📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মুখলিস ও তার গুণাবলী

📄 মুখলিস ও তার গুণাবলী


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: أَرْبَعٌ مِنَ الْعَمَلِ، وَأَرْبَعٌ مِنَ الْعَلَامَةِ. فَأَمَّا الْعَمَلُ : فَالصَّلَاةُ وَالزَّكَاةُ وَالصِّيَامُ وَالْحَجُّ. وَأَمَّا الْعَلَامَةُ: فَالْوَرَعُ فِي الدِّينِ، وَالتَّوَاضُعُ لِلَّهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ، وَحُبُّ اللهِ تَعَالَى، وَالْفَقْرُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنَ الْغِنَى.

হযরত আবূ উমামা বাহেলী রাযি. বলেন, মুখলিস হওয়ার জন্য চারটি আমল রয়েছে এবং মুখলিস হওয়ার চারটি আলামত রয়েছে। আমল চারটি হলো- নামায, যাকাত, রোযা ও হজ্ব। আর আলামত চারটি হলো- পরহেজগার হওয়া, আল্লাহর জন্য বিনয়ী হওয়া, আল্লাহকে ভালোবাসা এবং গোপনে প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা।

জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ম্যনিল মুখলিস? অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি মুখলিস? তথা ইখলাসপূর্ণ আমলকারী বলে গণ্য। তিনি বললেন, মুখলিসুল্লাযী কাতামা হাসানাতিহী কামা ইয়াকতুমু সাইয়্যিআতিহী। অর্থাৎ, ইখলাস পূর্ণ আমলকারী সে, যে তার ভালোকাজগুলো গোপন করে, যেভাবে গোপন করে তার মন্দ কাজগুলো। অপর জনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, গায়াতুল ইখলাস অর্থাৎ, ইখলাসের সীমা কী? তিনি বললেন, আন লা ইউহিব্বু মাহমাদাতান নাস। অর্থাৎ, মানুষের প্রশংসা পছন্দ না করা। যুন্নুন মিসরিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে কখন জানা যাবে যে, সে আল্লাহর খাঁটি বান্দা? তিনি বললেন, এটা চেনার আলামাত চারটি। যথা- ১. যখন সে প্রশান্তি ও বিশ্রাম ত্যাগ করবে। ২. তার কাছে যা রয়েছে, পরিমাণে তা স্বল্প হলেও, তা থেকেই দান করবে। ৩. পার্থিব মর্যাদা ও খ্যাতির পতন পছন্দ করবে। ৪. এবং সর্বোপরি প্রশংসা ও ঘৃণা উভয়টিই তার কাছে একই কাতারের মনে হবে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহকে ভয় না করে মানুষকে ভয় করার পরিণতি

📄 আল্লাহকে ভয় না করে মানুষকে ভয় করার পরিণতি


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: لَا يَحْقِرَنَّ أَحَدُكُمْ نَفْسَهُ أَنْ يَرَى أَمْرًا لِلَّهِ عَلَيْهِ فِيهِ مَقَالٌ، فَلَا يَقُولُ فِيهِ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَقُولَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ: رَبِّ خَشِيتُ النَّاسَ. فَيَقُولُ: إِيَّايَ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ تَخْشَى.

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যেন নিজেকে তুচ্ছ মনে করে কোনো অন্যায় দেখে প্রতিবাদ করা থেকে বিরত না থাকে। কারণ, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এ অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ করনি কেন? সে বলবে, রব! আমি মানুষকে ভয় পেয়েছি। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমারই তো ভয় করার বেশি হক ছিল।১৫
অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি যদি আমাকে ভয় করতে, তাহলে আমি তোমাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতাম। তোমার উচিত ছিল, আমার উপর ভরসা করা, মানুষকে ভয় না করা। কারণ, তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

টিকাঃ
১৫. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪০০৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১১৫৩৯। হাদীসটি সহীহ।

عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمِ الطَّانِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : يُؤْمَرُ بِأُنَاسٍ مِنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى الْجَنَّةِ حَتَّى إِذَا دَنَوْا مِنْهَا، وَاسْتَنْشَقُوا رَائِحَتَهَا، وَنَظَرُوا إِلَى قُصُورِهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللهُ لِأَهْلِهَا نُودُوا أَنِ اصْرِفُوهُمْ عَنْهَا لَا نَصِيبَ لَهُمْ فِيهَا، فَيَرْجِعُونَ بِحَسْرَةٍ وَنَدَامَةٍ مَا رَجَعَ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ بِمِثْلِهَا فَيَقُولُونَ: يَا رَبَّنَا لَوْ أَدْخَلْتَنَا النَّارَ قَبْلَ أَنْ تُرِيَنَا مَا أَرَيْتَنَا مِنْ ثَوَابِ مَا أَعْدَدْتَهُ لِأَوْلِيَائِكَ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : أَرَدْتُ بِكُمْ ذَلِكَ، كُنْتُمْ إِذَا خَلَوْتُمْ بَارَزْتُمُونِي بِالْعَظَائِمِ، وَإِذَا لَقِيتُمُ النَّاسَ لَقِيتُمُوهُمْ مُخْبِتِينَ يَعْنِي مُتَوَاضِعِينَ تُرَاءُونَ النَّاسَ بِأَعْمَالِكُمْ، خِلَافَ مَا تَنْطَوِي عَلَيْهِ قُلُوبُكُمْ، هِبْتُم النَّاسَ وَلَمْ تَهَابُونِي وَأَجْلَلْتُمُ النَّاسَ وَلَمْ تُحِلُّونِي وَتَرَكْتُمْ لِلنَّاسِ وَلَمْ تَتْرُكُوا لِي، فَالْيَوْمَ أُذِيقُكُمْ أَلِيمَ عِقَابِي، مَعَ مَا حَرَمْتُكُمْ مِنْ جَزِيلِ ثَوَابِي.
হযরত আদী বিন হাতেম তায়ী রাযি. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন কয়েক ব্যক্তিকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাদেরকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকটবর্তী হবে, জান্নাতের সুঘ্রাণ অনুভব করবে, সেখানকার অট্টালিকা এবং জান্নাতবাসীর জন্য প্রস্তুতকৃত নেয়ামত দেখতে পাবে, তখন ডেকে বলা হবে, তাদেরকে জান্নাত থেকে ফিরিয়ে আন, এতে তাদের কোনো অংশ নেই। ফলে তারা এমন আক্ষেপ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাবে, যা পূর্বাপর কেউ ভোগ করেনি। তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! আপনি আপনার বন্ধুদের জন্য যা প্রস্তুত করেছেন, তা দেখানোর পূর্বেই আমাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করতেন! তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি তোমাদেরকে এটা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন তোমরা নিভৃতে আমার সাথে মিলিত হতে, তখন বড় বড় গুনাহ নিয়ে হাজির হতে। আর যখন লোকদের সাথে মিলিত হতে, তখন বিনয়ে বিগলিত হয়ে যেতে। তোমরা প্রকাশ্যে এমন আমল দেখিয়ে বেড়াতে, যা তোমাদের অন্তরে নেই। তোমরা লোকদেরকে ভয় করতে, আমাকে ভয় করতে না। তোমাদের অন্তরে ছিল লোকদের ভয় ভীতি, আমার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য তোমাদের অন্তরে ছিল না। যা ত্যাগ করেছ, তা করেছ মানুষের জন্য, আমার জন্য নয়। আজ আমি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব ভোগ করাবো এবং বিপুল সওয়াবের ঐশ্বর্য থেকে বঞ্চিত করবো।

টিকাঃ
২৬. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৪/১২৫; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৬৮০৯; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৭৭; হাদীসটি জয়ীফ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রিয়া ও তার পরিণাম

📄 রিয়া ও তার পরিণাম


فِي بَعْضِ الْأَخْبَارِ: إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَمِلَ عَمَلًا فِي السِّرِّ قَبِلَهُ اللَّهُ تَعَالَى، فَإِذَا أَظْهَرَهُ وَقَعَ فِي عِلْمِ حَفَظَتِهِ، فَيَقُولُ الشَّيْطَانُ: لَا أَزَالُ بِهِ حَتَّى أُدْخِلَ عَلَيْهِ الرِّيَاءَ، فَيَجْعَلُهُ رِيَاءً فَيُكْتَبُ فِي ديوَانِ الْمُرَائِينَ.

কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, বান্দা যখন গোপনে কোনো নেক আমল করে তখন আল্লাহ তা কবুল করে নেন। সে যখন তা প্রকাশ করে দেয় তখন তার ফেরেশতারা তা লিখে নেয়। শয়তান তখন বলে, আমি তার মাঝে রিয়া প্রবেশ করিয়েই ছাড়ব। ফলে তার উক্ত আমল লোক দেখানোর জন্য হয়ে যায়। আর তার নাম রিয়াকারীদের খাতায় লেখা হয়।

عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يُطِيلُ سُجُودَهُ إِلَّا نَادَى إِبْلِيسُ: يَا وَيْلَاهُ أَطَاعَ وَعَصَيْتُ، وَسَجَدَ وَأَبَيْتُ.

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, যখন কোনো বান্দা সেজদা দীর্ঘায়িত করে, তখন শয়তান চিৎকার করে বলে, হায় আমার কপাল! এ বান্দা আল্লাহর আনুগত্য করেছে, আর আমি নাফরমানি করেছি। সে সেজদা করেছে, আর আমি অস্বীকার করেছি।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بِعَمَلِهِ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ سَامِعَ خَلْقِهِ، وَحَقَّرَهُ، وَصَغَّرَهُ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য কোনো আমল করে আল্লাহ তা'আলা তার সে আমল মানুষের কানে কানে পৌঁছে দেন এবং তাকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেন।১৬
অন্য এক হাদীসে এসেছে, কিয়ামতের দিন রিয়াকারীকে ডাকা হবে, হে রিয়াকারী! তুই যা করেছিস তার কোনো প্রতিদান আমার কাছে নেই। যা, তুই যাদের দেখানোর জন্য আমল করেছিলি তাদের নিকট থেকে তোর প্রতিদান নিয়ে নে।
হযরত আতা রহ. বলেন, إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَمِلَ عَمَلًا يُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى، ثُمَّ اطَّلَعَ عَلَيْهِ بَعْضُ النَّاسِ فَأَعْجَبَهُ ذَلِكَ لَمْ يَنْقُصْ مِنْ أَجْرِهِ شَيْئًا বান্দা যখন কোনো আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য করে, অতঃপর মানুষ তা জেনে গেলে সে খুশি হয়, এতে তার আমলের কোনো ক্ষতি হবে না।
হযরত আতা রহ. থেকে আরো বর্ণিত আছে- إِنَّمَا الْعَمَلُ كَالْوِعَاءِ إِذَا طَابَ أَسْفَلُهُ طَابَ أَعْلَاهُ، وَإِذَا فَسَدَ أَسْفَلُهُ فَسَدَ أَعْلَاهُ অর্থাৎ, আমল হলো পাত্রের মতো। যদি তার নিচের অংশ ঠিক থাকে, তাহলে উপরের অংশও ঠিক থাকবে, আর যদি নিচের অংশ নষ্ট হয়, তাহলে উপরের অংশও নষ্ট হয়ে যাবে।
এ কথার অর্থ হলো, কোনো আমলের নিয়ত যদি সঠিক থাকে, আর পরবর্তীতে তাতে সামান্য রিয়া প্রবেশ করে, তাহলে তা আমলের কোনো ক্ষতি করবে না। আর যদি নিয়তই গলদ থাকে তাহলে তার আমল কবুল হয় না।

টিকাঃ
১৬. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৬৪৯৯; আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী : হাদীস-৬১৮১। হাদীসটি সহীহ।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ ، أَنَّهُ قَالَ : لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ تَعَالَى جَنَّةَ عَدْنٍ خَلَقَ فِيهَا مَا لَا عَيْنُ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ، ثُمَّ قَالَ لَهَا : تَكَلَّمِي، فَقَالَتْ : قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ، ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَتْ : إِنِّي حَرَامٌ عَلَى كُلِّ بَخِيلٍ وَمُنَافِقٍ وَمُرَاءٍ
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যখন জান্নাতে আদন সৃষ্টি করেন, তখন তাতে সৃষ্টি করলেন এমন সব ঐশ্বর্য, যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান শ্রবণ করেনি এবং যার কল্পনাও কোন মানুষের অন্তরে উদয় হয়নি। অতঃপর তিনি তাকে (জান্নাতকে) বললেন, তুমি কথা বলো, জান্নাত বলল, মুমিনগণ অবশ্যই সফল হয়েছে। এরূপ সে তিনবার বলল। অতঃপর সে বলল, আমি হারাম প্রত্যেক কৃপণ, মুনাফিক ও রিয়াকারের জন্য।

টিকাঃ
২৭. তবারানী কাবীর ১১/১৮৪। হাদীসটি জয়ীফ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রিয়াকারীর আলামত

📄 রিয়াকারীর আলামত


عَنْ عَلِيَّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : لِلْمُرَائِي ثَلَاثُ عَلَامَاتٍ: يَنْشَطُ إِذَا رَأَى النَّاسَ، وَيَكْسَلُ إِذَا كَانَ وَحْدَهُ، وَيُحِبُّ أَنْ يُحْمَدَ فِي جَمِيعِ أُمُورِهِ.
হযরত আলী রাযি. বলেন, রিয়াকারীর তিনটি আলামত- ১. মানুষ দেখলে সে খুব উদ্দীপনার সাথে আমল করে। ২. নির্জনে থাকলে অলসতা করে। ৩. সকল কাজে প্রশংসা কামনা করে।
হযরত ফযল ইবনে যিয়াদ রহ. বলেন, আমি আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. কে জিজ্ঞেস করেছি, রিয়াকারীকে কীভাবে চেনা যায়? তিনি বললেন, কোনো ব্যক্তি আমল করার সময় যদি দেখে যে, মানুষ তার দিকে তাকাচ্ছে আর এতে সে খুশি হয় তাহলে বুঝতে হবে যে, সে রিয়াকারী।
হযরত লুকমান হাকীম রহ. তাঁর পুত্রকে বলেন, বৎস! রিয়াকারীর তিনটি আলামত-
১. প্রশংসা ও নিন্দার মাঝে কোনো পার্থক্য করতে পারে না।
২. প্রকাশ্যে খুব সুন্দরভাবে আমল করে।
৩. আর একাকী থাকলে অলসতা করা।

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : لِلْمُرَائِي أَرْبَعُ عَلَامَاتٍ : يَكْسَلُ إِذَا كَانَ وَحْدَه، وَيَنْشَطُ إِذَا كَانَ مَعَ النَّاسِ، وَيَزِيدُ فِي الْعَمَلِ إِذَا أُثْنِي عَلَيْهِ، وَيَنْقُصُ إِذَا ذُمَّ بِهِ.
হযরত আলী রাযি. বলেন- রিয়াকারীর চারটি আলামত রয়েছে। যথা-
১. একাকী থাকলে অলসতা করে। ২. লোকালয়ে থাকলে সতর্ক ও কর্মতৎপর থাকে। ৩. প্রশংসা করা হলে আমল বাড়িয়ে দেয়। ৪. নিন্দা করা হলে, আমল কমিয়ে দেয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px