📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 সালেহ (পুণ্যবান) ব্যক্তির পরিচয়

📄 সালেহ (পুণ্যবান) ব্যক্তির পরিচয়


عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ الصَّالِحِ، فَقَالَ : الرَّجُلُ الصَّالِحُ الَّذِي يُعْطِيَ اللهُ مِنْ نَفْسِهِ بِالْإِنْصَافِ، وَيَأْخُذُ مِنْهَا بِالْحَقِّ

হযরত আমর ইবনুল আস রাযি. কে صالح (পুণ্যবান) ব্যক্তির পরিচয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, সালেহ বা সৎকর্মশীল ব্যক্তি হলো, যে ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট ইনসাফ করে এবং হক অনুসারে তা গ্রহণ করে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 মুমিন ও পাপাচারীর পরিচয়

📄 মুমিন ও পাপাচারীর পরিচয়


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: قُلُوبُ الْفُجَّارِ فِي حناجِرِهِمْ، وَقُلُوبُ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ دُونِ صُدُورِهِمْ يَعْنِي أَنَّ الْمُؤْمِنَ يَتَدَبَّرُ فِي قَلْبِهِ قَبْلَ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ، فَيَكُونُ هَمُّهُ لِآخِرَتِهِ، وَأَمَّا الْفَاجِرُ فَهَمُّهُ كُلُّهُ لِلدُّنْيَا لَا يَتَدَبَّرُ الْأُمُورَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, গুনাহগারদের কলব তাদের কণ্ঠনালিতে থাকে আর মুমিনদের কলব থাকে তাদের বক্ষের নীচে। অর্থাৎ মুমিন যা করার ইচ্ছা করে তা করার পূর্বে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং তার সকল কাজের উদ্দেশ্য হয় আখেরাত। পক্ষান্তরে গুনাহগারদের কোনো কাজের উদ্দেশ্যই আখেরাত হয় না, তাদের সকল কাজের উদ্দেশ্য দুনিয়া। তারা কাজের পরিণাম নিয়ে চিন্তা করে না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 অসৎ নিয়ত ও অন্তরের দুরাচারের প্রতিফল

📄 অসৎ নিয়ত ও অন্তরের দুরাচারের প্রতিফল


عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : يُؤْخَذُ الْعَبْدُ بِعَمَلِ قَلْبِهِ وَيَدِهِ، يَعْنِي إِذَا نَوَى شَيْئًا وَعَمِلَ بِهِ يُؤْخَذُ بِهِ وَسَيُحَاسَبُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَمَّا كَانَتْ نِيَّتُهُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ لِلَّهِ فَلَا تَبِعَةَ عَلَيْهِ وَإِنْ كَانَتْ لِغَيْرِ اللهِ يُؤْخَذُ بِهَا، ثُمَّ قَرَأَ قَوْلَهُ تَعَالَى: يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ (الطارق : ۹) أَيْ تُظْهَرُ مَا كَانَتْ نِيَّتُهُ فِيمَا كَانَ يَعْمَلُ مِنَ الْخَيْرِ وَالشَّرِّ.

হযরত আহনাফ ইবনে কায়েস রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, বান্দার অন্তরের ইচ্ছা ও হাতের কর্মের কারণে তাকে পাকড়াও করা হবে। অর্থাৎ, কোনো কাজ করার জন্য সে যে নিয়ত করে তার ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। যদি তার নিয়ত আল্লাহর জন্য হয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই, আর যদি অন্য কারো জন্য হয় তাহলে তাকে পাকড়াও করা হবে। অতঃপর রাসূল কুরআনের এই আয়াত পাঠ করলেন,
يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ
অর্থ: যেদিন সবকিছু প্রকাশিত হয়ে পড়বে। ১৭
অর্থাৎ, তার নেক আমলের উদ্দেশ্য সেদিন প্রকাশ করে দেওয়া হবে।

টিকাঃ
১৭. সূরা তারিক : আয়াত-৯

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা পরিত্যাগ কর

📄 আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা পরিত্যাগ কর


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ، وَلَا لِتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ وَلَا لِتُصَرِّفُوا بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْكُمْ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَهُوَ فِي النَّارِ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা ইলম অর্জন কর, কিন্তু আলেমদের উপর বড়াই করার জন্য নয়। মূর্খদের সাথে তর্ক করার জন্য নয়, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নয়। যে ব্যক্তি এর কোনো একটির জন্য ইলম অর্জন করে সে জাহান্নামী।১৮

عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: أَنَا خَيْرُ شَرِيكٍ، فَمَنْ أَشْرَكَ مَعِي شَرِيكًا، فَهُوَ لِشَرِيكِهِ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَخْلِصُوا الْأَعْمَالَ لِلَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا خَلُصَ لَهُ، وَلَا تَقُولُوا هُذَا لِلَّهِ وَلِلرَّحِمِ، فَإِنَّهَا لِلرَّحِمِ، وَلَيْسَ لِلَّهِ فِيهِ شَيْءٌ، وَلَا تَقُولُوا: هَذَا لِلَّهِ وَلِوُجُوهِكُمْ، فَإِنَّهَا لِوُجُوهِكُمْ، وَلَيْسَ لِلَّهِ مِنْهَا شَيْءٌ.

হযরত যাহহাক ইবনে কায়েস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আমি উত্তম শরীক। যে ব্যক্তি আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করে, সে তার জন্যই কাজ করে, আমার জন্য নয়। হে মানব সকল! তোমরা শুধু আল্লাহর জন্যই ইখলাসের সাথে আমল কর। কারণ, আল্লাহ তা'আলা শুধু ঐ আমলই গ্রহণ করেন যা ইখলাসের সাথে করা হয়। তোমরা কখনো এ কথা বলবে না যে, এই কাজ আল্লাহ ও আত্মীয়ের জন্য। এমন বললে তা আত্মীয়ের জন্যই হবে, আল্লাহর জন্য কিছুই হবে না। এমনও বলবে না যে, এই কাজ আল্লাহ ও তোমাদের সন্তুষ্টির জন্য। এমন বললে তা তোমাদের জন্যই হবে, আল্লাহর জন্য কিছুই হবে না।১৯

عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ: يُؤْتَى بِالْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَقَدْ عَمِلَ الْعَمَلَ الصَّالِحَ، فَيَجِيءُ يَتَصَاعَدُ فِي مِيزَانِهِ، فَيَجْعَلُ لَهُ نُورًا، وَتَكْتُبُ لَهُ الْحَفَظَةُ فِي أَحْسَنِ صُحُفِهِمْ، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ: رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنْ عَبْدِكَ كَذَا وَكَذَا مِنْ عَمَلِهِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِلْمَلَائِكَةِ : إِنَّكُمْ حَفَظَةً عَلَى عَمَلِ عَبْدِي، وَأَنَا رَقِيبٌ عَلَى مَا فِي نَفْسِهِ، إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلُ هَذَا الْعَمَلَ لِي أَلْقُوهُ فِي سِجِّينِ.

সুফইয়ান সাওরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে, যে অনেক নেক আমল করেছে। আমলগুলো আসমানে চড়তে থাকবে। সেগুলো থেকে নূর বিচ্ছুরিত হবে। ফেরেশতারা তার জন্য সর্বোত্তম আকারে সেগুলো লিপিবদ্ধ করবেন। ফেরেশতাগণ আল্লাহর দরবারে তার আমল পেশ করে বলবেন, হে আমাদের রব! আপনার এই বান্দার আমলগুলো কবুল করুন। আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, তোমরা ছিলে তার আমলের তত্ত্বাবধায়ক। আর আমি তার অন্তরের খবর রাখি। সে আমার জন্য এই আমলগুলো করেনি। এগুলো সিজ্জীনে নিক্ষেপ কর।

وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: يُجَاءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصُحُفٍ مَخْتُومَةٍ، فَيُنْصَبُ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ تَعَالَى، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : أَلْقُوا هَذَا، وَاقْبَلُوا هَذَا فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ : يَا رَبَّنَا مَا رَأَيْنَا إِلَّا خَيْرًا. فَيَقُولُ: إِنَّ هَذَا كَانَ لِغَيْرِي، وَإِنِّي لَا أَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا ابْتُغِيَ بِهِ وَجْهِي.

হযরত আনাস রাযি. বলেন, কিয়ামতের দিন সীলমোহর করা আমলনামা আল্লাহর সামনে পেশ করা হবে। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, এটি নিক্ষেপ কর, ওটি গ্রহণ কর। তখন ফেরেশতাগণ বলবেন, রব! আমরা তো তার ভালো ছাড়া কিছু দেখিনি। আল্লাহ বলবেন, এগুলো আমার জন্য ছিল না। আর আমি একমাত্র আমার সন্তুষ্টির জন্য করা আমলই গ্রহণ করি। ২০

وَقَالَ بَعْضُ الْحُكَمَاءِ: الْمُخْلِصُ الَّذِي يَعْمَلُ الطَّاعَةَ، وَيُحِبُّ أَنْ يَعْمَلَ لِيُكْرِمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَالْمُرَائِيُّ الَّذِي يَعْمَلُ الطَّاعَةَ وَيُحِبُّ أَنْ يُكْرِمَهُ النَّاسُ فِي الدُّنْيَا.

জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, মুখলিস সে, যে এই উদ্দেশ্যে আমল করে যে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে সম্মানিত করবেন। আর রিয়াকারী সে, যে এই উদ্দেশ্যে আমল করে যে, মানুষ তাকে দুনিয়াতে সম্মান করবে।

টিকাঃ
১৮. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২৫২; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/১৬৫; হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাঁর সমর্থন করেছেন।
১৯. সুনানে দারাকুতনী: হাদীস-৫০; সুনানে কুবরা লিল-বাইহাকী: হাদীস-১৯৪৫১; হাদীসটি হাসান [শায়েখ শুয়াইব আরনাউত]।
২০. মুসনাদে বায্যার: হাদীস-৭৪৪১; মুজামুল আওসাত: হাদীস-৬৪০২; আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির রাবীগণ বিশ্বস্ত তবে আনাস রাযি. থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২২৫]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00