📄 ইখলাসশূন্য আমল জাহান্নামের কারণ
عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزَ، أَنَّ فُلَانًا دَخَلَ عَلَى مُعَاوِيَةَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ جَالِسٌ مَعَهُ، فَقَالَ لِمُعَاوِيَةَ: إِنِّي سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثًا، فَأَخْبِرْنِي بِهِ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ، وَكُنْتُ قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْهُ. فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُسْجَرُ بِهِمْ جَهَنَّمُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُؤْتَى بِرَجُلٍ، وَقَدْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللهِ، فَيَقُولُ لَهُ: مَاذَا عَمِلْتَ؟ فَيَقُولُ: قَاتَلْتُ فِي سَبِيلِكَ حَتَّى قُتِلْتُ، فَيَقُولُ: كَذَبْتَ إِنَّمَا قَاتَلْتَ لِيُقَالَ فُلَانٌ جَرِيءٌ، فَقَدْ قِيلَ، فَيُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ إِلَى النَّارِ. ثُمَّ يُؤْتَى بِرَجُلٍ، وَقَدْ جَمَعَ الْقُرْآنَ، فَيَقُولُ: مَاذَا عَمِلْتَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ : قَرَأَتُ الْقُرْآنَ، وَعَلَّمْتُهُ فِي سَبِيلِكَ، فَيَقُولُ : كَذَبْتَ إِنَّمَا أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانٌ قَارِيُّ فَقَدْ قِيلَ، فَيُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ إِلَى النَّارِ. ثُمَّ يُؤْتَى بِرَجُلٍ، وَقَدْ كَثَّرَ اللهُ مَالَهُ فَيَقُولُ : فَمَاذَا عَمِلْتَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ: وَصَلْتُ الرَّحِمَ، وَتَصَدَّقْتُ فِي سَبِيلِكَ، فَيَقُولُ: كَذَبْتَ إِنَّمَا أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانٌ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ، فَيُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ إِلَى النَّارِ. ثُمَّ ضَرَبَ مُعَاوِيَةُ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ هَكَذَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: نَعَمْ. ثُمَّ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ ، أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (هود: ١٥ - ١٦).
উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুয রহ. থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি আমির মুআবিয়া রাযি.-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তখন মিম্বরে বসা ছিলেন, তাঁর সাথে আবূ হুরায়রা রাযি.-ও ছিলেন। লোকটি বললেন, আমি রাসূল থেকে একটি হাদীস শুনেছি, আপনি আমাকে তা শুনাতে পারেন? তিনি বললেন, আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের শাস্তি দেওয়া হবে, সে হবে একজন শহীদ। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি এজন্য যুদ্ধ করেছ যে, মানুষ তোমাকে বীর বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। তখন তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর একজন কারী সাহেবকে উপস্থিত করা হবে, যে কুরআন শিখেছে এবং অন্যকে শিখিয়েছে। তাকেও জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় কুরআন শিখেছি এবং অন্যকে শিখিয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি তো এ জন্য কুরআন শিখেছিলে যে, মানুষ তোমাকে কারী বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। তখন তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর একজন সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, তাকে আল্লাহ প্রচুর সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় আত্মীয়ের হক আদায় করেছি এবং সদকা করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এ জন্য সম্পদ ব্যয় করেছ যে, মানুষ তোমাকে দানবীর বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। অতঃপর তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মুআবিয়া রাযি. আবূ হুরায়রা রাযি.-এর উরুতে হাত রেখে বললেন, আবূ হুরায়রা! রাসূল কি আমাদেরকে এভাবেই বলেননি? আবূ হুরায়রা রাযি. বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আবূ হুরায়রা রাযি. বললেন, এরপর রাসূল এই আয়াতটি পাঠ করলেন,
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ. أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: যারা দুনিয়ার জীবন ও তার সৌন্দর্য চায়, আমি তাদের কর্মের পূর্ণ ফল এখানেই দিয়ে দেই। এখানে তাদের জন্য কোনো কমতি করা হয় না। এরা এমন লোক যে, এদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া কিছুই নেই। তারা যা কিছু করেছিল এখানে তা সবই বরবাদ হয়ে গেছে এবং তারা যা কিছু করত তা সবই ছিল অর্থহীন।১৪
টিকাঃ
১৪. সূরা হুদ: আয়াত-১৫-১৬
حَدَّثَنِي جَمَاعَةٌ مِنَ الْفُقَهَاءِ بِأَسَانِيدِهِمْ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ شَفِي الْأَصْبَحِي، أَنَّه دَخَلَ الْمَدِينَةَ فَإِذَا هُৱ بِرَجُلٍ قَدِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ النَّاسُ فَقُلْتُ مَنْ هُذَا؟ فَقَالُوا: أَبُو هُرَيْرَةً فَدَنَوْتُ مِنْهُ وَهُৱ يُحَدِّثُ النَّاسَ، فَلَمَّا سَكَتَ وَخَلَا قُلْتُ لَهُ : أُنْشِدُكَ اللَّهَ حَدَّثْنِي حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَحَفِظْتَهُ ، حَدَّثَكَ بِهِ وَعُلَّمْتَهُ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ : اقْعُدْ لِأُحَدَّثَكَ بِحَدِيثٍ حَدَّثَنِيهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مَعَنَا أَحَدٌ غَيْرِي وَغَيْرِهِ، ثُمَّ نَشَغَ نَشْغَةً، أَيْ شَهِقَ شَهْقَةً، فَخَرَّ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ، فَمَكَثَ عَلَيْهِ قَلِيلًا ثُمَّ أَفָاقَ وَمَسَحَ وَجْهَهُ فَقَالَ : لَأُحَدِّثَنَّكُمْ بِحَدِيثٍ حَدَّثَنِيهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثُمَّ نَشَغَ أُخْرَى فَمَكَثَ طَوِيلًا ثُمَّ أَفָاقَ وَمَسَحَ وَجْهَهُ فَقَالَ : حَدَّثَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ ، فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ يَقْضِي بَيْنَ خَلْقِهِ، فَكُلُّ أُمَّةٍ جَاثِيَةٌ، فَأَوَّلُ مَنْ يُدْعَى بِهِ : رَجُلٌ قَدْ جَمَعَ الْقُرْآنَ، وَرَجُلٌ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَرَجُلٌ كَثِيرُ الْمَالِ ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى لِلْقَارِئِ : أَلَمْ أَعَلَّمْكَ مَا أَنْزَلْتُ عَلَى رُسُلِي، قَالَ : بَلَى يَا رَبُّ، قَالَ: ফ্যামাজা আমিলতা ফীমা আলিমতা? قَالَ : كُنْتُ أَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى لَهُ : كَذَبْتَ وَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: كَذَبْتَ، بَلْ أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانٌ قَارِيُّ، فَقَدْ قِيلَ ذَلِكَ، وَيُقَالُ لِصَاحِبِ الْمَالِ: مَاذَا عَمِلْتَ فِيمَا آتَيْتُكَ? قَالَ : كُنْتُ أَصِلُ بِهِ الرَّحمَ وَأَتَصَدَّقُ بِهِ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى : كَذَبْتَ، وَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ : كَذَبْتَ؛ بَلْ أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانُ جَوَادُ سَخِيٌّ، وَهُৱ ضِدُّ الْبَخِيلِ، فَقَدْ قِيلَ ذَلِكَ، وَيُؤْتَى بِالَّذِي قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقُولُ لَهُ : لِمَاذَا قُتِلْتَ? قَالَ: قَاتَلْتُ فِي سَبِيلِكَ حَتَّى قُتِلْتُ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : كَذَبْتَ، وَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: كَذَبْتَ، بَلْ أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ لَكَ فُلَانٌ جَرِي، فَقَدْ قِيلَ ذُلِكَ ثُمَّ ضَرَبَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بِيَدِهِ عَلَى رُكْبَتَي. فَقَالَ : يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أُولَئِكَ الثَّلَاثَةُ أَوَّلُ خَلْقِ اللَّهِ تَعَالَى تُسَعَرُ بِهِمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. قَالَ : فَبَلَغَ ذَلِكَ الْخَبَرُ إِلَى مُعَاوِيَةَ فَبَكَى بُكَاءٌ شَدِيدًا، وَقَالَ : صَدَقَ اللهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ : ম্যন কানা ইউরীদুল হায়াতাদ দুনইয়া ওয়া যীনাতাহা নুওয়াফি ইলাইহিম আমালাহুম ফীহা ওয়াহুম ফীহা লা ইউবখাসূন। উলাইকাল্লাযীনা লাইসা লাহুম ফিল আখিরাতি ইল্লান নারু ওয়া হাবিতা মা সানায়ূ ফীহা ওয়া বাতিলুম মা কানূ ইয়ামালূন (হুদ: ১৫-১৬)
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, আমাকে ফকীহগণের বৃহৎ এক জামাআত বর্ণনা করেন, শুফাই আল-আসবাহী একদা মদীনায় প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, আমি সেখানে দেখতে পেলাম জনৈক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিপুল লোকের জমায়েত হয়ে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা উত্তর করল, ইনি হযরত আবূ হুরায়রা রাযি.। আমি তার নিকটবর্তী হলাম। (এমনকি একেবারে সামনে গেলাম।) তিনি সমবেত লোকদেরকে হাদীসের দরস দিচ্ছেন। দরস শেষ হওয়ার পর লোকজন চলে গেলে আমি তাকে বললাম, আল্লাহর নামের দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে এমন হাদীস শোনান, যা আপনি স্বয়ং রাসূল থেকে শ্রবণ করেছেন, অতঃপর তা সংরক্ষণ করেছেন এবং মর্ম বুঝেছেন ও তদানুযায়ী আমল করেছেন। হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, বসো। আমি তোমাকে এমন এক হাদীস বর্ণনা করব, যা রাসূল স্বয়ং আমাকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ও আমি ব্যতীত তথায় কেউ উপস্থিত ছিল না। এই কথা বলতে-বলতে তার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছু সময় যাবার পর তার হুঁশ ফিরে এলো। তিনি মুখমণ্ডল মুছে বললেন, অবশ্যই আমি তোমাদেরকে এমন হাদীস বর্ণনা করব, যা স্বয়ং রাসূল আমাকে বলেছেন। এই বলে আবার তার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো এবং তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাবার পর হুঁশ ফিরে এলো। তিনি উঠে মুখমণ্ডল মুছে নিলেন। এরপর বললেন, রাসূল আমাকে বলেছেন, যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টির মাঝে ফায়সালা করবেন। সকলে হাঁটুতে ভর দিয়ে নতজানু হয়ে থাকবে। যাদেরকে সর্বপ্রথম ডাকা হবে তাদের একজন হবে সে, যে কুরআন হেফজ করেছে। আরেকজন, যে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছে। অপরজন, যে ছিল বিপুল সম্পদের অধিকারী। আল্লাহ তা'আলা হাফেজকে বলবেন, আমি আমার রাসূলদের উপর যা নাযিল করেছি, তা কি তোমাকে শিক্ষা দেইনি? সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার রব! আল্লাহ বলবেন, তবে যা জেনেছ তাতে কী আমল করেছ? লোকটি বলবে, আমি রাত-দিন তাতে মশগুল ছিলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। ফেরেশতাগণও বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তোমার কামনা ছিল যে, লোকেরা বলবে, অমুক ব্যক্তি বড় ক্বারী। এমন তো বলা হয়ে গেছে। (তোমার প্রতিদান তুমি পেয়ে গিয়েছ)। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর তিনি সম্পদশালীকে লক্ষ্য করে বলবেন, আমি তোমাকে যে সম্পদ দান করেছিলাম, তা দিয়ে তুমি কী করেছ? সে বলবে, আমি তা দিয়ে আত্মীয়তার হক আদায় করেছি এবং সদকা করেছি। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। ফেরেশতাগণও বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তোমার কামনা ছিল যে, লোকেরা বলবে, অমুক ব্যক্তি দানশীল, দরাজদিল। এ তো বলা হয়ে গেছে। (তোমার প্রতিদান তুমি পেয়ে গিয়েছ)। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর আল্লাহর রাস্তায় শহীদকে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, কেন তোমাকে হত্যা করা হয়েছিল? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় লড়াই করেছি। এমনকি শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। ফেরেশতাগণও বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; বরং তোমার কামনা ছিল যে, লোকেরা বলবে, অমুক ব্যক্তি ভীষণ সাহসী। এ তো বলা হয়ে গেছে! (তোমার প্রতিদান তুমি পেয়ে গিয়েছ)। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, অতঃপর রাসূল আমার দু হাঁটুতে হাত রেখে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! এরাই হলো, আল্লাহর প্রথম তিন মাখলুক, কিয়ামতের দিন যাদেরকে দিয়ে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত হবে। আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, এ সংবাদ মুআবিয়া রাযি.-এর নিকট পৌঁছলে তিনি প্রচণ্ড কান্নায় ভেঙে পড়লেন। বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন- অর্থ: যারা পার্থিব জীবন ও তার শোভা কামনা করে, দুনিয়াতে আমি তাদের কর্মের পূর্ণ ফল দান করি এবং তাতে তাদেরকে কম প্রদান করা হবে না। তবে তাদের জন্য আখেরাতে আগুন ব্যতীত অন্য কিছু নেই। তারা যা করে, আখেরাতে তা বিফল ও নিরর্থক বলে গণ্য হবে। হযরত আব্দুল্লাহ বিন খুবাইক্ব আনতাকী রহ. বলেন, কিয়ামতের দিন যখন বান্দা তার আমলের প্রতিদান চাইবে, তখন আল্লাহ বলবেন- আমি কি তোমার প্রতিদান পূর্বেই দিয়ে দেইনি? আমি কি তোমার জন্য মজলিস প্রশস্ত করিনি? দুনিয়াতে তোমাকে নেতৃত্ব দান করিনি? আমি কি তোমার ক্রয় ও বিক্রয় সহজ করে দেইনি? তোমার কি এমন এমন সুযোগ-সুবিধা ছিল না? (ইখলাস শূন্য আমলকারীকে এই বলে আল্লাহ প্রতিদান বঞ্চিত করবেন।)
টিকাঃ
২৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯০৫ (মূল হাদীসটি বিদ্যমান তবে আবু হুরায়রা রাযি.-এর ঘটনাটি অনুল্লিখিত); সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩৮২; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-৩১৩৭। আয়াতটি সূরা হুদ এর ১৫-১৬ নং আয়াত।
📄 মুখলিস ও তার গুণাবলী
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: أَرْبَعٌ مِنَ الْعَمَلِ، وَأَرْبَعٌ مِنَ الْعَلَامَةِ. فَأَمَّا الْعَمَلُ : فَالصَّلَاةُ وَالزَّكَاةُ وَالصِّيَامُ وَالْحَجُّ. وَأَمَّا الْعَلَامَةُ: فَالْوَرَعُ فِي الدِّينِ، وَالتَّوَاضُعُ لِلَّهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ، وَحُبُّ اللهِ تَعَالَى، وَالْفَقْرُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنَ الْغِنَى.
হযরত আবূ উমামা বাহেলী রাযি. বলেন, মুখলিস হওয়ার জন্য চারটি আমল রয়েছে এবং মুখলিস হওয়ার চারটি আলামত রয়েছে। আমল চারটি হলো- নামায, যাকাত, রোযা ও হজ্ব। আর আলামত চারটি হলো- পরহেজগার হওয়া, আল্লাহর জন্য বিনয়ী হওয়া, আল্লাহকে ভালোবাসা এবং গোপনে প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা।
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ম্যনিল মুখলিস? অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি মুখলিস? তথা ইখলাসপূর্ণ আমলকারী বলে গণ্য। তিনি বললেন, মুখলিসুল্লাযী কাতামা হাসানাতিহী কামা ইয়াকতুমু সাইয়্যিআতিহী। অর্থাৎ, ইখলাস পূর্ণ আমলকারী সে, যে তার ভালোকাজগুলো গোপন করে, যেভাবে গোপন করে তার মন্দ কাজগুলো। অপর জনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, গায়াতুল ইখলাস অর্থাৎ, ইখলাসের সীমা কী? তিনি বললেন, আন লা ইউহিব্বু মাহমাদাতান নাস। অর্থাৎ, মানুষের প্রশংসা পছন্দ না করা। যুন্নুন মিসরিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে কখন জানা যাবে যে, সে আল্লাহর খাঁটি বান্দা? তিনি বললেন, এটা চেনার আলামাত চারটি। যথা- ১. যখন সে প্রশান্তি ও বিশ্রাম ত্যাগ করবে। ২. তার কাছে যা রয়েছে, পরিমাণে তা স্বল্প হলেও, তা থেকেই দান করবে। ৩. পার্থিব মর্যাদা ও খ্যাতির পতন পছন্দ করবে। ৪. এবং সর্বোপরি প্রশংসা ও ঘৃণা উভয়টিই তার কাছে একই কাতারের মনে হবে।
📄 আল্লাহকে ভয় না করে মানুষকে ভয় করার পরিণতি
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: لَا يَحْقِرَنَّ أَحَدُكُمْ نَفْسَهُ أَنْ يَرَى أَمْرًا لِلَّهِ عَلَيْهِ فِيهِ مَقَالٌ، فَلَا يَقُولُ فِيهِ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَقُولَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ: رَبِّ خَشِيتُ النَّاسَ. فَيَقُولُ: إِيَّايَ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ تَخْشَى.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যেন নিজেকে তুচ্ছ মনে করে কোনো অন্যায় দেখে প্রতিবাদ করা থেকে বিরত না থাকে। কারণ, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এ অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ করনি কেন? সে বলবে, রব! আমি মানুষকে ভয় পেয়েছি। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমারই তো ভয় করার বেশি হক ছিল।১৫
অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি যদি আমাকে ভয় করতে, তাহলে আমি তোমাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতাম। তোমার উচিত ছিল, আমার উপর ভরসা করা, মানুষকে ভয় না করা। কারণ, তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
টিকাঃ
১৫. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪০০৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১১৫৩৯। হাদীসটি সহীহ।
عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمِ الطَّانِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : يُؤْمَرُ بِأُنَاسٍ مِنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى الْجَنَّةِ حَتَّى إِذَا دَنَوْا مِنْهَا، وَاسْتَنْشَقُوا رَائِحَتَهَا، وَنَظَرُوا إِلَى قُصُورِهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللهُ لِأَهْلِهَا نُودُوا أَنِ اصْرِفُوهُمْ عَنْهَا لَا نَصِيبَ لَهُمْ فِيهَا، فَيَرْجِعُونَ بِحَسْرَةٍ وَنَدَامَةٍ مَا رَجَعَ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ بِمِثْلِهَا فَيَقُولُونَ: يَا رَبَّنَا لَوْ أَدْخَلْتَنَا النَّارَ قَبْلَ أَنْ تُرِيَنَا مَا أَرَيْتَنَا مِنْ ثَوَابِ مَا أَعْدَدْتَهُ لِأَوْلِيَائِكَ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : أَرَدْتُ بِكُمْ ذَلِكَ، كُنْتُمْ إِذَا خَلَوْتُمْ بَارَزْتُمُونِي بِالْعَظَائِمِ، وَإِذَا لَقِيتُمُ النَّاسَ لَقِيتُمُوهُمْ مُخْبِتِينَ يَعْنِي مُتَوَاضِعِينَ تُرَاءُونَ النَّاسَ بِأَعْمَالِكُمْ، خِلَافَ مَا تَنْطَوِي عَلَيْهِ قُلُوبُكُمْ، هِبْتُم النَّاسَ وَلَمْ تَهَابُونِي وَأَجْلَلْتُمُ النَّاسَ وَلَمْ تُحِلُّونِي وَتَرَكْتُمْ لِلنَّاسِ وَلَمْ تَتْرُكُوا لِي، فَالْيَوْمَ أُذِيقُكُمْ أَلِيمَ عِقَابِي، مَعَ مَا حَرَمْتُكُمْ مِنْ جَزِيلِ ثَوَابِي.
হযরত আদী বিন হাতেম তায়ী রাযি. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন কয়েক ব্যক্তিকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাদেরকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকটবর্তী হবে, জান্নাতের সুঘ্রাণ অনুভব করবে, সেখানকার অট্টালিকা এবং জান্নাতবাসীর জন্য প্রস্তুতকৃত নেয়ামত দেখতে পাবে, তখন ডেকে বলা হবে, তাদেরকে জান্নাত থেকে ফিরিয়ে আন, এতে তাদের কোনো অংশ নেই। ফলে তারা এমন আক্ষেপ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাবে, যা পূর্বাপর কেউ ভোগ করেনি। তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! আপনি আপনার বন্ধুদের জন্য যা প্রস্তুত করেছেন, তা দেখানোর পূর্বেই আমাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করতেন! তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি তোমাদেরকে এটা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন তোমরা নিভৃতে আমার সাথে মিলিত হতে, তখন বড় বড় গুনাহ নিয়ে হাজির হতে। আর যখন লোকদের সাথে মিলিত হতে, তখন বিনয়ে বিগলিত হয়ে যেতে। তোমরা প্রকাশ্যে এমন আমল দেখিয়ে বেড়াতে, যা তোমাদের অন্তরে নেই। তোমরা লোকদেরকে ভয় করতে, আমাকে ভয় করতে না। তোমাদের অন্তরে ছিল লোকদের ভয় ভীতি, আমার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য তোমাদের অন্তরে ছিল না। যা ত্যাগ করেছ, তা করেছ মানুষের জন্য, আমার জন্য নয়। আজ আমি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব ভোগ করাবো এবং বিপুল সওয়াবের ঐশ্বর্য থেকে বঞ্চিত করবো।
টিকাঃ
২৬. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৪/১২৫; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৬৮০৯; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৩৭৭; হাদীসটি জয়ীফ।
📄 রিয়া ও তার পরিণাম
فِي بَعْضِ الْأَخْبَارِ: إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَمِلَ عَمَلًا فِي السِّرِّ قَبِلَهُ اللَّهُ تَعَالَى، فَإِذَا أَظْهَرَهُ وَقَعَ فِي عِلْمِ حَفَظَتِهِ، فَيَقُولُ الشَّيْطَانُ: لَا أَزَالُ بِهِ حَتَّى أُدْخِلَ عَلَيْهِ الرِّيَاءَ، فَيَجْعَلُهُ رِيَاءً فَيُكْتَبُ فِي ديوَانِ الْمُرَائِينَ.
কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, বান্দা যখন গোপনে কোনো নেক আমল করে তখন আল্লাহ তা কবুল করে নেন। সে যখন তা প্রকাশ করে দেয় তখন তার ফেরেশতারা তা লিখে নেয়। শয়তান তখন বলে, আমি তার মাঝে রিয়া প্রবেশ করিয়েই ছাড়ব। ফলে তার উক্ত আমল লোক দেখানোর জন্য হয়ে যায়। আর তার নাম রিয়াকারীদের খাতায় লেখা হয়।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يُطِيلُ سُجُودَهُ إِلَّا نَادَى إِبْلِيسُ: يَا وَيْلَاهُ أَطَاعَ وَعَصَيْتُ، وَسَجَدَ وَأَبَيْتُ.
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, যখন কোনো বান্দা সেজদা দীর্ঘায়িত করে, তখন শয়তান চিৎকার করে বলে, হায় আমার কপাল! এ বান্দা আল্লাহর আনুগত্য করেছে, আর আমি নাফরমানি করেছি। সে সেজদা করেছে, আর আমি অস্বীকার করেছি।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بِعَمَلِهِ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ سَامِعَ خَلْقِهِ، وَحَقَّرَهُ، وَصَغَّرَهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য কোনো আমল করে আল্লাহ তা'আলা তার সে আমল মানুষের কানে কানে পৌঁছে দেন এবং তাকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেন।১৬
অন্য এক হাদীসে এসেছে, কিয়ামতের দিন রিয়াকারীকে ডাকা হবে, হে রিয়াকারী! তুই যা করেছিস তার কোনো প্রতিদান আমার কাছে নেই। যা, তুই যাদের দেখানোর জন্য আমল করেছিলি তাদের নিকট থেকে তোর প্রতিদান নিয়ে নে।
হযরত আতা রহ. বলেন, إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَمِلَ عَمَلًا يُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى، ثُمَّ اطَّلَعَ عَلَيْهِ بَعْضُ النَّاسِ فَأَعْجَبَهُ ذَلِكَ لَمْ يَنْقُصْ مِنْ أَجْرِهِ شَيْئًا বান্দা যখন কোনো আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য করে, অতঃপর মানুষ তা জেনে গেলে সে খুশি হয়, এতে তার আমলের কোনো ক্ষতি হবে না।
হযরত আতা রহ. থেকে আরো বর্ণিত আছে- إِنَّمَا الْعَمَلُ كَالْوِعَاءِ إِذَا طَابَ أَسْفَلُهُ طَابَ أَعْلَاهُ، وَإِذَا فَسَدَ أَسْفَلُهُ فَسَدَ أَعْلَاهُ অর্থাৎ, আমল হলো পাত্রের মতো। যদি তার নিচের অংশ ঠিক থাকে, তাহলে উপরের অংশও ঠিক থাকবে, আর যদি নিচের অংশ নষ্ট হয়, তাহলে উপরের অংশও নষ্ট হয়ে যাবে।
এ কথার অর্থ হলো, কোনো আমলের নিয়ত যদি সঠিক থাকে, আর পরবর্তীতে তাতে সামান্য রিয়া প্রবেশ করে, তাহলে তা আমলের কোনো ক্ষতি করবে না। আর যদি নিয়তই গলদ থাকে তাহলে তার আমল কবুল হয় না।
টিকাঃ
১৬. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৬৪৯৯; আল-মুজামুল কাবীর লিত্ ত্ববারানী : হাদীস-৬১৮১। হাদীসটি সহীহ।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ ، أَنَّهُ قَالَ : لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ تَعَالَى جَنَّةَ عَدْنٍ خَلَقَ فِيهَا مَا لَا عَيْنُ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ، ثُمَّ قَالَ لَهَا : تَكَلَّمِي، فَقَالَتْ : قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ، ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَتْ : إِنِّي حَرَامٌ عَلَى كُلِّ بَخِيلٍ وَمُنَافِقٍ وَمُرَاءٍ
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যখন জান্নাতে আদন সৃষ্টি করেন, তখন তাতে সৃষ্টি করলেন এমন সব ঐশ্বর্য, যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান শ্রবণ করেনি এবং যার কল্পনাও কোন মানুষের অন্তরে উদয় হয়নি। অতঃপর তিনি তাকে (জান্নাতকে) বললেন, তুমি কথা বলো, জান্নাত বলল, মুমিনগণ অবশ্যই সফল হয়েছে। এরূপ সে তিনবার বলল। অতঃপর সে বলল, আমি হারাম প্রত্যেক কৃপণ, মুনাফিক ও রিয়াকারের জন্য।
টিকাঃ
২৭. তবারানী কাবীর ১১/১৮৪। হাদীসটি জয়ীফ।