📄 মোবাইল : একটি মহামারী
আজকাল মোবাইল ফোন মহামারীর আকার ধারণ করেছে। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটি কারো কারো জন্যে প্রয়োজনের আওতায় পড়ে। সে যদি নিয়মের ভেতরে থেকে তা ব্যবহার করে তবে তার জন্য একটি উপকারী বস্তু বটে。
এই সময় বাংলাদেশের মত পশ্চাদমুখী একটি দেশে মোবাইলের এই প্রচলনে নৈতিক অর্থনৈতিক ও ক্ষতিকর দিকসমূহ কী, সেগুলো আমি উল্লেখ করতে চাই না, আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই যে- এ জিনিসটা দেশের অর্থনীতির জন্যে যেমন ক্ষতিকর, তার চেয়ে অনেক বেশি দামি সম্পদ 'সময়', যা মানব জীবনের একমাত্র পুঁজি ও অমূল্য সম্পদ -এর জন্যে অধিক ক্ষতিকর। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়াই কেবল বিলাসিতার জন্যে একে ব্যবহার করে 'সময়' অপচয়ে লিপ্ত। আক্ষেপের বিষয় যে, আমাদের তালেবে ইলমরাও এই মহামারী থেকে নিরাপদ নয়। আজকাল তাদের অনেকের হাতেই মোবাইল ফোন দেখা যায়। কেউ গোপনে রাখে; কেউ প্রকাশ্যে ব্যবহার করে। আমার কাছে এটা দুর্বোধ্য যে, ইলম চর্চার অভিনিবেশের সাথে মোবাইল চর্চা একত্র হয় কীভাবে! একথা নিশ্চিত যে, তালেবে ইলমের জন্যে এই 'বস্তুটা' প্রয়োজনের আওতায় পড়ে না। তালেবে ইলম ভাইদের জন্যে এটা অতিরিক্ত জিনিস। এর পেছনে পড়ার মানে এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আমি তালেবে ইলম নই।
আজ যেখানে বৈষয়িক শিক্ষায় শিক্ষিতদেরও শিক্ষালয় ও শিক্ষার পরিবেশে মোবাইলের অপকারিতার উপলব্ধি হচ্ছে এবং তারা এ ব্যাপারে আপত্তি অভিযোগ উত্থাপন করছে; এমনকি উন্নত বিশ্বের কোন কোন দেশে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে মোবাইল প্রবেশের উপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; সেখানে ওহীর তালেবে ইলমদের এই অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক যে, তারা নিঃসঙ্কোচে তা ব্যবহার করে চলেছে। তালেবে ইলমের জীবন ইলম চর্চায় নিমগ্নতার জীবন। এর সাথে মোবাইলের কোন সাযুজ্য নেই।
তালেবে ইলম যদি নিজেদের কল্যাণ চায় তাহলে তাদেরকে সর্বপ্রথম মোবাইল বর্জন করতে হবে। পাশাপাশি সব ধরণের ব্যস্ততা ও প্রতিবন্ধকতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে একাগ্রতার সাথে ইলমে নিমগ্নতার জন্যে নিজেকে ওয়াকফ করে দিতে হবে। এছাড়া দ্বীনের সঠিক বুঝ ও ইলমে দৃঢ়তা অর্জনের আশা করা যায় না।