📄 আল্লাহ তা'আলা আমলকারীর অন্তর দেখেন
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَنْ طَالَ عُمْرُهُ وَحَسُنَ عَمَلُهُ، قَالَ: فَأَيُّ النَّاسِ شَرٌّ؟ قَالَ: مَنْ طَالَ عُمْرُهُ وَسَاءَ عَمَلُهُ.
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবূ বাকরা রাযি. থেকে বর্ণিত। এক বেদুঈন রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! শ্রেষ্ঠ মানুষ কে? তিনি বললেন, যার বয়স দীর্ঘ হয় এবং আমল উত্তম হয়। সে জিজ্ঞেস করল, নিকৃষ্ট মানুষ কে? তিনি বললেন, যার বয়স দীর্ঘ হয় এবং আমল মন্দ হয়।১২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ، وَلَا إِلَى أَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বাহ্যিক রূপ এবং সম্পদের দিকে তাকান না। বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।১৩
টিকাঃ
১২. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২৩৩০; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২০৪১৩। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
১৩. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৬৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১৪৩।
📄 ইখলাসশূন্য আমল জাহান্নামের কারণ
عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزَ، أَنَّ فُلَانًا دَخَلَ عَلَى مُعَاوِيَةَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ جَالِسٌ مَعَهُ، فَقَالَ لِمُعَاوِيَةَ: إِنِّي سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثًا، فَأَخْبِرْنِي بِهِ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ، وَكُنْتُ قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْهُ. فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُسْجَرُ بِهِمْ جَهَنَّمُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُؤْتَى بِرَجُلٍ، وَقَدْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللهِ، فَيَقُولُ لَهُ: مَاذَا عَمِلْتَ؟ فَيَقُولُ: قَاتَلْتُ فِي سَبِيلِكَ حَتَّى قُتِلْتُ، فَيَقُولُ: كَذَبْتَ إِنَّمَا قَاتَلْتَ لِيُقَالَ فُلَانٌ جَرِيءٌ، فَقَدْ قِيلَ، فَيُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ إِلَى النَّارِ. ثُمَّ يُؤْتَى بِرَجُلٍ، وَقَدْ جَمَعَ الْقُرْآنَ، فَيَقُولُ: مَاذَا عَمِلْتَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ : قَرَأَتُ الْقُرْآنَ، وَعَلَّمْتُهُ فِي سَبِيلِكَ، فَيَقُولُ : كَذَبْتَ إِنَّمَا أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانٌ قَارِيُّ فَقَدْ قِيلَ، فَيُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ إِلَى النَّارِ. ثُمَّ يُؤْتَى بِرَجُلٍ، وَقَدْ كَثَّرَ اللهُ مَالَهُ فَيَقُولُ : فَمَاذَا عَمِلْتَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ: وَصَلْتُ الرَّحِمَ، وَتَصَدَّقْتُ فِي سَبِيلِكَ، فَيَقُولُ: كَذَبْتَ إِنَّمَا أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانٌ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ، فَيُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ إِلَى النَّارِ. ثُمَّ ضَرَبَ مُعَاوِيَةُ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ هَكَذَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: نَعَمْ. ثُمَّ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ ، أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (هود: ١٥ - ١٦).
উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুয রহ. থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি আমির মুআবিয়া রাযি.-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তখন মিম্বরে বসা ছিলেন, তাঁর সাথে আবূ হুরায়রা রাযি.-ও ছিলেন। লোকটি বললেন, আমি রাসূল থেকে একটি হাদীস শুনেছি, আপনি আমাকে তা শুনাতে পারেন? তিনি বললেন, আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের শাস্তি দেওয়া হবে, সে হবে একজন শহীদ। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি এজন্য যুদ্ধ করেছ যে, মানুষ তোমাকে বীর বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। তখন তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর একজন কারী সাহেবকে উপস্থিত করা হবে, যে কুরআন শিখেছে এবং অন্যকে শিখিয়েছে। তাকেও জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় কুরআন শিখেছি এবং অন্যকে শিখিয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি তো এ জন্য কুরআন শিখেছিলে যে, মানুষ তোমাকে কারী বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। তখন তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর একজন সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, তাকে আল্লাহ প্রচুর সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় আত্মীয়ের হক আদায় করেছি এবং সদকা করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এ জন্য সম্পদ ব্যয় করেছ যে, মানুষ তোমাকে দানবীর বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। অতঃপর তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মুআবিয়া রাযি. আবূ হুরায়রা রাযি.-এর উরুতে হাত রেখে বললেন, আবূ হুরায়রা! রাসূল কি আমাদেরকে এভাবেই বলেননি? আবূ হুরায়রা রাযি. বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আবূ হুরায়রা রাযি. বললেন, এরপর রাসূল এই আয়াতটি পাঠ করলেন,
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ. أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: যারা দুনিয়ার জীবন ও তার সৌন্দর্য চায়, আমি তাদের কর্মের পূর্ণ ফল এখানেই দিয়ে দেই। এখানে তাদের জন্য কোনো কমতি করা হয় না। এরা এমন লোক যে, এদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া কিছুই নেই। তারা যা কিছু করেছিল এখানে তা সবই বরবাদ হয়ে গেছে এবং তারা যা কিছু করত তা সবই ছিল অর্থহীন।১৪
টিকাঃ
১৪. সূরা হুদ: আয়াত-১৫-১৬
📄 মুখলিস ও তার গুণাবলী
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: أَرْبَعٌ مِنَ الْعَمَلِ، وَأَرْبَعٌ مِنَ الْعَلَامَةِ. فَأَمَّا الْعَمَلُ : فَالصَّلَاةُ وَالزَّكَاةُ وَالصِّيَامُ وَالْحَجُّ. وَأَمَّا الْعَلَامَةُ: فَالْوَرَعُ فِي الدِّينِ، وَالتَّوَاضُعُ لِلَّهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ، وَحُبُّ اللهِ تَعَالَى، وَالْفَقْرُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنَ الْغِنَى.
হযরত আবূ উমামা বাহেলী রাযি. বলেন, মুখলিস হওয়ার জন্য চারটি আমল রয়েছে এবং মুখলিস হওয়ার চারটি আলামত রয়েছে। আমল চারটি হলো- নামায, যাকাত, রোযা ও হজ্ব। আর আলামত চারটি হলো- পরহেজগার হওয়া, আল্লাহর জন্য বিনয়ী হওয়া, আল্লাহকে ভালোবাসা এবং গোপনে প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা।
📄 আল্লাহকে ভয় না করে মানুষকে ভয় করার পরিণতি
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: لَا يَحْقِرَنَّ أَحَدُكُمْ نَفْسَهُ أَنْ يَرَى أَمْرًا لِلَّهِ عَلَيْهِ فِيهِ مَقَالٌ، فَلَا يَقُولُ فِيهِ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَقُولَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ: رَبِّ خَشِيتُ النَّاسَ. فَيَقُولُ: إِيَّايَ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ تَخْشَى.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যেন নিজেকে তুচ্ছ মনে করে কোনো অন্যায় দেখে প্রতিবাদ করা থেকে বিরত না থাকে। কারণ, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি এ অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ করনি কেন? সে বলবে, রব! আমি মানুষকে ভয় পেয়েছি। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমারই তো ভয় করার বেশি হক ছিল।১৫
অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি যদি আমাকে ভয় করতে, তাহলে আমি তোমাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতাম। তোমার উচিত ছিল, আমার উপর ভরসা করা, মানুষকে ভয় না করা। কারণ, তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
টিকাঃ
১৫. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪০০৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১১৫৩৯। হাদীসটি সহীহ।