📄 হেদায়া : সহায়ক গ্রন্থ ও মুতালাআ-পদ্ধতি
১. প্রশ্ন: হেদায়া কিতাবের জন্য দরসের বাইরে আর কী কী মুতালাআ করতে পারি। সীমিত সময়ে মুতালাআর একটি সহজ পন্থা আশা করছি。
উত্তর: হেদায়া 'ফিকহে মুকারান' তথা ফিকহী মাযাহেবের তুলনামূলক বিশ্লেষণধর্মী দালীলিক কিতাব। মাসায়েল ও আহকাম ছাড়াও অতিরিক্ত বেশ কিছু ইলম ও ফন এতে সন্নিবেশিত হয়েছে। এগুলোর হক আদায় করে পড়তে হলে বেশ কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং তীক্ষ্ণ ও সুগভীর দৃষ্টিতে পড়তে হবে। অবশ্য দু-একবার পড়ে সেসব বিষয় আয়ত্ত করাও কঠিন। তাই সময় ও সুযোগ হলে কিতাবটি বার বার পড়তে হবে এবং প্রতিবারে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে পড়তে হবে, যাতে কিতাবও আয়ত্ত হয় এবং যে উলূম ও ফুনুন এতে সন্নিবেশিত হয়েছে, তাও আয়ত্তে এসে যায়।
যে তালিবে ইলম সবকে উস্তাদের কাছে প্রথমবার হেদায়া পড়ছে, তার সর্বপ্রথম কাজ হল, ইবারত এর অর্থ এবং এর মতলব ও উদ্দেশ্য ভালভাবে বোঝা। এ ব্যাপারে আজকাল যারপরনাই গাফলতি দেখা যায়, যা খুবই পরিতাপের বিষয়। এরপর 'দলীলে নকলী'কে উলূমুল হাদীস এবং 'ওয়াজহে ইস্তেদলাল' ও 'দলীলে আকলী'কে উসূলে ফিকহের আলোকে সুস্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। আর দলীল ও ইস্তেদলালের পরস্পর 'নকদ' ও 'তাফসীল' বুঝতে হবে উসূলে ফিকহ ও ইলমে 'জাদাল'-এর কাওয়ায়েদের আলোকে।
কিতাব 'হল' করার জন্য এবং মতলব ও উদ্দেশ্য বোঝার জন্য হযরত মাওলানা আবদুল হাই লাখনোভী (রহ.) [১৩০৪ হি.] কৃত হাশিয়া (যা আমাদের দেশের প্রচলিত নুসখাসমূহে বিদ্যমান) অধিক উপকারী। আর আকমালুদ্দীন বাবরতী (রহ.) প্রণীত 'ইনায়া' এবং বদরুদ্দীন আইনী (রহ.)-এর 'বিনায়া'ও যথেষ্ট উপকারী।
ফাতহুল কাদীর-এর সঙ্গে 'ইনায়া' ছেপেছে। আর বিনায়ার এ যাবৎ সর্বোত্তম মুদ্রণ হচ্ছে মাওলানা ফয়েজ আহমাদ মুলতানীর তাহকীককৃত সংস্করণ, যা মুলতান থেকে ছেপেছে। এ পর্যন্ত এটির বেশ কটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে।
'দালায়েল', 'ওজুহে ইস্তেদলাল' এবং 'দালায়েলের নকদ' ও 'তাবসেরার' জন্য 'ফাতহুল কাদীর' অত্যন্ত উপযুক্ত। হেদায়ার একজন তালিবে ইলম এই মানের হওয়াই চাই, যে ফাতহুল কাদীর থেকে সহজেই উপকৃত হতে পারে বা মেহনত করে এ কিতাব আয়ত্ত করতে পারে。
পরবর্তী ফকীহগণের অন্যান্য কিতাবের মত হেদায়ার হাদীস ও 'আসার'-এর সাথে হাওয়ালা ও সনদ উল্লেখ করা হয়নি। এসব হাদীস ও 'আসার'-এর 'তাখরীজ' সম্পর্কিত কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে জামে' কিতাব হল হাফেয জামালুদ্দীন যাইলাঈ (রহ.) [৭৬২ হি.]-এর نصب الراية لأحاديث الهداية
দারুল কিবলা জিদ্দা থেকে শায়খ মুহাম্মদ আওয়ামার তত্ত্বাবধানে ৬ খণ্ডে প্রকাশিত সংস্করণটিই এর সর্বোত্তম মুদ্রণ। নাসবুর রায়াহ-এর একটি খোলাসা হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)কৃত الدراية في منتخب تخريج أحاديث الهداية নামে প্রসিদ্ধ। যা পাক-ভারত উপমহাদেশের প্রকাশকরা আল্লামা আবদুল হাই লাখনোভী (রহ.)-এর হাশিয়ার সাথে ছেপেছে।
কিন্তু হেদায়া কিতাবের হাদীস ও আসারের তাখরীজ, সেগুলোর আসল মান ও অবস্থান জানার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট মাসআলার দলীলযোগ্য অন্যান্য হাদীস ও আসার জানার জন্য এ কিতাবটি কোনক্রমেই যথেষ্ট নয়। এর জন্য এ বিষয়ে আহাদীসুল আহকাম সংক্রান্ত অন্যান্য কিতাবের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
বহু হাদীস সম্পর্কে হাফেয যাইলাঈ (রহ.) এবং হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) উভয়েই বলেছেন যে, এই হাদীস আমরা পাইনি বা হাদীসটি আমরা এই শব্দে পাইনি। আর এই না পাওয়ার বিষয়টি হাফেয যাইলাঈ (রহ.) "غريب" শব্দ দ্বারা আর হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) "لم أجده" শব্দ দ্বারা বুঝিয়েছেন।
কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে, সেসব হাদীসের অধিকাংশের সন্ধান দিয়েছেন হাফেয কাসেম ইবনে কুতলুবুগা (৮৭৯ হি.)। তিনি এ সম্পর্কে একটি সুন্দর কিতাবও সংকলন করেছেন, যার নাম منية الألمعى فيما فات من تخريج أحاديث الهداية للزيلعي যাহেদ কাওসারী (রহ.) [১৩৭১ হি.]-এর মূল্যবান ভূমিকা ও টীকা-টিপ্পনীসহ মিশর থেকে প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে শায়খ মুহাম্মদ আওয়ামার সংস্করণে সেটি নাসবুর রায়াহ-এর সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া করাচীর আর-রহীম একাডেমী সেটিকে ভিন্নভাবে প্রকাশ করেছে।
হাদীস শাস্ত্রে হেদায়া গ্রন্থকারের মাকাম ও মান কী ছিল; হাফেয যাইলাঈ ও হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী হেদায়ার কতক হাদীস কেন পেলেন না বা তিনি যে শব্দে উল্লেখ করেছেন সে শব্দে কেন পেলেন না- এসবের কারণ জানতে হলে নিম্নোক্ত কিতাবগুলো পড়তে হবে:
(১) ইমাম ইবনে মাজা ও কিতাবুস্ সুনান [৫৮২০ হি.] (অথবা সুনান ইবনে মাজা লি মাতাল্লে সুনিক ইবনে মাজা।) (উভয়টি একই কিতাবের নাম)।
(২) ইবনে মাজা ওর ইলমে হাদীস - মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম নুমানী (রহ.)। ১৯৬-১৯৮ পৃষ্ঠা।
(৩) আত-তাকীবাত আলা আদ-দিরাসাত - মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম নুমানী (রহ.)। ৪০৮-৪১৩ পৃষ্ঠা。
(৪) আসারুল হাদীসিস শরীফ ফি ইখতিলাফিল আইম্মাতিল ফুকাহা। আওয়ামা ১৮২-১৯২ পৃষ্ঠা。
(৫) ইমাম আবু হানীফা ওয়া আসহাবুহুল মুহাদ্দিসুন। উসমানী (রহ.) [১৩৯৪ হিজরী] (হেদায়া গ্রন্থকারের জীবনী অংশ)।
(৬) আল-মাদখাল ইলা উলুমিল হাদীসিস শরীফ। ১০০-১০৫ পৃষ্ঠা。
হেদায়াকে যুগের সাথে মিলিয়ে পড়া
হেদায়ার ইবাদত অংশ ছাড়া অন্যান্য অধ্যায় বিশেষত লেনদেনের পরিচ্ছেদসমূহ এমনভাবে পড়তে হবে এবং বুঝতে হবে, যেন একজন তালিবে ইলম পঠিত বিষয়াদিকে বর্তমানে প্রচলিত পরিভাষাসমূহের সাথে মিলাতে পারে এবং পুরাতন উদাহরণের সাথে সমগোত্রীয় নতুন ব্যবসায়ী পদ্ধতিগুলোকে মিলাতে পারে। হেদায়ার 'কাওয়ায়েদ' ও 'যাওয়াবেত'-এর আলোকে অর্থনীতির নতুন নতুন মাসআলা-মাসায়েলের সমাধান দিতে পারে এবং সাথে সাথে অন্যান্য 'বাব'-এর নতুন নতুন মাসায়েলের সমাধান দানেও সক্ষম হয়ে ওঠে।
এর জন্য হেদায়ার সাথে সেসব কিতাবও অধ্যয়ন করা উচিত, যেসব কিতাবে লেনদেনের পরিচ্ছেদ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিচ্ছেদের নতুন-পুরাতন পরিভাষা-সমূহের তুলনামূলক বিশ্লেষণ রয়েছে। সাথে সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন প্রকার সমূহের 'কাওয়ায়েদ' ও উসূলের আলোক প্রামাণভিত্তিক আলোচনা করা হয়েছে। এ পর্যায়ের কিতাবসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ফাতহ মুহাম্মাদ লাখনোভীর الأموال في تحقيق الحرام والحلال ও عطر الهداية এবং تحرﻳر
সীমিত সময়ে অধ্যয়নের সহজ পদ্ধতি
যোগ্যতা যত বেশি হবে অধ্যয়ন তত দ্রুত হবে। তাই ইস্তে'দাদ ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করা এবং পাকাপোক্ত করা উচিত। মুতালাআ ও অধ্যয়নের অভ্যাস করা উচিত। সময়কে মেপে মেপে খরচ করা কর্তব্য, যাতে দু'চার মিনিট সময়ও নষ্ট না হয়। অল্প সময়ে অধিক কাজ করার চর্চা করতে হবে। সর্বোপরি আল্লাহ তাআলার কাছে 'শরহে সদরের' জন্য, জাহেরী ও বাতেনী শক্তির প্রখরতার জন্য এবং সময়ের বরকতের জন্য দুআ করতে হবে। তাকওয়া ও পবিত্রতার প্রতি যত্নবান হতে হবে। কেননা এর দ্বারা মানুষ সকল কাজে বরকত লাভ করে থাকে। আল্লাহ তাআলাই একমাত্র তাওফীক দাতা।
📄 জালালাইন সম্পর্কীয় কিছু তথ্য ও মুতালাআর নিয়ম
৬. প্রশ্ন: আমি জালালাইন জামাআতে পড়ছি। আরবী শরহ মোটামুটি বুঝি। শুনেছি জালালাইন কিতাবে নাকি কিছু ভুল তথ্যও আছে। এসব বিবেচনায় জালালাইন কিতাবটি কীভাবে পড়লে এবং সাথে আর কী কিতাব পড়লে বেশি উপকৃত হব?
উত্তর: তাফসীরে জালালাইনের সাথে তাফসীরে ইবনে কাসীর আপনার মুতালাআর অন্তর্ভুক্ত রাখুন। এতে যেমন رواية ও دراية তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস, সাহাবী ও তাবেয়ীগণের 'আসার' এবং আরবী ভাষা ও তাফসীরের নীতিমালার আলোকে তাহকীকীভাবে কুরআন করীমের মর্মার্থ বুঝে আসবে, তেমনি তাফসীরে জালালাইনে কোথাও কোন ত্রুটি থেকে থাকলে তাও স্পষ্ট হয়ে যাবে। কিতাব 'হল' করার জন্য حاشيه الصاوى তথা حاشية الجمل (الفتوحات الإلهية) এর সারসংক্ষেপ।
এখন তো আমাদের নেসাবে তাফসীরে জালালাইনই এ বিষয়ের প্রথম ও শেষ কিতাব। এ জন্য অতিরিক্ত মুতালাআর ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা একজন তালেবে ইলমের পক্ষে একটি মাত্র কিতাবের সাথে কয়টি কিতাবেরইবা মুতালাআর পরামর্শ দেওয়া যায়।
মূলত 'তরজমায়ে কুরআন' পড়ার সময়ই একজন তালেবে ইলমের নিম্নোক্ত তিনটি তাফসীরের কিতাব পড়ে নেওয়া উচিত:
১. তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, ২. তাফসীরে উসমানী ও ৩. তাফসীরে বয়ানুল কুরআন। তিনটি সম্ভব না হলে অন্তত প্রথম দুটি তো অবশ্যই। সাথে সাথে মাতৃভাষায় কুরআনের মর্ম ব্যক্ত করার যোগ্যতা অর্জনের জন্য নির্ভরযোগ্য কোন বাংলা তাফসীরও পড়া উচিত। এমদাদিয়া লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত বাংলা কুরআন তরজমা আকাবির কর্তৃক সম্পাদিত। তাই এটাও পড়া যেতে পারে। (আর এখন তো মাওলানা মুহাম্মদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম এর 'আসান তরজমায়ে কোরআন' এর নির্ভরযোগ্য বাংলা অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছে। যা তালিবে ইলমের জন্য একটি নাদির তোহফা।)
এরপর যখন জালালাইন পড়ার সময় হবে, তখন সবক আরম্ভ হওয়ার আগে উলূমুল কুরআন বিষয়ে কমপক্ষে মাওলানা মুহাম্মদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম রচিত علوم القرآن মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর مطالعہ قرآن کے اصول ومبادى ড. আবু শাহবাহ (রহ.)-এর الإسرائيليات والموضوعات في كتب التفسير মাওলানা আসীর আদরাবীর মিন ইসরাইলী রেওয়ায়াত تفسیر মুতালাআ করতে হবে। এতে জালালাইন কিতাবের সবক শুরু হলে কীভাবে তা পড়তে হবে এবং আর কী কী কিতাব পাশে রাখতে হবে তা নিজেই বুঝতে পারবেন। আমরা যারা উক্ত কিতাবগুলো পড়িনি তারা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) এবং তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের কিতাব দুটি তো অবশ্যই মুতালাআ করে নিব ইনশাআল্লাহ। জুমআর দিন ও ছুটির দিনগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করলে, এবং অন্য কোন নিষ্প্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করলে একজন তালেবে ইলমের পক্ষে নেসাবের নির্ধারিত পাঠের পাশাপাশি ইলম ও আমলের উন্নতি সাধনে আরো অনেক কাজই করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাওফীক দান করুন।
📄 আরবী শিখতে গিয়ে আমাদের প্রান্তিকতা
এখানে প্রসঙ্গত একথা বলা মুনাসিব মনে করছি যে, আজকাল আরবী ভাষায় কথা বলা ও লিখতে পারার যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা প্রান্তিকতার শিকার। কেউ তো এমন আছেন যারা একে মোটেও মূল্য দেন না এবং এ বিষয়ে মেহনত তো দূরের কথা কোন ভাল সুযোগ থাকলেও তার সদ্ব্যবহার করেন না। বলাবাহুল্য এই কর্মনীতি ঠিক নয়। আবার এর বিপরীতে কিছু বন্ধু এমনও আছেন যারা কিতাবী ইসতি'দাদেরও ততটা গুরুত্ব দেন না যতটা এ বিষয়ের ক্ষেত্রে দেন। শুধু ভাষাজ্ঞানই তাদের কাছে কৃতিত্বের ব্যাপার। অনেকে আবার এই বিষয়টি অর্জিত না হলে একেবারে হীনমন্যতার শিকার হন। ফলাফল এই দাঁড়ায় যে, না কিতাবী ইসতি'দাদ অর্জিত হয়, না আরবী বলা ও লেখার যোগ্যতা!! এই মানসিকতাও ভুল।
এরপর যারা ভারসাম্য রক্ষা করে ভাষা শিক্ষার প্রতি মনোযোগ দেন তারা একদিকে যেমন বাহবা পাওয়ার যোগ্য, পাশাপাশি তাদের জন্য এ বিষয়টিও জরুরি যে, তারা যেন নিজের নিয়তের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। আরবী শেখার উদ্দেশ্য কেবল এই হওয়া উচিত যে, আরবী যেহেতু ইসলামী ভাষা তাই মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রতি এ ভাষার দাবি হল এ ভাষায় বলার ও লিখার যোগ্যতা অর্জন করা। দাওয়াত ও তাবলীগেরও এটি একটি চমৎকার মাধ্যম। এছাড়া দুনিয়াবী কোন উদ্দেশ্য না থাকা উচিত।
মোটকথা আরবী ভাষায় বলা ও লিখার মেহনত সহীহ নিয়তে হওয়া উচিত, শুধু ফ্যাশন হিসেবে বা অন্য কোন জাগতিক উদ্দেশ্যে নয়। সেই মেহনত অবশ্যই যথাযথ নিয়মানুযায়ী ভারসাম্য রক্ষা করে হতে হবে এবং ইলমী ইসতি'দাদ তৈরির প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখাতো সবসময়ই জরুরি।
📄 মেয়েদের দ্বীনি শিক্ষার পথ ও পদ্ধতি
৩২. প্রশ্ন: বর্তমান যুগে মেয়েদের দ্বীনী শিক্ষা বা উচ্চতর দ্বীনী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? এবং এ শিক্ষা লাভের পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত? অধুনা আমাদের দেশে উলামায়ে কেরামের একটি দল তাদের শিক্ষাদানের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন মহিলা মাদরাসা। দিন দিন এসব মাদরাসার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল, মুহতারাম উলামায়ে কেরামের এক বৃহৎ অংশ এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করছেন এবং রীতিমত মানুষকে এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করছেন। এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞ মুফতী সাহেব মহোদয়ের সুচিন্তিত অভিমত কামনা করছি।
উত্তর: এই বিষয়টি শুধু ফতওয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার নয়। এ ব্যাপারে ফতওয়া কী তাতো সবাই জানে। এখন যে বিষয়টির প্রয়োজন তা হল, এ বিষয়ে নেতৃস্থানীয় উলামায়ে কেরামের মনোযোগ দান। তাঁরা এমন কিছু অনাবাসিক আদর্শ মহিলা মাদরাসা স্থাপন করবেন, যাতে সকল শর্ত ও আদবের প্রতি যথাযথ লক্ষ্য রাখা হবে। সকল শিক্ষকই যোগ্য ও দ্বীনদার মহিলা হবে। পুরুষ শিক্ষক যারা ওই শিক্ষিকাদের কারো মাহরাম হবেন তারা কেবল বাইরের ব্যবস্থাপনার বিষয়টি দেখবেন। পাশাপাশি মাদরাসার সকল ব্যবস্থাপনা উন্নত থেকে উন্নততর হবে। মনোযোগ দেওয়া হলে বিষয়টি মোটেই অসম্ভব কিছু নয়।