📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে গনিমত মনে কর

📄 পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে গনিমত মনে কর


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ وَهُوَ يَعِظُهُ اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغُلِكَ وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বললেন, পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিসের পূর্বে গনিমত মনে করবে-
১. বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনকে।
২. অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে।
৩. দরিদ্রতার পূর্বে সচ্ছলতাকে।
৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে।
৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে। ২৪

ٹکا:
২৪. মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস-৭৮৪৬; মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-২২৯০; সুনানে কুবরা লিল-বাইহাকী: হাদীস-১০৯৩৫; হাদীসটি সহীহ [হাকেম, যাহাবী, আলবানী প্রমুখ]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 রূহ কবজ এবং মালাকুল মওত কর্তৃক মৃতের পরিজনকে সম্বোধন

📄 রূহ কবজ এবং মালাকুল মওত কর্তৃক মৃতের পরিজনকে সম্বোধন


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ مَلَكَ الْمَوْتِ يَخْطُرُ كُلَّ يَوْمٍ فِي كُلِّ بَيْتٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ، فَإِذَا رَأَى رَجُلًا قَدْ فَرَغَ رِزْقُهُ، وَانْقَضَى أَجَلُهُ، أَلْقَى عَلَيْهِ مِنْ غَمِّ الْمَوْتِ، وَكُرَبَاتِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ يَتَشَرَّبُ الْعَرَقُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَتَغَيَّرُ أَلْوَانُهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَحْتَاجُ أَلْسِنَتُهُمْ وَمِنْهُمْ مَنْ تَذْرِفُ عَيْنَاهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يُغَرْغِرُ فِي صَدْرِهِ. فَيَقُولُ مَلَكُ الْمَوْتِ: مَا لَكُمْ؟ فَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا أَكَلْتُ لَهُ رِزْقًا، وَلَا أَفْنَيْتُ لَهُ عُمُرًا، وَلَا قَرَّبْتُ لَهُ أَجَلًا، وَإِنَّ لِي فِيكُمْ عَوْدَةٌ ثُمَّ عَوْدَةٌ حَتَّى لَا أُبْقِي مِنْكُمْ أَحَدًا. قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: وَالَّذِي نَفْسُ عَلِيِّ بِيَدِهِ لَوْ يَرَوْنَ مَكَانَهُ، وَيَسْمَعُونَ كَلَامَهُ، لَذَهِلُوا عَنْ مَيِّتِهِمْ، وَلَبَكَوْا عَلَى أَنْفُسِهِمْ.

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুল মওত প্রতিদিন পাঁচবার মানুষের বাড়িতে আসেন। যখন কারো রিযিক শেষ হয়ে যায় এবং মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন সে মৃত্যুর ভয়ে কাতর হয়ে পড়ে। কেউ কেউ ঘামতে থাকে। কারো কারো চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায়। কারো জিহ্বা শুকিয়ে যায়। কারো চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে। কারো কারো বুক ধড়ফড় করতে থাকে। তখন মালাকুল মওত তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কী হয়েছে তোমাদের? আমি তো তার রিযিক খাইনি, তার হায়াত কমিয়ে দেইনি এবং তার মৃত্যুও ঘনিয়ে আনিনি। তোমাদের কাছে আমি বারবার আসব, যতক্ষণ না তোমাদের সবাইকে নিয়ে যাব।
হযরত আলী রাযি. বলেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি মৃতের পরিবারের লোকেরা মৃত্যুর ফেরেশতার অবস্থা জানতে এবং তার কথা শুনতে পারত, তাহলে তারা মৃতের জন্য না কেঁদে নিজের জন্য কাঁদত। ২৫

টিকাঃ
২৫. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৭/২; ইমাম বুখারী রহ. এ বর্ণনার ব্যাপারে বলেছেন, এটি মানুষের কথা, হাদীস নয়। এর সনদও মজবুত নয়। [আত-তারীখুল কাবীর: ৮/৪৪]

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 কবর হবে জান্নাতের উদ্যান কিংবা জাহান্নামের গর্ত

📄 কবর হবে জান্নাতের উদ্যান কিংবা জাহান্নামের গর্ত


فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْقَبْرُ إِمَّا رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ أَوْ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ النِّيرَانِ.
রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কবর হবে জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যে কোনো বাগান কিংবা জাহান্নামের গর্তসমূহের কোনো গর্ত। ২৬

عَنْ هَانِيِّ مَوْلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ عُثْمَانَ كَانَ إِذَا وَقَفَ عَلَى الْقَبْرِ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ. فَقِيلَ لَهُ: تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي، وَتَبْكِي مِنْ هَذَا؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْقَبْرُ أَوَّلُ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ، فَإِنْ نَجَا مِنْهُ، فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ، وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ.

হযরত উসমান রাযি.-এর মুক্তদাস হানি রহ. বলেন, উসমান রাযি. যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন তিনি এত কাঁদতেন যে, তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে বলা হলো, জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনায় তো আপনি কাঁদেন না, কবরের পাশে কেন কাঁদেন? তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, কবর হলো, আখেরাতের প্রথম মনযিল। যে ব্যক্তি এখানে মুক্তি পাবে, তার পরবর্তী মনযিলগুলো আরো সহজ হয়ে যাবে। আর যে এখানে মুক্তি পাবে না, তার পরবর্তী মনযিলগুলো এর চেয়েও কঠিন হবে। ২৭

টিকাঃ
২৬. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৬০; আল-মুজামুল কাবীর: ১২/৩৮৩; হাদীসটি হাসান।
২৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩০৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৬৭; ইমাম তিরমিযী ও হাকেম হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 মৃত্যুর ধরন

📄 মৃত্যুর ধরন


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: مَوْتُ الْفَجْأَةِ رَاحَةٌ لِلْمُؤْمِنِ، وَحَسْرَةٌ عَلَى الْكَافِرِ.
হযরত আনাস রাযি. বলেন, আকস্মিক মৃত্যু মুমিনের জন্য আরামদায়ক আর কাফেরের জন্য আফসোসের কারণ। ২৮
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، قَالَتْ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ مَوْتِ الْفَجْأَةِ، فَقَالَ: هُوَ رَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِ، وَأَخْذَةٌ أَسَفٌ لِلْفَاجِرِ.

হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমি রাসূল ﷺ-এর কাছে আকস্মিক মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটা মুমিনের জন্য রহমত এবং গুনাহগার ব্যক্তির জন্য কঠিন শাস্তি। ২৯

টিকাঃ
২৮. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৩৮৭৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৩/২৭৯।
২৯. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৫০৫৮; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩১১৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00