📄 আমল প্রকাশিত হওয়ার সওয়াব
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَرَأَيْتَ رَجُلًا عَمِلَ عَمَلًا يُسِرُّهُ لَا يُرِيدُ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِ أَحَدٌ إِلَّا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ، فَاطَّلَعَ عَلَيْهِ بَعْضُ النَّاسِ، فَسُرَّ بِذَلِكَ، هَلْ لَهُ مِنْ أَجْرٍ قَالَ: نَعَمْ لَهُ أَجْرَانِ، أَجْرُ السِّرِّ، وَأَجْرُ الْعَلَانِيَةِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো আমল করে এবং তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানুক, তা সে চায় না। কিন্তু ঘটনাক্রমে মানুষ তা জেনে ফেলে, ফলে সে খুশি হয়। এতে কি সে কোনো সওয়াব পাবে? রাসূল ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে; গোপনের সওয়াব এবং প্রকাশের সওয়াব।১১
টিকাঃ
১১. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৬৪০৫; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৬৮৩০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩৮৪। হাদীসটি জয়ীফ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضَ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَعْمَلُ الْعَمَلَ فَأُسِرُّهُ فَيَطَّلِعُ عَلَيْهِ ذَلِكَ أَلِي فِيهِ أَجْرُ؟ قَالَ : لَكَ فِيهِ أَجْرَانِ أَجْرُ السِّرِّ وَأَجْرُ الْعَلَانِيَةِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল-এর নিকট আগমন করে আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমল করে তা গোপন করি, কোনোভাবে যদি তা প্রকাশ হয়ে যায়, তবে আমার ভিতরে তা আনন্দের উদ্রেক হয়। আমি কি এতে সওয়াব পাবো? রাসূল বললেন, এতে তুমি দু'টি সওয়াব পাবে- ১. গোপন করার সওয়াব। ২. প্রকাশ করার সওয়াব। ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, উক্ত হাদীসের অর্থ হলো, আমল প্রকাশ হওয়ার ফলে অন্যরা তার আমলের অনুসরণ করলে, সে দু'টি সওয়াব পাবে। যেমন অন্য হাদীসে রাসূল বলেছেন- مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً فَعُمِلَ بِهَا كَانَ لَهُ أَجْرُهَا وَمِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا مَنْ سَنَّ سُنَّةً سَيِّئَةً فَعَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. যে ব্যক্তি সৎকর্মের প্রচলন করল, সে কিয়ামত পর্যন্ত নিজ কর্মের প্রতিদান এবং যে উক্ত কর্ম করবে, তার সমপরিমাণ প্রতিদানও পাবে। পক্ষান্তরে যে মন্দকর্মের প্রচলন করল, সে কিয়ামত পর্যন্ত সে কাজ নিজে করার গুনাহগার হবে এবং যারা করবে তাদের সমপরিমাণ গুনাহ তারও হবে। তবে আমল প্রকাশ হলে অন্যে অনুসরণ করবে, এই চিন্তা থেকেই যদি তার মনে আনন্দ সৃষ্টি না হয়, বরং জাগতিক খ্যাতি ও যশপ্রাপ্তির মোহ দেখা দেয়, তবে তার প্রতিদান ও সওয়াব বিনষ্ট হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
টিকাঃ
২১. সুনানে ইবনে মাজাহ (শুআইব আরনাউত) ৫/৩০৫ (৪২২৬); সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩৮৪; সহীহইবনে হিব্বান: হাদীস-৩৭৫; সনদ সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/২৯৩]।
২২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৬৭৫।
📄 আল্লাহ তা'আলা আমলকারীর অন্তর দেখেন
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَنْ طَالَ عُمْرُهُ وَحَسُنَ عَمَلُهُ، قَالَ: فَأَيُّ النَّاسِ شَرٌّ؟ قَالَ: مَنْ طَالَ عُمْرُهُ وَسَاءَ عَمَلُهُ.
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবূ বাকরা রাযি. থেকে বর্ণিত। এক বেদুঈন রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! শ্রেষ্ঠ মানুষ কে? তিনি বললেন, যার বয়স দীর্ঘ হয় এবং আমল উত্তম হয়। সে জিজ্ঞেস করল, নিকৃষ্ট মানুষ কে? তিনি বললেন, যার বয়স দীর্ঘ হয় এবং আমল মন্দ হয়।১২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ، وَلَا إِلَى أَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বাহ্যিক রূপ এবং সম্পদের দিকে তাকান না। বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।১৩
টিকাঃ
১২. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২৩৩০; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২০৪১৩। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
১৩. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৬৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১৪৩।
عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ الْمَلَائِكَةَ يَرْفَعُونَ عَمَلَ عَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ فَيَسْتَكْثِرُونَهُ وَيُزَكُونَهُ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ سُلْطَانِهِ فَيُوحِي اللهُ تَعَالَى إِلَيْهِمْ : أَنَّكُمْ حَفَظَةً عَلَى عَمَلٍ عَبْدِي وَأَنَا رَقِيبٌ عَلَى مَا فِي نَفْسِهِ، إِنَّ عَبْدِي هُذَا لَمْ يُخْلِصُ لِي عَمَلَهُ فَاكْتُبُوهُ فِي سِجِّينٍ، وَيَصْعَدُونَ بِعَمَلِ عَبْدٍ فَيَسْتَقِلُّونَهُ وَيَحْتَقِرُونَهُ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ إِلَى حَيْثُ شَاءَ اللهُ مِنْ سُلْطَانِهِ، فَيُوَحِيَ اللَّهُ إِلَيْهِمْ أَنَّكُمْ حَفَظَةٌ عَلَى عَمَلٍ عَبْدِي، وَأَنَا رَقِيبٌ عَلَى مَا فِي نَفْسِهِ، إِنَّ عَبْدِي هُذَا أَخْلَصَ لِي عَمَلَهُ فَاكْتُبُوهُ فِي عِلِّيِّينَ.
হযরত যাম্রা ইবনে হাবীব রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, ফেরেশতাগণ কখনো-কখনো আল্লাহর কোনো বান্দার আমল বহন করে নিয়ে যায়। তারা এ আমলকে পরিমাণে বেশি মনে করে এবং এর প্রশংসা করতে থাকে। অতঃপর যখন তারা আল্লাহর দরবারে তার ক্ষমতাধীন স্থানের যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাদের নিকট ওহী পাঠান, তোমরা আমার বান্দার আমল লিপিবদ্ধকারী, আর আমি তার অন্তর্যামী। আমার এ বান্দা আমার জন্য আমল করেনি। সুতরাং তোমরা তার নাম সিজ্জীনে লিপিবদ্ধ করে নাও। পক্ষান্তরে ফেরেশতারা অন্য এক বান্দার আমল বহন করে আসমানে নিয়ে যাবে। তারা এ আমলকে পরিমাণে স্বল্প জ্ঞান করে অবজ্ঞা করবে। যখন তারা আল্লাহর দরবারে তার ক্ষমতাধীন স্থানের যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তাদের নিকট ওহী পাঠান, তোমরা আমার বান্দার আমল লিপিবদ্ধকারী, আর আমি অন্তর্যামী। আমার এ বান্দা আমার জন্যই আমল করেছে। সুতরাং তার নাম ইল্লিয়্যীনে লিপিবদ্ধ করে দাও। ইখলাসপূর্ণ স্বল্প আমল ইখলাসশূন্য বিপুল আমল অপেক্ষা উত্তম। ইখলাসপূর্ণ স্বল্প আমলকে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। যেমন আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا অর্থ: যদি আমল উত্তম হয়, তবে তিনি তা দ্বিগুণ করে দেন এবং তার পক্ষ থেকে দান করেন বিপুল প্রতিদান। পক্ষান্তরে বিপুল আমল যদি ইখলাসশূন্য হয়, তার কোনো প্রতিদান নেই বরং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
টিকাঃ
২৩. আয-যুহৃদ লি-আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক হাদীস-৪৫২; হাদীসটি জয়ীফ।
২৪. সূরা নিসা: আয়াত-৪০।
📄 ইখলাসশূন্য আমল জাহান্নামের কারণ
عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزَ، أَنَّ فُلَانًا دَخَلَ عَلَى مُعَاوِيَةَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ جَالِسٌ مَعَهُ، فَقَالَ لِمُعَاوِيَةَ: إِنِّي سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثًا، فَأَخْبِرْنِي بِهِ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ، وَكُنْتُ قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْهُ. فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُسْجَرُ بِهِمْ جَهَنَّمُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُؤْتَى بِرَجُلٍ، وَقَدْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللهِ، فَيَقُولُ لَهُ: مَاذَا عَمِلْتَ؟ فَيَقُولُ: قَاتَلْتُ فِي سَبِيلِكَ حَتَّى قُتِلْتُ، فَيَقُولُ: كَذَبْتَ إِنَّمَا قَاتَلْتَ لِيُقَالَ فُلَانٌ جَرِيءٌ، فَقَدْ قِيلَ، فَيُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ إِلَى النَّارِ. ثُمَّ يُؤْتَى بِرَجُلٍ، وَقَدْ جَمَعَ الْقُرْآنَ، فَيَقُولُ: مَاذَا عَمِلْتَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ : قَرَأَتُ الْقُرْآنَ، وَعَلَّمْتُهُ فِي سَبِيلِكَ، فَيَقُولُ : كَذَبْتَ إِنَّمَا أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانٌ قَارِيُّ فَقَدْ قِيلَ، فَيُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ إِلَى النَّارِ. ثُمَّ يُؤْتَى بِرَجُلٍ، وَقَدْ كَثَّرَ اللهُ مَالَهُ فَيَقُولُ : فَمَاذَا عَمِلْتَ فِيهِ؟ فَيَقُولُ: وَصَلْتُ الرَّحِمَ، وَتَصَدَّقْتُ فِي سَبِيلِكَ، فَيَقُولُ: كَذَبْتَ إِنَّمَا أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانٌ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ، فَيُسْحَبُ عَلَى وَجْهِهِ إِلَى النَّارِ. ثُمَّ ضَرَبَ مُعَاوِيَةُ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ هَكَذَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: نَعَمْ. ثُمَّ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ ، أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (هود: ١٥ - ١٦).
উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুয রহ. থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি আমির মুআবিয়া রাযি.-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তখন মিম্বরে বসা ছিলেন, তাঁর সাথে আবূ হুরায়রা রাযি.-ও ছিলেন। লোকটি বললেন, আমি রাসূল থেকে একটি হাদীস শুনেছি, আপনি আমাকে তা শুনাতে পারেন? তিনি বললেন, আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের শাস্তি দেওয়া হবে, সে হবে একজন শহীদ। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি এজন্য যুদ্ধ করেছ যে, মানুষ তোমাকে বীর বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। তখন তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর একজন কারী সাহেবকে উপস্থিত করা হবে, যে কুরআন শিখেছে এবং অন্যকে শিখিয়েছে। তাকেও জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় কুরআন শিখেছি এবং অন্যকে শিখিয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি তো এ জন্য কুরআন শিখেছিলে যে, মানুষ তোমাকে কারী বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। তখন তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর একজন সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, তাকে আল্লাহ প্রচুর সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় আত্মীয়ের হক আদায় করেছি এবং সদকা করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এ জন্য সম্পদ ব্যয় করেছ যে, মানুষ তোমাকে দানবীর বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। অতঃপর তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মুআবিয়া রাযি. আবূ হুরায়রা রাযি.-এর উরুতে হাত রেখে বললেন, আবূ হুরায়রা! রাসূল কি আমাদেরকে এভাবেই বলেননি? আবূ হুরায়রা রাযি. বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর আবূ হুরায়রা রাযি. বললেন, এরপর রাসূল এই আয়াতটি পাঠ করলেন,
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ. أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অর্থ: যারা দুনিয়ার জীবন ও তার সৌন্দর্য চায়, আমি তাদের কর্মের পূর্ণ ফল এখানেই দিয়ে দেই। এখানে তাদের জন্য কোনো কমতি করা হয় না। এরা এমন লোক যে, এদের জন্য পরকালে আগুন ছাড়া কিছুই নেই। তারা যা কিছু করেছিল এখানে তা সবই বরবাদ হয়ে গেছে এবং তারা যা কিছু করত তা সবই ছিল অর্থহীন।১৪
টিকাঃ
১৪. সূরা হুদ: আয়াত-১৫-১৬
حَدَّثَنِي جَمَاعَةٌ مِنَ الْفُقَهَاءِ بِأَسَانِيدِهِمْ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ شَفِي الْأَصْبَحِي، أَنَّه دَخَلَ الْمَدِينَةَ فَإِذَا هُৱ بِرَجُلٍ قَدِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ النَّاسُ فَقُلْتُ مَنْ هُذَا؟ فَقَالُوا: أَبُو هُرَيْرَةً فَدَنَوْتُ مِنْهُ وَهُৱ يُحَدِّثُ النَّاسَ، فَلَمَّا سَكَتَ وَخَلَا قُلْتُ لَهُ : أُنْشِدُكَ اللَّهَ حَدَّثْنِي حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَحَفِظْتَهُ ، حَدَّثَكَ بِهِ وَعُلَّمْتَهُ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ : اقْعُدْ لِأُحَدَّثَكَ بِحَدِيثٍ حَدَّثَنِيهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مَعَنَا أَحَدٌ غَيْرِي وَغَيْرِهِ، ثُمَّ نَشَغَ نَشْغَةً، أَيْ شَهِقَ شَهْقَةً، فَخَرَّ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ، فَمَكَثَ عَلَيْهِ قَلِيلًا ثُمَّ أَفָاقَ وَمَسَحَ وَجْهَهُ فَقَالَ : لَأُحَدِّثَنَّكُمْ بِحَدِيثٍ حَدَّثَنِيهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثُمَّ نَشَغَ أُخْرَى فَمَكَثَ طَوِيلًا ثُمَّ أَفָاقَ وَمَسَحَ وَجْهَهُ فَقَالَ : حَدَّثَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ ، فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ يَقْضِي بَيْنَ خَلْقِهِ، فَكُلُّ أُمَّةٍ جَاثِيَةٌ، فَأَوَّلُ مَنْ يُدْعَى بِهِ : رَجُلٌ قَدْ جَمَعَ الْقُرْآنَ، وَرَجُلٌ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَرَجُلٌ كَثِيرُ الْمَالِ ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى لِلْقَارِئِ : أَلَمْ أَعَلَّمْكَ مَا أَنْزَلْتُ عَلَى رُسُلِي، قَالَ : بَلَى يَا رَبُّ، قَالَ: ফ্যামাজা আমিলতা ফীমা আলিমতা? قَالَ : كُنْتُ أَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى لَهُ : كَذَبْتَ وَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: كَذَبْتَ، بَلْ أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانٌ قَارِيُّ، فَقَدْ قِيلَ ذَلِكَ، وَيُقَالُ لِصَاحِبِ الْمَالِ: مَاذَا عَمِلْتَ فِيمَا آتَيْتُكَ? قَالَ : كُنْتُ أَصِلُ بِهِ الرَّحمَ وَأَتَصَدَّقُ بِهِ، فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى : كَذَبْتَ، وَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ : كَذَبْتَ؛ بَلْ أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ فُلَانُ جَوَادُ سَخِيٌّ، وَهُৱ ضِدُّ الْبَخِيلِ، فَقَدْ قِيلَ ذَلِكَ، وَيُؤْتَى بِالَّذِي قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقُولُ لَهُ : لِمَاذَا قُتِلْتَ? قَالَ: قَاتَلْتُ فِي سَبِيلِكَ حَتَّى قُتِلْتُ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : كَذَبْتَ، وَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: كَذَبْتَ، بَلْ أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ لَكَ فُلَانٌ جَرِي، فَقَدْ قِيلَ ذُلِكَ ثُمَّ ضَرَبَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بِيَدِهِ عَلَى رُكْبَتَي. فَقَالَ : يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أُولَئِكَ الثَّلَاثَةُ أَوَّلُ خَلْقِ اللَّهِ تَعَالَى تُسَعَرُ بِهِمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. قَالَ : فَبَلَغَ ذَلِكَ الْخَبَرُ إِلَى مُعَاوِيَةَ فَبَكَى بُكَاءٌ شَدِيدًا، وَقَالَ : صَدَقَ اللهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ : ম্যন কানা ইউরীদুল হায়াতাদ দুনইয়া ওয়া যীনাতাহা নুওয়াফি ইলাইহিম আমালাহুম ফীহা ওয়াহুম ফীহা লা ইউবখাসূন। উলাইকাল্লাযীনা লাইসা লাহুম ফিল আখিরাতি ইল্লান নারু ওয়া হাবিতা মা সানায়ূ ফীহা ওয়া বাতিলুম মা কানূ ইয়ামালূন (হুদ: ১৫-১৬)
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, আমাকে ফকীহগণের বৃহৎ এক জামাআত বর্ণনা করেন, শুফাই আল-আসবাহী একদা মদীনায় প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, আমি সেখানে দেখতে পেলাম জনৈক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিপুল লোকের জমায়েত হয়ে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা উত্তর করল, ইনি হযরত আবূ হুরায়রা রাযি.। আমি তার নিকটবর্তী হলাম। (এমনকি একেবারে সামনে গেলাম।) তিনি সমবেত লোকদেরকে হাদীসের দরস দিচ্ছেন। দরস শেষ হওয়ার পর লোকজন চলে গেলে আমি তাকে বললাম, আল্লাহর নামের দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে এমন হাদীস শোনান, যা আপনি স্বয়ং রাসূল থেকে শ্রবণ করেছেন, অতঃপর তা সংরক্ষণ করেছেন এবং মর্ম বুঝেছেন ও তদানুযায়ী আমল করেছেন। হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, বসো। আমি তোমাকে এমন এক হাদীস বর্ণনা করব, যা রাসূল স্বয়ং আমাকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ও আমি ব্যতীত তথায় কেউ উপস্থিত ছিল না। এই কথা বলতে-বলতে তার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছু সময় যাবার পর তার হুঁশ ফিরে এলো। তিনি মুখমণ্ডল মুছে বললেন, অবশ্যই আমি তোমাদেরকে এমন হাদীস বর্ণনা করব, যা স্বয়ং রাসূল আমাকে বলেছেন। এই বলে আবার তার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো এবং তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাবার পর হুঁশ ফিরে এলো। তিনি উঠে মুখমণ্ডল মুছে নিলেন। এরপর বললেন, রাসূল আমাকে বলেছেন, যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টির মাঝে ফায়সালা করবেন। সকলে হাঁটুতে ভর দিয়ে নতজানু হয়ে থাকবে। যাদেরকে সর্বপ্রথম ডাকা হবে তাদের একজন হবে সে, যে কুরআন হেফজ করেছে। আরেকজন, যে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছে। অপরজন, যে ছিল বিপুল সম্পদের অধিকারী। আল্লাহ তা'আলা হাফেজকে বলবেন, আমি আমার রাসূলদের উপর যা নাযিল করেছি, তা কি তোমাকে শিক্ষা দেইনি? সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার রব! আল্লাহ বলবেন, তবে যা জেনেছ তাতে কী আমল করেছ? লোকটি বলবে, আমি রাত-দিন তাতে মশগুল ছিলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। ফেরেশতাগণও বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তোমার কামনা ছিল যে, লোকেরা বলবে, অমুক ব্যক্তি বড় ক্বারী। এমন তো বলা হয়ে গেছে। (তোমার প্রতিদান তুমি পেয়ে গিয়েছ)। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর তিনি সম্পদশালীকে লক্ষ্য করে বলবেন, আমি তোমাকে যে সম্পদ দান করেছিলাম, তা দিয়ে তুমি কী করেছ? সে বলবে, আমি তা দিয়ে আত্মীয়তার হক আদায় করেছি এবং সদকা করেছি। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। ফেরেশতাগণও বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তোমার কামনা ছিল যে, লোকেরা বলবে, অমুক ব্যক্তি দানশীল, দরাজদিল। এ তো বলা হয়ে গেছে। (তোমার প্রতিদান তুমি পেয়ে গিয়েছ)। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর আল্লাহর রাস্তায় শহীদকে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, কেন তোমাকে হত্যা করা হয়েছিল? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় লড়াই করেছি। এমনকি শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। ফেরেশতাগণও বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; বরং তোমার কামনা ছিল যে, লোকেরা বলবে, অমুক ব্যক্তি ভীষণ সাহসী। এ তো বলা হয়ে গেছে! (তোমার প্রতিদান তুমি পেয়ে গিয়েছ)। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, অতঃপর রাসূল আমার দু হাঁটুতে হাত রেখে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! এরাই হলো, আল্লাহর প্রথম তিন মাখলুক, কিয়ামতের দিন যাদেরকে দিয়ে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত হবে। আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, এ সংবাদ মুআবিয়া রাযি.-এর নিকট পৌঁছলে তিনি প্রচণ্ড কান্নায় ভেঙে পড়লেন। বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন- অর্থ: যারা পার্থিব জীবন ও তার শোভা কামনা করে, দুনিয়াতে আমি তাদের কর্মের পূর্ণ ফল দান করি এবং তাতে তাদেরকে কম প্রদান করা হবে না। তবে তাদের জন্য আখেরাতে আগুন ব্যতীত অন্য কিছু নেই। তারা যা করে, আখেরাতে তা বিফল ও নিরর্থক বলে গণ্য হবে। হযরত আব্দুল্লাহ বিন খুবাইক্ব আনতাকী রহ. বলেন, কিয়ামতের দিন যখন বান্দা তার আমলের প্রতিদান চাইবে, তখন আল্লাহ বলবেন- আমি কি তোমার প্রতিদান পূর্বেই দিয়ে দেইনি? আমি কি তোমার জন্য মজলিস প্রশস্ত করিনি? দুনিয়াতে তোমাকে নেতৃত্ব দান করিনি? আমি কি তোমার ক্রয় ও বিক্রয় সহজ করে দেইনি? তোমার কি এমন এমন সুযোগ-সুবিধা ছিল না? (ইখলাস শূন্য আমলকারীকে এই বলে আল্লাহ প্রতিদান বঞ্চিত করবেন।)
টিকাঃ
২৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯০৫ (মূল হাদীসটি বিদ্যমান তবে আবু হুরায়রা রাযি.-এর ঘটনাটি অনুল্লিখিত); সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩৮২; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-৩১৩৭। আয়াতটি সূরা হুদ এর ১৫-১৬ নং আয়াত।
📄 মুখলিস ও তার গুণাবলী
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: أَرْبَعٌ مِنَ الْعَمَلِ، وَأَرْبَعٌ مِنَ الْعَلَامَةِ. فَأَمَّا الْعَمَلُ : فَالصَّلَاةُ وَالزَّكَاةُ وَالصِّيَامُ وَالْحَجُّ. وَأَمَّا الْعَلَامَةُ: فَالْوَرَعُ فِي الدِّينِ، وَالتَّوَاضُعُ لِلَّهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ، وَحُبُّ اللهِ تَعَالَى، وَالْفَقْرُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنَ الْغِنَى.
হযরত আবূ উমামা বাহেলী রাযি. বলেন, মুখলিস হওয়ার জন্য চারটি আমল রয়েছে এবং মুখলিস হওয়ার চারটি আলামত রয়েছে। আমল চারটি হলো- নামায, যাকাত, রোযা ও হজ্ব। আর আলামত চারটি হলো- পরহেজগার হওয়া, আল্লাহর জন্য বিনয়ী হওয়া, আল্লাহকে ভালোবাসা এবং গোপনে প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা।
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ম্যনিল মুখলিস? অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি মুখলিস? তথা ইখলাসপূর্ণ আমলকারী বলে গণ্য। তিনি বললেন, মুখলিসুল্লাযী কাতামা হাসানাতিহী কামা ইয়াকতুমু সাইয়্যিআতিহী। অর্থাৎ, ইখলাস পূর্ণ আমলকারী সে, যে তার ভালোকাজগুলো গোপন করে, যেভাবে গোপন করে তার মন্দ কাজগুলো। অপর জনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, গায়াতুল ইখলাস অর্থাৎ, ইখলাসের সীমা কী? তিনি বললেন, আন লা ইউহিব্বু মাহমাদাতান নাস। অর্থাৎ, মানুষের প্রশংসা পছন্দ না করা। যুন্নুন মিসরিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে কখন জানা যাবে যে, সে আল্লাহর খাঁটি বান্দা? তিনি বললেন, এটা চেনার আলামাত চারটি। যথা- ১. যখন সে প্রশান্তি ও বিশ্রাম ত্যাগ করবে। ২. তার কাছে যা রয়েছে, পরিমাণে তা স্বল্প হলেও, তা থেকেই দান করবে। ৩. পার্থিব মর্যাদা ও খ্যাতির পতন পছন্দ করবে। ৪. এবং সর্বোপরি প্রশংসা ও ঘৃণা উভয়টিই তার কাছে একই কাতারের মনে হবে।