📄 ফরজ ইবাদতে লৌকিকতা
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ : مَنْ صَلَّى مَعَ النَّاسِ فَلْيُكْمِلْ صَلَاتَهُ فَإِنْ تَرَكَ فَقَدْ جَهِلَ وَإِنْ زَادَ فِيهَا فَقَدْ أَدْخَلَ الرِّيَاءَ. وَرُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّهُ قَالَ: كَانُوا يَكْرَهُونَ الرِّيَاءَ فِي كُلِّ عَمَلٍ فِي الْجِهَادِ، وَالْحَجِّ، وَالصَّدَقَةِ، وَالصَّلَاةِ، وَفِي كُلِّ عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ الْبِرِّ وَالْخَيْرِ.
হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. বলেন, যে ব্যক্তি জামাতে নামায পড়বে, সে যেন তার নামাযকে পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে। কেউ যদি নামাযের কোনো রোকন ছেড়ে দেয় তাহলে সে মূর্খ। আর যদি তাতে কিছু অতিরিক্ত করে তাহলে সে রিয়াকার।
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্ববর্তীরা জিহাদ, হজ্ব, সদকা, নামায এবং অন্য যেকোনো নেক আমলে রিয়াকে অপছন্দ করতেন।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, মানুষের ফরয ইবাদত নিয়ে মনীষীগণ নানান অভিমত ব্যক্ত করেছেন- কেউ বলেন, তাতে রিয়া প্রবেশ করতে পারে না। কারণ, তা সমভাবে সকলের উপর ফরয। আর নিজের উপর যা ফরয তাতে রিয়া প্রবেশ করতে পারে না। অপর কেউ বলেন, ফরয ও অন্যান্য সকল ইবাদতে রিয়া প্রবেশ করতে পারে। ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, আমার নিকট বিষয়টি দু ধরনের। ১. যদি ব্যক্তি এমন হয় যে, ফরয ইবাদত সে লোক দেখানোর জন্যই করে থাকে, লোক দেখানোর বিষয়টি না থাকলে সে তা আদায় করে না, তাহলে এমন ব্যক্তি পূর্ণ মুনাফিক। এ ব্যক্তি সে দলভুক্ত, যাদের ব্যাপারে কুরআনে এসেছে- إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا অর্থ: মুনাফিকরা থাকবে আগুনের নিম্নতম স্তরে। অর্থাৎ হাবিয়া দোযখে ফেরাউনের বংশধরের সাথে তার জাহান্নাম হবে। কারণ, যদি তার বিশ্বাস শুদ্ধ হতো এবং এককভাবে আল্লাহর জন্য নিবেদিত হতো তবে সে অত্যন্ত নিরালায় ফরয পালনে দ্বিধা করত না। ২. আর যদি বিষয়টি এমন হয় যে, উক্ত ব্যক্তি ফরজ আদায় করে। কিন্তু মানুষের সম্মুখে পূর্ণরূপে আদায় করে। কিন্তু নিরালায় ততটা পূর্ণরূপে আদায় করে না। তবে তার জন্য পূর্ণ সওয়াব নির্ধারণ করা হবে না। পরকালে তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।
টিকাঃ
৩৫. সূরা নিসা: আয়াত-১৪৫