📄 দলীল
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَيُّمَا رَجُلٍ قَالَ لِأَخِيهِ يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا.
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে বলবে, 'হে কাফের' তাহলে তাদের যে কোনো একজন (এর) উপযুক্ত হবে। ২৯৫
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا امْرِئٍ قَالَ لِأَخِيهِ: يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا، إِنْ كَانَ كَمَا قَالَ، وَإِلَّا رَجَعَتْ عَلَيْهِ.
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইকে বলল, 'হে কাফের!' তাহলে এর দ্বারা তাদের দু'জনের একজন উপযুক্ত হবে। যাকে এটা বললো বাস্তবে যদি সে এমন হয়ে থাকে তাহলে তো ঠিক আছে। অন্যথায় যে বলেছে তার দিকেই সেটা (কুফরী) ফিরবে। ২৯৬
সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا رَجُلٍ مُسْلِمٍ أَكْفَرَ رَجُلًا مُسْلِمًا: فَإِنْ كَانَ كَافِرًا، وَإِلَّا كَانَ هُوَ الْكَافِرُ.
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে মুসলিম ব্যক্তি অপর মুসলিম ব্যক্তিকে কাফের বলবে, যদি সে কাফের হয়, তাহলে তা তার দিকে ফিরবে অন্যথায় সে নিজেই কাফের হবে। ২৯৭
সহীহ ইবনে হিব্বানে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا أَكْفَرَ رَجُلٌ رَجُلًا قَطُّ إِلَّا بَاءَ أَحَدُهُمَا بِهَا إِنْ كَانَ كَافِرًا وَإِلَّا كَفَرَ بِتَكْفِيرِهِ.
আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলবে, এতে দু'জনের একজন এর উপযুক্ত হবে। যাকে বলেছে সে যদি কাফের হয়ে থাকে তবে তাই, অন্যথায় কাফের বলার কারণে উক্ত ব্যক্তি নিজেই কাফের হয়ে যাবে। ২৯৮
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَاكِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ حَلَفَ بِمِلَّةٍ غَيْرِ الإِسْلَامِ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ، وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ عُذِّبَ بِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ، وَلَعْنُ الْمُؤْمِنِ كَقَتْلِهِ، وَمَنْ رَقَى مُؤْمِنًا بِكُفْرٍ فَهُوَ كَقَتْلِهِ.
সাবিত রাযি. সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ভিন্ন অন্য ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করবে, সে তেমনই হবে যেমনটা সে বলেছে। যে ব্যক্তি কোনো বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করবে, তাকে ঐ বস্তু দ্বারাই জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে। মুমিনকে অভিশাপ দেয়া তাকে হত্যা করারই নামান্তর। আর যে কোনো মুমিনকে কুফরীর অপবাদ দিবে, তাহলে তা তাকে হত্যা করার মতোই। ২৯৯
টিকাঃ
২৯৫. সহীহ বুখারী: ৮/২৬, হা. নং ৬১০৪ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
২৯৬. সহীহ মুসলিম: ১/৭৯, হা. নং ৬০ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২৯৭. সুনানে আবু দাউদ: ৪/২২১, হা. নং ৪৬৮৭ (আল মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরূত)
২৯৮. সহীহ ইবনে হিব্বান: ১/৪৮৩, হা. নং ২৪৮ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
২৯৯. সহীহ বুখারী: ৮/২৬, হা. নং ৬১০৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
📄 সতর্কীকরণ
যাদের উপর এ মূলনীতিটি সরাসরি প্রযোজ্য হবে তারা ঐসব লোক, যারা ব্যাপকভাবে সকল মুসলমানকে কোনো রকম পার্থক্যকরণ ব্যতীত তাকফীর করে। যেনো তারা বলছে, মুসলমানগণ কাফের অথবা সকল মুসলমান কাফের। এমন কথা বলা কুফরী। ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী কোনো কাফের ছাড়া আর কেউই তা বলতে পারে না। আর সেটা কয়েকভাবে হতে পারে।
১. কাউকে বাদ না দিয়ে সকল মুসলমানকে তাকফীর করা, তাদেরকে গোমরাহ বলা একমাত্র মুসলমানদেরকে হিংসাকারী, দীনের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী কাফেরেরই কাজ হতে পারে। কেননা, কোনো ব্যক্তি পৃথিবীর সকল জায়গার সকল মুসলমানকে কাফের বলে বেড়াবে আর সে দীনের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী হবে, এটা অসম্ভব ব্যাপার।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوا كَانُوا مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا يَضْحَكُونَ . وَإِذَا مَرُّوا بِهِمْ يَتَغَامَرُونَ . وَإِذَا انْقَلَبُوا إِلَى أَهْلِهِمُ انْقَلَبُوا فَكِهِينَ. وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوا إِنَّ هَؤُلَاءِ لَضَالُّونَ . وَمَا أُرْسِلُوا عَلَيْهِمْ حَافِظِينَ . فَالْيَوْمَ الَّذِينَ آمَنُوا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ.
“যারা অপরাধী তারা বিশ্বাসীদেরকে উপহাস করতো। তারা যখন তাদের কাছ দিয়ে গমন করতো, তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করতো। তারা যখন তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতো, তখনও হাসাহাসি করে ফিরতো। আর যখন তারা মুমিনদেরকে দেখতো, তখন বলতো, নিশ্চয় এরা বিভ্রান্ত। অথচ তারা বিশ্বাসীদের তত্ত্বাবধায়করূপে প্রেরিত হয়নি। অতএব আজ যারা মুমিন তারা কাফেরদেরকে উপহাস করছে।”৩০১
তারা অপরাধী ও কাফের হওয়ার কারণ হলো, তারা মুমিনদের সম্পর্কে বলেছিলো, নিশ্চয় এরা বিভ্রান্ত। সুতরাং বিভ্রান্ত বলার কারণে যদি তারা কাফের ও অপরাধী সাব্যস্ত হয়, তাহলে যদি কেউ মুমিনকে কাফের বলে, সন্দেহ নেই যে, তা আরো গভীরভাবে কুফরী ও অপরাধ বলে গণ্য হবে।
২. কাউকে বাদ না দিয়ে মুসলমানদের সকলকে তাকফীর করার মানে হলো, উক্ত ব্যক্তি সে সকল শরয়ী নসকে অস্বীকার করে, যে সকল নস থেকে বোঝা যায় যে, এ উম্মত ভ্রান্তির উপর একমত হওয়া অসম্ভব। আর আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর দীনকে হেফাযত করার দায়িত্ব নিয়েছেন। আর এ উম্মতের একটি দল সর্বদা কিয়ামত পর্যন্ত হকের উপর লড়াই করে বিজয়ী থাকবে। অতএব ব্যাপকভাবে সব মুসলিমকে তাকফীর করার অর্থ এ সকল শরয়ী নসকে অস্বীকার করা।
৩. সকল মুসলমানকে ঢালাওভাবে তাকফীর করার মানে হলো মুমিনদের পরস্পরের মাঝে যে ভ্রাতৃত্ব ফরয করা হয়েছে, কাফেরদের বিরুদ্ধে যে শত্রুতা রাখাকে ফরয করা হয়েছে, তা বাতিল করা। কীভাবে মুমিনদের সাথে সে ব্যক্তি বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখবে, যে বিশ্বাস করে যে, তারা কাফের ও গোমরাহ হয়ে গেছে?
টিকাঃ
৩০১. সূরা মুতাফফিফীন: ২৯-৩৪
📄 সারಾಂಶ
“যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে কাফের সাব্যস্ত করলো, সে কাফের হয়ে গেলো।” এ মূলনীতিটি তার আপন জায়গায় বিশুদ্ধ। কিন্তু তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত ও প্রেক্ষাপট আছে। এ মূলনীতিটির প্রয়োগ ঢালাওভাবে নয়; বরং তাকফীরকারী ও তাকফীরকৃত উভয়ের উপর বিবেচনা করে প্রয়োগ করা হবে।
তাই যে ব্যক্তি কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপরে এ মূলনীতি ব্যবহার ও প্রয়োগ করতে চায় তাকে পূর্বোক্ত বিস্তারিত আলোচনার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেনো এ মূলনীতিকে যে জন্য গঠন করা হয়েছে, সে উদ্দেশ্য ব্যতীত ভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত না হয়। যদি কেউ এর অপপ্রয়োগ করে, তাহলে সে নিজের অগোচরেই তার কিছু ভাইকে; বরং বিশিষ্ট দাঈ ও আহলে ইলমকে তাকফীরকৃত অবস্থায় পাবে। আল্লাহ আমাদের সব ধরনের বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করুন।