📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রিয়ার ভয়ে আমল ত্যাগ না করা চাই

📄 রিয়ার ভয়ে আমল ত্যাগ না করা চাই


عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، أَنَّهُ قَالَ: تَرْكُ الْعَمَلِ مِنْ أَجْلِ النَّاسِ هُوَ الرِّيَاءُ، وَالْعَمَلُ مِنْ أَجْلِ النَّاسِ هُوَ الشَّرْكُ، وَالْإِخْلَاصُ أَنْ يُعَافِيَكَ اللَّهُ مِنْهُمَا.

হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ. বলেন, মানুষের কারণে আমল ছেড়ে দেওয়া রিয়া, আর মানুষের জন্য আমল করা শিরক। ইখলাস হলো এ দু'টি থেকে বেঁচে থাকা। ২১

টিকাঃ
২১. শুআবুল ঈমান, হাদীস-৬৮৭৯; ইমাম নববী বলেন, বর্ণনাটির সনদ হাসান। দেখুন, শরহে মুহাযযাব: ১/২৭

কথিত আছে, রিয়াকারী ব্যক্তিদের মৃত্যুর ফলে দুনিয়া বিরান হয়ে পড়েছে। কারণ, তারাও তো কিছু সৎকর্ম করত। যেমন ছাউনি, পুল মসজিদ ইত্যাদি নির্মাণ করত। এতে মানুষের উপকার হতো। যদিও তা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে হতো। কোনো সময় মুসলমানের কারো দোয়া তার উপকারে আসতে পারে। কোনো এক নেককার লোক থেকে বর্ণিত আছে, তিনি একবার মানুষের জন্য অশ্বশালা নির্মাণ করে মনে মনে ভাবলেন, আমার এ আমলটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হলো, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে? রাতে তিনি স্বপ্নে দেখতে পেলেন, এক ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে, তোমার আমল আল্লাহর জন্য না হলেও ক্ষতি নেই। কারণ, যারা এর সুবিধা ভোগ করবে তারা তোমার জন্য দোয়া করবে। আর তাদের দোয়া একমাত্র আল্লাহর জন্যই হবে। এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। হযরত হুযাইফা বিন ইয়ামান রাযি.-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহ! মুনাফিকদের ধ্বংস করুন! এ কথা শুনে হুযাইফা রাযি. বললেন, যদি তারা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে তোমরা শত্রুদের অর্ধেক হয়ে যাবে। কারণ, তারা মুনাফিক হলেও তোমাদের সাথে যুদ্ধে যায় এবং তোমাদের পক্ষ হয়ে শত্রু নিধনে যোগ দেয়। হযরত সালমান ফারসী রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। আল্লাহ মুনাফিকদের দ্বারা মুমিনদের শক্তিশালী করেন এবং মুমিনদের দাওয়াতের মাধ্যমে মুনাফিকদেরকে সহযোগিতা করেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ফরজ ইবাদতে লৌকিকতা

📄 ফরজ ইবাদতে লৌকিকতা


عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ : مَنْ صَلَّى مَعَ النَّاسِ فَلْيُكْمِلْ صَلَاتَهُ فَإِنْ تَرَكَ فَقَدْ جَهِلَ وَإِنْ زَادَ فِيهَا فَقَدْ أَدْخَلَ الرِّيَاءَ. وَرُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّهُ قَالَ: كَانُوا يَكْرَهُونَ الرِّيَاءَ فِي كُلِّ عَمَلٍ فِي الْجِهَادِ، وَالْحَجِّ، وَالصَّدَقَةِ، وَالصَّلَاةِ، وَفِي كُلِّ عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ الْبِرِّ وَالْخَيْرِ.

হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. বলেন, যে ব্যক্তি জামাতে নামায পড়বে, সে যেন তার নামাযকে পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে। কেউ যদি নামাযের কোনো রোকন ছেড়ে দেয় তাহলে সে মূর্খ। আর যদি তাতে কিছু অতিরিক্ত করে তাহলে সে রিয়াকার।
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্ববর্তীরা জিহাদ, হজ্ব, সদকা, নামায এবং অন্য যেকোনো নেক আমলে রিয়াকে অপছন্দ করতেন।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, মানুষের ফরয ইবাদত নিয়ে মনীষীগণ নানান অভিমত ব্যক্ত করেছেন- কেউ বলেন, তাতে রিয়া প্রবেশ করতে পারে না। কারণ, তা সমভাবে সকলের উপর ফরয। আর নিজের উপর যা ফরয তাতে রিয়া প্রবেশ করতে পারে না। অপর কেউ বলেন, ফরয ও অন্যান্য সকল ইবাদতে রিয়া প্রবেশ করতে পারে। ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, আমার নিকট বিষয়টি দু ধরনের। ১. যদি ব্যক্তি এমন হয় যে, ফরয ইবাদত সে লোক দেখানোর জন্যই করে থাকে, লোক দেখানোর বিষয়টি না থাকলে সে তা আদায় করে না, তাহলে এমন ব্যক্তি পূর্ণ মুনাফিক। এ ব্যক্তি সে দলভুক্ত, যাদের ব্যাপারে কুরআনে এসেছে- إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا অর্থ: মুনাফিকরা থাকবে আগুনের নিম্নতম স্তরে। অর্থাৎ হাবিয়া দোযখে ফেরাউনের বংশধরের সাথে তার জাহান্নাম হবে। কারণ, যদি তার বিশ্বাস শুদ্ধ হতো এবং এককভাবে আল্লাহর জন্য নিবেদিত হতো তবে সে অত্যন্ত নিরালায় ফরয পালনে দ্বিধা করত না। ২. আর যদি বিষয়টি এমন হয় যে, উক্ত ব্যক্তি ফরজ আদায় করে। কিন্তু মানুষের সম্মুখে পূর্ণরূপে আদায় করে। কিন্তু নিরালায় ততটা পূর্ণরূপে আদায় করে না। তবে তার জন্য পূর্ণ সওয়াব নির্ধারণ করা হবে না। পরকালে তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।

টিকাঃ
৩৫. সূরা নিসা: আয়াত-১৪৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px