📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 দলীল

📄 দলীল


আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ
“(হে নবী,) বলুন, হে কাফেরকুল!”৩০২
তাই কোনো রকম ইতস্তত ও কোনো ধরনের দুর্বলতা ব্যতীত দ্ব্যর্থহীনভাবে তাদেরকে কুরআনের এ সম্বোধন অনুযায়ী ডাকা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَاءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَداً حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَه.
“তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে রয়েছে চমৎকার আদর্শ। যখন তারা নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিলো, তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত করো, তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে।”৩০৩
সুতরাং খোলাখুলি স্পষ্টভাবে তাদেরকে বলে দিতে হবে যে, “তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত করো, তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে।” এখানে এসেই তাওহীদ ও তার আবশ্যকীয় শর্তসমূহ পূর্ণতা পায়।
শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রহ. বলেন-
من لم يكفر المشركين أو يشك في كفرهم أو صحح مذهبهم فقد كفر.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মুশরিকদেরকে কাফের বলবে না বা তাদের কুফরীতে সন্দেহ করবে অথবা তাদের ধর্মকে শুদ্ধ বলে বিশ্বাস করবে, সর্বসম্মতিক্রমে সে কাফের হয়ে যাবে। ৩০৪
লক্ষ্য করি, كَفَرَ إِجْمَاعَاً তথা সর্বসম্মতিক্রমে সে কাফের। অর্থাৎ পূর্বোক্ত মূলনীতির শুদ্ধতার ব্যাপারে আহলে ইলমের মাঝে কোনো রকমের মতানৈক্য নেই।
তিনি আরো বলেন-
الكف عن الشرك والنهي والإنذار عنه والتغليظ فيه، والمعاداة به، وتكفير من فعله، والبراءة منه، وعدم مودته وموالاته من دون الله، وان كان قريباً من العشيرة.
অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক থেকে নিবৃত্ত থাকা, এ থেকে নিষেধ করা ও ভীতি প্রদর্শন করা, এ ব্যাপারে কঠোরতা করা, শত্রুতা পোষণ করা, যে শিরক করবে তাকে কাফের বলা, এ থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করা, এর সাথে কোনো সর্ম্পক ও ভালোবাসা না রাখা; যদিও সে নিকটাত্মীয় হয়। ৩০৫
তিনি আরো বলেন-
قوله صلى الله عليه وسلم: من قال: لا إله إلا الله وكفر بما يعبد من دون الله حرم ماله ودمه، وحسابه على الله»، وهذا من أعظم ما يبين معنى «لا إله إلا الله»، فإنه لم يجعل التلفظ بها عاصماً للدم والمال، بل ولا معرفة معناها مع لفظها، بل ولا الإقرار بذلك، بل ولا كونه لا يدعو إلا الله وحده لا شريك له، بل لا يحرم ماله ودمه حتى يضيف إلى ذلك الكفر بما يعبد من دون الله، فإن شك أو توقف لم يحرم ماله ودمه.
অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী “যে ব্যক্তি বলবে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আল্লাহ ব্যতীত যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা অস্বীকার করে, তাহলে তার জান-মাল হারাম হয়ে যাবে। আর তার হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে।” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর ব্যাখ্যাকারী সকল বর্ণনার মধ্য হতে এটি সবচে তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা, এ হাদীস শুধু কালেমার উচ্চারণকে জান-মালের নিরাপত্তা দানকারী সাব্যস্ত করেনি; বরং শব্দের পাশাপাশি এর অর্থ জানা, কালেমার স্বীকৃতি প্রদান এবং লা-শরীক এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে না ডাকাকেও যথেষ্ট মনে করেনি; বরং তার জান-মাল ততোক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ হবে না; যতোক্ষণ না এর সাথে গাইরুল্লাহর অস্বীকৃতি যুক্ত করবে। যদি এতে সন্দেহ করে বা ইতস্তত করে, তাহলে তার জান-মাল হারাম হবে না।৩০৬
শাইখ মুহাম্মাদ রহ. এর সুযোগ্য নাতি শাইখ সুলায়মান রহ. বলেন- إن كان شاكا في كفرهم أو جاهلا بكفرهم بينت له الأدلة من كتاب الله وسنة رسوله - صلى الله عليه وسلم - على كفرهم، فإن شك بعد ذلك وتردد فإنه كافر بإجماع العلماء على أن من شك في كفر الكفار فهو كافر.
অর্থাৎ যদি কেউ তাদের কুফরীর ব্যাপারে সন্দিহান হয় অথবা তাদের কুফরীর ব্যাপারে অজ্ঞ থাকে, তবে তার কাছে তাদের কুফরীর ব্যাপারে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহ থেকে দলীলসহকারে বর্ণনা করা হবে। যদি এরপরও সে সন্দেহ করে এবং দ্বিধাবোধ করে, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে সে কাফের হয়ে যাবে এর উপর ভিত্তি করে যে, “যে কাফেরদের কুফরীতে সন্দেহ করবে, সে কাফের হয়ে যাবে।”৩০৭
যে ব্যক্তি কাফেরকে কাফের বলবে না, সে কাফের হওয়ার কারণ হলো, সে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত নামের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো জিনিসের নাম দিল, তা দ্বারা সে আল্লাহর ফয়সালার বিরোধী ফয়সালা দিল। সে যেন শিরক ও কুফরকে ইসলাম ও ঈমানের নাম দিল। শত্রু কাফের মুশরিকদেরকে বন্ধু ও জান্নাতী মুসলিম-মুমিনদের তালিকাভুক্ত করলো। এ কাজটি আল্লাহর ফয়সালাকে নিক্ষেপ করা, তাঁর ফয়সালার বিরুদ্ধে ফয়সালা দেয়া, তিনি যা আদেশ করেছেন তা অস্বীকার করা, যদিও উক্ত ব্যক্তি স্বীয় কাজকে মিথ্যাপ্রতিপন্নকরণ ও অস্বীকারকরণ বলে মানতে না চায়।

টিকাঃ
৩০২. সূরা কাফিরুন: ০১
৩০৩. সূরা মুমতাহিনা: ০৪
৩০৪. আদ্দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যা: পৃ. ১৪৩ (দারুত তাদামুরিয়‍্যা)
৩০৫. আত তাওযীহ আন তাওহীদিল খাল্লাক: পৃ. ১৬২ (দারু তাইয়েবা, রিয়াদ)
৩০৬. দাওয়াতুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আ. ওয়াহাব: পৃ. ১২৫ (মাকতাবাতুল মালিক ফাহাদ আল ওয়াতনিয়া)
৩০৭. শারহু মানযূমাতিল ঈমান: পৃ. ১৪৭ (আল মাকতাবাতুশ শামিলা)

📘 তাকফীরের মূলনীতি > 📄 একটি অনুধাবন ও সতর্কীকরণ

📄 একটি অনুধাবন ও সতর্কীকরণ


এ মূলনীতিটি ঢালাওভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। যারা কোনো কাফেরকে কাফের বলে না, তাদের প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একে ব্যবহার করা যাবে না। কারণ, অনেকেই এ রকম আছে, যারা ইজতিহাদ ও বিভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে তাকফীর করেন না। কেউ আছেন ওযর ও না জানার কারণে তাকফীর করেন না। তাই এদের একেকজনের হুকুম একেক রকম। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ হলো-
১. যে ব্যক্তি শরীয়তসম্মত ইজতিহাদ ও ব্যাখ্যার কারণে কোনো কাফেরকে তাকফীর করবে না; যেমন অনেক আহলে ইলম নামায পরিত্যাগকারীকে তাকফীর করা থেকে বিরত থেকেছেন, তেমনিভাবে কতিপয় বাতিল ফিরকাকে তাকফীর করার ক্ষেত্রে তাদের মাঝে ইখতিলাফ হয়েছে; যেমন খারেজী, মুতাযিলা ইত্যাদি। আর ইতিহাসে এ রকম কোনো দৃষ্টান্ত নেই যে, কোনো আহলে ইলম এদেরকে কাফের না বলার কারণে তাদের উপর এ মূলনীতি প্রয়োগ করেছেন যে, “যে ব্যক্তি কোনো কাফেরকে কাফের বলবে না সে নিজেই কাফের।” কারণ, তাকফীর থেকে বিরত থাকার মতটি তাদের কাছে অগ্রগণ্য। এটা তাদের ইজতিহাদ ও ব্যাখ্যার ফলাফল। আর মুজতাহিদ যখন সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হোন, তখন তার জন্য রয়েছে দু'টি প্রতিদান। আর যখন ভুল করেন, তখন তার জন্য রয়েছে একটি প্রতিদান।
যদি কারো কুফরী স্পষ্ট না হয় এবং তার অবস্থা কাফের হওয়া বা না হওয়া যে কোনোটির সম্ভাবনা রাখে, সেক্ষেত্রে মতানৈক্য অনুমোদিত। তাই যে তাগুতের মাঝে ঈমান ভঙ্গের সকল কারণ একত্রিত হয়েছে তার কুফরীর ব্যাপারে কোনো রকমের ইজতিহাদ বা ইখতিলাফ অনুমোদিত নয়। যেহেতু তার কুফরী সাধারণ ও বিশেষ সকলের নিকটই স্পষ্ট। সেটা আকাশের মধ্যমণি সূর্যের আলোর মতো স্পষ্ট।
তাই আমরা বলতে পারি, যার মাঝে কুফরীর বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে তাকে ইসলামের গণ্ডিতে প্রবেশ করানোর জন্য যে ব্যক্তি কোনো ইজতিহাদ ও বিতর্ক করলো, ইসলাম ও ঈমানের হুকুমকে তার সাথে সম্বন্ধিত করলো এবং ইসলাম ও মুসলিমদের উপর থাকা হক তথা বন্ধুত্ব ও সাহায্য করার বিষয়গুলো সে তার জন্য সাব্যস্ত করলো, তাহলে সে উক্ত ব্যক্তিরই শ্রেণীভুক্ত। যদিও সে দাবি করুক যে, সে মুসলিম।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُم.
"তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন।”৩০৮
উপরে উল্লিখিত মূলনীতিটি এ ধরনের লোকদের এবং তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে, যারা অন্যায়ভাবে কাফের, মুশরিক ও তাগুতদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করে।
ইখতিলাফ তার ক্ষেত্রেই অনুমোদিত হবে, যার কুফর সন্দেহ ও সংশয়যুক্ত হবে। সে একদিক থেকে ঈমান প্রকাশ করে এবং অন্যদিক থেকে তার বিপরীত প্রকাশ করে। কখনো একটি প্রকাশ করে আবার কখনো তার বিপরীতটি প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে মানুষের জন্য তার বিষয়টি নির্ধারণ করা কষ্টকর হয়ে যায়। তাই তারা তার কুফরী ও তাকে তাকফীর করার ব্যাপারে মতানৈক্য করে। এমনটি হওয়া সম্ভব এবং ইতঃপূর্বে বাস্তবে এমনটা ঘটেছেও।
তবে যার কুফরী স্পষ্ট হবে, যে ব্যাপারে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহতে অকাট্য ও স্পষ্ট দলীল থাকবে তার কুফর এবং তাকে তাকফীর করার ব্যাপারে কোনো ধরনের মতানৈক্য গ্রহণযোগ্য ও অনুমোদিত নয়।
২. ওযরযোগ্য মূর্খতার কারণে যে ব্যক্তি কাফেরকে কাফের বলে না: আল্লাহর শরীয়তের বিরোধী হয়ে বা শরীয়তের প্রতি হঠকারিতা দেখিয়ে নয়, বরং মাসআলা না জানার কারণে সে কোনো কাফেরকে কাফের মনে করে না। এ ধরনের লোক দু প্রকার:
ক. ঈমান ভঙ্গের সকল কারণ বা কিছু কারণ সম্পর্কে অজ্ঞ:
এভাবে যে, কোনো ব্যক্তির মাঝে ঈমান ভঙ্গের একটি কারণ পাওয়া গেলো। কোনো মুসলমান সে সকল কারণ না জানার ফলে তাকে মুসলিম হিসেবে ধারণা করে নিলো। এক্ষেত্রে তার অজ্ঞতা ওযরযোগ্য হলে তাকে মাযূর ধরা হবে। যেমন কেউ নওমুসলিম হওয়ার কারণে তার ঈমান ভঙ্গের কারণসমূহ অজানা রয়ে যায়, যে অজানা জ্ঞান অর্জন করা তার জন্য সম্ভব হয়নি। অথবা এমন দুর্গম অঞ্চলে তার বসবাস, যা জ্ঞান অর্জনের উপায়- উপকরণ থেকে দূরে। এমতাবস্থায় উক্ত ব্যক্তি অনুমান করেও জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম নয়। আর যদি তার বসবাস মুসলিম দেশে হয়, যেখানে শরীয়তের জ্ঞানের চর্চা আছে, যেখানে যে কেউ সহজেই জ্ঞান তালাশ ও অর্জন করতে পারে, কিন্তু সে দুনিয়া ও তার সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তাহলে এমতাবস্থায় তার অজ্ঞতা ওযর হিসেবে ধর্তব্য হবে না।
খ. কাফেরের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ:
কাফের সম্পর্কে কোনো কিছু উক্ত ব্যক্তির জানা নেই বিধায় সে তাকে কাফের মনে করে না অথবা সে তাকে চিনলেও যে কারণে সে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে সে কারণটি তার অজানা। এমতাবস্থায় ধারণা বা সন্দেহ বহির্ভূত অকাট্য ও সুস্পষ্ট প্রমাণ জানা পর্যন্ত তাকে তার না জানার কারণে মাযূর হিসেবে ধরা হবে। যদি জানার পরেও সে উক্ত কাফেরের কুফরীতে সন্দেহ করে এবং তাকে কাফের মনে না করে, তখন উক্ত ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে। তার ক্ষেত্রে উক্ত মূলনীতিটি ব্যবহৃত হবে, “যে ব্যক্তি কোনো কাফেরকে কাফের মনে না করে অথবা তার কুফরীতে সন্দেহ করে; সেও কাফের হয়ে যাবে।”
তবে খেয়াল রাখতে হবে, যে কাফের অপরিচিত- সমাজে ও মানুষের জীবনে তার কোনো প্রভাব নেই; এমন কাফেরের অবস্থা না জানা আর যে কাফেরের ফিতনা দেশ ও দশের উপর প্রভাব ফেলে, তার কুফরী ও ফিতনার বিষয়টি স্পষ্ট, সে মানুষকে দীনের ব্যাপারে পরীক্ষায় ফেলে, যমীনে ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে; এ উভয় কাফেরের মাঝে বিস্তর পার্থক্য আছে। কেননা, প্রথম প্রকার কাফেরের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকা সম্ভব। তার সম্পর্কে তথ্য জানা আবশ্যক কিছু নয়। কখনো কখনো তার সম্পর্কে এবং তার মতো অন্যদের সম্পর্কে জানা মুস্তাহাব পর্যায়ে হয়ে থাকে। তাদের সম্পর্কে অমনোযোগিতা দীন ও দুনিয়া কোনোটির জন্যই ক্ষতিকর হয় না।
কিন্তু অন্যজনের সম্পর্কে না জানা অসম্ভব, তার বিষয়ে না জানার প্রশ্নই আসে না, বিশেষ করে আহলে ইলম ও বিশেষ মুসলিমদের জন্য তো কল্পনাই করা যায় না। যেহেতু তার কুফরী সম্পর্কে না জানার কারণে ফিতনা, ফাসাদ ও গোমরাহী ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
তাই আমরা বলতে পারি, যে কাফেরের ফিতনা মানুষের উপর ব্যাপক হবে তার সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও তার বিষয়টি খোলাসা করা, তার বাস্তবতা সম্পর্কে মানুষকে জানানো, সে যে হুকুমের যোগ্য তার ব্যাপারে সে হুকুমকে প্রকাশ করা উলামায়ে কেরামের উপর ফরয। যেনো মানুষ তাকে পরিত্যাগ করতে পারে, তার থেকে সাবধান থাকতে পারে, তার বিষয়ে শরয়ী ওয়াজিবসমূহকে বাস্তবায়ন করতে পারে। এক্ষেত্রে শরীয়ত চুপ থাকার অনুমতি দেয় না; বরং চুপ থাকা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের সাথে খিয়ানতের নামান্তর।
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ. "আর এমনিভাবে আমি নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।"৩০৯
সুতরাং অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হওয়ার জন্য তাদের প্রকৃত রূপ তুলে ধরা এবং তাদের সম্পর্কে আল্লাহর ফয়সালাকে বর্ণনা করা আবশ্যক।
মুজামুল কাবীর তাবারানীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ عِلْمًا فَكَتَمَهُ أَلْجَمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ.
অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা ইলম দান করেছেন, অতঃপর সে ইলমকে গোপন করলো, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরাবেন। ৩১০

টিকাঃ
৩০৮. সূরা মায়িদা: ৫১
৩০৯. সূরা আনআম: ৫৫
৩১০. মুজামুল কাবীর তাবারানী: ১০/১২৮, হা. নং ১০১৯৭ (মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, কায়রো)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00