📄 আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা পরিত্যাগ কর
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ، وَلَا لِتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ وَلَا لِتُصَرِّفُوا بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْكُمْ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَهُوَ فِي النَّارِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা ইলম অর্জন কর, কিন্তু আলেমদের উপর বড়াই করার জন্য নয়। মূর্খদের সাথে তর্ক করার জন্য নয়, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নয়। যে ব্যক্তি এর কোনো একটির জন্য ইলম অর্জন করে সে জাহান্নামী।১৮
عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: أَنَا خَيْرُ شَرِيكٍ، فَمَنْ أَشْرَكَ مَعِي شَرِيكًا، فَهُوَ لِشَرِيكِهِ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَخْلِصُوا الْأَعْمَالَ لِلَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا خَلُصَ لَهُ، وَلَا تَقُولُوا هُذَا لِلَّهِ وَلِلرَّحِمِ، فَإِنَّهَا لِلرَّحِمِ، وَلَيْسَ لِلَّهِ فِيهِ شَيْءٌ، وَلَا تَقُولُوا: هَذَا لِلَّهِ وَلِوُجُوهِكُمْ، فَإِنَّهَا لِوُجُوهِكُمْ، وَلَيْسَ لِلَّهِ مِنْهَا شَيْءٌ.
হযরত যাহহাক ইবনে কায়েস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আমি উত্তম শরীক। যে ব্যক্তি আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করে, সে তার জন্যই কাজ করে, আমার জন্য নয়। হে মানব সকল! তোমরা শুধু আল্লাহর জন্যই ইখলাসের সাথে আমল কর। কারণ, আল্লাহ তা'আলা শুধু ঐ আমলই গ্রহণ করেন যা ইখলাসের সাথে করা হয়। তোমরা কখনো এ কথা বলবে না যে, এই কাজ আল্লাহ ও আত্মীয়ের জন্য। এমন বললে তা আত্মীয়ের জন্যই হবে, আল্লাহর জন্য কিছুই হবে না। এমনও বলবে না যে, এই কাজ আল্লাহ ও তোমাদের সন্তুষ্টির জন্য। এমন বললে তা তোমাদের জন্যই হবে, আল্লাহর জন্য কিছুই হবে না।১৯
عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ: يُؤْتَى بِالْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَقَدْ عَمِلَ الْعَمَلَ الصَّالِحَ، فَيَجِيءُ يَتَصَاعَدُ فِي مِيزَانِهِ، فَيَجْعَلُ لَهُ نُورًا، وَتَكْتُبُ لَهُ الْحَفَظَةُ فِي أَحْسَنِ صُحُفِهِمْ، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ: رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنْ عَبْدِكَ كَذَا وَكَذَا مِنْ عَمَلِهِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِلْمَلَائِكَةِ : إِنَّكُمْ حَفَظَةً عَلَى عَمَلِ عَبْدِي، وَأَنَا رَقِيبٌ عَلَى مَا فِي نَفْسِهِ، إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلُ هَذَا الْعَمَلَ لِي أَلْقُوهُ فِي سِجِّينِ.
সুফইয়ান সাওরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে, যে অনেক নেক আমল করেছে। আমলগুলো আসমানে চড়তে থাকবে। সেগুলো থেকে নূর বিচ্ছুরিত হবে। ফেরেশতারা তার জন্য সর্বোত্তম আকারে সেগুলো লিপিবদ্ধ করবেন। ফেরেশতাগণ আল্লাহর দরবারে তার আমল পেশ করে বলবেন, হে আমাদের রব! আপনার এই বান্দার আমলগুলো কবুল করুন। আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, তোমরা ছিলে তার আমলের তত্ত্বাবধায়ক। আর আমি তার অন্তরের খবর রাখি। সে আমার জন্য এই আমলগুলো করেনি। এগুলো সিজ্জীনে নিক্ষেপ কর।
وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: يُجَاءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصُحُفٍ مَخْتُومَةٍ، فَيُنْصَبُ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ تَعَالَى، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : أَلْقُوا هَذَا، وَاقْبَلُوا هَذَا فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ : يَا رَبَّنَا مَا رَأَيْنَا إِلَّا خَيْرًا. فَيَقُولُ: إِنَّ هَذَا كَانَ لِغَيْرِي، وَإِنِّي لَا أَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا ابْتُغِيَ بِهِ وَجْهِي.
হযরত আনাস রাযি. বলেন, কিয়ামতের দিন সীলমোহর করা আমলনামা আল্লাহর সামনে পেশ করা হবে। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, এটি নিক্ষেপ কর, ওটি গ্রহণ কর। তখন ফেরেশতাগণ বলবেন, রব! আমরা তো তার ভালো ছাড়া কিছু দেখিনি। আল্লাহ বলবেন, এগুলো আমার জন্য ছিল না। আর আমি একমাত্র আমার সন্তুষ্টির জন্য করা আমলই গ্রহণ করি। ২০
وَقَالَ بَعْضُ الْحُكَمَاءِ: الْمُخْلِصُ الَّذِي يَعْمَلُ الطَّاعَةَ، وَيُحِبُّ أَنْ يَعْمَلَ لِيُكْرِمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَالْمُرَائِيُّ الَّذِي يَعْمَلُ الطَّاعَةَ وَيُحِبُّ أَنْ يُكْرِمَهُ النَّاسُ فِي الدُّنْيَا.
জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, মুখলিস সে, যে এই উদ্দেশ্যে আমল করে যে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে সম্মানিত করবেন। আর রিয়াকারী সে, যে এই উদ্দেশ্যে আমল করে যে, মানুষ তাকে দুনিয়াতে সম্মান করবে।
টিকাঃ
১৮. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২৫২; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/১৬৫; হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাঁর সমর্থন করেছেন।
১৯. সুনানে দারাকুতনী: হাদীস-৫০; সুনানে কুবরা লিল-বাইহাকী: হাদীস-১৯৪৫১; হাদীসটি হাসান [শায়েখ শুয়াইব আরনাউত]।
২০. মুসনাদে বায্যার: হাদীস-৭৪৪১; মুজামুল আওসাত: হাদীস-৬৪০২; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির রাবীগণ বিশ্বস্ত তবে আনাস রাযি. থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২২৫]
📄 রিয়ার ভয়ে আমল ত্যাগ না করা চাই
عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، أَنَّهُ قَالَ: تَرْكُ الْعَمَلِ مِنْ أَجْلِ النَّاسِ هُوَ الرِّيَاءُ، وَالْعَمَلُ مِنْ أَجْلِ النَّاسِ هُوَ الشَّرْكُ، وَالْإِخْلَاصُ أَنْ يُعَافِيَكَ اللَّهُ مِنْهُمَا.
হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ. বলেন, মানুষের কারণে আমল ছেড়ে দেওয়া রিয়া, আর মানুষের জন্য আমল করা শিরক। ইখলাস হলো এ দু'টি থেকে বেঁচে থাকা। ২১
টিকাঃ
২১. শুআবুল ঈমান, হাদীস-৬৮৭৯; ইমাম নববী বলেন, বর্ণনাটির সনদ হাসান। দেখুন, শরহে মুহাযযাব: ১/২৭
📄 ফরজ ইবাদতে লৌকিকতা
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ : مَنْ صَلَّى مَعَ النَّاسِ فَلْيُكْمِلْ صَلَاتَهُ فَإِنْ تَرَكَ فَقَدْ جَهِلَ وَإِنْ زَادَ فِيهَا فَقَدْ أَدْخَلَ الرِّيَاءَ. وَرُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّهُ قَالَ: كَانُوا يَكْرَهُونَ الرِّيَاءَ فِي كُلِّ عَمَلٍ فِي الْجِهَادِ، وَالْحَجِّ، وَالصَّدَقَةِ، وَالصَّلَاةِ، وَفِي كُلِّ عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ الْبِرِّ وَالْخَيْرِ.
হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. বলেন, যে ব্যক্তি জামাতে নামায পড়বে, সে যেন তার নামাযকে পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে। কেউ যদি নামাযের কোনো রোকন ছেড়ে দেয় তাহলে সে মূর্খ। আর যদি তাতে কিছু অতিরিক্ত করে তাহলে সে রিয়াকার।
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্ববর্তীরা জিহাদ, হজ্ব, সদকা, নামায এবং অন্য যেকোনো নেক আমলে রিয়াকে অপছন্দ করতেন।