📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম 📄 মাদকদ্রব্য সেবনকারীর শাস্তি

📄 মাদকদ্রব্য সেবনকারীর শাস্তি


মাদকদ্রব্য ভক্ষণকারী বা পানকারীর জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি এবং অরুচিকর খাদ্য। এ মর্মে রাসূল ﷺ বলেন:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ وَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةً أَرْبَعِينَ صَبَاحًا وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةً أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةً أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ وَإِنْ عَادَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ رَدَغَةِ الْخَبَالِيَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا رَدَغَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ
অর্থ: আব্দুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি নেশাদার দ্রব্য পান করবে মহান আল্লাহ্ ৪০ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল করবেন না। যদি এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয় তাহলে সে জাহান্নামে যাবে। আর যদি সে তাওবাহ্ করে তাহলে আল্লাহ্ তার তাওবাহ্ গ্রহণ করবেন। আবার যদি সে নেশাদার দ্রব্য পান করে, মহান আল্লাহ্ ৪০ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল করবেন না। যদি এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয় তাহলে সে জাহান্নামে যাবে। আর যদি সে তাওবাহ্ করে তাহলে আল্লাহ্ তার তাওবাহ্ গ্রহণ করবেন। পূনরায় যদি সেনেশাদার দ্রব্য পান করে, মহান আল্লাহ্ ৪০ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল করবেন না। এমতাবস্থায় ইন্তিকাল করলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। কিন্তু যদি তাওবাহ্ করে, তাহলে আল্লাহ্ তার তাওবাহ্ গ্রহণ করবেন। এরপর চতুর্থবার নেশাদার দ্রব্য পান করলে আল্লাহ্ তাকে ক্বিয়ামতের দিন “রদাগতুল খবাল” পান করাবেন। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল "রদাগতুল খবাল" কি? রাসূল ﷺ বললেন, আগুনের তাপে জাহান্নামীদের দেহ হতে গলে পড়া রক্ত-পুঁজ মিশ্রিত গরম পানি। ৪৬
যে সকল ব্যক্তি মাদক দ্রব্য সেবন করেন তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে শারীয়তে।
মাদকদ্রব্য পান কারীর ৪০ দিনের সালাত কবুল হয়না। ৪৭
আব্দুল্লাহ্ বিন আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি মাদক দ্রব্য পান করবে, ৪০দিন আল্লাহ্ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন না। ৪৮
আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আল্লাহ্র রাসূল ﷺ তামাক দ্রব্য পান কারীকে ৪০ বার জুতা এবং বেত মারতেন। ৪৯
দ্বিতীয় খলিফা উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর আমলে তামাক দ্রব্য পান কারীকে ৮০টি বেত্রাঘাত করা হতো। ৫০
আবূদ দারদা (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, দোস্ত নাবী ﷺ আমাকে অসিয়ত করেছেন, নেশাদ্রব্য পান করিও না। কেননা, নিশ্চয়ই তা সকল অন্যায়ের মূল। ৫১
আনাস (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, নাবী ﷺ বলেছেন, যখন আমার উম্মাত নেশাদ্রব্য পান করবে, গায়িকাদের নিয়ে নাচ-গানে মত্ত হবে এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, তখন অবশ্যই তিনটি ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে।
১. বিভিন্ন এলাকায় ভূমি ধ্বসে যাবে ২. উপর থেকে বা অন্য কোন জাতির পক্ষ থেকে যুলুম-অত্যাচার নেমে আসবে ৩. পাপের কারণে অনেকের আকার আকৃতি বিকৃত হয়ে যাবে।
আর এ গযবের মূল কারণ তিনটি:- ১. নেশাদ্রব্য পানকারীর আধিক্য ২. গায়িকাদের নিয়ে নাচ-গানে মত্ত হওয়া ৩. বাদ্যযন্ত্রের প্রতি আগ্রহী হওয়া। ৫২
উল্লেখিত আলোচনা প্রমাণ করে যে, তামাকদ্রব্য পান করা অবশ্যই হারাম এবং এ হারাম দ্রব্য পানকারীদের জন্য ভয়াবহ আযাব রয়েছে।
আল্লাহ্র রাসূল ﷺ বলেছেন, মহান আল্লাহ্ তা'য়ালা মাদকদ্রব্য পানকারী, সরবরাহকারী, ক্রেতা-বিক্রেতা, প্রস্তুতকারী, উৎপাদনে সাহায্যকারী, বহনকারী, যার নিকট বহন করা হয় এবং তার মূল্য ভক্ষণকারী- সবাইকে অভিসম্পাত করেছেন। ৫৩
আল্লাহ্র রাসূল ﷺ আরো বলেছেন, হে মানুষ সকল, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ তা'য়ালা পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া কোন কিছুই গ্রহণ করেন না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ তা'য়ালা মুমিনগণকে সেই নির্দেশ দিয়েছেন, যে নির্দেশ তিনি নাবী ও রাসূলগণকে দিয়েছেন। এরপর তিনি একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে (জিহাদের জন্য) আল্লাহ্র পথে দীর্ঘ সফরে রত থাকে। ধূলি-ধূসরিত দেহ ও এলোমেলো চুলে তার হাত দু'টি আকাশের দিকে বাড়িয়ে সে দু'আ করতে থাকে হে প্রভু! হে প্রভু !! অথচ তার পোষাক হারাম, তার পানীয় হারাম, তার খাদ্য হারাম। তার দু'আ কিভাবে কবুল হতে পারে?৫৪
রাসূল ﷺ আরো বলেন, হালাল জীবিকার ইবাদাত ছাড়া মহান আল্লাহ্ তা'য়ালা অন্য কোন প্রকার দু'আ গ্রহণ করেন না। ৫৫
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ الْخَمْرَ وَثَمَنَهَا، وَحَرَّمَ الْمَيْتَةَ وَثَمَنَهَا، وَحَرَّمَ الْخِنْزِيرَ وَثَمَنَهُ
অর্থ: নাবী ﷺ বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ তা'য়ালা তামাকদ্রব্য এবং তার মূল্য হারাম করেছেন। মৃত প্রাণী ও তার মূল্য হারাম করেছেন। শূকর ও তার মূল্য হারাম করেছেন। ৫৬

টিকাঃ
৪৬. ইবনে মাজাহ হা/২৭৩৮
৪৭. ইবনে মাজাহ হা/২৭৩৮
৪৮. আহমাদ ২৭৬৪৪, তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৪১০
৪৯. বুখারী, মুসলিম, তাহ: মিশকাত হা/৩৬১৫, বাং মিশকাত হা/৩৬৫১ শাস্তি অধ্যায়
৫০. বুখারী, মিশকাত হা/৩৬১৬
৫১. ইবনে মাজাহ হা/৩৩৭১
৫২. মিশকাত হা/
৫৩. আবু দাউদ ৩/৩২৬১, তিরমিযী ৩/৫৩৮, মিশকাত হা/২৭৭৬, বাংলা মিশকাত হা/২৬৫৬
৫৪. মুসলিম হা/৭০৩, মিশকাত হাএ হা/২৭৬০
৫৫. বুখারী হা/৫১১,২৭০১, মুসলিম হা/৭০২
৫৬. আবূ দাউদ হা/৩৪৮৫

📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম 📄 মাদকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিকসমূহ

📄 মাদকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিকসমূহ


মাদকদ্রব্য সেবনে মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজে এবং তার পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন-
- নিয়মিত মাদকদ্রব্য সেবনে মেধা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়।
- মাদকাসক্তির কারণে সমাজে খুন ও হত্যাকাণ্ড বিস্তার লাভ করে।
- মাদকাসক্ত ব্যক্তির দ্বারা অনেক সতী মহিলার ইয্যত নষ্ট হয়।
- মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে সমাজে অপকর্ম, ব্যভিচার ও সমকামিতা বৃদ্ধি পায়।
- চরম মাদকাসক্তির কারণে কখনো এমন ঘটনাও ঘটে, যেটা কল্পনাতীত। যেমন- কখনো শুনা যায় যে, অমুক মদ্যপায়ী নেশার তাড়নায় নিজের মেয়ে, মা অথবা বোনের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে।
- মাদকাসক্ত ব্যক্তি বিনা কারণে নিজ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে থাকে।
- মদ্যপায়ী ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ক্রয়ের পেছনে অযথা টাকা নষ্ট করে থাকে।
- মাদকদ্রব্য সূলভ হওয়ার কারণে যুব সমাজ আজ অধঃপতনের নিম্নস্তরে পৌঁছে গেছে।
- মাদকদ্রব্য সেবন করার কারণে হেফাযতকারী ফিরিস্তারা কষ্ট পায়।
- মাদকাসক্ত ব্যক্তি দৈহিক, মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। যেমন- রক্তস্বল্পতা, ক্ষুধামন্দা, হৃদরোগ, আলসার, ক্যান্সার, নেফটিক সিনড্রম, মৃগী রোগ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, আত্মহত্যা প্রবণতা, উশৃংখল আচরণ, ধর্ম পালনে অলসতা, অধিক দেউলিয়াপনা, পরিবারের সদস্যদের টেনশন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও বেকারত্ব প্রভৃতি।
- মাদকদ্রব্য সেবনকারীর কোন নেক আমল ৪০ দিন পর্যন্ত কবুল হয় না।
- মৃত্যুর সময় মাদকাসক্ত ব্যক্তির ঈমানহারা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।

📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম 📄 মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হারাম

📄 মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হারাম


সমাজে এমন অনেক ভাই আছেন, যারা তামাক ও মাদকদ্রব্য নিজে সেবন করেন না। কিন্তু এগুলো ক্রয়-বিক্রয় করেন। অথচ ইসলামি শরীয়তে এটাও হারাম। কারণ ইসলামি নিয়ম হলো, যে জিনিস ব্যবহার করা হারাম তার ব্যবসা করাও হারাম। এ মর্মে রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন-
إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةَ، وَالْخِنْزِيرَ، وَالْأَصْنَامَ
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা নেশাদার দ্রব্য, মৃত প্রাণী, শূকর ও মূর্তি সমূহের ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছেন। ৫৭
অতএব, উক্ত হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, তামাক ও মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করা হারাম।

টিকাঃ
৫৭. সহীহ বুখারী হা/২২৩৬, সহীহ মুসলিম হা/১৫৮১, ইবনে মাজাহ হা/২১৬৭ আবু দাউদ হা/৩৪৮৬

📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম 📄 একটি বিদেশী ষড়যন্ত্র

📄 একটি বিদেশী ষড়যন্ত্র


তামাক ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্রাজ্যবাদী বেনিয়ারা একটি গভীর ষড়যন্ত্র করেছে। প্রতি বছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালনের জন্য ৩১শে মে এবং বিশ্ব মাদকমুক্ত দিবস পালনের জন্য ২৬শে জুন কে তারা নির্ধারিত করেছে। এ দু'টি দিবস প্রাশ্চাত্যের সভ্যতায় পালিত হয়। সম্রাজ্যবাদী বেনিয়ারা আর্থিকভাবে দিবস দু'টিকে নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। তাদের চক্রান্তের ধরণ হলো, সর্বত্র সিগারেট, জর্দা ও মদের ব্যাপক প্রচার ও সাপ্লাই করা, ধূমপান ও মাদকদ্রব্য সেবনের সার্বিক ব্যবস্থা করা, এগুলির চিত্তাকর্ষক বিজ্ঞাপন প্রচার করা এবং সাথে সাথে ধূমপান ও মাদকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরে বছরে মাত্র একবার মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে আলোচনা করা। এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য যে, তামাক ও মাদকদ্রব্যের মাধ্যমে জনসাধারণের রক্ত চুষে কোটি কোটি ডলার কামাই করা। অথচ আমাদের কোন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px