📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম > 📄 আত্মহত্যাকারীদের শাস্তি

📄 আত্মহত্যাকারীদের শাস্তি


ইসলামে আত্মহত্যার শাস্তি খুবই কঠোর। যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে, তার দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং মৃত্যুর পরে রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তির যন্ত্রণা।
কোন ব্যক্তি দুনিয়াতে ধারাল লোহা দিয়ে আত্মহত্যা করলে, সে ব্যক্তি জাহান্নামে অনন্তকাল সেভাবেই শাস্তি ভোগ করবে। ৬
বিশ্ব নাবী ﷺ বলেন, কেউ যদি উঁচু পাহাড় হতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে অথবা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে, সে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুনে পাহাড় হতে অনন্তকাল সেভাবে লাফাতে থাকবে। ৭
কোন ব্যক্তি বিষ পানে অথবা বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করলে, সে জাহান্নামে অনন্তকাল বিষ পান করতে থাকবে। এবং বর্শা বিদ্ধ হতে থাকবে। ৮
কোন ব্যক্তি ছুরির আঘাতে আত্মহত্যা করলে, সে ব্যক্তি জাহান্নামে অনন্তকাল নিজের দেহে ছুরি মারতে থাকবে। ৯

টিকাঃ
৬. বুখারী তাও. হা/১৩৬৩,৪১৭০,৪৮৪৩,৬৬৫২, আপ্র, হা/১২৭৩, ইফা. হা/১২৮০, মাশা. এবং মাপ্র. হা/১৩৬৩, মুসলিম ১১০
৭. বুখারী তাও, হা/১৩৬৫, ৫৭৭৮ ইফা, হা/১২৮১, আপ্র. হা/১২৭৪, মুসলিম হা/১১৩
৮. বুখারী তাও, হা/১৩৬৫. ইফা, হা/১২৮১, আপ্র, হা/১২৭৪
৯. সহীহুল বুখারী হা/৪১৭১, ৪৮৪৩, ৬০৪৭, ৬১০৫, ৬৬৫২, মুসলিম হা/১১০

📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম > 📄 তামাকদ্রব্য মাকরূহ না হারাম?

📄 তামাকদ্রব্য মাকরূহ না হারাম?


অতএব আসুন, ধূমপান নামের আত্মহত্যা হতে বেঁচে থাকি। তা না হলে জাহান্নামের উত্তপ্ত লোহা দ্বারা তৈরী কৃত বিড়ি-সিগারেট পান করিয়ে অনন্তকাল যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করা হবে।

তামাকদ্রব্য মাকরূহ না হারাম?
মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সমস্ত খাদ্যদ্রব্যকে ২ ভাগে ভাগ করেছেন। যথা:- ১. হালাল ও ২. হারাম।
এ মর্মে মহান আল্লাহ্ তা'আলা বলেন
وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ )
অর্থ: আর তিনি তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল করেছেন এবং যাবতীয় অপবিত্র বস্তু হারাম করেছেন। ১০
মহান আল্লাহ্ আরো বলেন:
لَا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ )
অর্থ: হালাল ও হারাম কখনো এক নয়। ১১
এ মর্মে মহানবী ﷺ বলেন:
عَنِ النُّعْمَانِ بْن بَشِيرٍ يَقُول سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الحَلالُ بَيِّنٌ وَالحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ
অর্থ: নু'মান বিন বাশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দু'য়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহ জনক কিছু বস্তু।” অন্যত্র তিনি বলেন-
مَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ
অর্থ: যে ব্যক্তি সন্দেহ জনক বিষয়ে পতিত হল, সে যেন হারামেই পতিত হল। ১৩

টিকাঃ
১০. সূরা আরাফ-৭:১৫৭
১১. সূরা মায়েদা-৫:১০০
১২. সহীহ বুখারী ইফা. হা/১৯২৩, তাও. হা/আপ্র. হা/১৯০৮, মাপ্র. হা/২০৫১,৫২, মুসলিম হা/১৫৯৯, আহমাদ হা/১৮৩৯৬, ১৮৪০২, মিশকাত হা/২৭৬২
১৩. আবু দাউদ হা/৩৩৩০, ইবনে মাজাহ তাও. হা/৩৯৪৮

📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম > 📄 নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে থাকা শর্ত নয়

📄 নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে থাকা শর্ত নয়


উল্লেখিত কুরআন এবং হাদীসের দলিল দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামে মাকরুহ বলতে কোন বিধান নেই। যা রয়েছে হারাম ও হলাল।
সুতরাং বিড়ি, সিগারেট, তামাক, জর্দা হালাল নয়। কুরআন এবং সুন্নাহর আলোচনা প্রমাণ করে এ সকল বস্তুসমূহ হারাম। এ মর্মে বিশ্ব নাবী ﷺ বলেন-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ
অর্থ: যাবতীয় নেশা সৃষ্টিকারী বস্তু মদ। আর যাবতীয় নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। ১৪
উল্লেখ্য যে, যে সকল লোক এবং আলেম এ সকল বস্তু মাকরুহ বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন যে, ঐ সকল লোক বা আলেমরা ঐ সমস্ত বস্তু পানকারী অথবা ভক্ষণকারী। অতএব, কোন লোকের কথা মান্য করা যাবে না আল্লাহ্ ও রাসূল ছাড়া। আল্লাহ্ তা'য়ালা বলেন-
فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ )
অর্থ: অতএব যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয় তাহলে সেই বিষয়কে আল্লাহ্ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। ১৫
অতএব প্রমাণিত হয় যে, তামাকদ্রব্য মাকরুহ নয় বরং হারাম।

নাবী ﷺ এর যুগে থাকা শর্ত নয়
অনেকে বলে থাকেন যে, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, ইয়াবা, গুলসহ অন্যান্য তামাক দ্রব্যাদি নাবী ﷺ এর যুগে ছিল না। তা হলে কিভাবে তা হরাম হতে পারে?
আমরা বলব, কোন বস্তু হারাম হওয়ার জন্য নবী ﷺ এর জীবিত থাকা শর্ত নয় বরং শরীয়ত নির্দেশিত শর্তগুলোই প্রযোজ্য। বিশ্ব নাবী ﷺ এর যুগে অনেক বস্তুই ছিল না, যা বর্তমানে মানুষ ব্যবহার করছে। যেমন এক হাদীসে বিশ্ব নাবী ﷺ বলেছেন, শক্তি হল "রামী”। তাই অনেকে এর অর্থ করেছেন তীর, আর অধিকাংশ মনীষীগণ এর অর্থ করেছেন 'নিক্ষিপ্ত'। অর্থাৎ যে যুগে আপডেট করে যে নিক্ষিপ্ত বস্তু তৈরী হবে, সেটিই হল "রামী”। যেমন রাসূল ﷺ এর যুগে "রামী” ছিল তীর।
আর বর্তমান যুগে "রামী” হল, তীর, ক্ষেপনাস্ত্র, বোমাসহ অন্যান্য অস্ত্রসমূহ। ঠিক তদরূপ বিশ্ব নাবী ﷺ প্রত্যেক বস্তুর জন্য কিছু সূত্র রেখে গেছেন। এখন সেগুলো যথা সময়ে, যথা স্থানে প্রয়োগ করে অর্থ বুঝে নিতে হবে। যেমন বিশ্ব নাবী ﷺ বলেছেন, যাবতীয় নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই মদ। আর যাবতীয় মদই হারাম। তিনি আরো বলেন, যে বস্তু বেশি খেলে বা পান করলে নেশা আসে, তার অল্পও হারাম।
এ ছাড়াও আরো হাদীস বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ أَبِي الجُوَيْرِيَةِ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنِ البَاذَقِ فَقَالَ سَبَقَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ البَاذَقَ فَمَا أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ
অর্থ: আবুল জুওয়াইরিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে "বাযাক” সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তরে বললেন, মুহাম্মদ ﷺ "বাযাক” আবিষ্কারের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন। অতএব যে বস্তু নেশা সৃষ্টি করে তাই হারাম। ১৬
উক্ত আলোচনা প্রমাণ করে যে, তামাক, জর্দা, বিড়ি, সিগারেট, গুল, ইয়াবাসহ অন্যান্য সকল নেশাদ্রব্য অবশ্যই হারাম।

টিকাঃ
১৪. মুসলিম হা/২/১৬৭ পৃ: ইবনে মাজাহ তাও. হা/৩৩৯০, মিশকাত হা/৩৬৩৮
১৫. সূরা নিসা-৪:৫৯
১৬. বুখারী ৫৫৮৯

📘 তামাক জর্দা বিড়ি সিগারেট ও মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের বিধান ও পরিণাম > 📄 তামাকদ্রব্য সেবনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না

📄 তামাকদ্রব্য সেবনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না


তামাকদ্রব্য ভক্ষণকারী এবং পানকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এ মর্মে রাসূল ﷺ বলেন-
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مُدْمِنُ خَمْرٍ
অর্থ: আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী ﷺ বলেছেন, মাদকদ্রব্য ভক্ষণকারী বা পানকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। ১৭
বিশ্ব নাবী ﷺ আরো বলেন-
عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ثلاثة حرم الله تبارك وتعالى عَلَيْهِمُ الْجَنَّةَ، مُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَالْعَاقُ، وَالدَّيُّوتُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَتَ
অর্থ: আল্লাহ্ তা'য়ালা তিন শ্রেণির লোকের জন্য জান্নাতকে হারাম করেছেন ১. মাদকদ্রব্য ভক্ষণকারী বা পানকারী, ২. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, ৩. দায়ূস, যে নিজ পরিবারের অশ্লীলতাকে মেনে নেয়। ১৮
অতএব প্রত্যেক মাদকদ্রব্য সেবনকরীর জন্য ওয়াজিব হল, আজ হতে তা পরিত্যাগ করা। যদি জান্নাতে যেতে চান।

টিকাঃ
১৭. ইবনে মাজাহ হা/ ৩৩৭৬
১৮. তারগীব ওয়াত তারহীব হা/ ২/২৯৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00