📘 তালিবানে ইলম পথ ও পাথেয় 📄 জালালাইন সম্পর্কীয় কিছু তথ্য ও মুতালাআর নিয়ম

📄 জালালাইন সম্পর্কীয় কিছু তথ্য ও মুতালাআর নিয়ম


৬. প্রশ্ন: আমি জালালাইন জামাআতে পড়ছি। আরবী শরহ মোটামুটি বুঝি। শুনেছি জালালাইন কিতাবে নাকি কিছু ভুল তথ্যও আছে। এসব বিবেচনায় জালালাইন কিতাবটি কীভাবে পড়লে এবং সাথে আর কী কিতাব পড়লে বেশি উপকৃত হব?

উত্তর: তাফসীরে জালালাইনের সাথে তাফসীরে ইবনে কাসীর আপনার মুতালাআর অন্তর্ভুক্ত রাখুন। এতে যেমন رواية ও دراية তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস, সাহাবী ও তাবেয়ীগণের 'আসার' এবং আরবী ভাষা ও তাফসীরের নীতিমালার আলোকে তাহকীকীভাবে কুরআন করীমের মর্মার্থ বুঝে আসবে, তেমনি তাফসীরে জালালাইনে কোথাও কোন ত্রুটি থেকে থাকলে তাও স্পষ্ট হয়ে যাবে। কিতাব 'হল' করার জন্য حاشيه الصاوى তথা حاشية الجمل (الفتوحات الإلهية) এর সারসংক্ষেপ।

এখন তো আমাদের নেসাবে তাফসীরে জালালাইনই এ বিষয়ের প্রথম ও শেষ কিতাব। এ জন্য অতিরিক্ত মুতালাআর ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা একজন তালেবে ইলমের পক্ষে একটি মাত্র কিতাবের সাথে কয়টি কিতাবেরইবা মুতালাআর পরামর্শ দেওয়া যায়।

মূলত 'তরজমায়ে কুরআন' পড়ার সময়ই একজন তালেবে ইলমের নিম্নোক্ত তিনটি তাফসীরের কিতাব পড়ে নেওয়া উচিত:

১. তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, ২. তাফসীরে উসমানী ও ৩. তাফসীরে বয়ানুল কুরআন। তিনটি সম্ভব না হলে অন্তত প্রথম দুটি তো অবশ্যই। সাথে সাথে মাতৃভাষায় কুরআনের মর্ম ব্যক্ত করার যোগ্যতা অর্জনের জন্য নির্ভরযোগ্য কোন বাংলা তাফসীরও পড়া উচিত। এমদাদিয়া লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত বাংলা কুরআন তরজমা আকাবির কর্তৃক সম্পাদিত। তাই এটাও পড়া যেতে পারে। (আর এখন তো মাওলানা মুহাম্মদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম এর 'আসান তরজমায়ে কোরআন' এর নির্ভরযোগ্য বাংলা অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছে। যা তালিবে ইলমের জন্য একটি নাদির তোহফা।)

এরপর যখন জালালাইন পড়ার সময় হবে, তখন সবক আরম্ভ হওয়ার আগে উলূমুল কুরআন বিষয়ে কমপক্ষে মাওলানা মুহাম্মদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম রচিত علوم القرآن মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর مطالعہ قرآن کے اصول ومبادى ড. আবু শাহবাহ (রহ.)-এর الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير মাওলানা আসীর আদরাবীর মিন ইসরাইলী রেওয়ায়াত تفسیر মুতালাআ করতে হবে। এতে জালালাইন কিতাবের সবক শুরু হলে কীভাবে তা পড়তে হবে এবং আর কী কী কিতাব পাশে রাখতে হবে তা নিজেই বুঝতে পারবেন। আমরা যারা উক্ত কিতাবগুলো পড়িনি তারা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) এবং তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের কিতাব দুটি তো অবশ্যই মুতালাআ করে নিব ইনশাআল্লাহ। জুমআর দিন ও ছুটির দিনগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করলে, এবং অন্য কোন নিষ্প্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করলে একজন তালেবে ইলমের পক্ষে নেসাবের নির্ধারিত পাঠের পাশাপাশি ইলম ও আমলের উন্নতি সাধনে আরো অনেক কাজই করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাওফীক দান করুন।

📘 তালিবানে ইলম পথ ও পাথেয় 📄 আরবী শিখতে গিয়ে আমাদের প্রান্তিকতা

📄 আরবী শিখতে গিয়ে আমাদের প্রান্তিকতা


এখানে প্রসঙ্গত একথা বলা মুনাসিব মনে করছি যে, আজকাল আরবী ভাষায় কথা বলা ও লিখতে পারার যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা প্রান্তিকতার শিকার। কেউ তো এমন আছেন যারা একে মোটেও মূল্য দেন না এবং এ বিষয়ে মেহনত তো দূরের কথা কোন ভাল সুযোগ থাকলেও তার সদ্ব্যবহার করেন না। বলাবাহুল্য এই কর্মনীতি ঠিক নয়। আবার এর বিপরীতে কিছু বন্ধু এমনও আছেন যারা কিতাবী ইসতি'দাদেরও ততটা গুরুত্ব দেন না যতটা এ বিষয়ের ক্ষেত্রে দেন। শুধু ভাষাজ্ঞানই তাদের কাছে কৃতিত্বের ব্যাপার। অনেকে আবার এই বিষয়টি অর্জিত না হলে একেবারে হীনমন্যতার শিকার হন। ফলাফল এই দাঁড়ায় যে, না কিতাবী ইসতি'দাদ অর্জিত হয়, না আরবী বলা ও লেখার যোগ্যতা!! এই মানসিকতাও ভুল।

এরপর যারা ভারসাম্য রক্ষা করে ভাষা শিক্ষার প্রতি মনোযোগ দেন তারা একদিকে যেমন বাহবা পাওয়ার যোগ্য, পাশাপাশি তাদের জন্য এ বিষয়টিও জরুরি যে, তারা যেন নিজের নিয়তের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। আরবী শেখার উদ্দেশ্য কেবল এই হওয়া উচিত যে, আরবী যেহেতু ইসলামী ভাষা তাই মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রতি এ ভাষার দাবি হল এ ভাষায় বলার ও লিখার যোগ্যতা অর্জন করা। দাওয়াত ও তাবলীগেরও এটি একটি চমৎকার মাধ্যম। এছাড়া দুনিয়াবী কোন উদ্দেশ্য না থাকা উচিত।

মোটকথা আরবী ভাষায় বলা ও লিখার মেহনত সহীহ নিয়তে হওয়া উচিত, শুধু ফ্যাশন হিসেবে বা অন্য কোন জাগতিক উদ্দেশ্যে নয়। সেই মেহনত অবশ্যই যথাযথ নিয়মানুযায়ী ভারসাম্য রক্ষা করে হতে হবে এবং ইলমী ইসতি'দাদ তৈরির প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখাতো সবসময়ই জরুরি।

📘 তালিবানে ইলম পথ ও পাথেয় 📄 মেয়েদের দ্বীনি শিক্ষার পথ ও পদ্ধতি

📄 মেয়েদের দ্বীনি শিক্ষার পথ ও পদ্ধতি


৩২. প্রশ্ন: বর্তমান যুগে মেয়েদের দ্বীনী শিক্ষা বা উচ্চতর দ্বীনী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? এবং এ শিক্ষা লাভের পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত? অধুনা আমাদের দেশে উলামায়ে কেরামের একটি দল তাদের শিক্ষাদানের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন মহিলা মাদরাসা। দিন দিন এসব মাদরাসার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল, মুহতারাম উলামায়ে কেরামের এক বৃহৎ অংশ এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করছেন এবং রীতিমত মানুষকে এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করছেন। এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞ মুফতী সাহেব মহোদয়ের সুচিন্তিত অভিমত কামনা করছি।

উত্তর: এই বিষয়টি শুধু ফতওয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার নয়। এ ব্যাপারে ফতওয়া কী তাতো সবাই জানে। এখন যে বিষয়টির প্রয়োজন তা হল, এ বিষয়ে নেতৃস্থানীয় উলামায়ে কেরামের মনোযোগ দান। তাঁরা এমন কিছু অনাবাসিক আদর্শ মহিলা মাদরাসা স্থাপন করবেন, যাতে সকল শর্ত ও আদবের প্রতি যথাযথ লক্ষ্য রাখা হবে। সকল শিক্ষকই যোগ্য ও দ্বীনদার মহিলা হবে। পুরুষ শিক্ষক যারা ওই শিক্ষিকাদের কারো মাহরাম হবেন তারা কেবল বাইরের ব্যবস্থাপনার বিষয়টি দেখবেন। পাশাপাশি মাদরাসার সকল ব্যবস্থাপনা উন্নত থেকে উন্নততর হবে। মনোযোগ দেওয়া হলে বিষয়টি মোটেই অসম্ভব কিছু নয়।

📘 তালিবানে ইলম পথ ও পাথেয় 📄 বানান ঠিক করব কিভাবে

📄 বানান ঠিক করব কিভাবে


২৪৪. প্রশ্ন : আরবী, বাংলা, উর্দু-ইংরেজি সব লেখায় আমার ভুল হয়ে থাকে। এ সমস্যা সমাধাণের উপায় কী?

উত্তর : 'লেখায় ভুল হয়ে থাকে' বলে সম্ভবত বানানের ভুলই আপনার উদ্দেশ্য। তাই যদি হয় তবে এই সমস্যার সমাধান একটিই। তা হল, যা পড়বেন, মনোযোগের সাথে পড়ুন। যে ভাষাতেই হোক, প্রতিটি শব্দ পড়ার সময় খেয়াল করবেন যেন, এই শব্দটি আপনি মুখস্তও লিখতে পারেন।

শুধু এতটুকু কাজ করলেই আপনার এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে। এরপরও কিছু জটিলতা বাংলা বানানের ক্ষেত্রে থেকে যেতে পারে। সেজন্য বাংলা একাডেমীর অভিধান বা অন্য কোনো অভিধানের সাহায্য নিতে থাকুন। সাথে প্রতিদিন তিন-চারটি করে শব্দ বানানশুদ্ধির জন্য নিয়মিত লিখুন এবং হযরত মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুমের 'এসো কলম মেরামত করি' থেকে বানান সংক্রান্ত লেখাগুলো ভালো করে পড়ুন। এভাবে ধীরে ধীরে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px