📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সূক্ষ্ম ইলম

📄 সূক্ষ্ম ইলম


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَتِ امْرَأَةٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ؟ قَالَ: الَّذِي يَجْمَعُ عِلْمَ النَّاسِ إِلَى عِلْمِهِ، قَالَتْ : يَا رَسُولَ اللهِ فَأَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ عِبَادَةٌ؟ قَالَ: الَّذِي يَتَذَكَّرُ الْمَوْتَ قَالَتْ: فَأَيُّهُمْ أَفْضَلُ؟ قَالَ: الَّذِي يَتْرُكُ مَا لَا يَعْنِيهِ.

হযরত আবু উমামা রাযি. বলেন, একবার রাসূল ﷺ-এর নিকট জনৈকা মহিলা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি সবচেয়ে জ্ঞানী? রাসূল বললেন, যে ব্যক্তি মানুষের ইলম থেকে জ্ঞান আহরণ করে নিজ ইলমের সাথে সংযুক্ত করে। সে জিজ্ঞেস করল, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বড় আবেদ? রাসূল বললেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে স্মরণ করে। মহিলা জিজ্ঞেস করল, সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি কে? রাসূল বললেন, যে অনর্থক কাজ ছেড়ে দেয়। ২৩

টিকাঃ
২৩. আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ, সাখাবী; হা-১১৪৮

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مِسْوَرِ الْهَاشِمِي، قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: جِئْتُكَ لِتُعَلِّمَنِي مِنْ غَرَائِبِ الْعِلْمِ قَالَ : مَا صَنَعْتَ فِي رَأْسِ الْعِلْمِ قَالَ : وَمَا رَأْسُ الْعِلْمِ? قَالَ : هَلْ عَرَفْتَ الرَّبَّ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ نَعَمْ. قَالَ : فَمَاذَا فَعَلْتَ فِي حَقِّهِ? قَالَ: مَا شَاءَ اللهُ. قَالَ : وَهَلْ عَرَفْتَ الْمَوْتَ قَالَ : نَعَمْ. قَالَ : فَمَاذَا أَعْدَدْتَ لَهُ? قَالَ: مَا شَاءَ اللَّهُ. قَالَ: اذْهَبْ فَاحْكُمْ بِمَا هُنَاكَ ثُمَّ تَعَالَ حَتَّى أُعَلِّمَكَ مِنْ غَرَائِبِ الْعِلْمِ فَلَمَّا جَاءَ بَعْدَ سِنِينَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ضَعْ يَدَكَ عَلَى قَلْبِكَ فَمَا لَا تَرْضَى لِنَفْسِكَ لَا تَرْضَهُ لِأَخِيكَ الْمُسْلِمِ. وَمَا رَضِيتَهُ لِنَفْسِكَ فَارْضَهُ لِأَخِيكَ الْمُسْلِمِ وَهُوَ مِنْ غَرَائِبِ الْعِلْمِ.
আব্দুল্লাহ বিন মিসওয়ার হাশিমী থেকে বর্ণিত- এক ব্যক্তি রাসূল-এর কাছে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, আমি আপনার নিকট উপস্থিত হয়েছি ইলমের মূল বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত হতে। রাসূল বললেন, তুমি ইলমের মূল সম্পর্কে কী করেছ? তিনি বললেন, ইলমের মূল কী? রাসূল বললেন, তুমি মহান রবকে জেনেছ? তিনি বললেন হ্যাঁ। রাসূল বললেন, তুমি তার অধিকার আদায়ের ব্যাপারে কী প্রস্তুতি নিয়েছো? সাহাবী বললেন, যা আল্লাহ চেয়েছেন। তখন রাসূল বললেন, যাও প্রথমে এ জ্ঞানকে দৃঢ় কর। অতঃপর এসো আমি তোমাকে ইলমের সূক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কে অবহিত করব। কয়েক বছর পর উক্ত সাহাবী উপস্থিত হলে রাসূল ইরশাদ করলেন, তুমি বুকে হাত রাখ। নিজের জন্য যা পছন্দ করবে না, তা তোমার মুসলিম ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করবে না। আর নিজের জন্য যা পছন্দ করবে, তোমার মুসলিম ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করবে। এই হলো, ইলমের মূল বিষয়।
এ হাদীসে রাসূল মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতিকে ইলমের মূল বলেছেন। সুতরাং এ নিয়ে ব্যস্ত থাকাই অতি উত্তম।
আব্দুল্লাহ বিন মিসওয়ার থেকে বর্ণিত। রাসূল এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
فَمَنْ يُرِدِ اللهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَنْ يُرِدُ أَنْ يُضِلَّه يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَضَعَدُ فِي السَّمَاءِ كَذَلِكَ يَجْعَلُ اللَّهُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ.
অর্থ: আল্লাহ কাউকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাইলে তার বক্ষ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন। আর কাউকে পথভ্রষ্ট করতে চাইলে তার বক্ষকে অতিশয় সংকীর্ণ করে দেন। তার কাছে ইসলামের অনুসরণ করা আকাশে আরোহণের মতই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। যারা বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তাদেরকে এভাবে লাঞ্ছিত করেন।
অতঃপর বললেন, যখন ইসলামের নূর অন্তরে প্রবেশ করে তখন তা প্রশস্ত ও উদার হয়ে যায়। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এর কি কোনো আলামত আছে? রাসূল বললেন, হ্যাঁ। প্রতারকদের আবাস (দুনিয়া) থেকে পরহেয (সংযম), স্থায়ী আবাসের (আখেরাত) প্রতি মনোনিবেশ এবং মৃত্যুর আগমনের পুর্বেই তার জন্য প্রস্তুতি।

টিকাঃ
৪২. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৬/২৪। হাদীসটি জাল। আব্দুল্লাহ বিন মিসওয়ার হাশিমী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন: "তার বর্ণিত হাদীসসমূহ জাল।" আবূ দাউদ ও নাসায়ী তাকে পরিত্যক্ত বলেছেন।
৪৩. সূরা আনআম: আয়াত-১২৫। কিতাবুয যুহদ লি ইবনিল মুবারক: হাদীস-৩১৫। হাদীসটি জাল।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে গনিমত মনে কর

📄 পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে গনিমত মনে কর


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ وَهُوَ يَعِظُهُ اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغُلِكَ وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বললেন, পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিসের পূর্বে গনিমত মনে করবে-
১. বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনকে।
২. অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে।
৩. দরিদ্রতার পূর্বে সচ্ছলতাকে।
৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে।
৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে। ২৪

ٹکا:
২৪. মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস-৭৮৪৬; মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-২২৯০; সুনানে কুবরা লিল-বাইহাকী: হাদীস-১০৯৩৫; হাদীসটি সহীহ [হাকেম, যাহাবী, আলবানী প্রমুখ]।

عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ لِرَجُلٍ وَهُৱ يَعِظُهُ : اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ، شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ، وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ.
আমর বিন মায়মুন বিন মেহরান রহ. থেকে বর্ণিত- রাসূল জনৈক ব্যক্তিকে উপদেশকালে বললেন, পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে পাঁচটি বিষয়কে গনীমত মনে কর। যথা-
১. বৃদ্ধ হওয়ার পূর্বে যৌবনকে।
২. অসুস্থ হওয়ার পূর্বে সুস্থতাকে।
৩. ব্যস্ত হওয়ার পূর্বে অবসরকে।
৪. দরিদ্র হওয়ার পূর্বে ঐশ্বর্যকে।
৫. এবং মৃত্যু আসার পূর্বে জীবনকে।
এ পাঁচ বিষয়ের মধ্যে রাসূল অনেক জ্ঞানের সমাহার ঘটিয়েছেন। কারণ, ব্যক্তি যৌবনে যতটা কর্মক্ষম হয় বৃদ্ধ বয়সে তাতে সক্ষম হয় না। যৌবনে যদি গুনাহের অভ্যাস হয়ে যায়, তবে বৃদ্ধ বয়সে ইচ্ছে করলেও তা থেকে বিরত থাকতে পারে না। সুতরাং যুবকদের উচিত যৌবনেই কল্যাণকর্মের অভ্যাস গড়ে তোলা, যাতে বৃদ্ধ বয়সে তার জন্য ভালো কর্ম করা সহজ হয়ে যায়।
রাসূল ইরশাদ করেন, অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতার কদর করবে। কারণ, সুস্থ ব্যক্তিই কেবল তার নিজের জান ও মালের যথেচ্ছা ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। সুতরাং সুস্থ ব্যক্তির উচিত শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে গনীমত মনে করে নিজের জান ও মালের ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া। অসুস্থতা যখন তাকে আক্রমণ করবে, তখন আমলের ক্ষেত্রে সে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং নিজের সম্পদের ব্যাপারে হাত খাটো হয়ে পড়বে অর্থাৎ, এক তৃতীয়াংশের ব্যাপারেই কেবল তার নির্দেশ কার্যকর হবে।
রাসূল ইরশাদ করেন, ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে গনীমত মনে করবে। অর্থাৎ, রাতের বেলায় মানুষ অবসর থাকে, আর দিনে কর্মব্যস্ত থাকে। সুতরাং রাতের নির্জনতায় অধিক নামায পড়া ও দিনের ব্যস্ততায় অধিক রোযা রাখা উচিত। বিশেষত শীতের মৌসুমে।
হাদীসে এসেছে রাসূল ইরশাদ করেন, শীত মৌসুম মুমিনের জন্য গনীমত। এ সময় রাত দীর্ঘ হয়। ফলে সে রাত্রি জাগরণ করে। দিন হয় ছোট ফলে সে রোযা রাখে।
অপর বর্ণনায় আছে, রাত দীর্ঘ। সুতরাং ঘুমিয়ে তাকে ছোট কর না। দিন আলোকজ্জ্বল। সুতরাং গুনাহের দ্বারা তাকে মলিন কর না।
রাসূল ইরশাদ করেন, দরিদ্রতার পূর্বে ধনাঢ্যতার কদর করবে। অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তা নিয়েই তুমি যখন সন্তুষ্ট। সুতরাং একে গনীমত মনে কর এবং অন্যের হাতে যা রয়েছে, তার প্রতি লোভ কর না।
রাসূল ইরশাদ করেন, মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে কদর করবে। কেননা, ব্যক্তির জীবন যতক্ষণ বিদ্যমান, ততক্ষণ সে আমল করতে পারবে। যখন মৃত্যু হয়ে যাবে, তখন আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং মুমিনের উচিত এ নশ্বর সময়কে বিনষ্ট না করা। বরং একে গনীমত মনে করে কাজে লাগানো।
ফারসী ভাষার জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন- শিশুকাল তুমি বাচ্চাদের সাথে খেলা-ধুলায় কাটিয়ে দিলে, যৌবন তুমি অমনোযোগ ও পাগলামিতে ব্যায় করলে, আর যখন বৃদ্ধ হলে তখন তো তুমি দুর্বল হয়ে পড়বে, তাহলে তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে কখন? অর্থাৎ, মৃত্যুর পর ইবাদত করা তোমার জন্য সম্ভব নয়। তাই যা কিছু করার এখনই করে নাও। কাজেই তুমি মালাকুল মওতের আগমনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর। প্রতিটি মুহূর্তে তার কথা স্মরণ রেখ। কারণ, সে তোমাকে মুহূর্তের জন্যও ভোলেনি।

টিকাঃ
৪৪. মুস্তাদরাকে হাকেম হাদীস-৭৮৪৬; শুআবুল ঈমান: হাদীস-১০২৪৮। হাদীসটি সহীহ সনদে ইবনে আব্বাস রাযি. হতে রাসূল থেকে বর্ণিত হয়েছে।
৪৫. মুসনাদে আহমাদ: ১৮/২৪৫ (১১৭১৬); মুসনাদে আবু ইয়া'লা হাদীস-১৩৮৬,১০৬১; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৩৯৪০। আল্লামা আজলুনী শাওয়াহেদ বিদ্যমান থাকায় তিনি হাদীসটিকে হাসান লিগইরিহী এর স্তরে গণ্য করেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রূহ কবজ এবং মালাকুল মওত কর্তৃক মৃতের পরিজনকে সম্বোধন

📄 রূহ কবজ এবং মালাকুল মওত কর্তৃক মৃতের পরিজনকে সম্বোধন


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ مَلَكَ الْمَوْتِ يَخْطُرُ كُلَّ يَوْمٍ فِي كُلِّ بَيْتٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ، فَإِذَا رَأَى رَجُلًا قَدْ فَرَغَ رِزْقُهُ، وَانْقَضَى أَجَلُهُ، أَلْقَى عَلَيْهِ مِنْ غَمِّ الْمَوْتِ، وَكُرَبَاتِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ يَتَشَرَّبُ الْعَرَقُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَتَغَيَّرُ أَلْوَانُهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَحْتَاجُ أَلْسِنَتُهُمْ وَمِنْهُمْ مَنْ تَذْرِفُ عَيْنَاهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يُغَرْغِرُ فِي صَدْرِهِ. فَيَقُولُ مَلَكُ الْمَوْتِ: مَا لَكُمْ؟ فَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا أَكَلْتُ لَهُ رِزْقًا، وَلَا أَفْنَيْتُ لَهُ عُمُرًا، وَلَا قَرَّبْتُ لَهُ أَجَلًا، وَإِنَّ لِي فِيكُمْ عَوْدَةٌ ثُمَّ عَوْدَةٌ حَتَّى لَا أُبْقِي مِنْكُمْ أَحَدًا. قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: وَالَّذِي نَفْسُ عَلِيِّ بِيَدِهِ لَوْ يَرَوْنَ مَكَانَهُ، وَيَسْمَعُونَ كَلَامَهُ، لَذَهِلُوا عَنْ مَيِّتِهِمْ، وَلَبَكَوْا عَلَى أَنْفُسِهِمْ.

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুল মওত প্রতিদিন পাঁচবার মানুষের বাড়িতে আসেন। যখন কারো রিযিক শেষ হয়ে যায় এবং মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন সে মৃত্যুর ভয়ে কাতর হয়ে পড়ে। কেউ কেউ ঘামতে থাকে। কারো কারো চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায়। কারো জিহ্বা শুকিয়ে যায়। কারো চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে। কারো কারো বুক ধড়ফড় করতে থাকে। তখন মালাকুল মওত তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কী হয়েছে তোমাদের? আমি তো তার রিযিক খাইনি, তার হায়াত কমিয়ে দেইনি এবং তার মৃত্যুও ঘনিয়ে আনিনি। তোমাদের কাছে আমি বারবার আসব, যতক্ষণ না তোমাদের সবাইকে নিয়ে যাব।
হযরত আলী রাযি. বলেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি মৃতের পরিবারের লোকেরা মৃত্যুর ফেরেশতার অবস্থা জানতে এবং তার কথা শুনতে পারত, তাহলে তারা মৃতের জন্য না কেঁদে নিজের জন্য কাঁদত। ২৫

টিকাঃ
২৫. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৭/২; ইমাম বুখারী রহ. এ বর্ণনার ব্যাপারে বলেছেন, এটি মানুষের কথা, হাদীস নয়। এর সনদও মজবুত নয়। [আত-তারীখুল কাবীর: ৮/৪৪]

عَنْ عَلَيَّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى مَلَكَ الْمَوْتِ عِنْدَ رَأْسِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : رُفُقْ بِصَاحِبِي فَإِنَّهُ مُؤْمِنٌ، فَقَالَ أَبْشِرْ يَا مُحَمَّدُ؛ فَإِني بِكُلِّ مُؤْمِنٍ رَفِيقٌ، وَاللهِ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي لَأَقْبِضُ رُوحَ ابْنِ آدَمَ فَإِذَا صَرَخَ صَارِخُ مِنْ أَهْلِهِ قُلْتُ : مَا هُذَا الصُّرَاحُ، فَوَ اللهِ مَا ظَلَمْنَاهُ وَلَا سَبَقْنَا أَجَلَهُ، وَلَا اسْتَعْجَلْنَا قَدَرَهُ، فَمَا لَنَا فِي قَبْضَةٍ مِنْ ذَنْبٍ، فَإِنْ تَرْضَوْا بِمَا صَنَعَ اللَّهُ تُؤْجَرُوا وَإِنْ تَسْخَطُوا أَوْ تَجْزَعُوا تَأْتَمُوا وَتُؤْزَرُوا وَمَا لَكُمْ عِنْدَنَا مِنْ عُتْبَةٍ، وَإِنَّ لَنَا عَلَيْكُمْ لَبَقِيَّةً وَعَوْدَةً، فَالْحَذَرَ الْحَذَرَ، وَمَا مِنْ أَهْلِ بَيْتِ شَعْرٍ أَوْ مَدَرٍ فِي بَرَّ أَوْ بَحْرٍ إِلَّا وَأَنَا أَتَصَفَحُ وُجُوهَهُمْ فِي كُلِّ يَوْমٍ وَلَيْلَةٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ، حَتَّى إِنِّي لَأَعْرِفُ صَغِيرَهُمْ وَكَبِيرَهُمْ، وَأَعْرَفُ مِنْهُمْ بِأَنْفُسِهِمْ، وَاللَّهِ يَا مُحَمَّدُ لَوْ أَنِّي أَرَدْتُ أَنْ أَقْبِضَ رُوحَ بَعُوضَةٍ مَا قَدِرْتُ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى يَكُون اللَّهُ تَعَالَى هُوَ الْآمِرُ بِقَبْضِهَا.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত- রাসূল জনৈক আনসারের মাথার সম্মুখে মালাকুল মওতকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। রাসূল তাকে বললেন, আমার সঙ্গীর সঙ্গে তুমি কোমল আচরণ কর। কারণ, সে মুমিন। মালাকুল মওত তাকে বললেন, হে মুহাম্মদ! সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আমি প্রত্যেক মুমিনের জন্যই কোমল। আল্লাহর শপথ! হে মুহাম্মদ! আমি যখন কোনো আদম সন্তানের রূহ কবজ করতে যাই, তখন তার পরিবারের কেউ চিৎকার করে উঠে। আমি বলি, এই চিৎকার কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তার উপর জুলুম করিনি। সুতরাং তার রূহ কবজ করে আমি তো গুনাহ করিনি। আল্লাহ যা করেছেন, সে ব্যাপারে যদি তোমরা সন্তোষ প্রকাশ কর, তবে তোমরা প্রতিদান পাবে। যদি অসন্তুষ্ট হয়ে বিলাপ জুড়ে দাও, তবে গুনাহ করলে এবং অপরাধী হলে। তোমরা আমাকে দোষ দেয়ার কিছু নেই। বরং তোমাদের নিকট আমার পাওনা আছে, আমি ফিরে আসব। তাই সতর্ক হও! জগতের এমন কোনো বাসিন্দা নেই, প্রতি রাতে ও প্রতি দিনে আমি যার চেহারা পাঁচবার দেখি না। আমি তাদের ছোট-বড় সকলকে চিনি, বরং তাদের নিজেদের তুলনায় আমি তাদেরকে অধিক চিনি। আল্লাহর শপথ! হে মুহাম্মদ! আমি যদি কোনো মাছির রূহ কবজ করতে চাই, তবে সক্ষম হব না, যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলা তা কবজের নির্দেশ প্রদান করেন।

টিকাঃ
৪৬. আল-মুজামুল কাবীর, ত্ববারানী হাদীস-৪১৮৮; হাদীসটির সনদে আমর বিন শমর জুফী নামে রাফেজী মিথ্যাবাদী রাবী থাকায় শায়েখ আলবানী রহ. হাদীসটিকে জাল বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কবর হবে জান্নাতের উদ্যান কিংবা জাহান্নামের গর্ত

📄 কবর হবে জান্নাতের উদ্যান কিংবা জাহান্নামের গর্ত


فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْقَبْرُ إِمَّا رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ أَوْ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ النِّيرَانِ.
রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কবর হবে জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যে কোনো বাগান কিংবা জাহান্নামের গর্তসমূহের কোনো গর্ত। ২৬

عَنْ هَانِيِّ مَوْلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ عُثْمَانَ كَانَ إِذَا وَقَفَ عَلَى الْقَبْرِ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ. فَقِيلَ لَهُ: تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي، وَتَبْكِي مِنْ هَذَا؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْقَبْرُ أَوَّلُ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ، فَإِنْ نَجَا مِنْهُ، فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ، وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ.

হযরত উসমান রাযি.-এর মুক্তদাস হানি রহ. বলেন, উসমান রাযি. যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন তিনি এত কাঁদতেন যে, তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে বলা হলো, জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনায় তো আপনি কাঁদেন না, কবরের পাশে কেন কাঁদেন? তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, কবর হলো, আখেরাতের প্রথম মনযিল। যে ব্যক্তি এখানে মুক্তি পাবে, তার পরবর্তী মনযিলগুলো আরো সহজ হয়ে যাবে। আর যে এখানে মুক্তি পাবে না, তার পরবর্তী মনযিলগুলো এর চেয়েও কঠিন হবে। ২৭

টিকাঃ
২৬. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৬০; আল-মুজামুল কাবীর: ১২/৩৮৩; হাদীসটি হাসান।
২৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩০৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৬৭; ইমাম তিরমিযী ও হাকেম হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

رَوَى أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ. أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ رأَى أُنَاسًا يَضْحَكُوْنَ فَقَالَ : أَمَا إِنَّكُمْ لَوْ أَكْثَرْتُمْ مِنْ ذِكْرِ هَاذِهِ اللَّذَاتِ لَشَغَلَكُمْ عَمَّا أَرَى. ثُمَّ قَالَ : أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ يَعْنِي الْمَوْتَ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّمَا الْقَبْرُ رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ أَوْ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ النَّارِ.
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বর্ণনা করেন, একবার রাসূল কয়েকজন ব্যক্তিকে হাস্যরত দেখতে পেলেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, যদি তোমরা যাবতীয় স্বাদ বিস্বাদকারী মৃত্যুর স্মরণ অধিক হারে করতে, তবে আমি তোমাদেরকে যাতে লিপ্ত দেখছি, তোমাদেরকে তা থেকে বিরত রাখত। অতঃপর বললেন, যাবতীয় স্বাদ হরণকারী মৃত্যুর স্মরণ অধিকহারে কর। এরপর বললেন, কবর হবে হয়তো জান্নাতের একটি উদ্যান কিংবা জাহান্নামের গর্ত।

টিকাঃ
৪৭. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২৪৬০,২৩০৭; সুনানে নাসায়ী হাদীস-১৮২৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২৫৮। হাদীসটির সনদ জয়ীফ। তবে হাদীসের প্রথম অংশটি সহীহ যা আবু হুরায়রা থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية