📄 ইলম একটি স্বতন্ত্র আমল, ইলমের প্রতি অনীহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ
১. পবিত্র সীরাত থেকে তালেবে ইলমদের আহরণের সর্বপ্রথম বিষয়টি হল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইলমকে শুধু একটি প্রয়োজন হিসেবে বা বিনোদন কিংবা সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেননি; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয এবং বিরাট বড় সওয়াবের কাজ হিসেবেই অবলম্বন করেছিলেন এবং এভাবে অবলম্বনের জন্যই উম্মতকে জোর তাগিদ করেছেন। ইলমের প্রতি এত উৎসাহ দিয়েছেন এবং এত অধিক ফযীলত বর্ণনা করেছেন যে, বৃদ্ধদের মাঝেও তালেবে ইলম হওয়ার স্পৃহা জেগে উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, ইলমের প্রতি অনীহা প্রকাশকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন。
ইলমের প্রতি কোন এক সম্প্রদায়ের অনাগ্রহের কথা জানার পর তিনি ইরশাদ করেন-
مَا بَالُ أَقْوَامٍ لَا يُفَقِّهُوْنَ حِيْرَانَهُمْ ، وَلَا يُعَلِّمُونَهُمْ وَلَا يُفَطِّنُوْنَهُمْ ؟ وَلَا يَأْمُرُونَهُمْ وَلَا يَنْهَوْنَهُمْ ؟ وَمَا بَالُ أَقْوَامٍ لَا يَتَعَلَّمُونَ مِنْ حِيْرَانِهِمْ وَلَا يَتَفَقَّهُونَ وَلَا يَتَفَطَّنُوْنَ ؟
وَاللَّهِ لَيُعَلِّمَنَّ قَوْمَ حَيْرَانَهُمْ وَيُفَقِهُونَهُمْ وَيُفَطِّنُوْنَهُمْ وَيَأْمُرُونَهُمْ أَوْ وَيَنْهَوْنَهُمْ، وَلَيَتَعَلَّمَنَّ قَوْمُ مِنْ حِيْرَانِهِمْ وَيَتَفَقَّهُونَ وَيَتَفَطَّنُوْنَ لأعاجِلَنَّهُمُ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا . (رواه الطبرانـي فـي الـكـبـيـر، قال ابن السكن : إسناده صالح كما في كنز العمال ٣ : ٦٨٥)
"ওই সম্প্রদায়ের কী হল যে, তারা প্রতিবেশীদেরকে দ্বীনের সঠিক সমঝ ও বুঝ দান করে না; দ্বীন শিক্ষা দেয় না; দ্বীনের বিষয়াবলী বোঝায় না এবং তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করে না, অসৎ কাজের নিষেধ করে না? ওই সম্প্রদায়েরই বা কী হল যে, তারা প্রতিবেশী থেকে দ্বীন শেখে না; দ্বীনের সঠিক সমঝ ও বুঝ নেয় না; দ্বীনের বিষয়াদি বুঝে নেয় না? আল্লাহর কসম! হয়তো তারা তাদের প্রতিবেশীদেরকে দ্বীন শিখাবে; দ্বীনের সঠিক সমঝ ও বুঝ দান করবে; দ্বীনের বিষয়াদি বোঝাবে; সৎ কাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজের নিষেধ করবে আর যারা জানে না ওরা তাদের থেকে সঠিক বুঝ গ্রহণ করবে, দ্বীনের বিষয়াদি ভালভাবে বুঝে নিবে নতুবা আমি তাদেরকে দুনিয়াতেই নগদ শাস্তি দিব।” (তাবারানী, কানযুল উম্মাল ৩/৬৮৫)
📄 ভাষার পারদর্শিতা অর্জন
৮. সীরাতে নববী থেকে গ্রহণ করার মত আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আরবী ভাষা ও মাতৃভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করা এবং দাওয়াত ও তালীমের জন্য বা অন্য কোন উদ্দেশ্যেও যে ভাষার প্রয়োজন হয় তা অন্তত প্রয়োজন পরিমাণে শিখে নেওয়া। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের সুরিয়ানী ভাষা শেখার জন্য যায়েদ ইবনে সাবেত (রাযি.) কে এই বলে আদেশ করেছিলেন- إني وَاللَّهِ مَا آمَنْ يَهُودَ عَلَى كِتَابِي 'খোদার কসম! আমি আমার চিঠির ব্যাপারে ইহুদীদেরকে বিশ্বস্ত মনে করি না।'
যায়েদ ইবনে সাবেত (রাযি.) বলেন- فَمَا مَرَبِي نِصْفُ شَهْرٍ، حَتى تَعَلَّمْتُهُ لَهُ فَلَمَّا تَعَلَّمْتُهُ، كَانَ إِذَا كَتَبَ إلى يَهُودَ ، كَتَبْتُ إِلَيْهِمْ وَإِذَا كَتَبُوا إِلَيْهِ قَرَأْتُ لَهُ كِتَابَهُمْ .
“অর্ধমাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই আমি তা শিখে ফেললাম। এরপর তিনি যখন ইহুদীদের প্রতি কোন চিঠি লিখতে চাইতেন আমি তা লিখে দিতাম এবং তারা রাসূলুল্লাহর কাছে কোন চিঠি লিখলে আমি তা তাঁকে পড়ে শোনাতাম।” (সহীহ বুখারী, কিতাবুল আহকাম; জামে তিরমিযী, কিতাবুল ইসতিযানি ওয়াল আদাব; হাদীস ২৭১৫)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একজন তালেবে ইলমের গ্রহণ করার মত নীতিমালা, নিয়ম-কানুন ও আহকামের এক দীর্ঘ সিলসিলা রয়েছে। আমি এখানে নমুনাস্বরূপ কয়েকটি পেশ করলাম। সবশেষে আরো একটি নীতির একাংশ উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে আলোচনাটির সমাপ্তি টানতে চাই।