📘 তাকওয়া মুমিনের সম্বল 📄 ৬. তাকওয়ার উপকারিতা

📄 ৬. তাকওয়ার উপকারিতা


১. তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা পাওয়া যায়। তিনি বলেন,
بَلَى مَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ وَاتَّقَى فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
“যে ব্যক্তিই তার অঙ্গীকার পূর্ণ করবে এবং অসৎকাজ থেকে দূরে থাকবে, সে আল্লাহ তাআলার প্রিয়ভাজন হবে। কারণ আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।”[১]

২. তাকওয়ার মাধ্যমে অর্জিত হয় আল্লাহ তাআলার নৈকট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ
“আর আমার অনুগ্রহ সবকিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে। সুতরাং আমি তা মুত্তাকিদের জন্য লিখে দেব।”[২]

৩. আল্লাহ সর্বদা মুত্তাকি বান্দাদের সঙ্গে থাকেন,
وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ )
“আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকিদের সাথে আছেন।”[১]
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوا وَالَّذِينَ هُم تُحْسِنُونَ )
“নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গেই আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও সৎকর্ম করে।”[২]

৪. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তাআলার আযাব থেকে রেহাই পায়,
فَمَنِ اتَّقَى وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ )
“অতএব, যারা আল্লাহকে ভয় করে ও নিজেদের সংশোধন করে, তাদের কোনো ভয় নেই, দুশ্চিন্তাও নেই।”[৩]

৫. বান্দা সহায়-সম্বলহীন হোক কিংবা হতদরিদ্র, (তাতে কিছুই আসে যায় না)। কেবল তাকওয়ার মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার কাছে বান্দার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়,
زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“কাফিরদের জন্য দুনিয়ার জীবনকে মনোমুগ্ধকর করে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের লোকেরা ঈমানদারদেরকে উপহাস করে। কিন্তু কিয়ামাতের দিন তাকওয়াবানরাই তাদের চেয়ে উন্নত অবস্থায় থাকবে।”[১]

৬. তাকওয়ার মাধ্যমেই বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং অনন্ত সুখ উপভোগ করবে,
لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجُ مُطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ *
“যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে জান্নাত, তার নিম্নদেশে ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরন্তন জীবন লাভ করবে। পবিত্র স্ত্রীরা হবে তাদের সঙ্গী। এবং তারা লাভ করবে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর প্রখর নজর রাখেন।”[২]

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ .
"আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের জন্য প্রতিযোগিতা করো, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান। তা প্রস্তুত করা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য।”[৩]

تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيًّا *
“এ তো সেই জান্নাত, যা আমি আমার মুত্তাকি বান্দাদের দান করব।”[৪]

وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا
“আর যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে) তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।”[১]

قُلْ مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِمَنِ اتَّقَى
“(হে নবি,) বলুন, পার্থিব সুখশান্তি তো সামান্যই। অথচ মুত্তাকিদের জন্য আখিরাতের আবাসস্থল উত্তম।”[২]

৭. তাকওয়ার কারণে বান্দা উভয় জাহানে মহাপুরস্কার ও সুসংবাদ লাভ করে,
الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
“যারা ঈমান আনে ও তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে সুসংবাদ রয়েছে।”[৩]

وَإِن تُؤْمِنُوا وَتَتَّقُوا فَلَكُمْ أَجْرٌ عَظِيمٌ )
“যদি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করো ও তাকওয়া অবলম্বন করো, তা হলে তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপ্রতিদান।”[৪]

৮. তাকওয়া থাকলে বান্দার আমল সাথে সাথে কবুল হয়ে যায়,
إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ )
“(হাবিল ইবনু আদম আ. বললেন,) আল্লাহ শুধু মুত্তাকিদের থেকেই (কুরবানী) কবুল করেন।”[৫]

৯. তাকওয়া থাকলে বান্দা নিজের আমল সংশোধন ও প্রতিপালকের ক্ষমা অর্জন করতে পারে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا )
“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ মাফ করে দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহাসাফল্য অর্জন করবে।”[১]

১০. শত্রুর মোকাবিলায় বান্দা (আল্লাহ তাআলার) সাহায্য পায় তাকওয়ার মাধ্যমে,
وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا
“যদি তোমরা দৃঢ় থাকো ও তাকওয়া অবলম্বন করো, তা হলে তাদের কূটচাল কখনো তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।”[২]

بَلَى إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ )
"অবশ্য যদি তোমরা সবর করো এবং আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাকো, তা হলে যে মুহূর্তে দুশমন তোমাদের ওপর চড়াও হবে ঠিক তখনি তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নযুক্ত ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন।”[৩]

তাই তো সেনাপতি সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রা.-কে খলিফা উমর রা. বলেছিলেন, "আপনাকে ও আপনার সেনাবাহিনীকে সর্বদা তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলার ভয়ই শত্রুদের বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠ অস্ত্র ও সর্বশ্রেষ্ঠ যুদ্ধকৌশল”[১]

১১. তাকওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ গুনাহও মাফ হয়ে যায়,
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ
“আহলুল কিতাব (ইয়াহুদি ও খ্রিস্টান জাতি) যদি বিশ্বাস করত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তা হলে আমি তাদের পাপ ক্ষমা করে দিতাম।”[২]

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا *
"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন ও তার প্রতিদান বৃদ্ধি করে দেবেন।”[৩]

১২. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দার কাজকর্ম সহজ হয়ে যায় ও রিযিক বৃদ্ধি পায়,
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكْتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ
“যদি জনপদের লোকেরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তা হলে আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম।” [৪]

ج وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সমস্যা থেকে বেরোবার) কোনো না কোনো পথ খুলে দেবেন এবং তাকে রিযিক দেবেন তার ধারণাতীত উৎস থেকে।”[১]

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا
“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার কাজকর্ম সহজ করে দেবেন।”[২]

১৩. তাকওয়ার মাধ্যমে শয়তানের স্পর্শ ও আঘাত থেকে বান্দা সুরক্ষিত থাকে,
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ
“যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, শয়তানের স্পর্শে তাদের মনে কুমন্ত্রণা জাগলে তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের চক্ষু খুলে যায়।”[৩]

আল্লাহ এ কথা বলেননি যে, তাকওয়াবানরা নিষ্পাপ। তিনি বলেছেন, শয়তান যখন তাদের দিকে ধেয়ে আসে, তখন তাকওয়া তাদের মধ্যে আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব জাগিয়ে তোলে, আর তারা ফিরে আসে।

১৪. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দা সত্য-মিথ্যা ও আলো-আঁধারের পার্থক্য বুঝতে পারে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
“হে ঈমানদারগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তা হলে তিনি তোমাদের ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি প্রদান করবেন, তোমাদের দোষত্রুটি দূর করে দেবেন, তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।”[১]

১৫. তাকওয়া থাকলে বান্দা আল্লাহ তাআলার সাহায্য লাভ করে,
فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى )
“যারা দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, আমি তাদের জন্য সহজ পথে চলা সুগম করে দেব।”[২]

১৬. তাকওয়ার দ্বারা উভয় জাহানে বান্দা কামিয়াব হবে,
فَاتَّقُوا اللَّهَ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ *
"অতএব, হে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা! আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”[৩]

১৭. তাকওয়া থাকলে বান্দা আল্লাহ তাআলার বন্ধুত্ব লাভ করে,
وَإِنَّ الظَّالِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ *
“সীমালঙ্ঘনকারীরা পরস্পরের বন্ধু আর আল্লাহ মুত্তাকিদের বন্ধু।”[৪]

أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ *
“সাবধান! আল্লাহ তাআলার বন্ধুদের কোনো ভয় নেই, দুশ্চিন্তা নেই। তারাই বিশ্বাসী ও মুত্তাকি।”[১]

১৮. জাহান্নামের শাস্তি থেকে বান্দার বাঁচার মাধ্যম হলো তাকওয়া,
وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا *
“তোমাদের প্রত্যেকেই তা (পুলসিরাত) অতিক্রম করবে। এটা তোমার রবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তারপর আমি তাকওয়া অবলম্বনকারীদের এ থেকে মুক্তি দেব আর জালিমদেরকে তার মধ্যে রেখে দেব নতজানু অবস্থায়।”[২]

১৯. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দার পরিসমাপ্তি সুন্দর হবে,
تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
“আখিরাতের সেই নিবাস আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করব, যারা জমিনে অহংকার ও অপরাধ করে না। সর্বোত্তম পরিণতি মুত্তাকিদের জন্যই।”[৩]

وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى
(হে নবি,) আপনি আপনার পরিবারকে সালাতের আদেশ দিন এবং নিজেও তা নিয়মিত পালন করতে থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিযিক চাই না, রিযিক তো আমিই আপনাকে দিই। আর সর্বোত্তম পরিণতি তো তাকওয়াবানদের জন্যই।”[১]

২০. তাকওয়ার মাধ্যমে কিয়ামাতের দিন বান্দা নিরাপত্তার মঞ্জিলে পৌঁছে যাবে,
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ ۞
“নিশ্চয় মুত্তাকিগণ থাকবে নিরাপদ স্থানে।”[২]

২১. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে উত্তম মর্যাদা লাভ করে,
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
“নিশ্চয় তোমাদের মধ্য হতে আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি উত্তম, যে তাকওয়া অবলম্বন করে।”[৩]

এই হলো তাকওয়ার উপকারিতার মধ্য থেকে অল্প কয়েকটি। আল্লাহ আমাদের অন্তর প্রশস্ত করে দিন ও তাতে তাকওয়া দান করে তা থেকে উপকৃত করুন। আমীন।

তাকওয়ার ব্যাপারে আলি (রাঃ)-এর উক্তি
আলি ইবনু আবী তালিব (রাঃ) বলেন, “তাকওয়া অবলম্বন করুন। কারণ, এটি বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার অধিকার। তাকওয়ার মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার সাহায্য চাইতে হয়। তাকওয়া আজ একটি ঢাল হিসেবে কাজ করছে, আগামীকাল এটি আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।”[৪]

তিনি আরও বলেন, “হে আল্লাহ তাআলার বান্দারা! তাকওয়া আল্লাহ তাআলার বন্ধুদেরকে তাঁর নিষেধকৃত বস্তু থেকে দূরে রাখে। আর অন্তরে তাঁর ভয় সৃষ্টি করে। এর ফলে বান্দা রাতে জাগ্রত ও দিনে তৃষ্ণার্ত থাকে (সালাত ও সিয়ামের মাধ্যমে)। ক্লান্তি থেকে প্রশান্তি আর তৃষ্ণা থেকে তৃপ্তি লাভ হয়। মুত্তাকিগণ সময়ের সংক্ষিপ্ততা নিয়ে সচেতন বলে কাজে ত্বরা করে। অলীক কল্পনা পরিত্যাগ করে মৃত্যুর ব্যাপারে সচেতন থাকে।” [১]

টিকাঃ
[১] সূরা আল ইমরান ৩: ৭৬
[২] সূরা আল-আ'রাফ ৭: ১৫৬
[১] সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৯৪
[২] সূরা আন-নাহল ১৬: ১২৮
[৩] সূরা আল-আ'রাফ ৭ : ৩৫
[১] সূরা আল-বাকারাহ ২: ২১২
[২] সূরা আল-ইমরান ৩: ১৫
[৩] সূরা আল ইমরান ৩: ১৩৩
[৪] সূরা মারইয়াম ১৯:৬৩
[১] সূরা যুমার ৩۹: ৭৩
[২] সূরা আন-নিসা ৪: ৭৭
[৩] সূরা ইউনুস ১০: ৬৩-৬৪
[৪] সূরা আল ইমরান ৩: ১৭৯
[৫] সূরা আল-মাইদা ৫: ২৭
[১] সূরা আল-আহযাব ৩৩: ৭০-৭১
[২] সূরা আল ইমরান ৩: ১২০
[৩] সূরা আল ইমরান ৩: ১২৫
[১] ইবনু আব্দি রব্বিহি উন্দুলুসী; আল-ইকদুল ফারীদ, ১/১১৭ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)। তবে বর্ণনাটির কোনো সনদ পাওয়া যায় না।
[২] সূরা আল-মাইদা ৫: ৬৫
[৩] সূরা আত-তালাক ৬৫ : ৫
[৪] সূরা আল-আ'রাফ ৭: ৯৬
[১] সূরা আত-তালাক ৬৫: ২-৩
[২] সূরা আত-তালাক ৬৫ : ৪
[৩] সূরা আল-আ'রাফ ৭ : ২০১
[১] সূরা আল-আনফাল ৮: ২৯
[২] সূরা আল-লাইল ৯২: ৫-৭
[৩] সূরা আল-মাইদা ৫: ১০০
[৪] সূরা আল-জাসিয়াহ ৪৫: ১৯
[১] সূরা ইউনুস ১০: ৬২-৬৩
[২] সূরা মারইয়াম ১৯: ৭১-৭২
[৩] সূরা আল-কাসাস ২৮ : ৮৩
[১] সূরা ত্বহা ২০: ১৩২
[২] সূরা আদ-দুখান ৪৪ : ৫১
[৩] সূরা আল-হুজুরাত ৪৯ : ১৩
[৪] নাহজুল বালাগাহ, ৩৭৯।
[১] নাহজুল বালাগাহ, ২২৪,২৫।

১. তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা পাওয়া যায়। তিনি বলেন,
بَلَى مَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ وَاتَّقَى فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
“যে ব্যক্তিই তার অঙ্গীকার পূর্ণ করবে এবং অসৎকাজ থেকে দূরে থাকবে, সে আল্লাহ তাআলার প্রিয়ভাজন হবে। কারণ আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।”[১]

২. তাকওয়ার মাধ্যমে অর্জিত হয় আল্লাহ তাআলার নৈকট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ
“আর আমার অনুগ্রহ সবকিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে। সুতরাং আমি তা মুত্তাকিদের জন্য লিখে দেব।”[২]

৩. আল্লাহ সর্বদা মুত্তাকি বান্দাদের সঙ্গে থাকেন,
وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ )
“আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকিদের সাথে আছেন।”[১]
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوا وَالَّذِينَ هُم تُحْسِنُونَ )
“নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গেই আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও সৎকর্ম করে।”[২]

৪. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তাআলার আযাব থেকে রেহাই পায়,
فَمَنِ اتَّقَى وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ )
“অতএব, যারা আল্লাহকে ভয় করে ও নিজেদের সংশোধন করে, তাদের কোনো ভয় নেই, দুশ্চিন্তাও নেই।”[৩]

৫. বান্দা সহায়-সম্বলহীন হোক কিংবা হতদরিদ্র, (তাতে কিছুই আসে যায় না)। কেবল তাকওয়ার মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার কাছে বান্দার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়,
زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“কাফিরদের জন্য দুনিয়ার জীবনকে মনোমুগ্ধকর করে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের লোকেরা ঈমানদারদেরকে উপহাস করে। কিন্তু কিয়ামাতের দিন তাকওয়াবানরাই তাদের চেয়ে উন্নত অবস্থায় থাকবে।”[১]

৬. তাকওয়ার মাধ্যমেই বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং অনন্ত সুখ উপভোগ করবে,
لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجُ مُطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ *
“যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে জান্নাত, তার নিম্নদেশে ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরন্তন জীবন লাভ করবে। পবিত্র স্ত্রীরা হবে তাদের সঙ্গী। এবং তারা লাভ করবে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর প্রখর নজর রাখেন।”[২]

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ .
"আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের জন্য প্রতিযোগিতা করো, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান। তা প্রস্তুত করা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য।”[৩]

تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيًّا *
“এ তো সেই জান্নাত, যা আমি আমার মুত্তাকি বান্দাদের দান করব।”[৪]

وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا
“আর যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে) তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।”[১]

قُلْ مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِمَنِ اتَّقَى
“(হে নবি,) বলুন, পার্থিব সুখশান্তি তো সামান্যই। অথচ মুত্তাকিদের জন্য আখিরাতের আবাসস্থল উত্তম।”[২]

৭. তাকওয়ার কারণে বান্দা উভয় জাহানে মহাপুরস্কার ও সুসংবাদ লাভ করে,
الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
“যারা ঈমান আনে ও তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে সুসংবাদ রয়েছে।”[৩]

وَإِن تُؤْمِنُوا وَتَتَّقُوا فَلَكُمْ أَجْرٌ عَظِيمٌ )
“যদি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করো ও তাকওয়া অবলম্বন করো, তা হলে তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপ্রতিদান।”[৪]

৮. তাকওয়া থাকলে বান্দার আমল সাথে সাথে কবুল হয়ে যায়,
إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ )
“(হাবিল ইবনু আদম আ. বললেন,) আল্লাহ শুধু মুত্তাকিদের থেকেই (কুরবানী) কবুল করেন।”[৫]

৯. তাকওয়া থাকলে বান্দা নিজের আমল সংশোধন ও প্রতিপালকের ক্ষমা অর্জন করতে পারে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا )
“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ মাফ করে দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহাসাফল্য অর্জন করবে।”[১]

১০. শত্রুর মোকাবিলায় বান্দা (আল্লাহ তাআলার) সাহায্য পায় তাকওয়ার মাধ্যমে,
وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا
“যদি তোমরা দৃঢ় থাকো ও তাকওয়া অবলম্বন করো, তা হলে তাদের কূটচাল কখনো তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।”[২]

بَلَى إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ )
"অবশ্য যদি তোমরা সবর করো এবং আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাকো, তা হলে যে মুহূর্তে দুশমন তোমাদের ওপর চড়াও হবে ঠিক তখনি তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নযুক্ত ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন।”[৩]

তাই তো সেনাপতি সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রা.-কে খলিফা উমর রা. বলেছিলেন, "আপনাকে ও আপনার সেনাবাহিনীকে সর্বদা তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলার ভয়ই শত্রুদের বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠ অস্ত্র ও সর্বশ্রেষ্ঠ যুদ্ধকৌশল”[১]

১১. তাকওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ গুনাহও মাফ হয়ে যায়,
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ
“আহলুল কিতাব (ইয়াহুদি ও খ্রিস্টান জাতি) যদি বিশ্বাস করত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তা হলে আমি তাদের পাপ ক্ষমা করে দিতাম।”[২]

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا *
"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন ও তার প্রতিদান বৃদ্ধি করে দেবেন।”[৩]

১২. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দার কাজকর্ম সহজ হয়ে যায় ও রিযিক বৃদ্ধি পায়,
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكْتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ
“যদি জনপদের লোকেরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তা হলে আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম।” [৪]

ج وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সমস্যা থেকে বেরোবার) কোনো না কোনো পথ খুলে দেবেন এবং তাকে রিযিক দেবেন তার ধারণাতীত উৎস থেকে।”[১]

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا
“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার কাজকর্ম সহজ করে দেবেন।”[২]

১৩. তাকওয়ার মাধ্যমে শয়তানের স্পর্শ ও আঘাত থেকে বান্দা সুরক্ষিত থাকে,
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ
“যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, শয়তানের স্পর্শে তাদের মনে কুমন্ত্রণা জাগলে তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের চক্ষু খুলে যায়।”[৩]

আল্লাহ এ কথা বলেননি যে, তাকওয়াবানরা নিষ্পাপ। তিনি বলেছেন, শয়তান যখন তাদের দিকে ধেয়ে আসে, তখন তাকওয়া তাদের মধ্যে আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব জাগিয়ে তোলে, আর তারা ফিরে আসে।

১৪. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দা সত্য-মিথ্যা ও আলো-আঁধারের পার্থক্য বুঝতে পারে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
“হে ঈমানদারগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তা হলে তিনি তোমাদের ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি প্রদান করবেন, তোমাদের দোষত্রুটি দূর করে দেবেন, তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।”[১]

১৫. তাকওয়া থাকলে বান্দা আল্লাহ তাআলার সাহায্য লাভ করে,
فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى )
“যারা দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, আমি তাদের জন্য সহজ পথে চলা সুগম করে দেব।”[২]

১৬. তাকওয়ার দ্বারা উভয় জাহানে বান্দা কামিয়াব হবে,
فَاتَّقُوا اللَّهَ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ *
"অতএব, হে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা! আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”[৩]

১৭. তাকওয়া থাকলে বান্দা আল্লাহ তাআলার বন্ধুত্ব লাভ করে,
وَإِنَّ الظَّالِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ *
“সীমালঙ্ঘনকারীরা পরস্পরের বন্ধু আর আল্লাহ মুত্তাকিদের বন্ধু।”[৪]

أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ *
“সাবধান! আল্লাহ তাআলার বন্ধুদের কোনো ভয় নেই, দুশ্চিন্তা নেই। তারাই বিশ্বাসী ও মুত্তাকি।”[১]

১৮. জাহান্নামের শাস্তি থেকে বান্দার বাঁচার মাধ্যম হলো তাকওয়া,
وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا *
“তোমাদের প্রত্যেকেই তা (পুলসিরাত) অতিক্রম করবে। এটা তোমার রবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তারপর আমি তাকওয়া অবলম্বনকারীদের এ থেকে মুক্তি দেব আর জালিমদেরকে তার মধ্যে রেখে দেব নতজানু অবস্থায়।”[২]

১৯. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দার পরিসমাপ্তি সুন্দর হবে,
تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
“আখিরাতের সেই নিবাস আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করব, যারা জমিনে অহংকার ও অপরাধ করে না। সর্বোত্তম পরিণতি মুত্তাকিদের জন্যই।”[৩]

وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى
(হে নবি,) আপনি আপনার পরিবারকে সালাতের আদেশ দিন এবং নিজেও তা নিয়মিত পালন করতে থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিযিক চাই না, রিযিক তো আমিই আপনাকে দিই। আর সর্বোত্তম পরিণতি তো তাকওয়াবানদের জন্যই।”[১]

২০. তাকওয়ার মাধ্যমে কিয়ামাতের দিন বান্দা নিরাপত্তার মঞ্জিলে পৌঁছে যাবে,
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ ۞
“নিশ্চয় মুত্তাকিগণ থাকবে নিরাপদ স্থানে।”[২]

২১. তাকওয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তাআলার দৃষ্টিতে উত্তম মর্যাদা লাভ করে,
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
“নিশ্চয় তোমাদের মধ্য হতে আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি উত্তম, যে তাকওয়া অবলম্বন করে।”[৩]

এই হলো তাকওয়ার উপকারিতার মধ্য থেকে অল্প কয়েকটি। আল্লাহ আমাদের অন্তর প্রশস্ত করে দিন ও তাতে তাকওয়া দান করে তা থেকে উপকৃত করুন। আমীন।

তাকওয়ার ব্যাপারে আলি (রাঃ)-এর উক্তি
আলি ইবনু আবী তালিব (রাঃ) বলেন, “তাকওয়া অবলম্বন করুন। কারণ, এটি বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার অধিকার। তাকওয়ার মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার সাহায্য চাইতে হয়। তাকওয়া আজ একটি ঢাল হিসেবে কাজ করছে, আগামীকাল এটি আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।”[৪]

তিনি আরও বলেন, “হে আল্লাহ তাআলার বান্দারা! তাকওয়া আল্লাহ তাআলার বন্ধুদেরকে তাঁর নিষেধকৃত বস্তু থেকে দূরে রাখে। আর অন্তরে তাঁর ভয় সৃষ্টি করে। এর ফলে বান্দা রাতে জাগ্রত ও দিনে তৃষ্ণার্ত থাকে (সালাত ও সিয়ামের মাধ্যমে)। ক্লান্তি থেকে প্রশান্তি আর তৃষ্ণা থেকে তৃপ্তি লাভ হয়। মুত্তাকিগণ সময়ের সংক্ষিপ্ততা নিয়ে সচেতন বলে কাজে ত্বরা করে। অলীক কল্পনা পরিত্যাগ করে মৃত্যুর ব্যাপারে সচেতন থাকে।” [১]

টিকাঃ
[১] সূরা আল ইমরান ৩: ৭৬
[২] সূরা আল-আ'রাফ ৭: ১৫৬
[১] সূরা আল-বাকারাহ ২: ১৯৪
[২] সূরা আন-নাহল ১৬: ১২৮
[৩] সূরা আল-আ'রাফ ৭ : ৩৫
[১] সূরা আল-বাকারাহ ২: ২১২
[২] সূরা আল-ইমরান ৩: ১৫
[৩] সূরা আল ইমরান ৩: ১৩৩
[৪] সূরা মারইয়াম ১৯:৬৩
[১] সূরা যুমার ৩۹: ৭৩
[২] সূরা আন-নিসা ৪: ৭৭
[৩] সূরা ইউনুস ১০: ৬৩-৬৪
[৪] সূরা আল ইমরান ৩: ১৭৯
[৫] সূরা আল-মাইদা ৫: ২৭
[১] সূরা আল-আহযাব ৩৩: ৭০-৭১
[২] সূরা আল ইমরান ৩: ১২০
[৩] সূরা আল ইমরান ৩: ১২৫
[১] ইবনু আব্দি রব্বিহি উন্দুলুসী; আল-ইকদুল ফারীদ, ১/১১৭ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)। তবে বর্ণনাটির কোনো সনদ পাওয়া যায় না।
[২] সূরা আল-মাইদা ৫: ৬৫
[৩] সূরা আত-তালাক ৬৫ : ৫
[৪] সূরা আল-আ'রাফ ৭: ৯৬
[১] সূরা আত-তালাক ৬৫: ২-৩
[২] সূরা আত-তালাক ৬৫ : ৪
[৩] সূরা আল-আ'রাফ ৭ : ২০১
[১] সূরা আল-আনফাল ৮: ২৯
[২] সূরা আল-লাইল ৯২: ৫-৭
[৩] সূরা আল-মাইদা ৫: ১০০
[৪] সূরা আল-জাসিয়াহ ৪৫: ১৯
[১] সূরা ইউনুস ১০: ৬২-৬৩
[২] সূরা মারইয়াম ১৯: ৭১-৭২
[৩] সূরা আল-কাসাস ২৮ : ৮৩
[১] সূরা ত্বহা ২০: ১৩২
[২] সূরা আদ-দুখান ৪৪ : ৫১
[৩] সূরা আল-হুজুরাত ৪৯ : ১৩
[৪] নাহজুল বালাগাহ, ৩৭৯।
[১] নাহজুল বালাগাহ, ২২৪,২৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px