📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম > 📄 একটি বিদেশী ষড়যন্ত্র

📄 একটি বিদেশী ষড়যন্ত্র


তামাক ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্রাজ্যবাদী বেনিয়ারা একটি গভীর ষড়যন্ত্র করেছে। প্রতি বছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালনের জন্য ৩১শে মে এবং বিশ্ব মাদকমুক্ত দিবস পালনের জন্য ২৬শে জুন কে তারা নির্ধারিত করেছে। এ দু'টি দিবস প্রাশ্চাত্যের সভ্যতায় পালিত হয়। সম্রাজ্যবাদী বেনিয়ারা আর্থিকভাবে দিবস দু'টিকে নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। তাদের চক্রান্তের ধরণ হলো, সর্বত্র সিগারেট, জর্দা ও মদের ব্যাপক প্রচার ও সাপ্লাই করা, ধূমপান ও মাদকদ্রব্য সেবনের সার্বিক ব্যবস্থা করা, এগুলির চিত্তাকর্ষক বিজ্ঞাপন প্রচার করা এবং সাথে সাথে ধূমপান ও মাদকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরে বছরে মাত্র একবার মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে আলোচনা করা। এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য যে, তামাক ও মাদকদ্রব্যের মাধ্যমে জনসাধারণের রক্ত চুষে কোটি কোটি ডলার কামাই করা। অথচ আমাদের কোন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ নেই।

📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম > 📄 হায় রে মানবাধিকার!

📄 হায় রে মানবাধিকার!


বর্তমানে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য কিছু মানবাধিকার সংস্থা চালু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মানবাধিকারের নামে তারা মানুষের নৈতিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। তারা আমাদেরকে দরদমাখা কণ্ঠে শুনায় যে, মদ বা সিগারেট একেবারে নিষিদ্ধ করলে মানুষের ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়। তাই একেবারে নিষিদ্ধ না করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আসলে তাদের কাছে আত্মহত্যা করা, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস করা কোন মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়। তাদের কাছে সভ্যতার সংজ্ঞাটা এ রকম যে, সর্বাবস্থায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে সভ্যতা মাথায় টুপি, পাগড়ী, হিজাব, ওড়না ইত্যাদি ব্যবহারের নৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়, আবার সেই সভ্যতাই মানবাধিকারের নামে তামাক ও মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ করতে দেয় না। প্রতি বছর মাদকাসক্তির চিকিৎসায় কোটি কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। অথচ মাত্র কয়েক কোটি টাকার ট্যাক্সের বিনিময়ে মাদকদ্রব্য বৈধ করা হয়েছে। আমরা এ রকম মানবাধিকার চাই না। আমরা সকল প্রকার তামাক ও মাদকদ্রব্যের উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধের দাবী জানাই।

📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম > 📄 আসুন

📄 আসুন


মাদক প্রতিরোধ গড়ে তুলি!
বর্তমান সমাজে সবচেয়ে বেশি সমাজ ধ্বংসের মাধ্যম হচ্ছে মাদকদ্রব্যের লাগামহীন ব্যবহার। এর প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী। যে উপায় গুলি প্রয়োগ করে আমরা মাদক প্রতিরোধ করতে পারি তা নিম্নরূপ-

> কুরআন ও সুন্নাহ্র অনুসরণ: পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসে তামাক ও মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে যতগুলি বাণী বর্ণিত হয়েছে, তা নিজে জানতে হবে এবং সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে এ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। কারণ এই সমাজ বিধ্বংসী বিষয় থেকে একমাত্র ধর্মীয় অনুশাসনই মুক্তি দিতে পারে।

> ঈমান: সবাইকে মজবুত ঈমানদার হতে হবে। কারণ প্রকৃত ঈমানদার ব্যক্তি মাদকদ্রব্য সেবন করতে পারেনা।

> সলাত: সলাত মানুষকে সকল প্রকার পাপ থেকে বিরত রাখে। সুতরাং একনিষ্ঠভাবে সলাত আদায়ের মাধ্যমে মাদক প্রতিরোধ সম্ভব। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ)
অর্থ: নিশ্চয়ই সলাত অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে দূরে রাখে। ৫৮

> সিয়াম: শরীয়তের দৃষ্টিতে সিয়াম যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার অন্যতম মাধ্যম। তাই মাদক প্রতিরোধে সিয়াম নিঃসন্দেহে একটি ভাল উপায়। যেমন- রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
الصَّيَامُ جُنَّةً
অর্থ: সিয়াম হচ্ছে ঢালস্বরূপ। ৫৯

> সচেতনতা: মাদকদ্রব্য সেবন একটি সামাজিক অপরাধ। এটির ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

> পরিবারের ভূমিকা: প্রত্যেক ব্যক্তি কোন না কোন পরিবারের সদস্য। মানুষ তার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। সুতরাং পরিবার প্রধান যদি মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তাদের সন্তানদেরকে সতর্ক করেন, তাহলে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার অনেকটাই কমে যাবে।

> রাষ্ট্রের ভূমিকা: মাদক প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে একটি রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের উচিত মাদক বিরোধী আইন প্রণয়ন করা এবং তা বাস্তবায়ন করা। তাহলেই মাদক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

আসুন! আমরা উক্ত উপায়গুলি প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদক বস্তু উৎখাতের জন্য প্রত্যেকেই নিজ আগ্রহে এগিয়ে আসি। তাছাড়া মহান আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَن الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ
অর্থ: তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, যাদেরকে মানুষের মঙ্গলার্থে সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ প্রদান করবে এবং মন্দ কর্মে নিষেধ প্রদান করবে। আর নিজেরা বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহ্র প্রতি। ৬০
উল্লেখিত আলোচনা প্রমাণ করছে যে, যার সম্মুখেই এসব বস্তু পান করবে সে সাথে সাথে তাকে উত্তম আচরণে তা হতে বাধা প্রদান করবে। সম্ভব হলে হাত দ্বারা প্রতিহত করবে। ৬১
মহান আল্লাহ্ আমাদের সকলকে সঠিক দ্বীনের উপর থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন, আল্লাহুম্মা আমীন।

সমাপ্ত

টিকাঃ
৫৮. সূরা আনকাবূত-২৯:৪৫
৫৯. সহীহ বুখারী হা/১৮৯৪, সহীহ মুসলিম হা/১১৫১, ইবনে মাজাহ হা/১৬৩৯, আবু দাউদ হা/২৩৬৩
৬০. আল ইমরান-৩:১১০
৬১. সহীহ মুসলিম ইফা: ৮২

📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম > 📄 মাদক প্রতিরোধ গড়ে তুলি

📄 মাদক প্রতিরোধ গড়ে তুলি


বর্তমান সমাজে সবচেয়ে বেশি সমাজ ধ্বংসের মাধ্যম হচ্ছে মাদকদ্রব্যের লাগামহীন ব্যবহার। এর প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী। যে উপায় গুলি প্রয়োগ করে আমরা মাদক প্রতিরোধ করতে পারি তা নিম্নরূপ-
> কুরআন ও সুন্নাহ্র অনুসরণ: পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসে তামাক ও মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে যতগুলি বাণী বর্ণিত হয়েছে, তা নিজে জানতে হবে এবং সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে এ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। কারণ এই সমাজ বিধ্বংসী বিষয় থেকে একমাত্র ধর্মীয় অনুশাসনই মুক্তি দিতে পারে।
> ঈমান: সবাইকে মজবুত ঈমানদার হতে হবে। কারণ প্রকৃত ঈমানদার ব্যক্তি মাদকদ্রব্য সেবন করতে পারেনা।
> সলাত: সলাত মানুষকে সকল প্রকার পাপ থেকে বিরত রাখে। সুতরাং একনিষ্ঠভাবে সলাত আদায়ের মাধ্যমে মাদক প্রতিরোধ সম্ভব। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ)
অর্থ: নিশ্চয়ই সলাত অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে দূরে রাখে। ৫৮
> সিয়াম: শরীয়তের দৃষ্টিতে সিয়াম যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার অন্যতম মাধ্যম। তাই মাদক প্রতিরোধে সিয়াম নিঃসন্দেহে একটি ভাল উপায়। যেমন- রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
الصَّيَامُ جُنَّةً
অর্থ: সিয়াম হচ্ছে ঢালস্বরূপ। ৫৯
> সচেতনতা: মাদকদ্রব্য সেবন একটি সামাজিক অপরাধ। এটির ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
> পরিবারের ভূমিকা: প্রত্যেক ব্যক্তি কোন না কোন পরিবারের সদস্য। মানুষ তার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। সুতরাং পরিবার প্রধান যদি মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তাদের সন্তানদেরকে সতর্ক করেন, তাহলে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার অনেকটাই কমে যাবে।
> রাষ্ট্রের ভূমিকা: মাদক প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে একটি রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের উচিত মাদক বিরোধী আইন প্রণয়ন করা এবং তা বাস্তবায়ন করা। তাহলেই মাদক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

টিকাঃ
৫৮. সূরা আনকাবূত-২৯:৪৫
৫৯. সহীহ বুখারী হা/১৮৯৪, সহীহ মুসলিম হা/১১৫১, ইবনে মাজাহ হা/১৬৩৯, আবু দাউদ হা/২৩৬৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00