📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 الخلود في نار جهنم أبداً তথা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকার শাস্তির ভিত্তিতে তাকফীর করা

📄 الخلود في نار جهنم أبداً তথা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকার শাস্তির ভিত্তিতে তাকফীর করা


তাকফীরের প্রচলিত ভুল মূলনীতিগুলোর একটি হলো, যে পাপের শাস্তিস্বরূপ "الخلود في نار جهنم أبداً" তথা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থ াকার কথা এসেছে, সে পাপে লিপ্ত ব্যক্তিরা মুসলিম নয়; বরং তাদেরকে কাফের বলে আখ্যায়িত করা যাবে।
কিন্তু এ মূলনীতিটির প্রয়োগও সঠিক নয়। কেননা, জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া কুফরীর কারণে হয়। এজন্যই কাফেররা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে “জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে” এমন কথার দ্বারা কাফেরদের মতো চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকা উদ্দেশ্য হয় না।
যে সকল শরয়ী দলীলসমূহ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়, তন্মধ্যে কয়েকটি হলো: আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِداً فِيهَا وَغَضِبَ اللهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَاباً عَظِيماً.
“যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করে তার শাস্তি জাহান্নাম। তাতে সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।"৩৩৫
এ আয়াতে যেমন চিরস্থায়ী শান্তি হওয়ার দ্বারা কুফর আবশ্যক হয় না, তেমনিভাবে হত্যাকারী ব্যক্তি কাফেরদের মতো জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবেও থাকবে না। কেননা, অন্যান্য দলীলের আলোকে প্রমাণিত যে, ইচ্ছা করে হত্যাকারী ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় না। যেহেতু অন্যায় হত্যা কবীরা গুনাহ, কুফরী নয়।
সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ حَسَا سُمًّا فَسُمُّهُ فِي يَدِهِ، يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا.
অর্থাৎ আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করে, সে বিষ তার হাতে থাকবে আর জাহান্নামের আগুনে চিরস্থায়ী কাল সে তা পান করতে থাকবে।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ، فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَتَرَدَّى فِيهِ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا، وَمَنْ تَحَسَّى سُمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ، فَسُمُّهُ فِي يَدِهِ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا، وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ، فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَجَأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا.
আবু হুরাইরা রাযি. সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে ঐরূপভাবে জাহান্নামের মাঝে সর্বদা ঝাঁপ দিতে থাকবে। আর যে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে, সেও সর্বদা ঐরূপ জাহান্নামে নিজ হাতে বিষপানরত থাকবে। আর যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐরূপ ধারালো অস্ত্র দ্বারা স্বীয় হাতে নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে।
এ ধরনের বর্ণনা সত্ত্বেও উলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে আত্মহত্যাকারী মুসলিম ব্যক্তি কাফের হবে না। তারা সব সময়ের জন্য কাফেরদের মতো জাহান্নামে থাকবে না। আল্লাহ চাহে তো কিয়ামতের মাঠে শাফাআতকারীদের শাফাআত তাদের উপকারে আসবে।

টিকাঃ
৩৩৫. সূরা নিসা: ৯৩
৩৩৬. সুনানে আবু দাউদ: ৪/৭ হা. নং ৩৮৭২ (আল মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরূত)
৩৩৭. সহীহ বুখারী: ৭/১৩৯, হা. নং ৫৭৭৮ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00