📄 নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে থাকা শর্ত নয়
উল্লেখিত কুরআন এবং হাদীসের দলিল দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামে মাকরুহ বলতে কোন বিধান নেই। যা রয়েছে হারাম ও হলাল।
সুতরাং বিড়ি, সিগারেট, তামাক, জর্দা হালাল নয়। কুরআন এবং সুন্নাহর আলোচনা প্রমাণ করে এ সকল বস্তুসমূহ হারাম। এ মর্মে বিশ্ব নাবী ﷺ বলেন-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ
অর্থ: যাবতীয় নেশা সৃষ্টিকারী বস্তু মদ। আর যাবতীয় নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। ১৪
উল্লেখ্য যে, যে সকল লোক এবং আলেম এ সকল বস্তু মাকরুহ বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন যে, ঐ সকল লোক বা আলেমরা ঐ সমস্ত বস্তু পানকারী অথবা ভক্ষণকারী। অতএব, কোন লোকের কথা মান্য করা যাবে না আল্লাহ্ ও রাসূল ছাড়া। আল্লাহ্ তা'য়ালা বলেন-
فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ )
অর্থ: অতএব যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয় তাহলে সেই বিষয়কে আল্লাহ্ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। ১৫
অতএব প্রমাণিত হয় যে, তামাকদ্রব্য মাকরুহ নয় বরং হারাম।
নাবী ﷺ এর যুগে থাকা শর্ত নয়
অনেকে বলে থাকেন যে, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, ইয়াবা, গুলসহ অন্যান্য তামাক দ্রব্যাদি নাবী ﷺ এর যুগে ছিল না। তা হলে কিভাবে তা হরাম হতে পারে?
আমরা বলব, কোন বস্তু হারাম হওয়ার জন্য নবী ﷺ এর জীবিত থাকা শর্ত নয় বরং শরীয়ত নির্দেশিত শর্তগুলোই প্রযোজ্য। বিশ্ব নাবী ﷺ এর যুগে অনেক বস্তুই ছিল না, যা বর্তমানে মানুষ ব্যবহার করছে। যেমন এক হাদীসে বিশ্ব নাবী ﷺ বলেছেন, শক্তি হল "রামী”। তাই অনেকে এর অর্থ করেছেন তীর, আর অধিকাংশ মনীষীগণ এর অর্থ করেছেন 'নিক্ষিপ্ত'। অর্থাৎ যে যুগে আপডেট করে যে নিক্ষিপ্ত বস্তু তৈরী হবে, সেটিই হল "রামী”। যেমন রাসূল ﷺ এর যুগে "রামী” ছিল তীর।
আর বর্তমান যুগে "রামী” হল, তীর, ক্ষেপনাস্ত্র, বোমাসহ অন্যান্য অস্ত্রসমূহ। ঠিক তদরূপ বিশ্ব নাবী ﷺ প্রত্যেক বস্তুর জন্য কিছু সূত্র রেখে গেছেন। এখন সেগুলো যথা সময়ে, যথা স্থানে প্রয়োগ করে অর্থ বুঝে নিতে হবে। যেমন বিশ্ব নাবী ﷺ বলেছেন, যাবতীয় নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই মদ। আর যাবতীয় মদই হারাম। তিনি আরো বলেন, যে বস্তু বেশি খেলে বা পান করলে নেশা আসে, তার অল্পও হারাম।
এ ছাড়াও আরো হাদীস বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ أَبِي الجُوَيْرِيَةِ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنِ البَاذَقِ فَقَالَ سَبَقَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ البَاذَقَ فَمَا أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ
অর্থ: আবুল জুওয়াইরিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে "বাযাক” সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তরে বললেন, মুহাম্মদ ﷺ "বাযাক” আবিষ্কারের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন। অতএব যে বস্তু নেশা সৃষ্টি করে তাই হারাম। ১৬
উক্ত আলোচনা প্রমাণ করে যে, তামাক, জর্দা, বিড়ি, সিগারেট, গুল, ইয়াবাসহ অন্যান্য সকল নেশাদ্রব্য অবশ্যই হারাম।
টিকাঃ
১৪. মুসলিম হা/২/১৬৭ পৃ: ইবনে মাজাহ তাও. হা/৩৩৯০, মিশকাত হা/৩৬৩৮
১৫. সূরা নিসা-৪:৫৯
১৬. বুখারী ৫৫৮৯
📄 তামাকদ্রব্য সেবনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না
তামাকদ্রব্য ভক্ষণকারী এবং পানকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এ মর্মে রাসূল ﷺ বলেন-
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مُدْمِنُ خَمْرٍ
অর্থ: আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী ﷺ বলেছেন, মাদকদ্রব্য ভক্ষণকারী বা পানকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। ১৭
বিশ্ব নাবী ﷺ আরো বলেন-
عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ثلاثة حرم الله تبارك وتعالى عَلَيْهِمُ الْجَنَّةَ، مُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَالْعَاقُ، وَالدَّيُّوتُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَتَ
অর্থ: আল্লাহ্ তা'য়ালা তিন শ্রেণির লোকের জন্য জান্নাতকে হারাম করেছেন ১. মাদকদ্রব্য ভক্ষণকারী বা পানকারী, ২. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, ৩. দায়ূস, যে নিজ পরিবারের অশ্লীলতাকে মেনে নেয়। ১৮
অতএব প্রত্যেক মাদকদ্রব্য সেবনকরীর জন্য ওয়াজিব হল, আজ হতে তা পরিত্যাগ করা। যদি জান্নাতে যেতে চান।
টিকাঃ
১৭. ইবনে মাজাহ হা/ ৩৩৭৬
১৮. তারগীব ওয়াত তারহীব হা/ ২/২৯৯
📄 তামাকদ্রব্য সেবনে যে সকল রোগ হয়
নেশাদ্রব্য পান এবং খাওয়ার ফলে মানব দেহে অনেক রোেগ আক্রমণ করে। যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে-ধীরে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। ডাক্তার Harv.w বলেন, মৃত্যুর সাথে তামাক দ্রব্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এতে যে বিষাক্ত বস্তু আছে তার নাম "নিকোটিন” এই বিষ মানব দেহে প্রবেশ করে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মাদক বস্তু পান করার ফলে যে সকল রোগে মানব দেহ আক্রান্ত হতে পারে:-
- ক্যান্সার।
- ব্লাড ক্যান্সার।
- হৃদ রোগ।
- যক্ষ্মা।
- ফুস-ফুসে পানি জমা।
- রক্ত স্বল্পতা।
- কিডনি রোগ (নেফটিক সিনড্রম)।
- মাংস পেশীতে রোগ।
- বিকলাঙ্গ হওয়া।
- অস্থিরতা।
- ঘুম না হওয়া।
- মাথা ব্যথা।
- বেশী বেশী বমি হয়ে শরীর দুর্বল হওয়া।
- ক্ষুধামন্দা।
- অপুষ্ট হওয়া।
- গ্যাষ্ট্রিক।
- আলসার।
- লিবার সিরোসিস।
- মৃগী রোগ।
- জন্ডিস রোগ।
- টিটোনাস।
- দৃষ্টিহীনতা
- চর্ম রোগ।
- মস্তিষ্ক বিকৃতি।
- স্নায়ুতন্ত্রের গোলযোগ।
- মাসিকের অনিয়ম।
- বন্ধ্যাত্ব।
- যৌন রোগ।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
- বিষক্রিয়া।
- মৃত্যু। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে পতিত হওয়া।
প্রত্যেকটি সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে লিখা রয়েছে কোন না কোন রোগের কথা। আমার মনে হয় কোন পাগলও যদি লিখা দেখে যে, কোন বোতলের গায়ে লেখা থাকে যে, এটি বিষ। তখন সে এটি পান করবেনা? অথচ প্যাকের গায়ে লেখা থাকে যে ধূমপান ক্যান্সারের কারণ, ধূমপান হৃদ রোগের কারণ। ধূমপান বিষ পান, ধূমপান মৃত্যুর কারণ।
অতএব ধূমপান পরিহার করুন। অকাল মৃত্যু হতে বেচে থাকুন।
📄 জর্দা-ধূমপান জাহান্নামী খাবারের স্বরুপ
জাহান্নামে পাপিষ্টদের খাবার সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ)
অর্থ: “ঐ খাবার তাদের স্বাস্থও ভাল রাখবে না এবং ক্ষুধাও নিবৃত্ত করবে না”১৯ সাধারণত দু'টি কারণে খাবার গ্রহণ করা হয়। ১. সুস্বাস্থের জন্য ও ২. ক্ষুধা নিবারণের জন্য। অথচ জাহান্নামী খাবারে এর কোনটাই থাকবে না। তদ্রুপ, জর্দা-ধূমপানও যেমন স্বাস্থ্য নষ্ট করে তেমনি ক্ষুধাও মিটাতে পারে না। সুতরাং বুঝা গেল, জর্দা-ধূমপান জাহান্নামী খাবারের স্বরুপ। এই নোংরা ও অভিশপ্ত খাবার অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।
টিকাঃ
১৯. সূরা গাশিয়াহ-৮৮:৭