📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 মৃত্যুর কঠিন অবস্থা

📄 মৃত্যুর কঠিন অবস্থা


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ هَلْ فِي الدُّنْيَا شَيْءٌ هُوَ أَشَدُّ مِنَ الْمَوْتِ؟ قَالَ: نَعَمْ كُلُّ الدُّنْيَا أَشَدُّ مِنَ الْمَوْتِ، لِأَنَّ الْمَوْتَ رَاحَةُ لِلْمُؤْمِنِ، وَالدُّنْيَا سِجْنُهُ، وَالْمَوْتُ أَهْوَنُ مِمَّا بَعْدَهُ، وَأَمَّا فِي الْكَافِرِ فَإِنَّ الْمَوْتَ أَشَدُّ عَلَيْهِ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ، وَأَشَدُّ مِنْهُ مَا بَعْدَهُ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়াতে কি মৃত্যুর চেয়ে কোনো ভয়ঙ্কর বিষয় আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, মুমিনের জন্য দুনিয়ার জীবন মৃত্যুর চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর। কারণ, মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো বিশ্রাম আর দুনিয়া হলো জেলখানা। আর মৃত্যুর পর যা আসবে তা মৃত্যুর চেয়েও সহজ হবে। তবে কাফেরদের জন্য মৃত্যুই সব থেকে ভয়ঙ্কর, আর মৃত্যুর পর যা আসবে তা তার চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর। ২২

টিকাঃ
২২. হাদীসটি ইবনুল জাওযী তার মাউযূআত গ্রন্থে সংকলন করেছেন এবং এর সনদের বিষয়ে কথা রয়েছে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 সূক্ষ্ম ইলম

📄 সূক্ষ্ম ইলম


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَتِ امْرَأَةٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ؟ قَالَ: الَّذِي يَجْمَعُ عِلْمَ النَّاسِ إِلَى عِلْمِهِ، قَالَتْ : يَا رَسُولَ اللهِ فَأَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ عِبَادَةٌ؟ قَالَ: الَّذِي يَتَذَكَّرُ الْمَوْتَ قَالَتْ: فَأَيُّهُمْ أَفْضَلُ؟ قَالَ: الَّذِي يَتْرُكُ مَا لَا يَعْنِيهِ.

হযরত আবু উমামা রাযি. বলেন, একবার রাসূল ﷺ-এর নিকট জনৈকা মহিলা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি সবচেয়ে জ্ঞানী? রাসূল বললেন, যে ব্যক্তি মানুষের ইলম থেকে জ্ঞান আহরণ করে নিজ ইলমের সাথে সংযুক্ত করে। সে জিজ্ঞেস করল, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বড় আবেদ? রাসূল বললেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে স্মরণ করে। মহিলা জিজ্ঞেস করল, সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি কে? রাসূল বললেন, যে অনর্থক কাজ ছেড়ে দেয়। ২৩

টিকাঃ
২৩. আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ, সাখাবী; হা-১১৪৮

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে গনিমত মনে কর

📄 পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে গনিমত মনে কর


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ وَهُوَ يَعِظُهُ اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغُلِكَ وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বললেন, পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিসের পূর্বে গনিমত মনে করবে-
১. বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনকে।
২. অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে।
৩. দরিদ্রতার পূর্বে সচ্ছলতাকে।
৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে।
৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে। ২৪

ٹکا:
২৪. মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস-৭৮৪৬; মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-২২৯০; সুনানে কুবরা লিল-বাইহাকী: হাদীস-১০৯৩৫; হাদীসটি সহীহ [হাকেম, যাহাবী, আলবানী প্রমুখ]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 রূহ কবজ এবং মালাকুল মওত কর্তৃক মৃতের পরিজনকে সম্বোধন

📄 রূহ কবজ এবং মালাকুল মওত কর্তৃক মৃতের পরিজনকে সম্বোধন


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ مَلَكَ الْمَوْتِ يَخْطُرُ كُلَّ يَوْمٍ فِي كُلِّ بَيْتٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ، فَإِذَا رَأَى رَجُلًا قَدْ فَرَغَ رِزْقُهُ، وَانْقَضَى أَجَلُهُ، أَلْقَى عَلَيْهِ مِنْ غَمِّ الْمَوْتِ، وَكُرَبَاتِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ يَتَشَرَّبُ الْعَرَقُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَتَغَيَّرُ أَلْوَانُهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَحْتَاجُ أَلْسِنَتُهُمْ وَمِنْهُمْ مَنْ تَذْرِفُ عَيْنَاهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يُغَرْغِرُ فِي صَدْرِهِ. فَيَقُولُ مَلَكُ الْمَوْتِ: مَا لَكُمْ؟ فَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا أَكَلْتُ لَهُ رِزْقًا، وَلَا أَفْنَيْتُ لَهُ عُمُرًا، وَلَا قَرَّبْتُ لَهُ أَجَلًا، وَإِنَّ لِي فِيكُمْ عَوْدَةٌ ثُمَّ عَوْدَةٌ حَتَّى لَا أُبْقِي مِنْكُمْ أَحَدًا. قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: وَالَّذِي نَفْسُ عَلِيِّ بِيَدِهِ لَوْ يَرَوْنَ مَكَانَهُ، وَيَسْمَعُونَ كَلَامَهُ، لَذَهِلُوا عَنْ مَيِّتِهِمْ، وَلَبَكَوْا عَلَى أَنْفُسِهِمْ.

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুল মওত প্রতিদিন পাঁচবার মানুষের বাড়িতে আসেন। যখন কারো রিযিক শেষ হয়ে যায় এবং মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন সে মৃত্যুর ভয়ে কাতর হয়ে পড়ে। কেউ কেউ ঘামতে থাকে। কারো কারো চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায়। কারো জিহ্বা শুকিয়ে যায়। কারো চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে। কারো কারো বুক ধড়ফড় করতে থাকে। তখন মালাকুল মওত তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কী হয়েছে তোমাদের? আমি তো তার রিযিক খাইনি, তার হায়াত কমিয়ে দেইনি এবং তার মৃত্যুও ঘনিয়ে আনিনি। তোমাদের কাছে আমি বারবার আসব, যতক্ষণ না তোমাদের সবাইকে নিয়ে যাব।
হযরত আলী রাযি. বলেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি মৃতের পরিবারের লোকেরা মৃত্যুর ফেরেশতার অবস্থা জানতে এবং তার কথা শুনতে পারত, তাহলে তারা মৃতের জন্য না কেঁদে নিজের জন্য কাঁদত। ২৫

টিকাঃ
২৫. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৭/২; ইমাম বুখারী রহ. এ বর্ণনার ব্যাপারে বলেছেন, এটি মানুষের কথা, হাদীস নয়। এর সনদও মজবুত নয়। [আত-তারীখুল কাবীর: ৮/৪৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00