে এই চিন্তা করে আল্লাহর নাফরমানী থেকে বিরত থাকবে যে, আমি আল্লাহর দেওয়া রিযিক খেয়ে তাঁর জমিনে বাস করে কীভাবে তাঁর নাফরমানী করতে পারি?
আর সে যখন তার শেষ পরিণামের কথা চিন্তা করবে যে, আমাকে কবরে যেতে হবে। যেখানে মুনকার-নাকীরের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হবে। তখন সে নাফরমানীর কথা কল্পনাও করতে পারবে না।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ
অর্থ: হে মানুষ! তোমাকে তোমার মহান রবের ব্যাপারে কিসে ধোঁকায় ফেলল? ৩০
বর্ণিত আছে, রাসূল ﷺ যখনই এই আয়াত পড়তেন, তখন বলতেন, মূর্খতা তাকে ধোঁকায় ফেলেছে।

ٹکا:
৩০. সূরা ইনফিতার: আয়াত-৬

জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, তিনটি কথা জ্ঞানীদের কখনোই ভোলা উচিত না- ১. দুনিয়া ধ্বংস হওয়া ও তার পরিবর্তন হওয়া। ২. মৃত্যু। ৩. বিপদাপদ, যার থেকে আত্মরক্ষার কোনো উপায় নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px