📄 গাইরুল্লাহর জন্য করা আমলে ক্লান্তি বৈ কিছুই নেই
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ، فَأَتِي بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ: جَرِيءٌ فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ، وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ، وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ: عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِئُ، فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ. قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادُ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে সে একজন শহীদ। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হলে প্রথমে আল্লাহ তা'আলা তার নিয়ামতগুলো স্মরণ করাবেন। সেও তা স্মরণ করবে। তারপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার নিয়ামতের কী শুকরিয়া আদায় করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি এ জন্য যুদ্ধ করেছ যে, মানুষ তোমাকে বীর বলবে, তারা তো বলেছেই। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার আদেশ দেওয়া হবে। তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
দ্বিতীয় ব্যক্তি হবে একজন আলেম ও কারী। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে। তাকে প্রথমে আল্লাহর নিয়ামতগুলো স্মরণ করানো হবে। সেও তা স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার নিয়ামতের কী শুকরিয়া আদায় করেছ? সে বলবে, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য ইলম শিখেছি এবং তা অন্যকে শিখিয়েছি, কুরআন পড়েছি ও পড়িয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি তো এ জন্য ইলম শিখেছিলে যে, লোকে তোমাকে আলেম বলবে। আর এ জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে যে, লোকে তোমাকে কারী বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার আদেশ দেওয়া হবে এবং হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তৃতীয় ব্যক্তি হবে একজন দানশীল ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ প্রচুর সম্পদ দান করেছেন। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করে নিয়ামতগুলো স্মরণ করানো হবে। সেও তা স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার নিয়ামতের কী শুকরিয়া আদায় করেছ? সে বলবে, আমি তোমার দেওয়া সম্পদ থেকে যেখানে দান করা তুমি পছন্দ কর, আমি সেখানেই দান করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এ জন্য দান করেছিলে যে, মানুষ তোমাকে দানবীর বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : رُبَّ صَائِمِ لَيْসَ لَهُ حَقٌّ مِنْ صَوْمِهِ إِلَّا الْجُوعُ وَالْعَطَشُ، وَرُبَّ قَائِم لَيْসَ لَه حَقٌّ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ وَالنَّصَبُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেছেন, অনেক রোযাদার এমন আছে যার রোযা থেকে প্রাপ্তি কেবল ক্ষুধা ও পিপাসা। আর রাতভর অনেক এবাদতকারী এমন আছে যার বিনিদ্র রাত যাপনের প্রাপ্তি কেবল রাত জাগরণ ও ক্লান্তিভোগ। অর্থাৎ নামায রোযা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না হয়, তাহলে এর বিনিময়ে সে কোনো প্রতিদান পায় না। যেমন কোনো এক বিদ্বান ব্যক্তি থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি লোক দেখানো ও যশ-খ্যাতি অর্জনের জন্য ভালো কাজ করে, তার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো, যে কঙ্করভর্তি থলে নিয়ে বাজারে যায়, আর আশপাশের লোকেরা মনে করে, না জানি তার থলিতে কত টাকা আছে! মানুষের এমন উক্তি ছাড়া তার আর কোনই লাভ নেই। কারণ, থলে ভর্তি কঙ্করের বিনিময়ে বাজার থেকে কিছু ক্রয় করতে চাইলে, তাকে কিছুই দেওয়া হবে না। অনুরূপ যে ব্যক্তি লোক দেখানো ও যশ-খ্যাতির জন্য আমল করে, তার আমলেও কোনো লাভ নেই মানুষের এমন কথা ছাড়া। আখেরাতে এর কোনো সওয়াব নেই। যেমন আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন- وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا অর্থ: আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি লক্ষ্য করবো, অতঃপর তাকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব। অর্থাৎ, যে আমল আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তার সওয়াব আমি পণ্ড করে দেব। রোদে উড়ন্ত ধূলি-কণা যেমন কোনো কাজে আসে না, লোক দেখানো ও যশ-খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে কৃত আমলও তেমন কোনো কাজে আসবে না।
عَنْ مُجَاهِد يَقُولُ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ وَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَتَصَدَّقُ بِالصَّدَقَةِ فَأَلْتَمِسُ بِهَا وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى وَأُحِبُّ أَنْ يُقَالَ لِي خَيْرٌ.
হযরত মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রাসূল-এর নিকট এসে আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সদকা করি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি। আর আমি এ আকাঙ্ক্ষাও করি যে, এর কারণে লোকজন আমার কিছু প্রশংসাও করুক। তখন এ আয়াত নাযিল হয়- فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا অর্থ: সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা করে, সে যেন নিখাদ আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে অংশীদার না করে।
টিকাঃ
১৩. সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত-১৮-২০
১৪. মুসনাদে আহমদ (শুয়াইব আরনাউত) : ১৪/৪৪৫; সুনানে দারেমী: হাদীস-২৭২০; সহীহ ইবনে খুযাইমা: হাদীস-১৯৯৭; হাদীসটির সনদ সহীহ।
১৫. সূরা আল-ফুরকান: ২৩
১৬. উপরোক্ত সনদে হাদীসটি আমরা পাইনি। তবে ইমাম ত্ববারী নিজ সনদে হাদীসটি মুজাহিদের সূত্রে সাদাকাহ ইবনে ইয়াসার রাযি. থেকে স্বীয় তাফসীরে সামান্য শাব্দিক পরিবর্তনসহ বর্ণনা করেছেন। দেখুন: তাফসীরে ত্ববারী: ১৮/১৩৬ (সূরা আল-কাহফ শেষ আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)।
১৭. সূরা আল-কাহ্ফ্ফ: আয়াত-১১০
📄 সাতটি আমল সাতটি বিষয় ছাড়া অর্থহীন
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: سَبْعَةُ أَشْيَاءَ لَا أَجْرَ لَهَا: الصَّلَاةُ بِلَا خُشُوعٍ، وَالصَّدَقَةُ مِنَ الْحَرَامِ، وَالصَّوْمُ مَعَ الْغِيبَةِ، وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ بِغَيْرِ تَدَبُّرٍ، وَالصَّبْرُ مَعَ الْجَزَعِ يَعْنِي يَدْعُو عَلَى نَفْسِهِ بِالْوَيْلِ وَالثُّبُورِ، وَالتَّوْبَةُ مَعَ الْإِصْرَارِ عَلَى الذَّنْبِ، وَالْعِلْمُ بِلَا وَرَعْ
রাসূল ইরশাদ করেন, সাতটি আমল সাতটি বিষয় ছাড়া অর্থহীন। যথা-
১. বিনয়হীন নামায।
২. হারাম সম্পদ থেকে সদকা।
৩. গীবতের সাথে রোযা।
৪. চিন্তাভাবনা ছাড়া কুরআন পাঠ।
৫. আহাজারি ও বিলাপ করে সবর করা। অর্থাৎ, নিজের ধ্বংসের দুআ করা।
৬. তাওবা করে পুনরায় গুনাহ করা।
৭. পরহেযগারী ছাড়া ইলম।
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, সাত ধরনের আমল সাত ধরনের গুণ ব্যতীত কোন কাজে আসবে না-
১. أَنْ يَعْمَلَ بِالْخَوْفِ دُونَ الْحَذَرِ অর্থ: পরিহার ব্যতীত ভীতি। অর্থাৎ কেউ বলে, আমি আল্লাহর আযাবকে ভয় করি, অথচ সে গুনাহ পরিহার করে না। সুতরাং তার এ কথা কোনো কাজে আসবে না।
২. أَنْ يَعْمَلَ بِالرَّجَاءِ دُونَ الطَّلَبِ অর্থ : চেষ্টা ছাড়া আশা। অর্থাৎ, কেউ বলে, আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট সওয়াবের আশা রাখি, অথচ নেক আমলের মাধ্যমে তা তালাশ করে না। সুতরাং তার এ কথা কোনো কাজে আসবে না।
৩. بِالنِّيَّةِ دُونَ الْقَصْدِ অর্থ : চেষ্টা সাধনা ব্যতীত নিয়ত। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি অন্তরে এ ইচ্ছা রাখে যে, সে ভালো কাজ করবে, কল্যাণ কর্মে ব্রতী হবে, কিন্তু এর জন্য চেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করে না। এ ব্যক্তির নিয়তও কোনো কাজে আসবে না।
৪. بِالدُّعَاءِ دُونَ الْجَهْدِ অর্থ: পরিশ্রম ব্যতীত দুআ। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কল্যাণকর্মের তাওফীক চেয়ে দোয়া করে অথচ তা সম্পাদন করার জন্য কোনো পরিশ্রম করে না। সুতরাং এ দোয়া তার কোনো উপকারে আসবে না। বরং তার দায়িত্ব হলো পরিশ্রম করা, যাতে আল্লাহ তা'আলা তাকে তাওফীক দান করেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ অর্থ: যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে রয়েছেন। অর্থাৎ যারা আমার আনুগত্যের পথে ও আমার দীনের জন্য চেষ্টা করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে সে কাজে সফলতা দান করি।
৫. بِالْإِسْتِغْفَارِ دُونَ النَّدَمِ অর্থ: অনুশোচনাহীন ইস্তিগফার। অর্থাৎ কেউ বলে, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। অথচ কৃত গুনাহের জন্য তার কোনো অনুতাপই নাই। সুতরাং অনুশোচনাহীন ইস্তিগফার তার কোনো কাজে আসবে না।
৬. بِالْعَلَانِيَةِ دُونَ السَّرِيرَةِ অর্থ: গোপনে নয়, কেবল প্রকাশ্যে। অর্থাৎ কেউ তার বাহ্যিক দিকটাকে শুধরে নিল। অথচ অপ্রকাশ্যে ও গোপনীয় দিককে শোধরালো না। সুতরাং তার বাহ্যিক শোধরানো কোনো কাজে আসবে না।
৭. أَنْ يَعْمَلَ بِالْكَدَّ دُونَ الْإِخْلَاصِ অর্থ : ইখলাস ব্যতীত পরিশ্রম। অর্থাৎ কেউ ভালো কাজের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করল, কিন্তু সে কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য ছিল না। সুতরাং তার এমন চেষ্টা-সাধনা কোনো কাজে আসবে না।
وَرَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ أَقْوَامُ لاجْتِلَابِ الدُّنْيَا مِثْلَ الْحَلْبِ. فَيَلْبَسُونَ لِبَاسَ جُلُودِ الضَّأْنِ فِي اللَّينِ، أَلْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ السُّكَرِ وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبُ النَّتَابِ. يَقُولُ اللهُ : أَبِي تَغْتَرُونَ أَمْ عَلَيَّ تَجْتَرِثُونَ فَبِي حَلَفْتُ؟ لَأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ فِتْنَةً تَدَعُ الْحَكِيمَ الْعَاقِلَ فِيهَا حَيْرَانًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, শেষ যামানায় এমন এমন সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে, যারা দুনিয়াকে দীনের সাথে মিশ্রিত করে ফেলবে। তাদের পোশাক হবে ভেড়ার পশমের মতো কোমল আর ভাষা হবে চিনির চেয়েও সুমিষ্ট। কিন্তু তাদের অন্তর হবে নেকড়ের অন্তরের মতো। আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি আমাকে নিয়ে প্রতারণা করছ? নাকি আমার উপর ঔদ্ধত্য প্রকাশ করছ? আমার নফসের কসম! আমি তাদের উপর এমন ফেতনা চাপিয়ে দেব, যা প্রজ্ঞাবান ও জ্ঞানীকেও দিশেহারা করে ছাড়বে।
টিকাঃ
১৮. সূরা আনকাবুত: আয়াত-৬৯
১৯. وَفِي نُسْخَةٍ أُخْرَى يَجْلِبُونَ أَي يَأْكُلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ وَفِي أُخْرَى يَجْتَلِبُونَ الدُّنْيَا يَعْنِي يَأْخُذُونَهَا .
২০. সুনানে তিরমিযী (তুহফা): ২৪০৪-২৪০৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরিব বলেছেন। আল্লামা মুনযিরী আত-তারগীবে তা সমর্থন করেছেন। এছাড়াও হাদীসটি সুনানে দারেমী: হাদীস-৩০৭ তে সহীহ সনদে কা'ব আহবারের বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
📄 আমল প্রকাশিত হওয়ার সওয়াব
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَرَأَيْتَ رَجُلًا عَمِلَ عَمَلًا يُسِرُّهُ لَا يُرِيدُ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِ أَحَدٌ إِلَّا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ، فَاطَّلَعَ عَلَيْهِ بَعْضُ النَّاسِ، فَسُرَّ بِذَلِكَ، هَلْ لَهُ مِنْ أَجْرٍ قَالَ: نَعَمْ لَهُ أَجْرَانِ، أَجْرُ السِّرِّ، وَأَجْرُ الْعَلَانِيَةِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো আমল করে এবং তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানুক, তা সে চায় না। কিন্তু ঘটনাক্রমে মানুষ তা জেনে ফেলে, ফলে সে খুশি হয়। এতে কি সে কোনো সওয়াব পাবে? রাসূল ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে; গোপনের সওয়াব এবং প্রকাশের সওয়াব।১১
টিকাঃ
১১. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৬৪০৫; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৬৮৩০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩৮৪। হাদীসটি জয়ীফ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضَ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَعْمَلُ الْعَمَلَ فَأُسِرُّهُ فَيَطَّلِعُ عَلَيْهِ ذَلِكَ أَلِي فِيهِ أَجْرُ؟ قَالَ : لَكَ فِيهِ أَجْرَانِ أَجْرُ السِّرِّ وَأَجْرُ الْعَلَانِيَةِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল-এর নিকট আগমন করে আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমল করে তা গোপন করি, কোনোভাবে যদি তা প্রকাশ হয়ে যায়, তবে আমার ভিতরে তা আনন্দের উদ্রেক হয়। আমি কি এতে সওয়াব পাবো? রাসূল বললেন, এতে তুমি দু'টি সওয়াব পাবে- ১. গোপন করার সওয়াব। ২. প্রকাশ করার সওয়াব। ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, উক্ত হাদীসের অর্থ হলো, আমল প্রকাশ হওয়ার ফলে অন্যরা তার আমলের অনুসরণ করলে, সে দু'টি সওয়াব পাবে। যেমন অন্য হাদীসে রাসূল বলেছেন- مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً فَعُمِلَ بِهَا كَانَ لَهُ أَجْرُهَا وَمِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا مَنْ سَنَّ سُنَّةً سَيِّئَةً فَعَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. যে ব্যক্তি সৎকর্মের প্রচলন করল, সে কিয়ামত পর্যন্ত নিজ কর্মের প্রতিদান এবং যে উক্ত কর্ম করবে, তার সমপরিমাণ প্রতিদানও পাবে। পক্ষান্তরে যে মন্দকর্মের প্রচলন করল, সে কিয়ামত পর্যন্ত সে কাজ নিজে করার গুনাহগার হবে এবং যারা করবে তাদের সমপরিমাণ গুনাহ তারও হবে। তবে আমল প্রকাশ হলে অন্যে অনুসরণ করবে, এই চিন্তা থেকেই যদি তার মনে আনন্দ সৃষ্টি না হয়, বরং জাগতিক খ্যাতি ও যশপ্রাপ্তির মোহ দেখা দেয়, তবে তার প্রতিদান ও সওয়াব বিনষ্ট হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
টিকাঃ
২১. সুনানে ইবনে মাজাহ (শুআইব আরনাউত) ৫/৩০৫ (৪২২৬); সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩৮৪; সহীহইবনে হিব্বান: হাদীস-৩৭৫; সনদ সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/২৯৩]।
২২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৬৭৫।
📄 আল্লাহ তা'আলা আমলকারীর অন্তর দেখেন
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: مَنْ طَالَ عُمْرُهُ وَحَسُنَ عَمَلُهُ، قَالَ: فَأَيُّ النَّاسِ شَرٌّ؟ قَالَ: مَنْ طَالَ عُمْرُهُ وَسَاءَ عَمَلُهُ.
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবূ বাকরা রাযি. থেকে বর্ণিত। এক বেদুঈন রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! শ্রেষ্ঠ মানুষ কে? তিনি বললেন, যার বয়স দীর্ঘ হয় এবং আমল উত্তম হয়। সে জিজ্ঞেস করল, নিকৃষ্ট মানুষ কে? তিনি বললেন, যার বয়স দীর্ঘ হয় এবং আমল মন্দ হয়।১২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ، وَلَا إِلَى أَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বাহ্যিক রূপ এবং সম্পদের দিকে তাকান না। বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।১৩
টিকাঃ
১২. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২৩৩০; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২০৪১৩। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
১৩. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৬৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১৪৩।
عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ الْمَلَائِكَةَ يَرْفَعُونَ عَمَلَ عَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ فَيَسْتَكْثِرُونَهُ وَيُزَكُونَهُ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ سُلْطَانِهِ فَيُوحِي اللهُ تَعَالَى إِلَيْهِمْ : أَنَّكُمْ حَفَظَةً عَلَى عَمَلٍ عَبْدِي وَأَنَا رَقِيبٌ عَلَى مَا فِي نَفْسِهِ، إِنَّ عَبْدِي هُذَا لَمْ يُخْلِصُ لِي عَمَلَهُ فَاكْتُبُوهُ فِي سِجِّينٍ، وَيَصْعَدُونَ بِعَمَلِ عَبْدٍ فَيَسْتَقِلُّونَهُ وَيَحْتَقِرُونَهُ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ إِلَى حَيْثُ شَاءَ اللهُ مِنْ سُلْطَانِهِ، فَيُوَحِيَ اللَّهُ إِلَيْهِمْ أَنَّكُمْ حَفَظَةٌ عَلَى عَمَلٍ عَبْدِي، وَأَنَا رَقِيبٌ عَلَى مَا فِي نَفْسِهِ، إِنَّ عَبْدِي هُذَا أَخْلَصَ لِي عَمَلَهُ فَاكْتُبُوهُ فِي عِلِّيِّينَ.
হযরত যাম্রা ইবনে হাবীব রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, ফেরেশতাগণ কখনো-কখনো আল্লাহর কোনো বান্দার আমল বহন করে নিয়ে যায়। তারা এ আমলকে পরিমাণে বেশি মনে করে এবং এর প্রশংসা করতে থাকে। অতঃপর যখন তারা আল্লাহর দরবারে তার ক্ষমতাধীন স্থানের যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাদের নিকট ওহী পাঠান, তোমরা আমার বান্দার আমল লিপিবদ্ধকারী, আর আমি তার অন্তর্যামী। আমার এ বান্দা আমার জন্য আমল করেনি। সুতরাং তোমরা তার নাম সিজ্জীনে লিপিবদ্ধ করে নাও। পক্ষান্তরে ফেরেশতারা অন্য এক বান্দার আমল বহন করে আসমানে নিয়ে যাবে। তারা এ আমলকে পরিমাণে স্বল্প জ্ঞান করে অবজ্ঞা করবে। যখন তারা আল্লাহর দরবারে তার ক্ষমতাধীন স্থানের যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তাদের নিকট ওহী পাঠান, তোমরা আমার বান্দার আমল লিপিবদ্ধকারী, আর আমি অন্তর্যামী। আমার এ বান্দা আমার জন্যই আমল করেছে। সুতরাং তার নাম ইল্লিয়্যীনে লিপিবদ্ধ করে দাও। ইখলাসপূর্ণ স্বল্প আমল ইখলাসশূন্য বিপুল আমল অপেক্ষা উত্তম। ইখলাসপূর্ণ স্বল্প আমলকে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। যেমন আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا অর্থ: যদি আমল উত্তম হয়, তবে তিনি তা দ্বিগুণ করে দেন এবং তার পক্ষ থেকে দান করেন বিপুল প্রতিদান। পক্ষান্তরে বিপুল আমল যদি ইখলাসশূন্য হয়, তার কোনো প্রতিদান নেই বরং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
টিকাঃ
২৩. আয-যুহৃদ লি-আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক হাদীস-৪৫২; হাদীসটি জয়ীফ।
২৪. সূরা নিসা: আয়াত-৪০।