📄 তালিবে ইলমের দৈনন্দিন করণীয়
সবক শুরু হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আগামী সবক মুতালাআ করা, নিয়মিত দরসে উপস্থিতি, দরস সমাপ্ত হওয়ার পর তাকরার করা এবং উস্তাদে মুহতারামের দেওয়া কাজগুলো যত্নসহকারে করা ইত্যাদি একজন তালিবে ইলমের জরুরি দায়িত্ব। এসব কাজ ছাড়াও একজন উচ্চাভিলাষী সচেতন তালিবে ইলমকে আরো কিছু কাজ করতে হয়। যথাঃ
১. নির্বাচিত শুরূহ ও হাওয়াশী মুতালাআ করা।
২. নেসাবী কিতাবসমূহের গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল ও মাবাহেসের উপর লিখিত স্বতন্ত্র ও মানসম্পন্ন রচনাবলির সন্ধান নিয়ে তা অধ্যয়ন করা।
৩. গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী নোট করা।
৪. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি তাকরার ও পারস্পরিক মুযাকারার মাধ্যমে আত্মস্থ করা।
৫. প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং হস্তলিপি স্পষ্ট ও সুন্দর করার চেষ্টা করা।
৬. পূর্ণ দ্বীনের সঠিক ধারণা লাভ করার জন্য এবং তারবিয়ত ও তাযকিয়ার জন্য আকাবির ও আসলাফের রচনাবলি পাঠ করা।
৭. নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত এবং কিছু কিছু নফল আমল ও যিকির-আযকারের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৮. আদাবে মুআশারা (সামাজিক ও সমষ্টিগত জীবনের উসূল ও আদাব) সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে বাস্তব ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোরভাবে তার অনুশীলন করা।
৯. নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা。
প্রশ্ন হতে পারে, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা ও প্রারম্ভিক জ্ঞান লাভের জন্য কী কী মৌলিক উৎস রয়েছে এবং দরসী কিতাবসমূহের পাশাপাশি কোন কোন শরহ্ ও হাশিয়া মুতালাআ করা উচিত। বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতমানের যেসব স্বতন্ত্র রচনাবলি আছে তার সন্ধান লাভেরই বা উপায় কী?
এর উত্তর এই যে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আসাতিযায়ে কেরামের শরণাপন্ন হতে হবে। 'আল-কাউসার'-এর 'শিক্ষার্থীদের পাতা' বিভাগে প্রশ্ন করেও এ ব্যাপারে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
বাস্তবিকপক্ষে আমরা ইলমে নবুওয়তের তালিবরা নিজেদের দায়িত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়েছি। তাই ইলম, আমল, তাফাককুহ, বসীরত এবং তাকওয়া-পরহেযগারীসহ সকল ক্ষেত্রেই আমাদের অবস্থা ক্রমাবনতিশীল। আমাদেরকে দায়িত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং আমাদের যে স্তরে উন্নীত হওয়া উচিত তা প্রতিনিয়ত স্মরণে রেখে যাচাই করতে হবে যে, পঠিত কিতাব বা যে শ্রেণীর পাঠ সমাপ্ত হয়েছে তার কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা আমাদের অর্জিত হয়েছে কিনা।
আমাদের মধ্যে হয়ত কোন কোন ভাইয়ের কিতাবী যোগ্যতাও অর্জিত হয়নি, শুধু ইমতেহানে প্রথম স্থান বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেই আত্মতৃপ্তি লাভ করছি এবং ভাবছি, আমরা তো 'ভাল ছাত্র'। আমরা কি কখনো কোন সচেতন অভিজ্ঞ উস্তাদের শরণাপন্ন হয়ে যাচাই করছি যে, বাস্তবেই আমাদের কিতাবী যোগ্যতা অর্জিত হয়েছে কিনা?
সবক শুরু হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আগামী সবক মুতালাআ করা, নিয়মিত দরসে উপস্থিতি, দরস সমাপ্ত হওয়ার পর তাকরার করা এবং উস্তাদে মুহতারামের দেওয়া কাজগুলো যত্নসহকারে করা ইত্যাদি একজন তালিবে ইলমের জরুরি দায়িত্ব। এসব কাজ ছাড়াও একজন উচ্চাভিলাষী সচেতন তালিবে ইলমকে আরো কিছু কাজ করতে হয়। যথাঃ
১. নির্বাচিত শুরূহ ও হাওয়াশী মুতালাআ করা।
২. নেসাবী কিতাবসমূহের গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল ও মাবাহেসের উপর লিখিত স্বতন্ত্র ও মানসম্পন্ন রচনাবলির সন্ধান নিয়ে তা অধ্যয়ন করা।
৩. গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী নোট করা।
৪. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি তাকরার ও পারস্পরিক মুযাকারার মাধ্যমে আত্মস্থ করা।
৫. প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং হস্তলিপি স্পষ্ট ও সুন্দর করার চেষ্টা করা।
৬. পূর্ণ দ্বীনের সঠিক ধারণা লাভ করার জন্য এবং তারবিয়ত ও তাযকিয়ার জন্য আকাবির ও আসলাফের রচনাবলি পাঠ করা।
৭. নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত এবং কিছু কিছু নফল আমল ও যিকির-আযকারের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৮. আদাবে মুআশারা (সামাজিক ও সমষ্টিগত জীবনের উসূল ও আদাব) সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে বাস্তব ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোরভাবে তার অনুশীলন করা।
৯. নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা。
প্রশ্ন হতে পারে, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা ও প্রারম্ভিক জ্ঞান লাভের জন্য কী কী মৌলিক উৎস রয়েছে এবং দরসী কিতাবসমূহের পাশাপাশি কোন কোন শরহ্ ও হাশিয়া মুতালাআ করা উচিত। বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতমানের যেসব স্বতন্ত্র রচনাবলি আছে তার সন্ধান লাভেরই বা উপায় কী?
এর উত্তর এই যে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আসাতিযায়ে কেরামের শরণাপন্ন হতে হবে। 'আল-কাউসার'-এর 'শিক্ষার্থীদের পাতা' বিভাগে প্রশ্ন করেও এ ব্যাপারে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
বাস্তবিকপক্ষে আমরা ইলমে নবুওয়তের তালিবরা নিজেদের দায়িত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়েছি। তাই ইলম, আমল, তাফাককুহ, বসীরত এবং তাকওয়া-পরহেযগারীসহ সকল ক্ষেত্রেই আমাদের অবস্থা ক্রমাবনতিশীল। আমাদেরকে দায়িত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং আমাদের যে স্তরে উন্নীত হওয়া উচিত তা প্রতিনিয়ত স্মরণে রেখে যাচাই করতে হবে যে, পঠিত কিতাব বা যে শ্রেণীর পাঠ সমাপ্ত হয়েছে তার কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা আমাদের অর্জিত হয়েছে কিনা।
আমাদের মধ্যে হয়ত কোন কোন ভাইয়ের কিতাবী যোগ্যতাও অর্জিত হয়নি, শুধু ইমতেহানে প্রথম স্থান বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেই আত্মতৃপ্তি লাভ করছি এবং ভাবছি, আমরা তো 'ভাল ছাত্র'। আমরা কি কখনো কোন সচেতন অভিজ্ঞ উস্তাদের শরণাপন্ন হয়ে যাচাই করছি যে, বাস্তবেই আমাদের কিতাবী যোগ্যতা অর্জিত হয়েছে কিনা?
📄 ভাল ছাত্রের পরিচয়
ভাল ছাত্র সে-ই, যার কোন কিতাবের পাঠ সম্পন্ন হওয়ার পর বা কোন শ্রেণী থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর উক্ত কিতাব বা শ্রেণীর কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জিত হয়েছে। 'ভাল ছাত্র' হওয়ার এ হল সর্বপ্রথম স্তর এবং এ স্তরের পরে রয়েছে অনেক স্তর আরো।
'নাহবেমীর' কিতাবটির আলোচনা করা যাক। মুসান্নিফের কথা অনুযায়ী, এ কিতাব থেকে তালিবে ইলমের তিনটি বৈশিষ্ট্য অর্জিত হবে। এক. আরবী তারকীব বোঝা। দুই. মু'রাব-মাবনী চিনতে পারা। তিন. আরবী ইবারত সহীহভাবে পড়তে পারা। এ কিতাবটি বা এর ধরনের কোন একটি কিতাব যথাযথভাবে পড়া হলে উপরোক্ত তিনটি যোগ্যতা অবশ্যই অর্জিত হবে। অতএব নাহবেমীর জামাআতের 'ভাল ছাত্র' সে, যে উপরোক্ত তিনটি বিষয়ের যোগ্যতা অর্জন করেছে; যে মু'রাব-মাবনী চেনে, আরবী তারকীব করতে পারে এবং ইবারত সহীহভাবে পড়তে পারে। যার এই যোগ্যতা অর্জিত হয়নি, তাকে আরো মেহনত করতে হবে। কেউ ইমতেহানে ভাল নম্বর পেলেই বা সহপাঠীদের মধ্যে 'ভাল ছাত্র' হিসেবে পরিচিত হলেই সে বাস্তবে ভাল হয়ে যায় না।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রত্যেক তালিবে ইলমের জন্য অপরিহার্য, নিজে চিন্তা-ভাবনা করে বা নিজের তালীমী মুরব্বীর পরামর্শ অনুসারে, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই নিজের শ্রেণী ও পাঠ্য কিতাবসমূহের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় মেহনত শুরু করা।
ভাল ছাত্র সে-ই, যার কোন কিতাবের পাঠ সম্পন্ন হওয়ার পর বা কোন শ্রেণী থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর উক্ত কিতাব বা শ্রেণীর কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জিত হয়েছে। 'ভাল ছাত্র' হওয়ার এ হল সর্বপ্রথম স্তর এবং এ স্তরের পরে রয়েছে অনেক স্তর আরো।
'নাহবেমীর' কিতাবটির আলোচনা করা যাক। মুসান্নিফের কথা অনুযায়ী, এ কিতাব থেকে তালিবে ইলমের তিনটি বৈশিষ্ট্য অর্জিত হবে। এক. আরবী তারকীব বোঝা। দুই. মু'রাব-মাবনী চিনতে পারা। তিন. আরবী ইবারত সহীহভাবে পড়তে পারা। এ কিতাবটি বা এর ধরনের কোন একটি কিতাব যথাযথভাবে পড়া হলে উপরোক্ত তিনটি যোগ্যতা অবশ্যই অর্জিত হবে। অতএব নাহবেমীর জামাআতের 'ভাল ছাত্র' সে, যে উপরোক্ত তিনটি বিষয়ের যোগ্যতা অর্জন করেছে; যে মু'রাব-মাবনী চেনে, আরবী তারকীব করতে পারে এবং ইবারত সহীহভাবে পড়তে পারে। যার এই যোগ্যতা অর্জিত হয়নি, তাকে আরো মেহনত করতে হবে। কেউ ইমতেহানে ভাল নম্বর পেলেই বা সহপাঠীদের মধ্যে 'ভাল ছাত্র' হিসেবে পরিচিত হলেই সে বাস্তবে ভাল হয়ে যায় না।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রত্যেক তালিবে ইলমের জন্য অপরিহার্য, নিজে চিন্তা-ভাবনা করে বা নিজের তালীমী মুরব্বীর পরামর্শ অনুসারে, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই নিজের শ্রেণী ও পাঠ্য কিতাবসমূহের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় মেহনত শুরু করা।
📄 নেসাবী কিতাবসমূহের উদ্দেশ্য
ইলমের তিনটি পর্যায় রয়েছে- (এক) কিতাবী যোগ্যতা, (দুই) বিষয়ের পাণ্ডিত্য এবং (তিন) তাফাককুহ ফিদ্দীন বা দ্বীন ও শরীয়তের গভীর ও পরিপক্ক জ্ঞান এবং মুফাককির ও দাঈ পর্যায়ের যোগ্যতা।
একজন তালিবে ইলমকে প্রথম স্তর অতিক্রম করে অবশ্যই দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরে উন্নীত হতে হবে। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, শেষোক্ত দুই স্তরে পৌঁছার জন্য কী কী প্রস্তুতি প্রয়োজন? বলাবাহুল্য, এই দুই স্তরের যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মেহনতও আমাদেরকে ছাত্র থাকাকালীনই করতে হবে। এখন প্রশ্ন হল, এই মেহনত কীভাবে হতে পারে?
এ ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করার জন্য মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর এবং মাওলানা মুহাম্মদ মনযুর নুমানী (রহ.)-এর বক্তৃতা - মুতালাআ করা উচিত এবং অত্যন্ত বুঝে শুনে আমলের নিয়তে বারবার মুতালাআ করা উচিত। এছাড়া তলাবা ও উলামায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে লিখিত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর রাসায়েল, মাওয়ায়েজ, মালফুযাত, মাকতুবাত এবং এসবের নির্বাচিত সংকলনসমূহ গুরুত্ব সহকারে নিয়মিত মুতালাআ করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে যথাযথ মেহনত করার এবং তাফাককুহ ফিদ্দীন অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
ইলমের তিনটি পর্যায় রয়েছে- (এক) কিতাবী যোগ্যতা, (দুই) বিষয়ের পাণ্ডিত্য এবং (তিন) তাফাককুহ ফিদ্দীন বা দ্বীন ও শরীয়তের গভীর ও পরিপক্ক জ্ঞান এবং মুফাককির ও দাঈ পর্যায়ের যোগ্যতা।
একজন তালিবে ইলমকে প্রথম স্তর অতিক্রম করে অবশ্যই দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরে উন্নীত হতে হবে। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, শেষোক্ত দুই স্তরে পৌঁছার জন্য কী কী প্রস্তুতি প্রয়োজন? বলাবাহুল্য, এই দুই স্তরের যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মেহনতও আমাদেরকে ছাত্র থাকাকালীনই করতে হবে। এখন প্রশ্ন হল, এই মেহনত কীভাবে হতে পারে?
এ ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করার জন্য মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর এবং মাওলানা মুহাম্মদ মনযুর নুমানী (রহ.)-এর বক্তৃতা - মুতালাআ করা উচিত এবং অত্যন্ত বুঝে শুনে আমলের নিয়তে বারবার মুতালাআ করা উচিত। এছাড়া তলাবা ও উলামায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে লিখিত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর রাসায়েল, মাওয়ায়েজ, মালফুযাত, মাকতুবাত এবং এসবের নির্বাচিত সংকলনসমূহ গুরুত্ব সহকারে নিয়মিত মুতালাআ করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে যথাযথ মেহনত করার এবং তাফাককুহ ফিদ্দীন অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।