📄 আল্লাহকে ভয় না করে মানুষকে ভয় করার পরিণতি
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: لَا يَحْقِرَنَّ أَحَدُكُمْ نَفْسَهُ أَنْ يَرَى أَمْرًا لِلَّهِ عَلَيْهِ فِيهِ مَقَالٌ، فَلَا يَقُولُ فِيهِ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَقُولَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ: رَبِّ خَشِيتُ النَّاسَ. فَيَقُولُ: إِيَّايَ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ تَخْشَى.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যেন নিজেকে তুচ্ছ মনে করে কোনো অন্যায় দেখে প্রতিবাদ করা থেকে বিরত না থাকে। কারণ, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এ অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ করনি কেন? সে বলবে, রব! আমি মানুষকে ভয় পেয়েছি। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমারই তো ভয় করার বেশি হক ছিল।১৫
অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি যদি আমাকে ভয় করতে, তাহলে আমি তোমাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতাম। তোমার উচিত ছিল, আমার উপর ভরসা করা, মানুষকে ভয় না করা। কারণ, তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
টিকাঃ
১৫. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪০০৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১১৫৩৯। হাদীসটি সহীহ।
عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمِ الطَّانِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : يُؤْمَرُ بِأُنَاسٍ مِنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى الْجَنَّةِ حَتَّى إِذَا دَنَوْا مِنْهَا، وَاسْتَنْشَقُوا رَائِحَتَهَا، وَنَظَرُوا إِلَى قُصُورِهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللهُ لِأَهْلِهَا نُودُوا أَنِ اصْرِفُوهُمْ عَنْهَا لَا نَصِيبَ لَهُمْ فِيهَا، فَيَرْجِعُونَ بِحَسْرَةٍ وَنَدَامَةٍ مَا رَجَعَ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ بِمِثْلِهَا فَيَقُولُونَ: يَا رَبَّنَا لَوْ أَدْخَلْتَنَا النَّارَ قَبْلَ أَنْ تُرِيَنَا مَا أَرَيْتَنَا مِنْ ثَوَابِ مَا أَعْدَدْتَهُ لِأَوْلِيَائِكَ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : أَرَدْتُ بِكُمْ ذَلِكَ، كُنْتُمْ إِذَا خَلَوْتُمْ بَارَزْتُمُونِي بِالْعَظَائِمِ، وَإِذَا لَقِيتُمُ النَّاسَ لَقِيتُمُوهُمْ مُخْبِتِينَ يَعْنِي مُتَوَاضِعِينَ تُرَاءُونَ النَّاسَ بِأَعْمَالِكُمْ، خِلَافَ مَا تَنْطَوِي عَلَيْهِ قُلُوبُكُمْ، هِبْتُم النَّاسَ وَلَمْ تَهَابُونِي وَأَجْلَلْتُمُ النَّاسَ وَلَمْ تُحِلُّونِي وَتَرَكْتُمْ لِلنَّاسِ وَلَمْ تَتْرُكُوا لِي، فَالْيَوْمَ أُذِيقُكُمْ أَلِيمَ عِقَابِي، مَعَ مَا حَرَمْتُكُمْ مِنْ جَزِيلِ ثَوَابِي.
হযরত আদী বিন হাতেম তায়ী রাযি. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন কয়েক ব্যক্তিকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাদেরকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকটবর্তী হবে, জান্নাতের সুঘ্রাণ অনুভব করবে, সেখানকার অট্টালিকা এবং জান্নাতবাসীর জন্য প্রস্তুতকৃত নেয়ামত দেখতে পাবে, তখন ডেকে বলা হবে, তাদেরকে জান্নাত থেকে ফিরিয়ে আন, এতে তাদের কোনো অংশ নেই। ফলে তারা এমন আক্ষেপ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাবে, যা পূর্বাপর কেউ ভোগ করেনি। তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! আপনি আপনার বন্ধুদের জন্য যা প্রস্তুত করেছেন, তা দেখানোর পূর্বেই আমাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করতেন! তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি তোমাদেরকে এটা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন তোমরা নিভৃতে আমার সাথে মিলিত হতে, তখন বড় বড় গুনাহ নিয়ে হাজির হতে। আর যখন লোকদের সাথে মিলিত হতে, তখন বিনয়ে বিগলিত হয়ে যেতে। তোমরা প্রকাশ্যে এমন আমল দেখিয়ে বেড়াতে, যা তোমাদের অন্তরে নেই। তোমরা লোকদেরকে ভয় করতে, আমাকে ভয় করতে না। তোমাদের অন্তরে ছিল লোকদের ভয় ভীতি, আমার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য তোমাদের অন্তরে ছিল না। যা ত্যাগ করেছ, তা করেছ মানুষের জন্য, আমার জন্য নয়। আজ আমি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব ভোগ করাবো এবং বিপুল সওয়াবের ঐশ্বর্য থেকে বঞ্চিত করবো।
টিকাঃ
২৬. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৪/১২৫; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৬৮০৯; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৭৭; হাদীসটি জয়ীফ।
📄 রিয়া ও তার পরিণাম
فِي بَعْضِ الْأَخْبَارِ: إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَمِلَ عَمَلًا فِي السِّرِّ قَبِلَهُ اللَّهُ تَعَالَى، فَإِذَا أَظْهَرَهُ وَقَعَ فِي عِلْمِ حَفَظَتِهِ، فَيَقُولُ الشَّيْطَانُ: لَا أَزَالُ بِهِ حَتَّى أُدْخِلَ عَلَيْهِ الرِّيَاءَ، فَيَجْعَلُهُ رِيَاءً فَيُكْتَبُ فِي ديوَانِ الْمُرَائِينَ.
কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, বান্দা যখন গোপনে কোনো নেক আমল করে তখন আল্লাহ তা কবুল করে নেন। সে যখন তা প্রকাশ করে দেয় তখন তার ফেরেশতারা তা লিখে নেয়। শয়তান তখন বলে, আমি তার মাঝে রিয়া প্রবেশ করিয়েই ছাড়ব। ফলে তার উক্ত আমল লোক দেখানোর জন্য হয়ে যায়। আর তার নাম রিয়াকারীদের খাতায় লেখা হয়।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يُطِيلُ سُجُودَهُ إِلَّا نَادَى إِبْلِيسُ: يَا وَيْلَاهُ أَطَاعَ وَعَصَيْتُ، وَسَجَدَ وَأَبَيْتُ.
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, যখন কোনো বান্দা সেজদা দীর্ঘায়িত করে, তখন শয়তান চিৎকার করে বলে, হায় আমার কপাল! এ বান্দা আল্লাহর আনুগত্য করেছে, আর আমি নাফরমানি করেছি। সে সেজদা করেছে, আর আমি অস্বীকার করেছি।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بِعَمَلِهِ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ سَامِعَ خَلْقِهِ، وَحَقَّرَهُ، وَصَغَّرَهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য কোনো আমল করে আল্লাহ তা'আলা তার সে আমল মানুষের কানে কানে পৌঁছে দেন এবং তাকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেন।১৬
অন্য এক হাদীসে এসেছে, কিয়ামতের দিন রিয়াকারীকে ডাকা হবে, হে রিয়াকারী! তুই যা করেছিস তার কোনো প্রতিদান আমার কাছে নেই। যা, তুই যাদের দেখানোর জন্য আমল করেছিলি তাদের নিকট থেকে তোর প্রতিদান নিয়ে নে।
হযরত আতা রহ. বলেন, إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَمِلَ عَمَلًا يُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى، ثُمَّ اطَّلَعَ عَلَيْهِ بَعْضُ النَّاسِ فَأَعْجَبَهُ ذَلِكَ لَمْ يَنْقُصْ مِنْ أَجْرِهِ شَيْئًا বান্দা যখন কোনো আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য করে, অতঃপর মানুষ তা জেনে গেলে সে খুশি হয়, এতে তার আমলের কোনো ক্ষতি হবে না।
হযরত আতা রহ. থেকে আরো বর্ণিত আছে- إِنَّمَا الْعَمَلُ كَالْوِعَاءِ إِذَا طَابَ أَسْفَلُهُ طَابَ أَعْلَاهُ، وَإِذَا فَسَدَ أَسْفَلُهُ فَسَدَ أَعْلَاهُ অর্থাৎ, আমল হলো পাত্রের মতো। যদি তার নিচের অংশ ঠিক থাকে, তাহলে উপরের অংশও ঠিক থাকবে, আর যদি নিচের অংশ নষ্ট হয়, তাহলে উপরের অংশও নষ্ট হয়ে যাবে।
এ কথার অর্থ হলো, কোনো আমলের নিয়ত যদি সঠিক থাকে, আর পরবর্তীতে তাতে সামান্য রিয়া প্রবেশ করে, তাহলে তা আমলের কোনো ক্ষতি করবে না। আর যদি নিয়তই গলদ থাকে তাহলে তার আমল কবুল হয় না।
টিকাঃ
১৬. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৬৪৯৯; আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী : হাদীস-৬১৮১। হাদীসটি সহীহ।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ ، أَنَّهُ قَالَ : لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ تَعَالَى جَنَّةَ عَدْنٍ خَلَقَ فِيهَا مَا لَا عَيْنُ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ، ثُمَّ قَالَ لَهَا : تَكَلَّمِي، فَقَالَتْ : قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ، ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَتْ : إِنِّي حَرَامٌ عَلَى كُلِّ بَخِيلٍ وَمُنَافِقٍ وَمُرَاءٍ
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যখন জান্নাতে আদন সৃষ্টি করেন, তখন তাতে সৃষ্টি করলেন এমন সব ঐশ্বর্য, যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান শ্রবণ করেনি এবং যার কল্পনাও কোন মানুষের অন্তরে উদয় হয়নি। অতঃপর তিনি তাকে (জান্নাতকে) বললেন, তুমি কথা বলো, জান্নাত বলল, মুমিনগণ অবশ্যই সফল হয়েছে। এরূপ সে তিনবার বলল। অতঃপর সে বলল, আমি হারাম প্রত্যেক কৃপণ, মুনাফিক ও রিয়াকারের জন্য।
টিকাঃ
২৭. তবারানী কাবীর ১১/১৮৪। হাদীসটি জয়ীফ।
📄 রিয়াকারীর আলামত
عَنْ عَلِيَّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : لِلْمُرَائِي ثَلَاثُ عَلَامَاتٍ: يَنْشَطُ إِذَا رَأَى النَّاسَ، وَيَكْسَلُ إِذَا كَانَ وَحْدَهُ، وَيُحِبُّ أَنْ يُحْمَدَ فِي جَمِيعِ أُمُورِهِ.
হযরত আলী রাযি. বলেন, রিয়াকারীর তিনটি আলামত- ১. মানুষ দেখলে সে খুব উদ্দীপনার সাথে আমল করে। ২. নির্জনে থাকলে অলসতা করে। ৩. সকল কাজে প্রশংসা কামনা করে।
হযরত ফযল ইবনে যিয়াদ রহ. বলেন, আমি আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. কে জিজ্ঞেস করেছি, রিয়াকারীকে কীভাবে চেনা যায়? তিনি বললেন, কোনো ব্যক্তি আমল করার সময় যদি দেখে যে, মানুষ তার দিকে তাকাচ্ছে আর এতে সে খুশি হয় তাহলে বুঝতে হবে যে, সে রিয়াকারী।
হযরত লুকমান হাকীম রহ. তাঁর পুত্রকে বলেন, বৎস! রিয়াকারীর তিনটি আলামত-
১. প্রশংসা ও নিন্দার মাঝে কোনো পার্থক্য করতে পারে না।
২. প্রকাশ্যে খুব সুন্দরভাবে আমল করে।
৩. আর একাকী থাকলে অলসতা করা।
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : لِلْمُرَائِي أَرْبَعُ عَلَامَاتٍ : يَكْسَلُ إِذَا كَانَ وَحْدَه، وَيَنْشَطُ إِذَا كَانَ مَعَ النَّاسِ، وَيَزِيدُ فِي الْعَمَلِ إِذَا أُثْنِي عَلَيْهِ، وَيَنْقُصُ إِذَا ذُمَّ بِهِ.
হযরত আলী রাযি. বলেন- রিয়াকারীর চারটি আলামত রয়েছে। যথা-
১. একাকী থাকলে অলসতা করে। ২. লোকালয়ে থাকলে সতর্ক ও কর্মতৎপর থাকে। ৩. প্রশংসা করা হলে আমল বাড়িয়ে দেয়। ৪. নিন্দা করা হলে, আমল কমিয়ে দেয়।
📄 তিনটি জিনিস আমলের হেফাজতকারী
হযরত সুফইয়ান সাওরী রহ. বলেন, তিনটি জিনিস ব্যতীত কোনো আমল বিশুদ্ধ হয় না। যথা-
১. আমল করার সময় নিজের প্রতি আল্লাহর দৃষ্টির কথা স্মরণ করা।
২. আমলে আল্লাহর কিতাব ও সুন্নতের অনুসরণ করা।
৩. এই ভয় করা যে, হয়তো আমার আমল কবুল হবে না।
عَنْ شَقِيقِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الزَّاهِدِ، أَنَّهُ قَالَ : حُسْنُ الْعَمَلِ ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ : أَوَّلُهَا أَنْ يرى أَنَّ الْعَمَلَ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى لِيَكْسِرَ بِهِ الْعُجْبَ، وَالثَّانِي أَنْ يُرِيدَ بِهِ رِضَا اللَّهِ لِيَكْسِرَ بِهِ الْهَوَى وَالثَّالِثُ أَنْ يَبْتَغِي ثَوَابَ الْعَمَلِ مِنَ اللهِ تَعَالَى لِيَكْسِرَ بِهِ الطَّمَعَ وَالرِّيَاءَ، وَبِهَذِهِ الْأَشْيَاءِ تَخْلُصُ الْأَعْمَالُ
শায়েখ শাকীক বিন ইব্রাহীম বলখী রহ. বলেছেন, তিন বস্তুর মাধ্যমে আমলের সৌন্দর্যের বিকাশ ঘটে। যথা-
১. আমল করার তৌফিক আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় মনে করা। এর মাধ্যমে আত্মগৌরব ধ্বংস হয়।
২. আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা। এর মাধ্যমে দুষ্ট প্রবৃত্তির দমন ঘটবে।
৩. আল্লাহর পক্ষ থেকেই আমলের সওয়াব প্রত্যাশা করা। এর মাধ্যমে লোভ ও রিয়া দূর হয়।
এই তিন গুণের দ্বারা মানুষের মাঝে এখলাসের বিস্তার ঘটে। একমাত্র আল্লাহর জন্য তার আমল বিশুদ্ধ হয়। আমল আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় মনে করার অর্থ হলো, সে একথা ভাববে যে, আল্লাহ তাকে এই আমলের তাওফীক দিয়েছেন বলেই তার পক্ষে তা করা সম্ভব হয়েছে। কেননা, সে যদি এ ভাবনা করতে পারে, তাহলে তার মনে আত্মমুগ্ধতা বা অহংকার জাগবে না; বরং সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করার অর্থ হলো, সে আমলটির প্রতি লক্ষ্য রাখবে। যদি আমলটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়ে থাকে তাহলে তা করবে। আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না হয়, তাহলে করবে না। কেননা, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ অর্থ : নিশ্চয়ই নফস মন্দের আদেশ দিয়ে থাকে। আল্লাহর কাছে আমলের সওয়াব লাভের অর্থ হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই আমল করবে। লোকে কী বলল, তার কোন পরওয়া করবে না। যেমন জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেছিলেন, রাখাল থেকে আমলের আদব শেখা চাই। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তা কিভাবে? তিনি বললেন, রাখাল যখন তার মেষের পাশে নামায পড়ে তখন সে মেষের প্রশংসার আশা করে না। অনুরূপ আমলকারীরও উচিত মানুষ তার দিকে তাকালো কি তাকালো না, তার দিক ভ্রুক্ষেপ না করা। জনতার মাঝে এবং নির্জনে সর্বাবস্থায় সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করবে। এতে মানুষের স্তুতি প্রশংসার আশা করবে না।
টিকাঃ
১৭. শায়েখ শাকীক ইবনে ইবরাহীম ইবনে আলী আল-আযদী আল-বলখী। তিনি ছিলেন খুরাসানের প্রসিদ্ধ যাহেদ ও সূফী ব্যক্তিত্ব এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদের একজন। খুরাসানের বিখ্যাত বীর মুজাহিদদেরও অন্যতম ছিলেন। ইলম, তাযকিয়া (আত্মশুদ্ধি) ও জিহাদের মতো আযীমুশ শান আমলের এক অনুপম দৃষ্টান্ত ছিলেন তিনি। [সংক্ষেপিত]
২৯. সূরা ইউসুফ: আয়াত-৫৩