📄 মাদকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিকসমূহ
মাদকদ্রব্য সেবনে মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজে এবং তার পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন-
- নিয়মিত মাদকদ্রব্য সেবনে মেধা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়।
- মাদকাসক্তির কারণে সমাজে খুন ও হত্যাকাণ্ড বিস্তার লাভ করে।
- মাদকাসক্ত ব্যক্তির দ্বারা অনেক সতী মহিলার ইয্যত নষ্ট হয়।
- মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে সমাজে অপকর্ম, ব্যভিচার ও সমকামিতা বৃদ্ধি পায়।
- চরম মাদকাসক্তির কারণে কখনো এমন ঘটনাও ঘটে, যেটা কল্পনাতীত। যেমন- কখনো শুনা যায় যে, অমুক মদ্যপায়ী নেশার তাড়নায় নিজের মেয়ে, মা অথবা বোনের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে।
- মাদকাসক্ত ব্যক্তি বিনা কারণে নিজ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে থাকে।
- মদ্যপায়ী ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ক্রয়ের পেছনে অযথা টাকা নষ্ট করে থাকে।
- মাদকদ্রব্য সূলভ হওয়ার কারণে যুব সমাজ আজ অধঃপতনের নিম্নস্তরে পৌঁছে গেছে।
- মাদকদ্রব্য সেবন করার কারণে হেফাযতকারী ফিরিস্তারা কষ্ট পায়।
- মাদকাসক্ত ব্যক্তি দৈহিক, মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। যেমন- রক্তস্বল্পতা, ক্ষুধামন্দা, হৃদরোগ, আলসার, ক্যান্সার, নেফটিক সিনড্রম, মৃগী রোগ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, আত্মহত্যা প্রবণতা, উশৃংখল আচরণ, ধর্ম পালনে অলসতা, অধিক দেউলিয়াপনা, পরিবারের সদস্যদের টেনশন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও বেকারত্ব প্রভৃতি।
- মাদকদ্রব্য সেবনকারীর কোন নেক আমল ৪০ দিন পর্যন্ত কবুল হয় না।
- মৃত্যুর সময় মাদকাসক্ত ব্যক্তির ঈমানহারা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
📄 মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হারাম
সমাজে এমন অনেক ভাই আছেন, যারা তামাক ও মাদকদ্রব্য নিজে সেবন করেন না। কিন্তু এগুলো ক্রয়-বিক্রয় করেন। অথচ ইসলামি শরীয়তে এটাও হারাম। কারণ ইসলামি নিয়ম হলো, যে জিনিস ব্যবহার করা হারাম তার ব্যবসা করাও হারাম। এ মর্মে রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন-
إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةَ، وَالْخِنْزِيرَ، وَالْأَصْنَامَ
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা নেশাদার দ্রব্য, মৃত প্রাণী, শূকর ও মূর্তি সমূহের ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছেন। ৫৭
অতএব, উক্ত হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, তামাক ও মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করা হারাম।
টিকাঃ
৫৭. সহীহ বুখারী হা/২২৩৬, সহীহ মুসলিম হা/১৫৮১, ইবনে মাজাহ হা/২১৬৭ আবু দাউদ হা/৩৪৮৬
📄 একটি বিদেশী ষড়যন্ত্র
তামাক ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্রাজ্যবাদী বেনিয়ারা একটি গভীর ষড়যন্ত্র করেছে। প্রতি বছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালনের জন্য ৩১শে মে এবং বিশ্ব মাদকমুক্ত দিবস পালনের জন্য ২৬শে জুন কে তারা নির্ধারিত করেছে। এ দু'টি দিবস প্রাশ্চাত্যের সভ্যতায় পালিত হয়। সম্রাজ্যবাদী বেনিয়ারা আর্থিকভাবে দিবস দু'টিকে নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। তাদের চক্রান্তের ধরণ হলো, সর্বত্র সিগারেট, জর্দা ও মদের ব্যাপক প্রচার ও সাপ্লাই করা, ধূমপান ও মাদকদ্রব্য সেবনের সার্বিক ব্যবস্থা করা, এগুলির চিত্তাকর্ষক বিজ্ঞাপন প্রচার করা এবং সাথে সাথে ধূমপান ও মাদকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরে বছরে মাত্র একবার মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে আলোচনা করা। এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য যে, তামাক ও মাদকদ্রব্যের মাধ্যমে জনসাধারণের রক্ত চুষে কোটি কোটি ডলার কামাই করা। অথচ আমাদের কোন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ নেই।
📄 হায় রে মানবাধিকার!
বর্তমানে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য কিছু মানবাধিকার সংস্থা চালু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মানবাধিকারের নামে তারা মানুষের নৈতিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। তারা আমাদেরকে দরদমাখা কণ্ঠে শুনায় যে, মদ বা সিগারেট একেবারে নিষিদ্ধ করলে মানুষের ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়। তাই একেবারে নিষিদ্ধ না করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আসলে তাদের কাছে আত্মহত্যা করা, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস করা কোন মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়। তাদের কাছে সভ্যতার সংজ্ঞাটা এ রকম যে, সর্বাবস্থায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে সভ্যতা মাথায় টুপি, পাগড়ী, হিজাব, ওড়না ইত্যাদি ব্যবহারের নৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়, আবার সেই সভ্যতাই মানবাধিকারের নামে তামাক ও মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ করতে দেয় না। প্রতি বছর মাদকাসক্তির চিকিৎসায় কোটি কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। অথচ মাত্র কয়েক কোটি টাকার ট্যাক্সের বিনিময়ে মাদকদ্রব্য বৈধ করা হয়েছে। আমরা এ রকম মানবাধিকার চাই না। আমরা সকল প্রকার তামাক ও মাদকদ্রব্যের উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধের দাবী জানাই।