📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 শুধু আল্লাহর জন্য যে আমল করা হয়, তা-ই কবুলের যোগ্য

📄 শুধু আল্লাহর জন্য যে আমল করা হয়, তা-ই কবুলের যোগ্য


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ رَجُلًا غَزَا فِي سَبِيلِ اللهِ، وَهُوَ يَلْتَمِسُ الْأَجْرَ وَالذِّكْرَ مَا لَهُ فِي ذَلِكَ؟ قَالَ: لَا شَيْءَ لَهُ، فَأَعَادَهَا عَلَيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: لَا شَيْءٍ لَهُ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا، وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ.
হযরত আবূ উমামা রাযি. বলেন, একবার এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোনো লোক আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে এবং তাতে সে জাগতিক স্বার্থ ও খ্যাতি কামনা করে, তাহলে তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন? রাসূল ইরশাদ করলেন, তার কোনো প্রাপ্তি নেই। উক্ত ব্যক্তি একই প্রশ্ন তিনবার করলে রাসূলও তিনবার একই উত্তর দিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা ঐ আমলই কবুল করেন যা ইখলাসের সাথে এবং শুধু তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়। ১০

টিকাঃ
১০. সুনানে নাসায়ী হাদীস-৩১৪০; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২২২৬৭; হাদীসটি হাসান।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 গাইরুল্লাহর জন্য করা আমলে ক্লান্তি বৈ কিছুই নেই

📄 গাইরুল্লাহর জন্য করা আমলে ক্লান্তি বৈ কিছুই নেই


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ، فَأَتِي بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِأَنْ يُقَالَ: جَرِيءٌ فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ، وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ، وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ: عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِئُ، فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ. قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادُ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে সে একজন শহীদ। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হলে প্রথমে আল্লাহ তা'আলা তার নিয়ামতগুলো স্মরণ করাবেন। সেও তা স্মরণ করবে। তারপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার নিয়ামতের কী শুকরিয়া আদায় করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি এ জন্য যুদ্ধ করেছ যে, মানুষ তোমাকে বীর বলবে, তারা তো বলেছেই। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার আদেশ দেওয়া হবে। তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
দ্বিতীয় ব্যক্তি হবে একজন আলেম ও কারী। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে। তাকে প্রথমে আল্লাহর নিয়ামতগুলো স্মরণ করানো হবে। সেও তা স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার নিয়ামতের কী শুকরিয়া আদায় করেছ? সে বলবে, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য ইলম শিখেছি এবং তা অন্যকে শিখিয়েছি, কুরআন পড়েছি ও পড়িয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি তো এ জন্য ইলম শিখেছিলে যে, লোকে তোমাকে আলেম বলবে। আর এ জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে যে, লোকে তোমাকে কারী বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার আদেশ দেওয়া হবে এবং হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তৃতীয় ব্যক্তি হবে একজন দানশীল ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ প্রচুর সম্পদ দান করেছেন। তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করে নিয়ামতগুলো স্মরণ করানো হবে। সেও তা স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার নিয়ামতের কী শুকরিয়া আদায় করেছ? সে বলবে, আমি তোমার দেওয়া সম্পদ থেকে যেখানে দান করা তুমি পছন্দ কর, আমি সেখানেই দান করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এ জন্য দান করেছিলে যে, মানুষ তোমাকে দানবীর বলবে, তা তো বলা হয়েছেই। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 সাতটি আমল সাতটি বিষয় ছাড়া অর্থহীন

📄 সাতটি আমল সাতটি বিষয় ছাড়া অর্থহীন


عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: سَبْعَةُ أَشْيَاءَ لَا أَجْرَ لَهَا: الصَّلَاةُ بِلَا خُشُوعٍ، وَالصَّدَقَةُ مِنَ الْحَرَامِ، وَالصَّوْمُ مَعَ الْغِيبَةِ، وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ بِغَيْرِ تَدَبُّرٍ، وَالصَّبْرُ مَعَ الْجَزَعِ يَعْنِي يَدْعُو عَلَى نَفْسِهِ بِالْوَيْلِ وَالثُّبُورِ، وَالتَّوْبَةُ مَعَ الْإِصْرَارِ عَلَى الذَّنْبِ، وَالْعِلْمُ بِلَا وَرَعْ

রাসূল ইরশাদ করেন, সাতটি আমল সাতটি বিষয় ছাড়া অর্থহীন। যথা-
১. বিনয়হীন নামায।
২. হারাম সম্পদ থেকে সদকা।
৩. গীবতের সাথে রোযা।
৪. চিন্তাভাবনা ছাড়া কুরআন পাঠ।
৫. আহাজারি ও বিলাপ করে সবর করা। অর্থাৎ, নিজের ধ্বংসের দুআ করা।
৬. তাওবা করে পুনরায় গুনাহ করা।
৭. পরহেযগারী ছাড়া ইলম।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ > 📄 আমল প্রকাশিত হওয়ার সওয়াব

📄 আমল প্রকাশিত হওয়ার সওয়াব


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَرَأَيْتَ رَجُلًا عَمِلَ عَمَلًا يُسِرُّهُ لَا يُرِيدُ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِ أَحَدٌ إِلَّا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ، فَاطَّلَعَ عَلَيْهِ بَعْضُ النَّاسِ، فَسُرَّ بِذَلِكَ، هَلْ لَهُ مِنْ أَجْرٍ قَالَ: نَعَمْ لَهُ أَجْرَانِ، أَجْرُ السِّرِّ، وَأَجْرُ الْعَلَانِيَةِ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো আমল করে এবং তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানুক, তা সে চায় না। কিন্তু ঘটনাক্রমে মানুষ তা জেনে ফেলে, ফলে সে খুশি হয়। এতে কি সে কোনো সওয়াব পাবে? রাসূল ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে; গোপনের সওয়াব এবং প্রকাশের সওয়াব।১১

টিকাঃ
১১. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৬৪০৫; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৬৮৩০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩৮৪। হাদীসটি জয়ীফ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00