📄 দলীল
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارُ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، خَالِدِينَ فِيهَا لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنْظَرُونَ.
“নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং কাফের অবস্থায় মারা যায় তাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ। সেখানে তারা চিরস্থায়ীভাবে থাকবে। তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে কোনো অবকাশও দেয়া হবে না।”২৭৯
অভিশাপ, শাস্তি ও জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে থাকা এসবগুলোকে কাফের অবস্থায় মারা যাওয়ার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে। বোঝা গেলো, মৃত্যুকালীন অবস্থাই ধর্তব্য হবে, এর পূর্বের অবস্থা নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارُ فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِلءُ الْأَرْضِ ذَهَباً وَلَوِ افْتَدَى بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ.
“যারা কুফরী করেছে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে তাদের কারো নিকট হতে পৃথিবীপূর্ণ স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করলেও তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। এরা সে সকল লোক, যাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শস্তি। আর তাদের কোনো সাহায্যকারীও নেই।”২৮০
এখানে আল্লাহ তাআলা মর্মন্তুদ আযাবকে কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ مَاتُوا وَهُمْ كُفَّارُ فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ.
“যারা কুফরী করে ও আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করে, অতঃপর কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে আল্লাহ তাদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না।”২৮১
আল্লাহ তাআলা শাস্তি ও ক্ষমা না করাকে তাদের মৃত্যু কুফরী অবস্থায় হওয়ার সাথে সংযুক্ত করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارُ أُولَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَاباً أَلِيمًا.
“আর এমন লোকদের জন্য কোনো ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে; এমনকি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে, আমি এখন তাওবা করছি। আর তাদেরও ক্ষমা নেই, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।”২৮২
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرُ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ.
“তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।”২৮৩
অতএব আমল বিনষ্ট হওয়া এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে। فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرُ আয়াতের এ অংশ থেকে বোঝা যায়, সাধারণভাবে কোনো ব্যক্তি নিজের ভালো আমলগুলো থেকে ততোক্ষণ পর্যন্তই উপকার লাভ করতে পারবে, যতোক্ষণ না তার মৃত্যু কুফরীর উপর হয়।
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে- عَنْ عَائِشَةَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، ابْنُ جُدْعَانَ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ يَصِلُ الرَّحِمَ، وَيُطْعِمُ الْمِسْكِينَ، فَهَلْ ذَاكَ نَافِعُهُ؟ قَالَ: لَا يَنْفَعُهُ، إِنَّهُ لَمْ يَقُلْ يَوْمًا: رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ.
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইবনে জুদআন জাহিলিয়াতের যুগে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতো, মিসকীনদের খানা খাওয়াতো, এগুলো কি তার কোনো উপকারে আসবে? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তার কোনো উপকারে আসবে না। সে একদিনও বলেনি, হে রব! বিচার দিবসে আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। ২৮৪
লক্ষ্য করুন, তার ভালো কাজগুলো তার কোনো উপকারে আসেনি। কারণ, সে শিরকের উপর মৃত্যুবরণ করেছে। অন্যদিকে যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে, তার শেষ পরিণতি ভালো হওয়ায় তা তার জন্য উপকারী প্রমাণিত হবে। যদিও সে এর আগে অনেক খারাপ কাজ করেছে। এ সম্পর্কে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ البَرَاءَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ مُقَنَّعُ بِالْحَدِيدِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُقَاتِلُ أَوْ أُسْلِمُ؟ قَالَ: أَسْلِمْ، ثُمَّ قَاتِلْ، فَأَسْلَمَ، ثُمَّ قَاتَلَ، فَقُتِلَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَمِلَ قَلِيلًا وَأُجِرَ كَثِيرًا.
আবু ইসহাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারা রাযি.- কে বলতে শুনেছি, লোহার শিরস্ত্রাণ পরিহিত একব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জিহাদ করবো নাকি ইসলাম গ্রহণ করবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করো, তারপর জিহাদ করো। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করে যুদ্ধ করলো। অতঃপর সে শহীদ হয়ে গেলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে অল্প আমল করেছে, কিন্তু তাকে প্রতিদান দেয়া হয়েছে অনেক বেশি। ২৮৫
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عُثْمَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ.
উসমান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এ কথা জেনে মৃত্যুবরণ করলো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ২৮৬
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَسِيرٍ.... فَقَالَ عِنْدَ ذَلِكَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ، لَا يَلْقَى اللَّهَ بِهِمَا عَبْدُ غَيْرَ شَاكٌ فِيهِمَا، إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। ....তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যে বান্দা সন্দেহ ছাড়া এ দু'টি বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ২৮৭
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
أَنَّ أَبَا ذَرٍّ حَدَّثَهُ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ نَائِمُ عَلَيْهِ ثَوْبُ أَبْيَضُ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَإِذَا هُوَ نَائِمُ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ وَقَدِ اسْتَيْقَظَ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
আবু যার রাযি. বর্ণনা করেন যে, আমি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলাম, যখন তিনি গায়ে সাদা কাপড় মুড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। অতঃপর আবার এসে দেখলাম, তিনি ঘুমে আছেন। এরপর আবার এসে দেখি, তিনি জাগ্রত হয়েছেন। আমি তাঁর পাশে বসলাম। তখন তিনি বললেন, যে বান্দা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে, অতঃপর এর উপর মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।২৮৮
লক্ষ্য করি, এ সকল হাদীসে জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করাকে শর্ত করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি তাওহীদ ব্যতীত ভিন্ন কোনো কিছুর উপর মৃত্যুবরণ করবে, যদিও সে মৃত্যুর পূর্বে তাওহীদপন্থীদের একজন থাকুক না কেনো- সে কভু জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ الصَّادِقُ المَصْدُوقُ، قَالَ:... فَوَاللَّهِ إِنَّ أَحَدَكُمْ - أَوْ: الرَّجُلَ يَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ، حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا غَيْرُ بَاعٍ أَوْ ذِرَاعٍ، فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَيَدْخُلُهَا. وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا غَيْرُ ذِرَاعٍ أَوْ ذِرَاعَيْنِ، فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ، فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلُهَا.
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন-যিনি সত্যবাদী ও সত্যায়িত-তিনি বলেন.... আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের কাজ করতে থাকে; এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক বিঘত বা এক হাত পরিমাণ দূরত্ব থাকে। তখন তার উপর তার তাকদীর অগ্রসর হয় এবং সে জান্নাতীদের কাজ করে, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আবার আরেক ব্যক্তি জান্নাতীদের কাজ করতে থাকে; এমনকি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক বিঘত বা এক হাত দূরত্ব থাকে। তখন তার উপর তার তাকদীর অগ্রসর হয় এবং সে জাহান্নামীদের কাজ করে, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। ২৮৯
হাদীসের ভাষ্য فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ বলতে এখানে তাকদীরের লিখন বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সে তাকদীরের লিখন অনুযায়ী আমল করতে থাকে এবং তার উপরই সে মৃত্যুবরণ করে জান্নাতে বা জাহান্নামে প্রবেশ করে।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَعْجَبُوا بِأَحَدٍ، حَتَّى تَنْظُرُوا بِمَ يُخْتَمُ لَهُ، فَإِنَّ الْعَامِلَ يَعْمَلُ زَمَانًا مِنْ عُمْرِهِ، أَوْ بُرْهَةً مِنْ دَهْرِهِ، بِعَمَلٍ صَالِحٍ، لَوْ مَاتَ عَلَيْهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ، ثُمَّ يَتَحَوَّلُ فَيَعْمَلُ عَمَلًا سَيِّئًا، وَإِنَّ الْعَبْدَ لَيَعْمَلُ الْبُرْهَةَ مِنْ دَهْرِهِ بِعَمَلٍ سَيِّئَ، لَوْ مَاتَ عَلَيْهِ دَخَلَ النَّارَ، ثُمَّ يَتَحَوَّلُ فَيَعْمَلُ عَمَلًا صَالِحًا، وَإِذَا أَرَادَ اللهُ بِعَبْدِ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ قَبْلَ مَوْتِهِ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَسْتَعْمِلُهُ؟ قَالَ: يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ، ثُمَّ يَقْبِضُهُ عَلَيْهِ.
আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কারো শেষ পরিণতি না দেখে তার আমলের কারণে আশ্চর্যান্বিত হয়ো না। কেননা, কোনো আমলকারী কিছুকাল নেক আমল করতে থাকে। যদি সে এ অবস্থায় মারা যেতো, তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতো। অতঃপর সে পরিবর্তিত হয়ে খারাপ আমল করতে থাকে। আর কোনো বান্দা কিছুকাল মন্দ আমল করতে থাকে। যদি এ অবস্থায় সে মারা যেতো, তাহলে জাহান্নামে প্রবেশ করতো। অতঃপর সে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং নেক আমল করতে থাকে। যখন আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দার ভালো চান, তাকে মৃত্যুর আগে আমল করার সুযোগ করে দেন। সাহাবায়ে কেরাম রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, কীভাবে তাকে আমল করার সুযোগ করে দেন? তিনি বললেন, তাকে নেক আমলের তাওফীক দান করেন। অতঃপর এমতাবস্থায় তার জান কবয করেন। ২৯০
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي النَّبِيتِ قَبِيلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّكَ عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، ثُمَّ تَقَدَّمَ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَمِلَ هَذَا يَسِيرًا، وَأُجِرَ كَثِيرًا.
বারা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবীত গোত্রের এক আনসারী ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তারপর সে অগ্রসর হলো এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এ লোক অল্প আমল করলো, কিন্তু বেশি প্রতিদান পেলো। ২৯১
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيُّ، وَلَا نَصْرَانِيُّ، ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنُ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ، إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ.
আবু হুরাইরা রাযি. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, সে সত্তার শপথ! এ উম্মতের ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা আমার সম্পর্কে শুনেও যদি আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে জাহান্নামের অধিবাসী হবে। ২৯২
লক্ষ্য করি, উক্ত হাদীসে জাহান্নামী হওয়াকে নবুয়ত এবং রিসালাতকে অস্বীকারের উপর মৃত্যুর সাথে শর্ত করা হয়েছে।
ইমাম কুরতুবী রহ. তাযকিরা গ্রন্থে বর্ণনা করেন-
وقال عبد الله بن أحمد بن حنبل: حضرت وفاة أبي أحمد، وبيدي الخرقة لأشد لحييه، فكان يغرق ثم يفيق ويقول بيده: لا بعد لا بعد. فعل هذا مراراً فقلت له: يا أبت أي شيء ما يبدو منك؟ فَقَالَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ قَائِمٌ بِحِذَائِي عَاضٌ عَلَى أَنَامِلِهِ يَقُولُ: يَا أَحْمَد فُتَّنِي وَأَنَا أَقُولُ لَا بَعْدَ لَا، حَتَّى أَمُوتَ
ইমাম আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ রহ. বলেন, আমার পিতার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তাঁর দাড়ি বেঁধে দেয়ার জন্য আমার হাতে এক টুকরো কাপড় ছিলো। তিনি বেহুঁশ হয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর হুঁশ ফিরে আসলে হাত দিয়ে ইশারা করে বলতে লাগলেন, এখনো নয়, এখনো নয়। এভাবে বারবার করছিলেন। অতঃপর আমি পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আমার পিতা, আপনি এমন আচরণ করছিলেন কেনো? তিনি বললেন, ইবলিশ শয়তান আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে স্বীয় আঙুল কামড়াচ্ছিলো আর বলছিলো, হে আহমাদ, তুমি তো আমার হাত ফসকে বের গেছো? তখন আমি বলছিলাম, এখনো নয়, এখনো নয়। (অর্থাৎ আমি এখনো শয়তান থেকে মুক্তি পাইনি; যাবত না আমি তাওহীদের উপর অটল থেকে আমার রূহ দেহ ত্যাগ করবে। কারণ, যতোক্ষণ আমি জীবিত থাকবো, ততোক্ষণ পর্যন্ত আমি শয়তানের ফিতনা থেকে নিরাপদ নই।২৯৩
ইমাম নববী রহ. বলেন- فَلَا يَخْلُدُ فِي النَّارِ أَحَدُ مَاتَ عَلَى التَّوْحِيدِ وَلَوْ عَمِلَ مِنَ الْمَعَاصِي مَا عَمِلَ كَمَا أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ مَاتَ عَلَى الْكُفْرِ وَلَوْ عَمِلَ مِنْ أَعْمَالِ الْبِرِّ مَا عَمِلَ هَذَا مُخْتَصَرُ جَامِعُ لِمَذْهَبِ أَهْلِ الْحَقِّ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না; যতোই সে পাপকর্ম করুক না কেনো। তেমনিভাবে যে ব্যক্তি কুফরীর উপর মৃত্যুবরণ করবে, সে কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না; যতোই সে সৎকাজ করুক না কেনো। আর এটিই হলো এ মাসআলাতে আহলে হক সকলের মতামতের সার সংক্ষেপ। ২৯৪
টিকাঃ
২৭৯. সূরা বাকারা: ১৬১-১৬২
২৮০. সূরা আলে ইমরান: ৯১
২৮১. সূরা মুহাম্মাদ:৩৪
২৮২. সূরা নিসা: ১৮
২৮৩. সূরা বাকারা: ২১৭
২৮৪. সহীহ মুসলিম: ১/১৯৬, হা. নং ২১৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২৮৫. সহীহ বুখারী: ৪/২০, হা. নং ২৮০৮ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
২৮৬. সহীহ মুসলিম: ১/৫৫, হা. নং ২৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২৮৭. সহীহ মুসলিম: ১/৫৫, হা. নং ২৭ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২৮৮. সহীহ মুসলিম: ১/৯৫, হা. নং ৯৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২৮৯. সহীহ বুখারী: ৮/১২২, হা. নং ৬৫৯৪ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
২৯০. মুসনাদে আহমাদ: ১৯/২৪৬, হা. নং ১২২১৪ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
২৯১. সহীহ মুসলিম: ৩/১৫০৯, হা. নং ১৯০০ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২৯২. সহীহ মুসলিম: ১/১৩৪, হা. নং ১৫৩ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২৯৩. আত তাযকিরা বি আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমূরিল আখিরাহ, পৃ. নং ১৮৬ (মাকতাবা দারুল মিনহাজ, রিয়াদ)
২৯৪. শরহে মুসলিম: ১/২১৭ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)