📄 তামাকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিকসমূহ
তামাকদ্রব্য সেবনে প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আগুনে পুড়ানো হচ্ছে। মদ, ভিয়ার, ইয়াবাসহ অন্যান্য তামাকদ্রব্য সেবনে প্রতি বছর প্রায় আরো দুই হাজার কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। অথচ মহান আল্লাহ্ তা'য়ালা বলেন-
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا)
অর্থ: নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই। আর শয়তান রবের সাথে কুফুরী করেছে। ২১
একজন লোক দৈনিক কম পক্ষে ১০ টাকার তামাকদ্রব্য সেবন করে থাকে। উক্ত ১০ টাকা দিয়ে তামাকদ্রব্য পান না করে যদি একটি ফল ভক্ষণ করত, তাহলে সেটি তার দেহের জন্য অনেক উপকারী হত, অথচ তামাকদ্রব্য সেবনের ফলে ভালোর চেয়ে ক্ষতিই অধিক। যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এবার তামাকদ্রব্য সেবনের ক্ষতিকর দিকগুলো এক নজরে দেখে নিই।
১. আল্লাহ্ নাফরমানী করা।
২. ফিরিস্তাদেরকে কষ্ট দেওয়া।
৩. অধূমপায়ীদেরকে কষ্ট দেওয়া।
৪. পরিবেশ দূষিত করা।
৫. ইসলামের শুত্রুদেরকে সাহায্য করা।
৬. আল্লাহ্ যিকির হতে দূরে রাখা।
৭. স্মরণশক্তি কমিয়ে দেওয়া।
৮. মনোবল দুর্বল করে দেওয়া।
৯. দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
১০. দাঁতের সৌন্দর্য্য নষ্ট হওয়া।
টিকাঃ
২১. সূরা বানী ইসরাঈল-১৭:২৭
📄 ধূমপান করলে জরিমানা
তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধি-মালা ২০১৫ তে বলা হয়েছে যে, পাবলিক প্লেস ও গণ পরিবহণে ধূমপান নিষিদ্ধ।
১৬ জুন ২০১৩ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে দেশের সরকার তামাকজনিত ক্ষতি হ্রাসে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি "WHO Frame Work Convention of Tobaco Control (WHOFCTC)" স্বাক্ষর করে। এ চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার 'ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫' প্রণয়ন করে। কিন্তু কিছু দুর্বলতার কারণে আইনটি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। তাই ২০১৩ সালের মে মাসে আইনটি সংশোধিত আকারে পাস করা হয়। এবং ১২ মার্চ ২০১৫ তে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। আইনের ধারা-৪ অনুযায়ী পাবলিক প্লেস ও গণ পরিবহণে ধূমপান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। ২৪ ধরনের স্থানকে পাবলিক প্লেস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- সরকারী অফিস।
- আধা-সরকারী অফিস।
- স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারী অফিস।
- গ্রন্থাগার।
- লিফ্ট।
- আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্র।
- হাসপাতাল ও ক্লিনিক ভবন।
- আদালত ভবন।
- বিমানবন্দর ভবন।
- সমুদ্রবন্দর ভবন।
- নৌবন্দর ভবন।
- রেল-স্টেশন ভবন।
- বাস টার্মিনাল ভবন।
- প্রোগৃহ।
- প্রদর্শনী কেন্দ্র।
- থিয়েটার হল।
- বিপণী ভবন।
- আবদ্ধ রেস্টুরেন্ট।
- পাবলিক টয়লেট।
- শিশুপার্ক।
- যাত্রীছাউনী।
- খেলাধূলা ও অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত স্থান।
- সম্মিলিতভাবে ব্যবহার্য যে কোন স্থান।
আর ৮ ধরনের যানবাহনকে গণ পরিবহণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- মোটরগাড়ি।
- বাস।
- রেলগাড়ি।
- ট্রাম।
- জাহাজ।
- লঞ্চ।
- উড়োজাহাজ।
- সব ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন।
উল্লেখিত স্থানে ধূমপান করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৩০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। ২২
টিকাঃ
২২. কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, মে-২০১৫
📄 পিঁয়াজ-রসূন ও ধূমপান
কাঁচা পিয়াঁজ-রসূন সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেন
عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقَلَةِ فَلَا يَقْرَبَنَّا فِي مَسْجِدِنَا
অর্থ: মু'আবিয়া ইবনু কুরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ দু'টি গাছ অর্থাৎ কাঁচা পিয়াঁজ-রসূন ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, যে ভক্ষণ করবে সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে।
তিনি আরো বলেন, যদি তোমাদের একান্তই ভক্ষণ করতে হয়, তাহলে রান্না করে দুর্গন্ধ দূর করে খাও। ২৩
সহীহ মুসলিমে রয়েছে, উমার (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) এর আমলে কোন ব্যক্তি কাঁচা পিয়াঁজ ও রসূন বা এ জাতীয় দুর্গন্ধযুক্ত কিছু খেয়ে আসলে তাকে মাসজিদ হতে বের করে বাকীউল গারকাদ নামক কবরস্থানে রেখে আসা হতো। ২৪
উল্লেখিত আলোচনা প্রমাণ করে যে, কাঁচা পিয়াঁজ-রসূন বা এ জাতীয় দুর্গন্ধযুক্ত কিছু খেয়ে আসলে রাসূল ﷺ মাসজিদে আসতে নিষেধ করেছেন। অথচ এর দুর্গন্ধ সামান্য। পক্ষান্তরে বিড়ি-সিগারেট, তামাক, জর্দা ইত্যাদির দুর্গন্ধ প্রকট বেশী। রাসূল ﷺ বলেন, তোমরা যেমন দুর্গন্ধের কারণে কষ্ট পাও তেমনি ফিরিস্তারাও কষ্ট পায়। অতএব তোমরা দুর্গন্ধ পরিহার করে মাসজিদে আসবে। ২৫
কোন মুসল্লি যদি ধূমপান করে মাসজিদে সলাত পড়তে যায়, তার পাশের মুসল্লির মনে হয় সে সলাত ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে।
তাহলে এটি আপনি কেন করবেন? আপনার নিজের সলাতও নষ্ট করলেন এবং পাশের মুসল্লির সলাতও নষ্ট করলেন। আর তার সাথে ফিরিস্তাদেরকেও কষ্ট দিলেন। এটা আপনার জানা উচিৎ যে, হারাম বস্তু ভক্ষণ করে বা পান করে কোন ইবাদত করলে তা গ্রহণ যোগ্য হয় না।
বিশ্ব নাবী ﷺ বলেন-
مَنْ آذَى مُسْلِمًا فَقَدْ آذَانِي، وَمَنْ آذَانِي فَقَدْ أَذَى اللَّهَ
অর্থ: যে ব্যক্তি কোন মুসলিমকে কষ্ট দেয় সে যেন আমাকেই কষ্ট দিল। আর যে ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দিল সে যেন মহান আল্লাহকে কষ্ট দিল। ২৬
উল্লেখ্য যে, ধূমপায়ী অথবা তামাক, জর্দা, হাদা ইত্যাদি মাদকদ্রব্য পানকারী বা ভক্ষণকারী কোন ইমামের পিছনে সলাত আদায় করা বিশুদ্ধ নয়।
টিকাঃ
২৩. বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, হা/৩৮২৭, সিলসিলাহ্ সহীহাহ হা/৩১০৬, তাহক্বিক মিশকাত হা/৭৩৬
২৪. সহীহ মুসলিম
২৫. বুখারী, মুসলিম
২৬. তাবারানী- হা/৩৬০৭, ৪৬৮ হাসান সনদে
📄 ধূমপানকারীদের বাহানা
আপনি যদি কোন ধূমপানকারীকে প্রশ্ন করেন যে, ভাই, আপনি কেন ধূমপান করছেন? তাহলে উত্তরে সে নানা বাহানা পেশ করে। তাই তাদের বাহানা ও তার জবাব নিম্নে পেশ করা হলঃ-
১. "মনের বিষন্নতা দূর করার জন্য ধূমপান করি”-এটা একটি অযৌক্তিক বাহানা। ধূমপানের দ্বারা কখনো বিষন্নতা দূর হয় না; বরং একমাত্র আল্লাহ্র যিক্র ও স্মরণেই মনের বিষন্নতা দূর হয়। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ )
অর্থ: জেনে রাখ, আল্লাহ্ তা'আলার স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। ২৭
২. "ধূমপানে ক্লান্তি দূর হয়”-এ কথা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ ধূমপানে ক্লান্তি আরো বেড়ে যায়। কারণ ধূমপান রক্ত চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করে।
৩. "ধূমপানে বন্ধু বাড়ে”-এ কথা যদিও ঠিক, তবে ধূমপায়ী বন্ধু বাড়ার চাইতে না থাকায় ভালো।
৪. “ধূমপান কোন বিষয়ে গভীর চিন্তা করতে সাহায্য করে”-আসলে ব্যাপারটা এর বিপরীত। কারণ ধূমপানে শ্বাসকষ্ট হয় ও গলা শুকিয়ে যায়। ফলে চিন্তাশক্তি বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
টিকাঃ
২৭. সূরা রা'দ-১৩:২৮